বিশেষ

নেমেসিসের “আমি”- একটি লিরিক ভিডিওর চাইতেও বেশি কিছু…

নেমেসিস "আমি" নিয়ন_আলোয়_Neon_Aloy

একটা জিনিস কখনো খেয়াল করেছেন কি যে আজ পর্যন্ত এই দেশে যতোগুলো আন্দোলন হয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, প্রায় সবগুলোর সাধারণ আমজনতা করে গিয়েছে? সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর, বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন মানুষ থাকলেও সেখানে সংখাগরিষ্ঠ যেই শ্রেণী বা পেশা, যেটাই বলেন, সেটা ছিলো ছাত্র সমাজ।

দেশ স্বাধীনের আগের থেকে বিভিন্ন আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশ স্বাধীনের পরেও শিক্ষার উপর কর আরোপ, কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে গত বছর ২০১৮ এর আগস্টে ঘটা ছাত্র আন্দোলনেও স্কুল-কলেজে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরই অংশগ্রহন ছিলো!

নেমেসিস "আমি" নিয়ন_আলোয়_Neon_Aloy

 

আন্দোলনটা শুরু হয়েছিলো দেশের রাজধানী ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের সামনে দুই বাস ড্রাইভারের বেখেয়ালীভাবে বাস চালানোর জন্য সেই কলেজের কিছু শিক্ষার্থীর বাস চাপা পড়ার পর এবং পুরো আন্দোলন জুড়ে একটাই দাবী ছিলো সেই শিক্ষার্থীদের-

“নিরাপদ সড়ক চাই”

এই পুরো জিনিসটা খুবই সুন্দর করে নেমেসিস তাদের নতুন সিঙ্গেল “আমি” তে ফুটিয়ে তুলেছে।  সমসাময়িক অস্থিরতা নিয়ে গান বের করার যে দায়িত্ববোধ শিল্পীদের মধ্যে দেখা যায় বিশ্বজুড়েই , তার প্রতিফলন হালের বাংলাদেশী ব্যান্ড গুলোর মধ্যে নেমেসিস ই প্রথম করলো বলা চলে।

পুরো গানটা তারা সেসব শিক্ষার্থীদের উৎসর্গ করেছে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গিয়েছে, অন্যায় বলতে এখানে ছিলো বিভিন্ন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা বাস চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জনজীবনের মূল্যর প্রতি ঔদাসিন্য।

গানটি ২২শে ফেব্রুয়ারী নেমেসিসের ইউটিউব চ্যানেলের থেকে প্রথমে লাইভ ব্রডক্যাস্ট হয় কিন্তু পরে সেটা লিরিক ভিডিও আকারে বের হয়। বের হবার পর থেকে এখন সেটার ভিউ ৪০,০০০+!

গানটি বের হবার পর থেকেই শ্রোতাসমাজে এতোই সমাদৃত হয়েছে যে দুই দিনেই সেটার ইউটিউব ভিউ ৩০,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। এবং ফেসবুকে এখন পর্যন্ত শেয়ার হয়েছে ৭৫০ বারের বেশি।

এখানে পুরো গানটিই গত ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথমদিকে দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের “নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন” কে ঘিরে সেটা যদিও গানটি বের হবার পরে ব্যান্ডের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে বলে দেয়া হয়েছে। গানটির লিরিক্স যথেষ্ট সহজ এবং সাবলীল শব্দ দিয়ে লেখা, প্রতিটি শব্দ এবং লাইনের পেছনের কথাগুলো নিয়ে শ্রোতাদের কোন দ্বিধা থাকেনা।

নেমেসিস আমি নিয়ন আলোয় neonaloy

চিত্রঃ- “আমি” লিরিক ভিডিও (০.৪৪ )

লিরিক্সে সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে যে, ঢাকার একটা কলেজের সামনে ঘটা একটি সড়ক দুর্ঘটনা থেকে কিভাবে আন্দোলনটা পুরো দেশের জনতার মধ্য ছড়িয়ে পড়েছে, কিভাবে সেটা পুরো দেশের মানুষের মনের মধ্য একটা সুন্দর নতুন দিনের আশা জাগিয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, এই আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে আরো যেসব অসঙ্গতি একদম চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়েছে সেগুলোকেও এড়িয়ে যায়নি নেমেসিসের এই লিরিক ভিডিওটি।

নেমেসিস আমি নিয়ন আলোয় neonaloy

চিত্রঃ- “আমি” লিরিক ভিডিও (১.৪১ )

