ফ্লাডলাইট

ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর জানুয়ারি ট্রান্সফার সিজনের কেচ্ছাকাহিনী

জানুয়ারি ২০১৯ ট্রান্সফার উইন্ডো neonaloy নিয়ন আলোয়

জানুয়ারীর ট্রান্সফার উইন্ডো খুলেছে বেশ কিছু দিন হল। বড় দলগুলো পাকাপোক্ত করে নিচ্ছে তাদের দল। ধুঁকতে থাকা জায়ান্টরা চাচ্ছে নতুনদের ভিড়িয়ে নিজেদেরকে এগিয়ে নিতে আর উপরে থাকা জায়ান্টরা চাচ্ছে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে। ট্রান্সফার উইন্ডোতে দলের জন্য কিছু একস্ট্রা রসদ জোগাড়ে তাই মরিয়া সবাই।

ম্যানচেষ্টার সিটি

যদিও সিটির সকল পজিশনে কোয়ালিটি সম্পন্ন প্লেয়ার রয়েছে, তবে ডিফেন্সিভ মিড এবং লেফট ব্যাক তাদের দূর্বল জায়গা। পেপ গার্দিওলা যে ফরমেশনে খেলায় তাতে ডিফেন্সিভ মিড পিভট হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ দলের দরকারে এটাক এবং ডিফেন্স দুটোই সমান তালে চালানো। ফলে একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং ফিট ডিফেন্সিভ মিড জরুরী। আর আরেকদিকে বেনজামিন মেন্ডি দলের একমাত্র লেফটব্যাক৷  যদিও ডেলফ এবং ওলেক্সান্ডার সেই পজিশনে ভালই করছে, তবুও সেন্টার ব্যাকের জন্য তারা ট্রান্সফার মাঠে নামবে।

দলের টার্গেটঃ

গার্দিওলার রাডারে রয়েছেন ইতালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল জর্জিনহো। তবে ডি ইয়ং এর জন্যও বিড করেছে তারা।

দল ছাড়তে পারে যারাঃ

তরুন ফরোয়ার্ড ব্রাহিম ডিয়াজ দল ছেড়েছেন এই মৌসুমে, গন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদ। মাঙ্গালা এই সিজনে একটি ম্যাচও খেলেনি। তিনিও সিটি ছাড়তে পারেন।  এছাড়াও ফিলিপ্পে স্যান্ডলার এবং হেরেরা লোনে যেতে পারে৷

লিভারপুল

নতুন বছর মোটেও ভালো যাচ্ছে না লীগ লিডারদের৷  ইন্জুরি সমস্যা ক্লপকে চিন্তায় ফেলেছে। লিভারপুলের বর্তমানে মাত্র ২ জন সেন্টারব্যাক রয়েছে।  আরেকজন ইন্জুরিতে৷  ট্রফি খরা কাটাতে সেন্টার ব্যাক কেনার কথা তারা ভাবছে।

দলের টার্গেটঃ

যদিও পুলসিচকে দলে ভিড়াতে ব্যর্থ হয়েছে তারা, বেনজামিন পাভার্ডের সাথে কথাবার্তা শুরু হলেও বায়ার্ন উড়িয়ে নিয়ে গেছে এই খেলোয়াড়কে৷ তাই নতুন কারো পিছনেই ছুটতে হবে এখন ক্লপকে।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

জানুয়ারীতে কোন বড় মহারথী দল ছাড়ছে না। তবে যেহেতু অনেক দলই স্ট্রাইকার খুঁজছে, সেহেতু ডিভোক ওরিগি এবং ডমিনিককে লোনে পাঠাতে পারে তারা।

চেলসি

সিজনের এতদিনে এটি পরিষ্কার যে চেলসির একজন তুখোড় স্ট্রাইকার দরকার। সারির নজর তাই উইন্ডোর বড় স্ট্রাইকার লিস্টে।

