ফ্লাডলাইট

এই পরাজয়েও কি ইতিবাচক কিছু খুঁজে নেওয়া যায়?

মোহাম্মদ মিথুন নিয়ন আলোয় neonaloy

নিউজিল্যান্ড সফর শুরু হলো ৮ উইকেটের বিশাল পরাজয় দিয়ে। একরকম প্রত্যাশিত ছিলো ম্যাচের ফলাফল, তবে ব্যাট হাতে আরো কিছু রান আশা করেছিলাম।

বাংলাদেশের প্রায় সব ক্রিকেটারকে বেশ ক্লান্ত মনে হয়েছে। চেহারা, শট সিলেকশন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সব কিছুতেই।

সেই এশিয়া কাপের ফাইনালের পর দিন বিশেক বিশ্রাম মিলেছিলো। তারপর জিম্বাবুয়ে সিরিজ, উইন্ডিজ সিরিজ, বিপিএল এবং নিউজিল্যান্ড সফর, এতো পিঠাপিঠি যে ক্লান্ত লাগাটাই স্বাভাবিক, এতো ব্যস্ত সময় আমাদের ক্রিকেটাররা খুব বেশি পায়না। নিউজিল্যান্ড গিয়েও কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়ানোর সময় পাওয়া যায়নি।

তো সব মিলিয়ে কঠিন হবে জানতাম।

তবে বিরল ঘটনা হচ্ছে সাকিব না থাকায় বাকি যে তিনজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপর দল বেশি নির্ভর করবে সেই তামিম, মুশফিক আর রিয়াদ আজ একসাথে ফ্লপ করেছেন। বিরলই বটে, একইসাথে তিনজন ফ্লপ খুব কমই করেন। এটা প্রতিদিন হয়না, হবেও না।

তবে আশার কথা হচ্ছে জুনিয়র প্লেয়ার বলে যারা পরিচিত তারা মিলেমিশে রানটা ২৩২ পর্যন্ত নিয়েছেন। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক।

কে কিভাবে আউট হয়েছে বিস্তারিত না যাই, তবে একটা আউটের কথা না বললেই নয়, তামিমের ডেলিভারিটা অলমোস্ট আনপ্লেয়েবল ছিলো। বোলারকে ক্রেডিট দিতেই হবে।

লিটন, মুশফিক খুব লেজি শট খেলেছেন আজ। মুশফিকের বলটা কাট করার মতো ছিলোই না।

যাইহোক, সৌম্যকে নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিলো, ফর্মে নাই, ব্যর্থ বা এসব। ২২ বলে ৩০ রানের এই ছোট ইনিংসে কিন্তু বিপিএলের সৌম্য সরকারের বিন্দুমাত্র দেখা পাইনি। বিপিএল মানেই নার্ভাস চেহারার এক সৌম্য, কিন্তু আজকে বেশ দারুণ খেলছিলেন, একটা পুলকে তো “শট অব দ্য ডে” বলা চলে। ইনিংস বড় হয়নি বাজে শটে, তবে সৌম্য এভাবেই খেলবেন, বদলানো লাগবেনা। অপোজিশনকে ডমিনেট করে। যেদিন হবে সেদিন ভালো, না হলে নাই! ধরে খেলার কাজটা করার জন্য আরো প্লেয়ার আছে।

মিথুনকে নিয়ে প্রচুর কথা, পেস বলে দূর্বল। একটা জিনিস অদ্ভুত, তাকে স্টিভ রোডস পছন্দ করলেন আইরিশ কন্ডিশনে, সেটাতো সবুজ পিচের সিমিং কন্ডিশন! সেখানে ভালো করলেন, জিম্বাবুয়ে বাদে যাদের সাথে খেলেছেন সাম্প্রতিকতম সময়ে কারো পেস আক্রমণ খারাপ না। আজকে তো ৬২ রান না করলে মান সম্মান যেতো! এটা এখন মানতেই হবে মিথুন চাপের ভেতর ভালো করেন, মিডিল অর্ডারে এমন একজন থাকা খারাপ নয়। মিথুনের ইনিংসটা দারুণ, একপাশ ধরে রেখে কয়েকটা জুটি গড়েছেন।

সাব্বিরের উপর আশা ছিলো, কামব্যাক ম্যাচে বলার মতো কিছু করবেন। আনফরচুনেট বলা যায় তবে শটটা খেলার মতো কন্ট্রোল তার ছিলোনা।

৯৪-৬, ভাবলাম আজ আর দেড়শ হবেনা!

কিন্তু মেহেদী আর সাইফ দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেন আর মিথুনের সাথে জুটি গড়েন।

সাইফউদ্দিন নিজের জায়গাটা আস্তে আস্তে পাকা করে ফেলছেন দলে। খুব ভালো।

মেহেদি বিপিএলে টপ অর্ডারে খেলেছেন কয়েকবার, সেটার ঝলক দেখলাম, বেশ ভালো স্ট্রাইকরেট নিয়ে খেলেছেন।

এই যে তিন সিনিয়র ব্যর্থ হলেও রানটা ২৩২ হয়েছে এটাই পজিটিভ দিক এই হারা ম্যাচের।

তবে টস জিতে ব্যাটিং নেয়াটা পছন্দ হয়নি। ম্যাকলিন পার্কে আগে ব্যাট করাটা ঝামেলার। খোদ নিউজিল্যান্ড লাস্ট ম্যাচে ১৫৭ রানে অল-আউট হয়েছিলো। তাছাড়া মিডল অর্ডার আজকে যেভাবে রান করেছে তাতে মনে হয়েছে উইকেট আস্তে আস্তে ভালো হয়েছে, পরে ব্যাট করা সুবিধাজনক হতো।

আর লাস্ট কথা, ম্যাশ-ফিজ-সাইফ এই পেস ত্রয়ী নিউজিল্যান্ড সফরে কতটুকু কাজ করে আমি বুঝছিনা।

ম্যাশ-ফিজ ক্যাটেগরি বিবেচনায় একই রকম, অফ কাটার বল দিবেন, নির্দিষ্ট একটা জায়গায়। হয়তো ফিজের একটু ভেরিয়েশন বেশি তবে ক্যাটেগরি একই তাদের।

আর সাইফ বলের সিম মুভমেন্ট কাজে লাগাতে চেষ্টা করবেন।

কিন্তু একজন রিয়েল “ফায়ার ওয়ার্কস” করার মতো পেসার বেশ দরকার এই ধরনের পিচে। দরকার সেটা সবাই জানে, কিন্তু চার পেসার খেলানোর মতো বিলাসিতা এখন নাই।

ভেবেছিলাম মুশির কিপিং নিয়ে কিছু লিখবো…. ধুর! লাভ কি? অযথা “হেট্যার” উপাধি পেতে কার ভাল লাগে?

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top