ক্ষমতা

অপারেশন কার ওয়াশঃ একটি দেশের দুর্নীতি যখন অচল করে দেয় পুরো একটি মহাদেশকে

“দুর্নীতি”- ছোট্ট এই শব্দটি এক এক দেশে এক এক ভাষায় বলা হলেও এর সামগ্রিক অর্থ কিন্তু একই। সমাজের নিম্নশ্রেণী থেকে শুরু করে উপরতলা পর্যন্ত সবখানে শিকড় গেঁড়ে আছে দুর্নীতি। বিশ্বের নানাপ্রান্তে প্রতি সেকেন্ডেই লেনদেন হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ঘুষের, এদের মধ্যে কিছু ফাঁস হলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে লোকচক্ষুর আড়ালে।

কিন্তু ব্রাজিলের “কার ওয়াশ” কিংবা “পেট্রোব্রাস” দুর্নীতির কাছে সেইসব এখন মনে হচ্ছে তুচ্ছ কিছু, কারণ এই “পেট্রোব্রাস” দুর্নীতি সমূলে ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে কিছু বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের, রাষ্ট্রনেতাদের, কয়েকটি দেশের এবং খোদ ল্যাটিন আমেরিকা উপমহাদেশের।

১৯৮০ সালে আলবার্তো ইউসেফ এবং তার বোন মিলে প্যারাগুয়ে থেকে ব্রাজিলে চোরাই হুইস্কি আর ইলেক্ট্রনিক জিনিসের ব্যবসা করে বেড়াতো। একবার পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় আলবার্তোর পিকআপ ট্রাক থেকে ভিসিআর এর কপি উড়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনা সেই সময়কার ধাওয়াকারী পুলিশ অফিসার কোনমতেই ভুলতে পারেননা।

জোকার টাইপের এই ছিঁচকে অপরাধী যে কয়েক দশক পরে ল্যাটিন আমেরিকার এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক স্ক্যান্ডালের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠবে সেটাই বা কে কল্পনা করতে পেরেছিল? আলবার্তো ইউসেফের মত এমন আরো অনেক ব্যক্তির মাকড়সার জালের মত ছকে আনা দুর্নীতির এবং প্রতারণার কারণে লক্ষ লক্ষ লোক আজ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক মন্দায় এবং কয়েকটা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ হুমকির মুখে।

আলবার্তো ইউসেফ

শুরুর কথাঃ

২০১৩ সালে ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার এক ছোটখাট পেট্রল স্টেশনে সামান্যকিছু টাকা-পয়সার লেনদেনের মধ্যে ঘাপলা দেখে স্থানীয় পুলিশ এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন,পরে তদন্তের রেশ ধরে গ্রেফতার করা হয় আলবার্তোকে। আলবার্তোর কাছ থেকে জানা যায় যে পেট্রোব্রাসের প্রাক্তন কর্মকর্তা পাওলো রবার্তো কস্টাকে ঘুষ দেওয়ার জন্য সে একটা গাড়ি কিনেছিল,এই কথা শুনে তদন্তরত পুলিশরা তদন্তের পরিধি বাড়ায়।

পরে রবার্তো কস্টা রাজসাক্ষী হিসেবে তার শাস্তি কমানোর চুক্তিতে এই দুর্নীতি সম্পর্কে যা যা জানে সবকিছু বলতে সম্মত হয়। একসময় পুলিশ কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে এটা তুচ্ছ কোন মানি লন্ডারিং-এর কেস নয় বরং আরো অনেক বড় কিছু, কারণ এতে জড়িত থাকতে পারে ২৮টিরও বেশি বড় বড় কোম্পানি, ২০টির মত রাজনৈতিক দল এবং অনেক বাঘা বাঘা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

অপারেশন কার ওয়াশ

পুলিশের তদন্তে পাওয়া গেল যে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানী পেট্রোব্রাসের কর্মকর্তারা কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে করে বড় বড় কন্সট্রাকশন কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে এবং সেই ঘুষের একাংশ ব্যয় হয়েছে তৎকালীন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী কাজে। এরপরে ব্রাজিলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাদের তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জাজ সারজিও মোরো’র অধীনে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের নিয়ে “অপারশন লাভা জাতো” বা “অপারেশন কার ওয়াশ” চালু করা হয়।