দলের টার্গেটঃ

ডর্টমুন্ডের পুলসিচকে তারা দলে ভিড়িয়েছে এই উইন্ডোতে। তবে এই মৌসুমে সে চেলসিতে খেলছে না, আগামী মৌসুমের শুরু থেকে খেলবে। যেহেতু উইলিয়ান ও পেদ্রোর বয়স বাড়ছে সেহেতু একজন তরুণ মিডের দরকার হয়ে পড়েছিল৷ বড় কোন স্ট্রাইকার না ভিড়াতে পারলে হিগুয়েইনের দিকে নজর দিবে তারা৷

দল ছাড়ছেন যারাঃ

সেস্ক ফ্যাব্রিগাস ইতোমধ্যেই মোনাকো’র উদ্দেশ্যে চেলসি ছেড়েছেন। ড্যানি ড্রিংকওয়াটার দল ছাড়তে পারেন যদি ফুলহামের নতুন দায়িত্ব নেওয়া রানেরী চায়। সারি এটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে মোসেস এবং কাহিল তার প্লানে নেই৷ তাই তারা ক্লাব ছাড়তে পারেন। এদিকে লুডভিক চিক এবং ক্রিস্টিয়ান লোনে যেতে পারে৷ এছাড়াও হাডসন ওডোই এবং আমপাদুর মত তরুণও আছে দল ছাড়ার তালিকায়৷

ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড

রেড ডেভিলসরা মোটেও স্বস্তিতে নেই। লীগে দলের অবস্থান মোটেও সুখকর নয়। যদিও নতুন কোচ ভালো কিছুরই আভাস দিচ্ছেন, তবে তাদের দরকার একজন সেন্টারব্যাক এবং রাইট উইঙ্গার৷

দলের টার্গেটঃ

যেহেতু নতুন কোচের আগমনে কিছুটা ফুরফুরে মেজাজে রেড ডেভিলসরা, নতুন প্লেয়ার দলের ক্যালিবার ভারী করবে৷ যদি কলিডোও, কউলিবেলি, মিলান স্ক্রিনিয়ার অথবা নিকলা মিলানকভিচের মত ডিফেন্ডারকে পায় তবে তারা যেকোন রকম খরচ করতে প্রস্তুত।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

বিভিন্ন রিসোর্স মতে পল পগবা, সনচেজের জন্য ভালো অফার বাতিল করে দিয়েছে তারা। তবে জুভেন্তাস এবং পিএসজির সাথে সোয়াপ ডিল সহ টাকা নিতে প্রস্তুত তারা।

আর্সেনাল

একজন ডিফেন্ডার মন্দ না, ২টা হলে ভালো হয়- এই হল গানারদের অবস্থা। ৪ ডিফেন্স ব্যবহার করা আর্সেনালের রয়েছে ৩ জন ফিট ডিফেন্ডার। এটাককে আরও মজবুত করতে দলের দরকার একজন ভালো স্ট্রাইকার।

দলের টার্গেটঃ

বিভিন্ন সোর্সের মতে চেলসির গ্যারি কাহিল এবং ম্যানইউ’র এরিক বেইলি আর্সেনালের রাডারে আছে৷ রিয়াল ভ্যালাডোলার ফার্নান্দো কেলিরোর ওপরও নজর আছে তাদের৷ চেলসি, ম্যানইউ’র রাইভাল আর্সেনাল। তাই তাদের প্লেয়ার বিক্রির সম্ভাবনাও কম৷ আর অ্যাটাকের প্রশ্নে নিকোলাস পেপে (রোমা) এবং ক্রিশ্চিয়ান পাভোনের (বোকা জুনিয়রস) সাথে তাদের কথাবার্তা  চলছে। কিন্তু এদের দলে ভিড়াতে বড় টাকা গুনতে হবে আর্সেনালকে।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

অ্যারন রামসি ৩৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে জুভেন্টাসে যোগ দিচ্ছেন।

