ইতিহাস

ফুটবলকে খেলাটাকেই আমূল বদলে দেওয়া ইয়োহান ক্রুইফ

জোহান ক্রুয়িফ নিয়ন_আলোয়_Neon_Aloy

১৯৯২ সাল। চলছিল চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল, যা তখন ইউরোপিয়ান কাপ নামেই পরিচিত ছিল। চলছিল বার্সেলোনা আর সাম্পোডারিয়ার খেলা । সাম্পোডারিয়া ছিল তখনকার ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন । আরেকদিকে ৩য় বারের ফাইনালিস্ট তখনকার বার্সা এখনকার মত জনপ্রিয় ছিল না। দুই দলের সামনেই ছিল ইতিহাসে প্রথমবারের মত ইউরোপ সেরা হওয়ার সুযোগ। নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য৷

ডাগআউটের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা মিলল এক ভদ্রলোকের যে কিনা টেনশনে ললিপপ খাচ্ছিল। চুইংগাম কিংবা সিগারেট ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে ললিপপ! তবে তাঁর টেনশন বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি৷ ১১২ মিনিটে দলের ম্যানেজার এর দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে বার্সার হয়ে গোল করেন রোনাল্ড কোম্যান ৷ বার্সা হয় ইতিহাসের প্রথমবারের মত ইউরোপিয়ান চাম্পিয়ন ।

হ্যাঁ, বলছিলাম বার্সার সোনালী যুগের সূচনাকরী এবং ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তী, টোটাল ফুটবলের জনক ইয়োহান ক্রুইফ এর কথা । ক্রুইফের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৫শে এপ্রিল নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে। বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান তিনি। ফুটবলের প্রতি আগ্রহ শুরু হয় বাবার মাধ্যমেই।

ইয়োহান-ক্রুইফ-নিয়ন_আলোয়_neon_aloy

আয়াক্স ক্লাব এবং এক কিংবদন্তীর উত্থানঃ

১০ বছর বয়সেই আয়াক্স ক্লাবে যোগ দেন ইয়োহান ক্রুইফ। আয়াক্সের যুব দলের কোচ ভ্যান ডার ভিন পাড়ার মাঠে খেলার সময় ক্রুইফকে লক্ষ্য করেন এবং ট্রায়াল ছাড়াই তাঁকে দলে নিয়ে নেন। হয়ত সেই গুণের কদর তিনি বুঝেছিলেন। সব ঠিকই চলছিল কিন্তু হঠাৎ বাবার মৃত্যুতে যেন দুনিয়ার সকল বোঝা তাঁর মাথায় এনে দেয়। অথচ তখন তাঁর বয়স মাত্র ১২ বছর। শোককে হয়ত শক্তিতেই পরিনত করে নেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই আয়াক্সের মূল দলে সুযোগ করে নেন ক্রুইফ।

ইয়োহান-ক্রুইফ-নিয়ন_আলোয়_neon_aloy

আয়াক্স এর হয়ে খেলার পূর্বে ড্রেসিংরুমে ১৭ বছর বয়সী ক্রুইফ

আয়াক্স ডাচ লীগে বরাবরই ধারাবাহিক ছিলেন ৷ তবে কেন জানি ১৯৬০ সালের পর থেকে টানা ৫ বছর তারা আর শিরোপার নাগাল পাচ্ছিল না। এমনকি পরপর ৪ বছর তাদের লীগে অবস্থান ছিল যথাক্রমে ২য়, ৪র্থ, ২য় এবং ৫ম। তবে সিনিয়র দলে ক্রুইফের সূচনা খুব একটা ভালো হয়নি। সেই ১৯৬৪-৬৫ সিজনে ১০ ম্যাচে চার গোল করার পরেও লীগে আয়াক্সের অবস্থান হয় ১৩তম, যা ছিল ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে নিম্নতম অবস্থান।

পরের মৌসুমেই শুরু হয় ক্রুইফের উত্থানের গল্প। পরের সিজনে ক্রুইফ সব মিলিয়ে ২৩ ম্যাচে ২৫ গোল করেন ক্লাবের পক্ষে। জিতে নেন ডাচ লীগ শিরোপা। পরের মৌসুমে লীগ জেতার সাথে সাথে কাপ জিতে ডাবল অর্জন করেন। অবশ্য সেই মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান ক্রুইফ। এরপরের মৌসুমেও লীগ জিতে নেয় আয়াক্স এবং ক্রুইফ জিতে নেন টানা দুইবারের মতো ডাচ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

আয়াক্সের বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন বুনা হয়ত এই ক্রুইফের হাত ধরেই৷ ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে আয়াক্স তাদের ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে। তবে ফাইনালে মিলানের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স আপ শিরোপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদেরকে। সেই টুর্নামেন্টে ক্রুইফ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬ টি গোল
করেন, যা ছিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