ব্রাজিলিয়ান কন্সট্রাকশন ফার্ম এবং রাজনৈতিক দল পিএমডিবি আর ওয়ার্কার্স পার্টি এই দুই দলের মাঝে মধ্যস্থতাকারী ফারনান্দো সোরেসকে গ্রেফতার করা হয় “অপারেশন কার ওয়াশ” এর প্রথমদিকে। রবার্তোর মত করে ফারনান্দো সোরেসও যখন রাজসাক্ষী হতে চুক্তি করে তখন এই অপারেশন কার ওয়াশের মাধ্যমে গ্রেফতারের হিড়িক পরে যায় সবখানে এবং গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশই রাজসাক্ষী হয়ে বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করতে শুরু করে। ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ফেডারেল পাবলিক প্রসিকিউটররা ১৭৯ জন লোকের বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা করে দেয় যাদের অধিকাংশই ছিল রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী।

ক্যামারগো করিয়া, কনস্ট্রাটুরা, ইউটিসি এঞ্জেনহারিয়া, ওডেব্রেখট, মেন্ডেস জুনিয়র, এঙ্গেভিক্স, কুইরোজ গ্যালাভাও, আইইএসএ ওলিও গাস এবং গ্যালাভাও এঞ্জেনহারিয়ার মত ব্রাজিলের বড় বড় কোম্পানিসহ পরবর্তী বছরের মধ্য গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। সেই সাথে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ওডেব্রেখটের প্রধান মারসেলো ওডেব্রেখটের ১৯ বছর জেল হয়ে যায়। তখন মারসেলো এবং কোম্পানির অন্য এক্সিকিউটিভরা সাক্ষী হিসেবে সম্পূর্ণ প্রতারণা, ঘুষ এবং দুর্নীতির বর্ণনা দিতে রাজি হয়ে যায় আর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ব্রাজিল এবং ল্যাটিন আমেরিকাসহ সুইডেন এবং আমেরিকাতেও ঘুষ দেওয়ার ইতিহাস।

কেন রাঘব-বোয়ালদের তদন্তের সম্মুখীন হতে হয়েছে?

ওডেব্রেখট কোম্পানীর কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য মোতাবেক কয়েকশ দুর্নীতিবাজ নেতার নাম লিস্ট করা হয় যার মধ্যে আছে চারজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, আটজন মন্ত্রী, ন্যাশনাল কংগ্রেসের ৭০ জন সদস্য এবং তিনজন গভর্নর।

এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্ল্যেখযোগ্যরা হলেনঃ

লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাঃ

ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা যিনি দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তার নাম এই তালিকায় দেখে চমকে উঠেছিলেন অনেকেই।লুলা দা সিলভাকে তদন্তকারী কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ দুর্নীতি প্রক্রিয়ার “মাস্টারমাইন্ড” বলে উল্ল্যেখ করেন এবং তার সাড়ে নয় বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়।পরবর্তীতে লুলা দা সিলভা এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে হেরে যান এবং তার সাজার মেয়াদ বেড়ে ১২ বছর হয়ে যায়।

লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা 

দিলমা রুসেফঃ

২০১১ সালে দিলমা রুসেফকে প্রেসিডেনশিয়াল পদ থেকে ইম্পিচমেন্ট করা হয় এবং ২০১৬ সালে অফিস থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয় তাকে। <sিও ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দিলমা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানী পেট্রোব্রাসের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন,কিন্তু পাবলিক প্রসিকিউওটররা রুসেফের নামে এই স্ক্যান্ডাল সংক্রান্ত কোন মামলা না করে বরং ২০১৪ সালের নির্বাচনে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

দিলমা রুসেফ

মিখেল তেমেরঃ

দিলমা রুসেফের একসময়ের রানিং-মেট যিনি পরবর্তীকালে ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন এবং দিলমা’র ইম্পিচমেন্টের পরে ২০১৬ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তার নামও উঠে এসেছে এই দুর্নীতির তদন্তে।যদিও মিখেলের একটা অডিও টেপ প্রকাশ হয়েছে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথাবার্তা নিয়ে,কিন্তু মিখেল এখনো সবকিছু অস্বীকার করে যাচ্ছেন।

মিখেল তেমের

ব্রাজিলের অর্থনীতিতে এই স্ক্যান্ডাল কতটুকু প্রভাব ফেলেছে?