কম্পোজিশনের ক্ষেত্রে বলা যায়, লিরিক্স যেমন সহজবোধ্য ভাবে লেখা হয়েছে, ঠিক একইভাবে গানটি কম্পোজডও হয়েছে। যার মানে দাঁড়ায়, ভোকাল ছাড়াও গিটার, ড্রামস, বেজের কাজও যথেষ্ট পরিস্কার বা স্পষ্ট ছিলো যেখানে যে কেও কম্পোজিশনটা খেয়াল করলে সেই কাজগুলো প্রতোকটা আলাদা করতে পারবে।

যেমন এখানে ড্রামসে ৫/৫ বিট কাজ করেছে সেটা এই গানটা কিছুক্ষন শুনলেই টের পাওয়া যায়। ঠিক এমনই সবগুলো কাজ খুবই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

আগের নেমেসিসের তুলনায় বর্তমান নেমেসিসের কম্পোজিশনে অনেক পরিবর্তন এসেছে সেটা তাদের তৃতীয় অ্যালবাম “গণজোয়ার” এই প্রমাণ পাওয়া যায় কিন্তু এবার এই গানের কম্পোজিশনটা একটু হেভী ছিলো স্বীকার করতেই হয়।

ব্যান্ডের গিটারিস্ট সুলতান রাফসান খানও ঠিক একই কথা বলেছেন উনার ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে। প্রসঙ্গত, সুলতান রাফসান খান নেমেসিস ছাড়াও মিনার্ভা, এশেজ এবং ডিফাইতেও গিটার বাজান।

নেমেসিস আমি নিয়ন আলোয় neonaloy

 

গানটির প্রযোজনায় ছিলো নেমেসিস এবং সহ-প্রযোজনায় ছিলো নেমেসিসেরই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রাকাত জামী।

প্রসঙ্গত যে রাকাত জামী “নেমেসিস” এবং “ইন্দালো” দুই ব্যান্ডেরই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিযুক্ত আছে বর্তমানে এবং নিজের  “Embers In Snow নামক তার নিজস্ব একটি ব্যান্ড আছে।

গানটির মিক্সিং এবং মাস্টারিং এর দায়িত্বেও ছিলো রাকাত জামী এবং আরো ছিলো নেমেসিসের গিটারিস্ট সুলতান রাফসান খান।

গানটি রেকর্ডিং হয়েছে একোস্টিক আর্টজ এবং হাইপারটিউন স্টুডিও থেকে। গানটির লিরিক ভিডিওতে এনিমেশনে ছিলো আহমেদ ইনতিশার ফারদিন ও গল্প এবং আঁকার কৃতিত্ব বর্তমান সময়ের বিখ্যাত কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশুর।

প্রসঙ্গত যে মোরশেদ মিশু মাসিক ম্যাগাজিন “উন্মাদ” এর একজন কার্টুনিস্ট এবং সহকারী সম্পাদক। উনার আঁকা “গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ” ২০১৮ সালে পুরো বিশ্বব্যাপী বেশ সাড়া পেয়েছিলো বাজফিডে ফিচারড হবার পর থেকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোত, যেহেতু সেখানে তিনি এই পৃথিবীতে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ না থাকলে কেমন হতো এই পৃথিবীটা সেটি তুলে ধরেছেন উনার রংতুলীর মাধ্যমে। তিনি সেখানে দেখিয়েছেন যে যুদ্ধের নির্মমতার বদলে আমাদের পৃথিবীটা কীরকম হওয়া উচিৎ ছিলো। এটাই ছিলো তার ”দ্যা গ্লোবাল হ্যাপীনেস চ্যালেঞ্জ”

গানটি আপাতত শুধু ইউটিউবেই শোনা যাচ্ছে স্ট্রিমিং করে, সময়ের সাথে সাথে গান, ইমেজিন রেডিও, স্পটিফাই এবং আইটিউনস সহ আরো অনেক ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে পাওয়া যাবে।

নেমেসিসের এই নতুন গানের প্রেজেন্টেশন থেকে টের পাওয়া যায় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির মধ্য কি পরিমাণ পরিবর্তন বা বিবর্তন এসেছে। এরকম ধারা যদি বজায় থাকে, তাহলে আমাদের দেশের মিউজিক দেশের সীমানা পাড়ি দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌছানোর ক্ষেত্রে ভাষা কোন বাধা হবেনা। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এই গানটির থেকে সেই নতুন দিনের আভাস পাওয়া যায়।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top