পরের তিন মৌসুমে টানা ইউরোপিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন হয় আয়াক্স আর দলের মূল চালিকা শক্তি সেই ইয়োহান ক্রুইফ-ই ছিলেন। ১৯৭২ এর দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের সময় ইন্টার মিলানকে ২-০ গোলে হারানো ম্যাচের দুটি গোলই করেন ক্রুইফ। এই মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন তিনি। পরের মৌসুমের ফাইনালে জুভেন্টাসকে ১-০ গোলে হারায় আয়াক্স, যেখানে ক্রুইফ এর পারফর্মেন্সকে বর্ণনা করা হয়েছিল ‘ The Greatest 20 minutes spells of football ’ হিসেবে।

আয়াক্সের হয়ে ক্রুইফের অর্জন ছিল ঈর্ষনীয়। প্রথম দফায় ক্রুইফের অর্জন ৬টি লিগ শিরোপা, ৪টি ঘরোয়া কাপ, ৩টি ইউরোপিয়ান কাপ ও ১টি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। নিজের বিস্ময়কর নৈপুণ্যের কারণে জিতেছেন ১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৭৪ সালে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার “ব্যালন ডি অর ”

বার্সেলোনায় পদার্পণ এবং পথচলাঃ

১৯৭৩ সাল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ক্রুইফ ট্রান্সফার ফি-এর রেকর্ড গড়ে বার্সেলোনায় আসেন। বার্সার অবস্থা তখন নড়বড়ে। ১৩ বছর ধরে লীগ শিরোপা অধরা ৷ রিয়াল মাদ্রিদের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য ছিল ।

ক্রুইফকে নিয়ে আসা হয় দলের পোড়া কপাল ঠিক করার জন্য৷। ক্লাবে আসার পর অফিশিয়াল জটিলতার কারণে মৌসুমের প্রথম সাতটি ম্যাচে ক্রুইফকে খেলতে দেওয়া হয়নি। ফলে ১৪ নম্বরে অবস্থান ছিল তাদের, যা কিনা শেষের দিক থেকে চার নম্বরে।

গ্রানাডার বিপক্ষে হোমগ্রাউন্ডের ম্যাচ দিয়ে ক্রুইফের বার্সায় পদচারণা শুরু। ৪-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে নিজে গোল করলেন ২টি। পরবর্তিতে স্পোর্টিং গিজনকে ৫-০ গোলে, মালাগাকে ৪-০ গোলে এবং সেল্টা ভিগোকে ৫-০ গোলে হারিয়ে যেন ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল তারা।

ইয়োহান-ক্রুইফ-নিয়ন_আলোয়_neon_aloy

পরের ম্যাচ ছিল এল ক্লাসিকো। ভেন্যু রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ। ১৪ নম্বরে ধুকতে থাকা দল তখন লীগ টপার৷ রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থাও তখন বেশ খারাপ , শীর্ষ থেকে নয় পয়েন্ট পিছিয়ে লীগে তাদের অবস্থান ছিল সপ্তম। তবুও এল ক্লাসিকো বলে কথা। সেই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে হারায় বার্সেলোনা।অথচ
ভাবতে পারেন কিছুদিন আগেও দলটি লীগের তলানিতে ছিল! ম্যাচে ক্রুইফের ১টি গোল ছিল এবং মাঠে তাঁর প্রভাব ছিল লক্ষ্যনীয়৷

ম্যাচ এর পর শীর্ষপত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম ছিল,

“ক্রুইফের ৯০ মিনিট, কাতালনদের বহু প্রতিক্ষিত আনন্দ, রাজনীতিবিদরাও যা দিতে ব্যর্থ।”

সেই সিজনে ১৪ বছরের মাধ্যে প্রথম বারের মতো লা-লিগার শিরোপা ঘরে তোলে বার্সেলোনা।

নেদারল্যান্ড দল এবং নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টিঃ

১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড হট ফেভারিট হিসেবেই যাত্রা শুরু করে। আয়াক্সের হয়ে ইতিহাস গড়া মিশেল-ক্রুইফ জুটিই মূল কারণ ছিল, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সেই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডের অবস্থানটা খুব সুবিধের ছিল না। আগের নয়টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড শুধুমাত্র ১৯৩৪ আর ১৯৩৮ বিশ্বকাপে খেলে। ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপে ১৬ দলের মাঝে হয় ৯ম। ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে ১৫ দলের মাঝে হয় ১৪তম। এর পরের দুটি বিশ্বকাপে খেলেনি, তার পরের চারটি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগই পায়নি। এরকম একটি ইতিহাসকে বদলে দেবার প্রত্যয় নিয়েই নেদারল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়।

