ফ্লাডলাইট

বিপিএল ২০১৯ এর প্রথম সেঞ্চুরিয়ান লরি ইভান্স

লরি ইভান্স নিয়ন আলোয় neonaloy

লরি ইভান্স, ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্ট ২০১৮ সালের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। টুর্নামেন্টে ১৫ ম্যাচে ১৪ ইনিংস ব্যাট করে রান করেছিলেন ৬১৪, গড় অবিশ্বাস্য ৬৮.২২, সাত ফিফটি আর সাথে স্ট্রাইকরেট ১৩৫.৮৪, সেরা ৯৬ রানের ইনিংস! সেমি ফাইনালে ডারহামের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ৭১* রানের ইনিংস খেলে সাসেক্সকে ফাইনালে তুলেছিলেন।

এছাড়া আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগে কাবুলের হয়ে ৯ ম্যাচে ৩০৫ রান করেছিলেন ৬১.০০ গড়ে এবং ১৪২.৫২ স্ট্রাইকরেটে, সর্বোচ্চ ৭৯* রান।

দূর্দান্ত এক সিজনের পর তাকে নজরে আনে রাজশাহী কিংস, বিপিএল ড্রাফট থেকে দলে ভেড়ায় ভাইটালিটি ব্লাস্টের টুর্নামেন্ট সেরা প্লেয়ারকে।

বিপিএল ড্রাফট থেকে দুইজন কাউন্টি তারকাকে দলে নেয় দুটি দল, তার মাঝে একজন এই লরি ইভান্স। তখন দুইজনকে নিয়েই একটি পোস্ট লিখেছিলাম, বলেছিলাম এই ধরনের ক্রিকেটারদের কেনা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ ফ্র‍্যাঞ্চাইজী ক্রিকেটের দুনিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য তারা নিজেদের উজাড় করে দেয়। গতবারের জোফরা আর্চারের কথাই ধরেন, অথবা তার আগেরবারের টিমাল মিলস। দুইজনই বিপিএল থেকে তাদের ফ্র‍্যাঞ্চাইজী জগতের বিচরণ শুরু করেন।

তবে একটা ভয়ের কথাও কিন্তু লিখেছিলাম, এটা বিপিএল, ভাইটালিটি ব্লাস্ট না; এইটা বাংলাদেশের স্লো, লো পিচ, ইংল্যান্ডের সুন্দর ব্যাটিং পিচ নয়। তাই এরা এসেই রান করবেন এমন চিন্তা করা ভুল।

সেটাই ঠিক হয়েছে শুরুতে। আজকের আগে ইভান্স সম্ভবত ছয় ম্যাচ খেলেছেন, সর্বোচ্চ রান ছিলো মাত্র ১০!

ফিল্ডার হিসেবে ইভান্স দূর্দান্ত, দারুণ এক্রোব্যাটিক। বিপিএলেও কিছু চমৎকার ফিল্ডিং করেছেন, দারুণ ক্যাচ ধরেছেন কিন্তু কাজের কাজ যেটা সেটাই হচ্ছিলো না।

শুরুতে ৪/৫/৬ নাম্বারে ব্যাট করেছেন এবং ব্যর্থ হয়েছেন, বিষয়টা ব্লাস্টসেরা ব্যাটসম্যানের জন্য বিব্রতকর, তাই নিজেই চেয়েছিলেন ওপেন করতে, রাজশাহী কোচ ল্যান্স ক্লুজনারের প্রশংসা করতে হয় কারণ তিনি শুধু ভরসাই রাখেননি ইভান্সের উপর বরং ওপেন করার আবদার রক্ষা করেছেন।

বিশাল প্রত্যাশা ছিলো তার উপর, একটা টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে ৬১৪ রান মুখের কথা তো নয়! সেই ব্যাটসম্যান রান না পেলে হতাশ হয় দল।

অবশেষে লরি ইভান্স প্রতিদান দিলেন, শুধু দিলেন বললে ভুল হবে একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়েই দিলেন, সারা বিশ্বেই খবর রটে গিয়েছে, বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং টুইটারে চলছে অভিনন্দন বৃষ্টি।

বিপিএল ৬ষ্ঠ আসরের এবং নিজের টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লরি ইভান্স।

এতো দিন ঠিক বুঝিনি তবে আজকের ৬২ বলে ১০৪* রানের ইনিংস দেখে বুঝেছি কিভাবে বড় বড় আন্তর্জাতিক প্লেয়ারকে পেছনে ফেলে ব্লাস্টের সর্বোচ্চ রান করেছিলেন তিনি।

