নাগরিক কথা

ল্যাম্ব অফ গডঃ বিধ্বংসী আগ্রাসনে উন্মত্ত সৃষ্টি

“Smother another failure, lay this to rest
Console yourself, you’re better alone
Destroy yourself, see who gives a fuck
Absorb yourself, you’re better alone
Destroy yourself”

এক্সট্রিম ও হেভি মেটাল সঙ্গিতপ্রেমীদের কাছে লিরিক্সগুলো পরিচিত থাকার কথা। সময়টা ১৯৯৪ সাল, একই কলেজে পড়াশুনা করার সুবাদে পরিচয় হওয়া গিটারিস্ট মার্ক মরটন, ম্যাট কনোর, বেজিস্ট জন ক্যাম্পবেল ও ড্রামার ক্রিস অ্যাডলার একসাথে একটি ব্যান্ড গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আজকের ল্যাম্ব অফ গড যাত্রা শুরু করে “বার্ন দ্যা প্রিস্ট” নামে। কিছুদিনের মধ্যেই মরটন ও ক্যাম্পবেল মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহনের জন্য ব্যান্ড থেকে সরে আসে। এসময় অ্যাবে স্পিয়ার ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে জায়গা করে নেয়। এই লাইনআপেই তারা ১৯৯৫ সালে একটি সেলফ-টাইটেল্ড ডেমো রিলিজ দেয়। এসময় তারা দুটো ইপি’ও রিলিজ করে। কিছুদিন পরেই ব্যান্ডটিতে র‍্যান্ডি ব্লাইথ ভোকালিস্ট হিসেবে যোগ দেন।

১৯৯৭ সালে, মরটন পুনরায় ব্যান্ডে ফিরে আসেন। লিজিওন রেকর্ডসের ব্যানারে প্রথম সেলফ টাইটেল্ড অ্যালবাম রিলিজ হয়। অ্যালবাম রিলিজের পরপরই স্পিয়ার ব্যান্ড ছেড়ে দেন। ব্যান্ডের গিটারিস্ট শূন্যতা পূরণ করেন ক্রিস অ্যাডলারের সহোদর উইলি অ্যাডলার। ব্যান্ডের নাম বদলে রাখা হয় ল্যাম্ব অফ গড। স্যাটানিক ব্যান্ডগুলোর থেকে নিজেদের আলাদা করতেই নতুন নাম। এক্সট্রিম ও হেভি মেটাল জনরার অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডের জন্ম হয়।

ল্যাম্ব অফ গড নিয়ন আলোয় neonaloy

বার্ন দ্যা প্রিস্ট

নতুন নাম ও রেকর্ড লেবেলের সাথে যুক্ত হয়ে রিলিজ হয় দ্বিতীয় অ্যালবাম “নিউ আমেরিকান গস্পেল” । অ্যালবামটি শ্রোতাদের মাঝে ৯০ দশকের আমেরিকান হেভি মেটাল ব্যান্ডগুলোর আমেজ তুলে আনে। পরের দুই বছর হেভি মেটাল কনসার্টের ট্যুরে কাটান তারা ।

২০০৩ সালের মে মাসে তৃতীয় অ্যালবাম “অ্যাজ দ্যা প্লেসেস বার্ন” রিলিজ হয়। রিলিজের পরপরই বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। রিভলভার ম্যাগাজিন ও মেটাল হ্যামার এর জরিপে দখল করে প্রথম স্থান। এসময় “হেডব্যাঙ্গারস বল ট্যুর” এ অংশগ্রহন করে। ট্যুরের সকল লাইভ পারফর্মেন্স নিয়ে তৈরি হয় “টেরর অ্যান্ড হিউব্রিস” নামে একটি ডকুমেন্টারি। এটিও অ্যালবামের মতই সফলতা দেখে। বিলবোর্ডে ৩১তম স্থান দখল করে।

