ফ্লাডলাইট

এবারের বিপিএল-এর ডার্কহর্স রাজশাহী!

রাজশাহী কিংস নিয়ন আলোয় neonaloy

বিপিএলের শুরুতে ধরা হচ্ছিলো অন্যতম দূর্বল দল রাজশাহী কিংস। তাদের ফরেন রিক্রুট খোদ ফ্যানদেরই মন ভরাতে পেরেছিলো না। এখন সাত ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৮, এবং তাদের বেশ ব্যালান্সড দল মনে হচ্ছে।

তাদের আজকের ফরেন প্লেয়ারদের দেখেন, লরি ইভান্স, কায়েস আহমেদ, রায়ান টেন ডেসকাটে এবং ক্রিশ্চিয়ান ইয়ংকার। কেউই টি-টুয়েন্টির হট কেক না কিন্তু ঠিকই নিজেদের কাজটা করে দিয়েছেন।

ভরসা রাখা যায় ল্যান্স ক্লুজনারের ক্রিকেটীয় মস্তিস্কের উপর। আর মিরাজকে অধিনায়ক করে তারা দূর্দান্ত এক সাহসিকতা দেখিয়েছে। যেটা দেশের ক্রিকেটের জন্যেও বিরাট এক পদক্ষেপ।

রাজশাহীকে এখন ডার্কহর্স বলাই যায়।

কিংসের বোলিং মূলত দেশী ক্রিকেটারদের উপর নির্ভরশীল। মিরাজ, মুস্তাফিজ বাংলাদেশ দলের দুইজন স্ট্রাইক বোলার, তারা এখানেও আছে। পাশাপাশি আফগানিস্তানের কায়েস আহমেদ দারুন এক অপশন। সাথে আছে অভিজ্ঞ আরাফাত সানি। দেশী ক্রিকেটারদের নিজেদের মেলে ধরার জন্য রাজশাহী কিংস আদর্শ প্লাটফর্ম। আজ সেখানে যুক্ত হয়েছেন টেন ডেসকাটে, ভেরিয়েশন এনেছেন টিমের বোলিং আক্রমণ বিভাগে।

রাজশাহীর স্ট্রং সাইড তাদের বোলিং, কোন সন্দেহ নেই। বেশিরভাগ ইয়ং ক্রিকেটার দলে থাকায় ফিল্ডিং বিভাগেও তারা অন্যদের চেয়ে বেশ এগিয়ে। একটা কথা বলা হয় টি-টুয়েন্টি জিতাবে বোলিং আর ফিল্ডিং বিভাগ, কথা সত্যি তবে স্কোরবোর্ডে কিছু রান তো লাগবেই।

আসরের অন্যতম সেরা ব্যাটিং পাওয়ার ঢাকা এবং কুমিল্লা, দুই দলকেই কিন্তু রাজশাহী বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে তাদের বোলিং দিয়ে। তাদের চিন্তার জায়গা ছিলো ব্যাটিং, সেটাও আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিপক্ষ যেই হোক, মোটামুটি ১৪০+ রান করলেই রাজশাহীর বোলারদের জন্য লড়াই করার পুঁজি হয়ে যায়, আজকেও ভেবেছিলাম ১৪০+ হলেই কুমিল্লা হারবে।

কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনআপ জাস্ট লাইক ইংল্যান্ড, তাদের ১১ জনই ব্যাট চালাতে পারে, নয় নাম্বার সাইফুদ্দিন জেনুইন অলরাউন্ডার, তারপরের দুইজন ওয়াহাব রিয়াজ এবং মেহেদি তারাও ব্যাট ঘুরাতে একেবারে আনাড়ি না কিন্তু।

১৭৭ রান চেজ করা কঠিন হবার কথা না যখন দলে তামিম, বিজয়, কায়েস, পেরেরা, আফ্রিদি, ডসনরা থাকেন। তবুও তারা করতে পারলো মাত্র ১৩৮!

পার্থক্য ক্যাপ্টেন্সী আর বোলিং, কুমিল্লার অধিনায়ক কায়েস শেষ তিন ওভারে লাগাতার পেসার লাগালেন, আমি যেটুকু বুঝি ইভান্স-টেনডো দুইজনই ইউরোপিয়ান ব্যাটসম্যান আর তাদের দূর্বলতা (যদি থাকে) হচ্ছে স্পিন, পেসটা তারা সহজাতভাবে ভালো খেলেন। আর কায়েস হাতে মেহেদিকে রেখেও কাজে লাগালেননা! ওয়াহাব রিয়াজ ডেথে বরাবর মার খান, তাকে আগেই শেষ করানো ভালো অধিনায়কের রুটিন ওয়ার্ক। জানিনা কায়েস কি বুঝেন!

