নাগরিক কথা

“ধন্যবাদ এবং কেন ইউটিউব ভিউ ম্যাটার করে” – ওয়াহিদ ইবনে রেজা

এই মুহূর্তে আমি অফিসে কাজ করছি প্রায় ১২ ঘন্টা। দুপুরের খাবার খেতে খেতেও ইমেইল করতে হয় ২-৩টা। তাই Surviving 71 এর টিজারের রিয়েকশন নিয়ে কিছু বলতে পারিনি। প্রথমে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই টিজারটি দেখার জন্য, শেয়ার করার জন্য। মিডিয়ার সবাইকে ধন্যবাদ যারা নিউজটি করেছেন টিজারটি নিয়ে। যারা পছন্দ করেছেন, সাথে থাকবেন যেন আমরা শেষ পর্যন্ত ভাল কিছু করতে পারি। যারা হতাশ হয়েছেন, আশা করছি আমাদের পরবর্তী কোন কাজে এই হতাশা কাটবে। অবশ্য না কাটলেও খুব বেশি কিছু করার নেই। পৃথিবীতে কখনোই কোন জিনিস সবার পছন্দ হতে পারে না। এ ব্যাপারটা আমি জানি এবং মানি।

এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল চ্যানেলে টিজারটি দেখা হয়েছে ৫৬ হাজার বার। নিঃসন্দেহে যেটা চমৎকার একটি ব্যাপার। যদিও ট্রেন্ডিং এখনো হতে পারেনি টিজারটি। আমাদের লক্ষ-কোটি ঘরের অসংখ্য নাটক, গান আছে। প্রায়ই ট্রেন্ডিং হয় কন্টেন্ট। অবশ্য এই টিজারটি সেই রকম ম্যাস পপুলার হবে এটা মনে হয় পসিবল না। তবে আমি আরেকটু পুশ করতে চাই। কারন এই পুশটা আমাদের খুব দরকার। উদাহরণ সহ বুঝিয়ে বলছি ।

রিসেন্ট ফিল্ম টিভি ইতিহাসে ইউটিউব থেকে অনেক প্রতিভাবান ফিল্মমেকার, ক্রিয়েটর উঠে এসেছেন। একটা চমৎকার উদাহরণ নীল ব্লুমক্যাম্প। ভদ্রলোক নিজে খুব চমৎকার একজন ভিএফএক্স আর্টিস্ট ছিলেন। নিজের বানানো শর্ট ফিল্মটি ইউটিউবে কয়েক মিলিয়ন হিট হবার পর তাকে সরাসরি কাজে অফার করে পিটার জ্যাকসনের কম্পানি। হ্যালো গেম এর উপর ভিত্তি করে সিনেমা বানানোর জন্য। দুই বছর ওই প্রজেক্টে কাজ করে কিছু এগোয় না। তখন ওকে বলা হয় আচ্ছা তোমার কাছে নিজের কোন আইডিয়া আছে? নীল তখন পিচ্ করেন ডিস্ট্রিক্ট নাইন মুভিটি। এরপর বাকিটা তো ইতিহাস!

আরেকটা উদাহরণ দেই? এবার এনিমেশনের। রিসেন্টলি নেটফ্লিক্সের একটা সিরিজ খুব ভাল লেগেছে আমার। ফাইনাল স্পেস নাম। এই সিরিজটির ক্রিয়েটর ওলান রজার্স ছিলেন ইউটিউবের কন্টেন্ট মেকার। তিনি একদিন করলেন কি, নিজের কিছু টাকা জমিয়ে একটা আইডিয়া নিয়ে আর টিম নিয়ে, বানিয়ে ফেললেন ৭ মিনিটের একটা শর্ট ফিল্ম। ইউটিউবে সেই ফিল্মটি মিলিয়ন হিট করার সাথে সাথেই এক সাথে ফোন পেলেন ৯টা স্টুডিওর! সবশেষে আমেরিকান টক শো হোস্ট কোনান ও ব্রায়ান এর কোম্পানি টিম কোকো এর সঙ্গে চুক্তি করলেন তিনি। যার ফলাফল ফাইনাল স্পেস।