ল্যাম্ব অফ গড নিয়ন আলোয় neonaloy

অ্যাশেজ অফ দ্যা ওয়েক

অ্যাশেজ অফ দ্যা ওয়েক নামে চতুর্থ অ্যালবামটি মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। যা বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ২৭ নম্বরে ওঠে। প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটির ৩৫,০০০ এরও বেশি কপি বিক্রয় হয়। অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাকটি “টেস্টামেন্ট” গিটারিস্ট অ্যালেক্স স্কলনিক ও সাবেক “মেগাডেথ” গিটারিস্ট ক্রিস পোল্যান্ড ফিচার্ড ছিল। এবছর তারা বেশ কয়েকটি বড় বড় কনসার্টে অংশগ্রহন করে। অন্যতমটি ছিল ২০০৪ সালের “অজফেস্ট” ও ২০০৫ সালের “সাউন্ড অফ দ্যা আন্ডারগ্রাউন্ড”। অ্যালবামটি রিভলভার ম্যাগাজিন থেকে বছরের দ্বিতীয় সেরা অ্যালবাম নির্বাচিত হয় এবং “লেইড টু রেস্ট” গানের মিউজিক ভিডিওটি সেরা মিউজিক ভিডিওর পুরষ্কার জেতে। পাশাপাশি“কিলাডেলফিয়া” নামে লাইভ অ্যালবাম রিলিজ করে।

২০০৫ সালে মুক্তি পায় পঞ্চম অ্যালবাম“স্যাক্রামেন্ট”। এ অ্যালবামটি তাদের আগের অ্যালবামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সফলতার মুখ দেখে। প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামের ৬৫,০০০ কপি বিক্রি হয়। অ্যালবামটি প্রায় সকল শ্রোতা ও সমালোচকদের মন জয় করে। “দ্যা আনহলি অ্যালায়েন্স”, “জায়গ্যানট্যুর”, “অজফেস্ট” ও “ডাউনলোড ট্যুর” এর মত অন্যতম কনসার্টের সাথে যুক্ত হয় ল্যাম্ব অফ গড। ২০০৭ সালে তারা “রেডনেক” গানের জন্য গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হলেও “স্লেয়ার” এর “আই অফ দ্যা ইনসেন” গানের কাছে হেরে যায়।

২০০৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারী “ল্যাম্ব অফ গড” আন্তর্জাতিকভাবে তাদের ষষ্ঠ অ্যালবাম “র‍্যাথ” রিলিজ দেয়  “রোডরানার রেকর্ডস” এর মাধ্যমে । তারা অ্যালবামটি ২০০৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাইকি ব্রন্সন্যানের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে। এই অ্যালবামটিও ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। প্রথম সপ্তাহে ৬৮,০০০ কপি বিক্রয় হওয়ার পাশাপাশি অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করে। “র‍্যাথ ট্যুর”, “নো ফিয়ার এনার্জি ট্যুর” ও “ওয়ার্ল্ড ম্যাগনেটিক ট্যুর” এ অংশগ্রহন করে।

ল্যাম্ব অফ গড নিয়ন আলোয় neonaloy

২০১০ সালে তারা ফিলিপাইন ও ভারতে প্রথমবারের মত কনসার্ট করে। এছাড়াও এবছর তারা “মেহ্যাম ফেস্টিভ্যাল”, “ডাউনলোড ফেস্টিভ্যাল” এ পারফর্ম করে। তাদের বেশ কিছু গান এবছর বিভিন্ন ভিডিও গেইমে ব্যবহার করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ক্রিস অ্যাডলার এক সাক্ষাৎকারে ২০১১ সালে নতুন অ্যালবাম নিয়ে কাজ করার কথা বলেন। ২০১০ ও ২০১১ এ দুইবছরই ব্যান্ডটি গ্র্যামি মনোনীত হয়। ২০১১ এর শেষের দিকে ব্যান্ডটি ২০১২ সালের জানুয়ারী মাসে তাদের সপ্তম অ্যালবাম “রেজল্যুশন” রিলিজ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