প্রথমে ভাবা হয়েছিল যে এই স্ক্যান্ডালের কারণে ব্রাজিলের অর্থনীতিতে যা প্রভাব পড়বে তা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করার পরে কেটে যাবে।

কিন্তু দিন দিন যত রাজনৈতিক সংকট শুরু হতে লাগল ততই অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করল এবং ২০১৫ সালে শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ মন্দা শুরু হল।

২০১৫ সালের ব্রাজিলের জিডিপি ৩.৮% নেমে যায় এবং প্রেসিডেন্ট মিখেলের অডিও রেকর্ড প্রকাশ হওয়ার পরে তা আরো কমে যায়। ২০১৩ সালে এই স্ক্যান্ডাল নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার সময় বেকারত্বের হার ছিল শতকরা ৬ জন এবং ২০১৭ সালের মার্চ মাসে তা দ্বিগুণ হয়।

১০ বছরের চেষ্টায় বেকারত্বের হারে যে লাগাম পরানো হয়েছিল, অপারেশন কার ওয়াশের দুই বছরের মাথায় সেটা আকাশচুম্বী হয়েছে। সূত্রঃ ইরিপোর্ট ডট আরইউ

যদিও ২০১৭ সালের শেষের দিকে ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটু বেড়ে জিডিপি ১.১% বেড়ে যায় কিন্তু তারপরেও ব্রাজিলের প্রাইভেট সেক্টরে এখনো ইনভেস্টমেন্ট বাড়ছে না যখন সুদের হার ৭% এর চেয়ে কমে নামিয়ে আনার পরেও। প্রেসিডেন্ট মিখেল অর্থনৈতিক প্রণোদনার জন্য সংসদে প্রস্তাব রাখলেও বিশ্লেষকরা তার এই প্রস্তাবনা আপাতদৃষ্টিতে সফল হবে বলে মনে করছেন না।

এর সাথে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো যারা এই স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে আছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে এবং কেউ কেউ নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে এক জরিপে জানা যায় যে স্ক্যান্ডালের কারণে পেট্রোব্রাসের মার্কেট ভ্যালু ২৫০ বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছে এবং মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস এন্ড সিকিউরিটি এবং ব্রাজিলিয়ান সরকারী সংস্থাকে দিতে হবে ৮৫৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানা।

দুর্নীতির ক্ষত ব্রাজিলের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো ল্যাটিন আমেরিকাতে

আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, পেরু, ভেনেজুয়েলা, পানামা এবং ব্রাজিল এই দেশগুলো ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশগুলোর মধ্যে ছিল। কিন্তু পেট্রোব্রাস কেলেংকারি এবং অন্যান্য দুর্নীতির কারণে বর্তমানে দেশগুলোর অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ার মুখে। পুরনো কনস্ট্রাকশন কোম্পানিগুলো আদালতে জরিমানা দিতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ তেলের খনি থেকে তেল উত্তোলনের দায়িত্ব পাচ্ছে আমেরিকার তেল কোম্পানিগুলো, যেটাকে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি বলে মনে করছেন দেশগুলোর জনসাধারণ।

ল্যাটিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে ২০১৯ সালে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকার এবং সরকারের বাইরে থাকা বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের নামই এই পেট্রোব্রাস দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় জনগণ কোন দলকে কিংবা কোন নেতাকে ভোট দেবে তা নিয়ে বিভ্রান্ত।