ওলান রজার্স

তো ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? যদি প্রোডাকশন কোয়ালিটি ভাল হয় এবং এনাফ ভিউ হয় ইউটিউবে, একটা প্রোডাকশন কোম্পানি মনে করে এই কন্টেন্ট এর প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে এবং এটা ঠিকঠাক মতন বানালে মানুষ দেখবে। তখন তারা ইনভেস্ট করতে রাজি হয়। Surviving 71 নিয়ে আমি ঠিক এই জিনিসটা চাচ্ছি। যাতে ঠিকঠাক মত সুন্দর করে কাজটা করা যায়। দেশের পাশাপাশি বাইরের মানুষের কাছেও ফান্ডিং চাওয়া যায়। বাইরের ফান্ডিং কেন দরকার? যাতে বাইরের পৃথিবী বাংলাদেশ কে অন্যভাবে চিনে। আমাদের ৭১ এর যুদ্ধের কথাটা জানে। যাতে আমাদের কাজ দেখতে পায় এবং চায়। ভবিষ্যতের জন্য যেন দরজাটা আস্তে আস্তে খুলতে থাকে। যাতে আমরা আমাদের গল্প সারা পৃথিবীর মানুষকে বলতে পারি। এই জন্য।

এই সপ্তাহেই বের হচ্ছে এংরি বার্ডস টু সিনেমার দ্বিতীয় ট্রেইলার। যেখানে আমি অফিসে কাজ করছি। আমি জোক করে বলেছিলাম, আমার শর্ট ফিল্মের ট্রেইলারের সাথে তো এ প্রতিযোগিতা করবে! এংরি বার্ডস টু এর কলাকৌশুলীরা কথা বলবেন এই ট্রেইলার নিয়ে আমাদের অফিসে। একদম ইন্টারনাল ইভেন্ট। কিন্তু বড় বড় এক্সিকিউটিভরা থাকবেন সেখানে। মজার কথা কি জানেন? আমার স্টুডিওর হেড আমাদের এই টিজারটি এতই পছন্দ করেছেন যে তিনি চাচ্ছেন আমি এটা দেখাই এই একই মঞ্চে পরের সপ্তাহে! যাতে মানুষ ইন্টারেস্টেড হয় প্রজেক্টটা নিয়ে। যদি কেউ কাজ করতে চায়, যদি কেউ সাহায্য করতে চায়! এবং এটার একটা বড় কারন সে কাজের কোয়ালিটি খুব পছন্দ করেছে। এবং খুব অবাক হয়েছে দেখে যে ২ দিনে আমরা ৫০ হাজারের বেশি ভিউ তুলতে পেরেছি।

ওয়াহিদ ইবনে রেজা

আপনারা কি বুঝতে পারছেন যদি ভিউ লক্ষ ছাড়িয়ে মিলিয়নের দিকে যায় আমরা এটা কে কত জায়গায় নিতে পারবো? খুব কি কঠিন হবে কাজটা? ছোটবেলায় তিন গোয়েন্দায় পড়তাম ভূত থেকে ভূতে। মনে আছে? আচ্ছা সেভাবে কি আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি এই ট্রেইলারটি? শেয়ার এর পাশাপাশি, ইনবক্সে, গ্রুপে বা পেজে পোস্ট করতে পারি? পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই থাকি না কেন। নিজের ভার্সিটির পেজে বা গ্রুপে, নিজের শহর বা এলাকার পেজে শেয়ার করতে পারি। সারা পৃথিবীর বাংলা কমিউনিটি বেসড যে সব গ্রুপ বা পেজ আছে সেখানে কি আমরা পোঁছাতে পারি যাতে ভিউ সারা পৃথিবী থেকে হয়।

আমি আমার শতকরা ২০০ ভাগ পরিশ্রম করে এই মুভিটিকে একটা বড় জায়গায় নিতে চাচ্ছি। আপনারা কি সাথে থাকবেন? সাহায্য করবেন আমাকে এভাবে? আরেকটা মুশকিল হচ্ছে অনেকেই দেখলাম টিজারটি নিজেদের ফেইসবুক বা ইউটিউবে আপলোড করছেন। আমি অনুরোধ করবো যাতে এই কাজটি আমরা না করি। নিচের দেয়া মূল লিঙ্কটাই যেন শেয়ার করি সব খানে। কারন নাহলে ভিউ ভাগ ভাগ হয়ে যাবে। ইম্প্যাক্টটা থাকবে না। প্লিজ বিশ্বাস করেন, ইউটিউবের ভিউ দিয়ে টাকা কমানোর জন্য বলছি না! আমার লক্ষ্য অনেক অনেক অনেক উপরে। কিন্তু এই উপরে আবার আমি একা যেতে পারবো না। আপনাদের সমর্থন লাগবে। দেখি না আমরা পারি কিনা।

সবাইকে আবারো ভালবাসা। ভাল থাকবেন। শেয়ার করবেন নিচের টিজারটি এবং বারবার দেখবেন।

লেখকঃ ওয়াহিদ ইবনে রেজা

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top