তাছাড়া রাজশাহী, যাদের ব্যাটিং আজকের আগে ঠিকমত ক্লিক করেনি তাদের আগে ব্যাট করতে না পাঠিয়ে রান চেজ করালেই ভালো হতো না? কিংস রান ডিফেন্ড করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে! চেজ করতে কম!

বিপরীতে মিরাজের ক্যাপ্টেন্সী “স্পট অন”, প্রতিটা বোলারকে দারুণভাবে রোটেট করেছেন।

একপাশে রাব্বী অন্যপাশে মিরাজ নিজেই বল শুরু করেন, কেউই লুজ বল দেননি। ফলে ওপেনিং জুটিতে ৩৭ রান আসলেই কখোনই চিন্তার কারণ হয়নি সেটা।

তামিমের ২৪ বলে ২৫ আর বিজয়ের যথারীতি ওয়ানডে স্টাইলের ২৩ বলে ২৬ রান তেমন কাজে আসেনি বরং আস্কিং রেট বাড়িয়েছে। একজন যদি শেষ পর্যন্ত টানতে পারতেন তাহলে ম্যাচ আরো ক্লোজ হতো। বিজয়ের কাছ থেকে আশা করা ভুল তবে তামিম পারতেন মাথা ঠাণ্ডা করে খেললে।

কুমিল্লা আরেকটা ভুল করেই যাচ্ছে সেটা হচ্ছে পেরেরাকে অনেক নীচে খেলাচ্ছে, নিউজিল্যান্ড সফরে যেরকম বিস্ফোরক ব্যাটিং করেছেন সেটা মাথায় রেখে পেরেরাকে যত বল খেলাবে কুমিল্লা তাদের বড় রানের পসিবিলিটি ততই বাড়বে। এটা মারাত্মক ভুল তাদের। কথাটা ক্রিকইনফো পর্যন্ত বলেছে।

মিরাজের কথা বলছিলাম, চিন্তাশীল অধিনায়ক, দ্বিতীয় উইকেট যখন জমে যাচ্ছে দেখলেন তখন টেনডোকে আনলেন আর বিজয়ের উইকেট নিয়ে নিলেন টেনডো, আবার যখন ছোট জুটি হচ্ছে তখন আবার আনলেন এবং জিয়াউর রহমানের উইকেট পেয়ে গেলেন। টেনডো কিন্তু ওভার করেছেন ওই দুইটাই! মানে জুটি ভাঙার জন্যেই ব্যবহার করা হয়েছে তাকে।

কায়েস আহমেদ কিছুটা রান দিলেও দুই বাহাতি কায়েস আর পেরেরাকে এক ওভারে ফিরিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন কুমিল্লাকে।

তারপর ভরসা ছিলেন আফ্রিদি, তাকে বোকা বানিয়ে মুস্তাফিজ যে ওভারটা করলেন সেটাকে কি বলবো? অসাধারণ? চমৎকার, অবিশ্বাস্য, ব্রিলিয়ান্ট? দ্যাটস ফিজ ফর ইউ। মাত্র ৩ রান দিলেন আফ্রিদিকে ক্লুলেস বানিয়ে। টিপিক্যাল মুস্তাফিজ কাটার, সুইং এন্ড মিস! আফ্রিদির চোখে বিস্ময়! না পেরে ওয়াইড চেয়ে বসলেন।

এই ওভারের চাপ পড়েছে রাব্বির ওভারে, মেক অর ব্রেক ওভার, মারতে তো হবেই! কিন্তু দূর্দান্ত এক ডেথ ওভারে ৩ উইকেট রাব্বীর। রাব্বীর কাছ থেকে এমন ওভার দেখে শান্তি পেয়েছি খুব। ৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট!

মুস্তাফিজ লাস্ট উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করলেন।

মুস্তাফিজঃ ৩.২-০-৮-১
রাব্বীঃ ৩-০-১০-৪

দুইজন বোলার যখন এভাবে বল করে তখন প্রতিপক্ষ আর কিভাবে জয়লাভ করে?

রাজশাহী যে কাউকে হারাতে পারে এটা এখন প্রমাণিত। তাদের বোলিং আক্রমণ টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা, লিথাল বোলিং আক্রমণ।

পাশাপাশি তাদের ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠলে আর ক্লুজনারের অভিজ্ঞতার সাথে মিরাজের উজ্জীবিত ও প্রাণচঞ্চল অধিনায়কত্ব মিলিয়ে রাজশাহী অনেক দূর যাবার ক্ষমতা রাখে!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top