টাকা-কড়ি

হাওয়ায় উড়ছে টাকা, দৌড়াচ্ছে সবাই, ধরতে পারবে কে?

কথায় আছে, ঢাকায় টাকা উড়ে। তবে এখন ঢাকায় টাকা না উড়লেও ইন্টারনেটে ঠিকই টাকা উড়ছে। শুধু টাকা উড়ছে না, বরং টাকা ফ্রিতে দেওয়া হচ্ছে। ফ্রিতে টাকা পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে একটা একাউন্ট খুলতে হবে এবং সাথে সাথে একাউন্টে টাকা এসে যাবে। তার পরের কাজটা আরো বেশি সোজা! আপনার রেফার কোড দিয়ে আপনার পরিচিতদের ও বন্ধুদের ইনভাইট করতে হবে। আপনার ইনভাইটের মাধ্যমে কোড ব্যবহার করে যতজন একাউন্ট খুলবে, সেই অনুপাতে আপনি পাবেন হাজার হাজার ডলার।

ইনিশিয়েটিভ কিউ এর ফাউন্ডার সার উইলফ আপনাকে এই সুযোগটাই দিচ্ছে। নতুন এই পদ্ধতির নাম ইনিশিয়েটিভ কিউ আর এর কারেন্সিকে Q ডাকা হয়। সার উইলফের মতে আগামী কয়েক বছরে কিউ-কারেন্সি মূল্যমান কয়েক মিলিয়ন ডলার কিংবা বিলিয়ন ডলার হবে। অবশ্য আপনি হয়তো এর সাথে ইতোমধ্যেই পরিচিত হয়ে গেছেন। মাসকয়েক আগেই ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার সব সয়লাব হয়ে ইনিশিয়েটিভ কিউ এর রেফারেল মেসেজে “Launched by ex-PayPal guys to create a new payment system instead of credit cards that were designed in the 1950s…” 

ইনিশিয়েটিভ কিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

সার উইলফ, ইনিশিয়েটিভ কিউ এর উদ্যোক্তা

ক্রিপ্টোকারেন্সি’র ক্ষেত্রে ইনভাইট করে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর এই নিয়ম নতুন নয়। বিটকয়েনের শুরুর দিকেও এই একই পদ্ধতিতে সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। কিছু মানুষের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া বিটকয়েন নিঃসন্দেহে আজ বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। তাহলে কি আমরা ধরতে নিতে পারি যে ইনিশিয়েটিভ কিউও একসময় বেশ বড় আকার ধারণ করবে?

ইনিশিয়েটিভ কিউ এর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি’র পেছনের ব্যাপারটা আগে জানতে হবে। বর্তমানে বিশ্বে টাকা, ডলার, রুপি, ওন, ইউরো সহ ১৮০টি কারেন্সি বা মুদ্রা রয়েছে। আর ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল কারেন্সির সংখ্যা ৪০০০। এর মাঝে বিটকয়েন সবচেয়ে জনপ্রিয়।

ইনিশিয়েটিভ কিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

বাজার এখন ভর্তি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে!

যেকোন কারেন্সি চাইলেই ব্যবহার করা যায় না কিংবা লেনদেন করা যায় না। সকল প্রকার কারেন্সির একটা মূল্যমান থাকে। বাংলাদেশে আলুর কেজি ২৫ টাকা কিন্তু জাপানে সেই আলুর কেজি ৪২০ ইয়েন আবার আমেরিকায় ২.৪৬ ডলার। পাকিস্তানে ৩৭ রুপি। জায়গাভেদে ও জিনিসের ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে একেক জায়গায় একেক কারেন্সি ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশে টাকা ব্যবহার করার কারণ এখানে সবাই টাকাতে লেনদেন করে। যেই কারেন্সি যত বেশি ব্যবহার হবে, এর মূল্যমান তত বেশি হবে। ডিজিটাল কারেন্সির ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। বাজারে বর্তমানে ৪০০০ ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকলেও বিটকয়েনের ব্যবহার বেশী হওয়ায় অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি’র তুলনায় এর মূল্যমান বেশি। বিটকয়েনের শুরুতে মূল্যমান বেশি না থাকলেও, মানুষের অধিক ব্যবহার ও লেনদেনের ফলে বর্তমানে এর মূল্যমান কয়েক হাজার ডলার। এই লেখাটি লেখার সময় বিটকয়েনের মূল্যমান ছিল ১ বিটকয়েন= ৩,৬৪৫ মার্কিন ডলার।