আজকের দিনটাও রাজশাহীর জন্য ভালো শুরু আনতে পারেনি, শাহরিয়ার নাফীস বহুত কাঠখড় পুড়িয়ে দল পেয়েছিলেন, কিন্তু মনেহয় তার মূল্য বুঝতে পারছেননা তিনি। মার্শাল আইয়ুব প্রায় পাঁচ বছর পর টি-টুয়েন্টি খেলছেন, একটা ভালো ইনিংসের পর আজ আবার ব্যর্থ, অধিনায়ক মিরাজ রানের খাতাই খুলতে পারেনি।

এরই ভেতর আফ্রিদিকে পরপর তিন চার মারেন ইভান্স গালি এবং পয়েন্টের মাঝ দিয়ে। যার কল্যাণে ৬ ওভারে ২৮ রান কিংসের।

৬.১ ওভারে ২৮/৩, ঠিক এই জায়গা থেকে ইভান্স উইকেটে পেয়েছিলেন এসেক্স অধিনায়ক সাবেক ডাচ অধিনায়ক রায়ান টেন ডেসকাটেকে। টেনডো, যাকে বলা হয় নন-টেস্ট প্লেয়িং দেশের সেরা ব্যাটসম্যান, বিশ্বের অন্যতম ফাইন ক্রিকেটার।

বাকি গল্পটা শুধুই ইভান্স, টেনডো এবং কিংসের। ১০ ওভারে ৫০ রান করা কিংস কত করবে আর? ১২৬, হ্যা পরের ১০ ওভারে আরো ১২৬ রান তুলেছে কিংস। ইনিংস শেষে ১৭৬ রান, উইকেট ওই তিনটাই।

কাউন্টি ক্রিকেটের দুই স্টার ব্যাটসম্যান ১৪৮* রানের জুটি গড়েছেন! অবিশ্বাস্য ব্যাটিং!

ইনক্রেডিব্যল পাওয়ার হিটিং।

একসময় ৩২ বলে ৩৩ করা ইভান্স শেষ করেছেন ৬২ বলে ১০৪* রানে, আর ১৯ বলে ২১ রান করা টেনডো করেছেন ৪১ বলে ৫৯* রান।

আস্তে ধীরে আগানো দুই ব্যাটসম্যান ১৫ ওভারের পর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। সাইফুউদ্দিন, পেরেরা, আফ্রিদি, ওয়াহাব রিয়াজ কেউ বাদ যায়নি ইভান্সের বেড়ধক পিটুনির হাত থেকে।

মূলত লং অন আর ডিপ মিড উইকেট অঞ্চলকে টার্গেট করে রান করেছেন ইভান্স আর স্ট্রেইট বাউন্ডারি থেকে লং অফ অঞ্চলে টেনডো।

সুপার টাইমিং আর সুইট সাউন্ড অব ব্যাট, এছাড়া আর কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবেনা লরি ইভান্সের ইনিংসকে। ৯ চার এবং ৬ ছয়ে সাজানো মনমাতানো ইনিংস। চোখের শান্তি প্রতিটা শট ঠিক যেন ইভান্সের মিষ্টি হাসির মতো। টেনডো ইনিংস সাজিয়েছেন ২ চার আর ৩ ছয়ে। দুই ব্যাটসম্যানই প্রচুর সিঙ্গেল নিয়েছেন।

একজন ক্লাস ব্যাটসম্যানকে নতুন করে চেনানোর কিছু থাকেনা। টেনডো পরিক্ষিত ব্যাটসম্যান, সমগ্র দুনিয়ার সব লীগ খেলেছেন তিনি, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন।

তবে ইভান্সের কিছু প্রমাণ করার ছিলো, নিজ দেশের নিজ কন্ডিশনের বাইরে সব কন্ডিশনে ভিন্ন ভিন্ন উইকেটেও যে তিনি রান করতে পারেন এটা প্রমাণ করা তার ক্যারিয়ারের জন্য ভাইটাল ছিলো। ভাইটালিটি ব্লাস্টে করা নিজের আগের বেস্ট ৯৬ রান টপকে বিপিএলের শতক নিশ্চয় ইভান্সকে অন্যান্য লীগেও দল পেতে সাহায্য করবে।

তার জন্য শুভকামনা।

তবে আমার প্রশ্ন, ১-০-৪-১ এই ফিগার থাকার পরেও কায়েস কেন মেহেদি হাসানকে আর বলই করালেন না? আশ্চর্য হয়েছি খুব!

আরো পড়ুনঃ এবারের বিপিএল-এর ডার্কহর্স রাজশাহী!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top