একদিকে সীমাহীন অর্থনৈতিক মন্দা এবং মুদ্রাস্ফীতি আর অপরদিকে বড় কোম্পানীগুলো দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার কারণে বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে ল্যাটিন আমেরিকায় এখন অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।

“অপারেশন কার ওয়াশ” এর উপর রাজনৈতিক চাপ এবং এর ভবিষ্যত যা হতে পারে

এখনো পর্যন্ত কার ওয়াশ অপারেশনের তদন্তকারীরা তাদের উপর আসা রাজনৈতিক চাপকে ঠেকিয়ে রেখেছেন এবং নিজেদের কাজ করে যাচ্ছেন, তবে কতদিন চালিয়ে যেতে পারবেন সেটা সময়ই বলে দিবে। বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দল ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছে এই অপারেশন কার ওয়াশ এর কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এবং ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি প্লেন ক্র্যাশে এই বিচারব্যবস্থার জাস্টিস ইনচার্জ তেওরি জাভাস্কি আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া বিরোধীদের মরিয়া মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

পেট্রোব্রাস এবং ওডেব্রেখটের উপর থেকে ফোকাস সরিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মিট-প্যাকিং কোম্পানীগুলোর মধ্যে অন্যতম জেবিএস কোম্পানীর দুর্নীতির প্রতি নজর দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিখেলের রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিকে দিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে ঘুষ পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও নির্বাচনকালীন সময়ে কালো টাকার লেনদেনের অভিযোগে এই কোম্পানির কর্ণধার দুই ভাইকে ২০১৮ সালের মে মাসে আদালতে হাজির হতে হয়। এছাড়া এটর্নি জেনারেল প্রেসিডেন্ট মিখেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন অপারশন কার ওয়াশকে বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের নাটেরগুরু হিসেবে এবং কংগ্রেসে শীঘ্রই তিনি প্রেসিডেন্ট ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাব আনবেন।

জেবিএস এর সিইও এবং প্রেসিডেন্ট বাতিস্তা ব্রাদার্স

তবে প্রেসিডেন্ট মিখেল তেমের বরাবরের মতই তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং পুলিশ বিভাগে অর্থবরাদ্দের হার ৪৪% কমিয়ে দেওয়ার বিল পাশ করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের পরে প্রেসিডেন্ট মিখেল তেমের আর ক্ষমতায় থাকবেন না, নির্বাচনে যে দল ক্ষমতায় আসবে তাদের উপরেও অনেকটা নির্ভর করবে অপারেশন কার ওয়াশের ভবিষ্যত।

ভবিষ্যতে যাই হোকনা কেন, এই “অপারেশন কার ওয়াশ” যে ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস এনে দিয়েছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

এই তদন্তের কারণে আর্থিক দুর্দশায় পড়া সত্ত্বেও ব্রাজিলের জনগণ সমর্থন জানাচ্ছে অপারেশন কারওয়াশকে

চোখের সামনে অনায়াসে নিজেকে দুর্নীতির শিকার হতে দেখা বঞ্চিত মানুষজন এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে দুর্নীতি করলে দেশের প্রেসিডেন্টেরও সাজা পেতে হয়। হয়তোবা এই “অপারেশন কার ওয়াশ” ব্রাজিল কিংবা ল্যাটিন আমেরিকাকে একেবারে দুর্নীতিমুক্ত করে ফেলতে পারবেনা কিন্তু দুর্নীতিবাজদের মনে অন্তত ভয় ঢুকিয়ে দিতে পেরেছে এই “অপারেশন লাভা জাতো”।

আরো পড়ুনঃ ঠিক কতো টাকা চুরি করলে একজন নেতার পেট ভরে?

তথ্যসূত্রঃ
১। উইকিপিডিয়া
২। দ্যা গার্ডিয়ান
৩। বিবিসি
৪। ফরেন অ্যাফেয়ার্স
৫। ওপেন ডেমোক্রেসি
৬। ব্রিটানিকা
৭। ইরিপোর্ট

Most Popular

To Top