বলা চলে ‘৭৪ র বিশ্বকাপ এর সময়ই তিনি ফুটবল বিশ্বকে পরিচিত করান টোটাল ফুটবল এর সঙ্গে। তাদের ট্যাকটিক্সে যেন সকল প্রতিপক্ষ কুপোকাত। ‘৭৪ সালের বিশ্বকাপের ফরম্যাটটা একটু ভিন্ন ছিল। নেদারল্যান্ডের গ্রুপে ছিল সুইডেন, উরুগুয়ে ও বুলগেরিয়া। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলের সহজ জয় পায় ডাচরা। নেদারল্যান্ডের পরের ম্যাচটি ছিল সুইডেনের বিপক্ষে। সে ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বুলগেরিয়াকে ৪-১ গোলে হারায় নেদারল্যান্ড, ফলে গ্রুপের ১ নম্বরে থেকেই পরের পর্বে যায় তারা।

ইয়োহান-ক্রুইফ-নিয়ন_আলোয়_neon_aloy

প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় রাউন্ডে নেদারল্যান্ডের গ্রুপে ছিল আগের চার আসরের মাঝে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং পূর্ব জার্মানির মতো দল। এদের মাঝে একটি দল যাবে ফাইনালে।

এই রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-০ গোলে হারালো ডাচরা, এই ম্যাচে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন ক্রুইফ। ম্যাচে একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। পরের ম্যাচে পূর্ব জার্মানকে ২-০ গোলে হারানোর ফলে সমীকরণ দাঁড়ায় ফাইনাল খেলার জন্য ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র-ই যথেষ্ট। সেই ম্যাচে তাঁর ১টি অ্যাসিস্ট ও আরেকটি গোল। নেদারল্যান্ড জেতে ২-০ গোলে।

অন্যদিকে আরেক ফাইনালিস্ট ছিল পশ্চিম জার্মানি। দ্বিতীয় পর্বে যে পূর্ব জার্মানি কে নেদারল্যান্ড হারিয়েছিল, তাদের কাছেই গ্রুপ পর্বে হারে পশ্চিম জার্মানি। সুতরাং একরকম মানসিক প্রশান্তি নিয়েই ফাইনালে গিয়েছিল নেদারল্যান্ড।

গুনে গুনে ১৩টি পাসের পর বল আসে ক্রুইফের পায়ে। বল পায়ে এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডিবক্সে ঢুকে পড়লেন ক্রুইফ। গোলে শট নেওয়া পূর্ব মূহুর্তে আচমকা ট্যাকল। ক্রুইফের কল্যাণে ডাচরা প্রথম মিনিটেই পেল পেনাল্টি, গোলও হলো।পরবর্তী ২০ মিনিট জার্মানরা কিছু টের পেয়ে উঠার আগেই ডাচরা দ্রুত গতির বল পাস দিয়ে বলের দখল নিয়ে নেয়।

কিন্তু বিধি বাম! ২৫ মিনিটে পশ্চিম জার্মানি পেনাল্টি থেকে গোল দিয়ে সমতায় ফেরে। ৪৩ মিনিটে জার্ড মুলারের আরেকটি অসাধারণ গোল। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নেদারল্যান্ড। হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ডাচদের। তাদের প্রথম বিশ্বকাপের স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে৷

এক্ষেত্রে হয়ত ক্রুইফের নিজে পেনাল্টিটা না নেয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ, ইতিহাস বলে, ক্রুইফ গোল করেছেন এমন কোনো ম্যাচে নেদারল্যান্ডের হারের মুখ দেখতে হয়নি ।

১৯৭৪ এর বিশ্বকাপে ক্রুইফ করেছিলেন ৩টি গোল এবং ৩ অ্যাসিস্ট। জার্ড মুলার এবং বেকেনবাওয়ারকে হারিয়ে তাই তাঁর হাতেই উঠেছিল বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ক্যাস্ট্রল ইনডেক্সের র‍্যাংকিংয়ে তিনি পেয়েছিলেন ৯.৮২ রেটিং, যা কিনা সেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। জিতে নেন ব্যালন ডি ওর। যা ছিল তাঁর তৃতীয় অর্জন।

ইয়োহান-ক্রুইফ-নিয়ন_আলোয়_neon_aloy

১৯৭৭ সাল। ডাচ সমর্থকরা হয়ত ভালোভাবেই মনে রাখবে বছরটিকে। তাদের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ক্রুইফ হুট করেই অবসর নেয়, যেখানে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ ছিল সন্নিকটে। কারণ হিসেবে সেই সময়ের স্বাগতিক আর্জেন্টিনার স্বৈরশাসনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে ২০০৮ সালে এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বার্সেলোনাতে থাকা অবস্থায় তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। এজন্য তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন। কারণ পরিবার সকল কিছুর উর্ধে।