২০১২ সালের জুন মাসে এক কিশোর ভক্তকে ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দেওয়ার অপরাধে চেক পুলিশ ল্যাম্ব অফ গড ভোকালিস্ট র‍্যান্ডি ব্লাইথকে গ্রেফতার করে। জরিমানা প্রদান ও কোর্টে নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় তিনি খালাস পেয়ে যান।

ল্যাম্ব অফ গড নিয়ন আলোয় neonaloy

চেক কোর্টে র‍্যান্ডি ব্লাইথ

২০১৪ সালে নতুন অ্যালবাম নিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও তা আর করা হয়ে ওঠেনি। জানুয়ারী মাসে নিজের বই প্রকাশের জন্য র‍্যান্ডি ব্যান্ড থেকে একটি লম্বা বিরতি নেন। ২০১৫ সালে আসে ল্যাম্ব অফ গড এর অষ্টম অ্যালবাম VII: Sturm und Drang

২০১৬ সালে “ল্যাম্ব অফ গড” তাদের নতুন ইপি “দ্যা ডিউক” রিলিজ দেয়। এতে VII: Sturm und Drang অ্যালবামের দুটি ও ৩টি আলাদা লাইভ ট্র্যাক ছিল। অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাকটি ভোকালিস্ট র‍্যান্ডি ব্লাইথ লিউকেমিয়ার কাছে হেরে যাওয়া তার বন্ধু ওয়েন ফোর্ডের জন্য উৎসর্গ করেন। এ অ্যালবাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যান্ডটি লিউকেমিয়া সোসাইটিতে দান করে।

ল্যাম্ব অফ গড নিয়ন আলোয় neonaloy

দ্যা ডিউকের কভার

২০১৭ সালে তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অ্যালবাম “হাইয়েটাস” নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিলেও তার রেকর্ডিং কবে শুরু হবে এ নিয়ে কিছু বলেনি। বরং ২০১৮ সালে তারা তাদের প্রথম অ্যালবাম “বার্ন দ্যা প্রিস্ট” এর কভার অ্যালবাম “লিজিওনঃ XX” রিলিজের ঘোষণা দেয়। জনরা নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও তাদের মূলত গ্রুভ মেটাল ব্যান্ড হিসেবেই ধরা হয়। বেজিস্ট জন ক্যাম্পবেলের মতে তারা হেভি মেটাল পাঙ্ক ব্যান্ড। অন্যদিকে ড্রামার ক্রিস অ্যাডলার বলেন তাদের প্রতিটি অ্যালবাম ভিন্ন ভিন্ন জনরার উপর করা। জনরা যাই হোক, ভক্তদের কাছে তারা “পিওর আমেরিকান ডেথমেটাল”।

ল্যাম্ব অফ গড (বর্তমান লাইনআপ)

জন ক্যাম্পবেল – বেজিস্ট

ক্রিস অ্যাডলার – ড্রামার

র‍্যান্ডি ব্লাইথ – ভোকালিস্ট

মার্ক মরটন – লিড গিটার

উইলি অ্যাডলার – রিদম গিটার

সাবেক সদস্যঃ

ম্যাট কনোর – রিদম গিটার (১৯৯৪)

অ্যাবে স্পিয়ার – রিদম গিটার (১৯৯৪-১৯৯৯); লিড গিটার (১৯৯৪-১৯৯৭)

সবশেষে একজন সঙ্গিতপ্রেমী হিসেবে বলতে চাই, আমাদের ভক্তদের উচিত বিদেশি ও দেশী সকল ব্যান্ডকেই শ্রদ্ধার চোখে দেখা ও বৈধভাবে অ্যালবাম কিনে গান শোনা। আমরা তাঁদের শিল্পের মর্যাদা দিলেই তাঁরা নতুন নতুন অ্যালবাম তৈরীতে উৎসাহ পাবেন।

বাংলাদেশে হেভীমেটালের গল্পটা বলেছেন রেজওয়ান হাসান- ওয়েভসঃ যাদের হাত ধরে বাংলাদেশে এসেছে হেভীমেটাল!

Most Popular

To Top