ফ্লাডলাইট

চলমান বিপিএল থেকে আমরা যা জানলাম…

মুশফিকুর রহিম নিয়ন আলোয় neonaloy

বিপিএল ২০১৯ থেকে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত পেতে থাকবো। যেমন, বদলে যাওয়া তাসকিন, সুইট টাইমার আফিফ, অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ইত্যাদি ইত্যাদি!

তবে জানলাম কি? হ্যাঁ, আমরা যা যা জানতে পেরেছি তার ভেতর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেঃ

১) মুশফিক আসলে বাজে ফিল্ডার না

২) কিপিং না করলেও মুশফিক রান করতে পারেন

সব সময় বলা হয় মুশফিক বাজে ফিল্ডার, আউটফিল্ডে তার উপর ভরসা করা যায়না ইত্যাদি। আমি কিন্তু কখনো মানতাম না এই যুক্তি। কারন অতীতে যখন মুশফিকের আঙুলের ইনজুরির কারনে মিথুনের অভিষেক হয়েছিলো, বা যখন বিজয় বা অমি কিপিং করেছে তখন কখনো শুনিনি মুশফিক বলেছেন তিনি বাজে ফিল্ডার। মুশফিক সে সময় সার্কেলের ভেতর ফিল্ডিং করেছেন, বাইরে করেছেন, বাতাসে ভাসা ক্যাচ নিয়েছেন।

কথাটা কখন শুনলাম? যখন লিটনের আগমন ঘটলো জাতীয় দলে, স্পেসিফিক করে বললে ২০১৭ সালের সাউথ আফ্রিকা সফরে। তখন জানলাম মুশি “বাজে ফিল্ডার”।

হাবিবুল বাশার লাস্ট পূর্নাঙ্গ শ্রীলংকা সফরের সময় বলেছিলেন যে তারা (নির্বাচকমণ্ডলী) স্কোয়াডে লিটনকে রাখেন সবসময়, কিন্তু একাদশে কেন জায়গা হয়না সেটা একমাত্র অধিনায়ক (মুশি) জানেন।

যাইহোক, এইবার মুশফিক চট্টগ্রামের অধিনায়ক হবার পরেও আউটফিল্ডার হিসেবে খেলছেন। এবং দারুণ ফিল্ডিং করছেন। গতকালকের ম্যাচেও সুন্দর দুটি ক্যাচ নিয়েছেন। যার ভেতর একটি ছিলো উল্টো দিকে দৌড়ে! রানিং ব্যাকওয়ার্ড! আবার প্রয়োজনে ডাইভ দিচ্ছেন, ভালো থ্রো করছেন।

এতো ভালো একজন ফিল্ডারকে কেন “বাজে ফিল্ডার” বলে তার ফ্যানরা? ডাহা মিথ্যা কথা।

দ্বিতীয়ত, কিপিং না করলে উইকেট বুঝেননা বা বুঝতে কষ্ট হয় এটাও আর মানার মতো যুক্তি না। বিপিএলের টপ রান স্কোরারদের তালিকায় এখন পাঁচ নাম্বারে আছেন মুশফিক, অন্যদের চেয়ে কম ম্যাচ খেলেই।

৫ ম্যাচে মুশফিকের রান ১৯১, গড় ৩৮.২০, স্ট্রাইকরেট ১৩৯.৪১, আছে দুটি ফিফটি, বেস্ট ৭৫।

পরিসংখ্যান বাদ দেন, নিজের চোখেই নিশ্চয় দেখেছেন মুশফিক কেমন ব্যাটিং করছেন, বলা যায় বোলারদের শাসন করছেন ব্যাট হাতে।

সুতরাং কিপিং না করেও ভালো ব্যাটিং পারেন তিনি।

এই যে নতুন আবিষ্কার বিপিএলের, এটার সুদূরপ্রসারী একটা তাৎপর্য আছে, বারবার বাধাগ্রস্ত লিটনের ক্যারিয়ার এখন তরতর করে সামনে আগাবে হয়তো, সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি যে নিজের এই সক্ষমতার উপর বিশ্বাস রেখে মুশফিক টেস্ট দলে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে চার নাম্বারে উঠে আসবেন এবং কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে লিটন দাস খেলার সুযোগ পাবেন।

আমরা এটা আশা করতেই পারি, কারন ভিনদেশী শাহজাদের ভুঁড়ির চেয়ে স্বদেশী লিটনের ক্যারিয়ারের মূল্য নিশ্চয় মুশফিকের কাছে বেশি!

Most Popular

To Top