ইনিশিয়েটিভ কিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

 

সাধারণ কারেন্সির লেনদেনের নিয়ন্ত্রন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে করা হয়। একেক দেশে একেক কারেন্সি হওয়ায় অনেক সময় লেনদেনেও সমস্যা হয়ে যায়। বর্তমানের এই কারেন্সির সূচনা অনেক আগে থেকেই। বর্তমান কারেন্সির নানাবিধ সমস্যা দূর করার জন্যই সার উইলফ তার ইনিশিয়েটিভ কিউ এর সূচনা করেন।

ইনিশিয়েটিভ কিউ ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমেই যে কেউ যেকোন সময় কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই লেনদেন করতে পারবে। কিন্তু যেকোন কারেন্সিতে লেনদেনের জন্য অবশ্যই তার একটা মূল্যমান থাকতে হবে। কিন্তু ইনিশিয়েটিভ কিউ এর এই সুবিধাটা বর্তমানে নেই। এই পদ্ধতি নতুন, এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম আর এই পদ্ধতিতে কোন লেনদেনও নেই। আপাতদৃষ্টিতে ইনিশিয়েটিভ কিউ এর কোন মূল্যমানই নেই। সার উইলফ তার এই নতুন উদ্ভাবন পদ্ধতিকে সবার কাছে পৌছে দিতেই ইনভাইট সিস্টেম ব্যবহার করে মানুষকে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। সার উইলফ এর বিবৃতি অনুযায়ী মোট ইনিশিয়েটিভ কিউ এর ৮০% Q ইউজারদের হাতে থাকবে। ইনিশিয়েটিভ কিউ এর এই সিস্টেমের পেছনে সার উইলফ ছাড়াও ৮ জনের একটা টিম কাজ করছে।

ইনিশিয়েটিভ কিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

ভাইরাল পিয়ার-টু-পিয়ার মার্কেটিং-ই ইনিশিয়েটিভ কিউ এর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য

ইনিশিয়েটিভ কিউ নিঃসন্দেহে নতুন ডিজিটাল কারেন্সি সিস্টেমে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। কিন্তু আদৌ এই পদ্ধতি কাজ করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন অর্থনীতিবিদরা। ইনিশিয়েটিভ কিউ এর কোন মূল্যমান নেই।

হয়তো ইনভাইট সিস্টেম ব্যবহার করে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে বা এর সদস্য সংখ্যা বাড়বে কিন্তু কতজন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবে তা নির্ণয় করা কঠিন। ইনিশিয়েটিভ কিউ কিভাবে ব্যবহার করা যাবে কিংবা কিভাবে এর মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে সেই ব্যাপারে নেই কোন নির্দেশনা। ভবিষ্যতেও এর মূল্যমান বাড়বে, কিংবা মূল্যমান বাড়লেও সেটা ধরে রাখার মত পর্যায়ে যাবে- সেই বিষয়েও নেই কোন ধরনের নিশ্চয়তা। পুরো ব্যাপারটা একটা লস প্রজেক্ট হিসেবে মুখ থুবড়ে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তলিয়ে দেখতে গেলে দেখা যায় যে বিজ্ঞাপনের ব্যাপারটা ছাড়া আর কোন ব্যাপারেই এর কোন নির্ভরতা কিংবা নিশ্চয়তা নেই।

তবে ভবিষ্যতে ইনিশিয়েটিভ কিউ যে পরবর্তী বিটকয়েন হয়ে উঠবেনা, এই ব্যাপারেও নেই কোন নিশ্চয়তা। আর যদি বিটকয়েন হয়ে উঠেও, তাহলে বিটকয়েনের মতই যে কিউ কারেন্সিতে ধস নামবে না, তার গ্যারান্টি কি? আজ যে বিটকয়েনের মূল্য সাড়ে তিন হাজার ডলারের আশেপাশে, একসময় সেই বিটকয়েন কিন্তু ১৭,০০০ ডলারেও বিকিয়েছিল!

যেভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে আকাশচুম্বী হয়েছিল বিটকয়েন, এক বছরের মাথায়ই তার পাঁচ ভাগ্যের এক ভাগে নেমে এসেছে

আরো পড়ুনঃ কেন আমরা ইচ্ছামত টাকা ছাপাই না?

তথ্যসূত্রঃ

১। নাম্বিও
২। ব্লুমবার্গ
৩। কয়েনডেস্ক

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top