আয়াক্সে পুনঃগমন এবং আরেকটি অধ্যায়

১৯৭৮ সালে ক্রুইফ সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে অবসর ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেন এবং আমেরিকার লীগে খেলা শুরু করেন। সেখানে মাত্র দুই মৌসুমে খেলে অল্প কিছুদিনের জন্য ফেরত আসেন স্পেনের লেভান্তে ক্লাবে। সেখানে ১০টি ম্যাচ খেলেন।

পরবর্তীতে ক্রুইফ আবার আয়াক্সে ফেরত আসেন। ১৯৮০ সালের ৩০শে নভেম্বর তিনি টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হিসাবে যোগ দেন প্রানপ্রিয় ক্লাব আয়াক্সে। ক্রুইফ যোগ দেওয়ার পূর্বে প্রথম ১৩ ম্যাচ শেষে আয়াক্সের অবস্থান ছিল লীগে ১৩ নম্বরে, শেষপর্যন্ত সেই সিজনে দ্বিতীয় হিসেবে আয়াক্স লীগপর্ব শেষ করে। পরের দুই মৌসুমে ক্রুইফকে নিয়ে লীগ চ্যাম্পিয়ন হয় আয়াক্স। এই সময়ে তিনি একটি ডাচ কাপও জিতেন।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে ক্রুইফের সাথে মনোমালিন্য শুরু হয় ম্যানেজমেন্টের। আয়াক্স ম্যানেজমেন্ট ক্রুইফ এর সাথে আর চুক্তি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ক্ষুব্ধ অপমানিত ক্রুইফ রাগের বশেই যোগ দেন আয়াক্সের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল ফেইনুর্দে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সেই মৌসুমেই ক্রুইফ ফেইনুর্দকে নিয়ে লীগ ও জিতান। অথচ সেই মৌসুমের আগে ফেইনুর্দ শেষ জয় পায় তার প্রায় ১০ বছর আগে! সেই মৌসুম শেষে ক্রুইফ সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ইয়োহান-ক্রুইফ-নিয়ন_আলোয়_neon_aloy

ব্যক্তিজীবনে ”চেইন স্মোকার” ক্রুইফ ধূমপানের কারনে একবার হৃদরোগেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে দুই দুইবার তাঁর হার্টে বাইপাস সার্জারিও করাতে হয়। ফলে ধুমপান ত্যাগই করতে হয়েছিল তাঁর। ধূমপান ছাড়ার তিনি বার্সার ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে অনবরত ”ললিপপ” খেতেন। যা মাঠে উপস্থিত দর্শকদের কাছে ছিল মজার একটি বিষয়। শেষ বয়সে শরীরে বাসা বেধেছিল মরণব্যাধি ক্যান্সার। ধরা পরার একবছরের মাথায় ২০১৬ সালে আজকের দিনে, ২৪ শে মার্চ পাড়ি জমান ওপারে।

ক্রুইফের তুলনা সে নিজেই। তিনটি ব্যালন ডি অর পাওয়া প্রথম ফুটবলার ছিলেন ইয়োহান ক্রুইফ। গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় পেলের পর তালিকায় দ্বিতীয়ও তিনি। ইয়োহান নিসকেনস বলেন,

“ইতিহাসে দেখা যায়, পৃথিবীর বেশিরভাগ গ্রেট কোচই গ্রেট ফুটবলার ছিলেন না, আবার বেশির ভাগ গ্রেট ফুটবলারই গ্রেট কোচ হতে পারেনি। ক্রুইফ ছিলেন দুটোই, সেটিও স্বতন্ত্রভাবে।”

জোহান ক্রুয়িফ নিয়ন_আলোয়_Neon_Aloy

কোচ, প্লেয়ার যে বিশেষণেই বিশ্লেষন করেননা কেন তিনি অনবদ্য। আফসোস হয়ত শুধু একটাই ওই একটা বিশ্বকাপ! কিন্তু কিছু প্লেয়ারদের জন্য হয়ত বিশ্বকাপই আফসোস করবে কেন তাঁদের হাতে উঠতে পারল না৷ তাঁর মৃত্যুর পর লুইস ফিগো  বলেন,

“আজ এত বছর পরে আপনি বুঝতে পারবেন ক্রুইফের সত্যিকারের দূরদর্শিতা, সে সবসময় সবার থেকে কয়েকধাপ এগিয়ে ছিলেন।”

হয়ত কিছু মানুষের মৃত্যু শুধু শারিরীক ভাবেই সম্ভব, মানব মনে তাঁরা বেঁচে থাকে দিনের পর দিন। ক্রুইফ তাঁদেরই একজন । ফুটবল সমর্থকরা চিরদিন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে তাঁকে।

আরো পড়ুনঃ ফুটবল সুপারস্টার থেকে গ্যাংস্টার- আদ্রিয়ানো!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top