টটেনহাম

টটেনহামের দলের অবস্থান খুব একটা সুবিধার না৷ তিন নম্বর পজিশনে থেকে চাম্পিয়নস লীগ থেকে বাদ পড়া তারই প্রতিচ্ছবি। দলে আগেও প্লেয়ার কেনাবেচা নিয়ে সমস্যা ছিল, এখনও আছে৷ তই দলকে পাকাপোক্ত করতে উইন্ডো কাজে লাগাতে প্রস্তুত তারা।

দলের টার্গেটঃ

টটেনহাম অ্যাস্টনভিলার জ্যাক গ্রেলিসকে সাইন করানোর চেষ্টায় আছে৷ এছাড়া বোর্নমাউথের নাথান একেও তাদের রাডারে আছে।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

মুসা দেম্বেলে ইতোমধ্যেই চাইনিজ ক্লাব বেইজিং গুয়ান এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। স্ট্রাইকার ভিনসেন্ট হান্সসেনকে একবারও মাঠে নামায়নি কোচ। এছাড়া নকোনোডু খেলার সময় পাচ্ছেন না। তারা দল ছাড়তে পারেন।

বার্সেলোনা

বার্সেলোনা দল বেশ ছন্দেই আছে। তবে দলে একজন বড় মাপের সেন্টার ব্যাক দরকার।  দলের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজের অফফর্মও দলকে উইন্ডোতে নতুন স্ট্রাইকার খুঁজতে বাধ্য করছে।

দলের টার্গেটঃ

মউরিলো কিছুদিন আগে লোনে জয়েন করেছে বার্সাতে, কারণ মেইন সেন্টার ব্যাকের ইন্জুরি। ডিলিটের প্রাক্তন টিমমেট ফ্রাঙ্ক ডি ইয়ং এর ওপর নজর আছে তাদের। তবে ইতিমধ্যে পিএসজি থেকে রেবিওকে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে তারা।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

দলে মাত্র একজন সিনিয়র লেফটব্যাক রয়েছে, ফলে তরুন দলে কারও হওয়ার সম্ভাবনা নেই৷  তবে রাফিনহা অথবা কৌতিনহো যদি খেলার পূর্ণ সময় পেতে দল ছাড়েন তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

রিয়াল মাদ্রিদ

বিগত ৬ মাস অনেক ঝড়ই পোহাতে হয়েছে গ্যালাকটিকোসদের৷ মনে হচ্ছে দল বুড়িয়ে গেছে৷  দলের প্রাণভোমরা রোনালদোর ফেলে রাখা স্থান এখনও অপূরনীয় রয়েছে।

দলের টার্গেটঃ

তাদের সবচেয়ে আলোচিত টার্গেট হল নেইমার এবং এম্বাপ্পে৷ তবে চেলসি ম্যাজিশিয়ান হ্যাজার্ডের ওপরও নজর রাখছে তারা। দলের দুর্দিনে সুসংবাদ হল ইয়ং ট্যালেন্ট ব্রাহিম ডিয়াজকে সাইন করিয়েছে তারা৷

দল ছাড়ছেন যারাঃ

কিছু সোর্সের মতে রিয়াল প্রোডাক্ট লরেন্টে জানুয়ারীতে দল ছাড়তে পারেন। বড় তারকা যেমন ইস্কো,নাভাসও দলের খেলা নিয়ে নাখোশ। তবে দলের অবস্থা খুব বেগতিক না হলে তারা দল ছাড়ছেন না। কিন্তু মার্সেলোকে সাইন করতে উঠে-পড়ে লেগেছে জুভেন্তাস। যদিও যাওয়ার প্রশ্ন মার্সেলো উড়িয়ে দিয়েছে।

জুভেন্তাস

রোনালদো বলেই ফেলেছিলেন যে তাদের দলে সবকিছুই রয়েছে আর কারও দরকার নেই, যেকোন চ্যালেন্জ নিতে তারা প্রস্তুত। তবে মার্সেলোর জন্য দরজা সবসময় খোলা। সুতরাং উইন্ডো কোন ঘটন,অঘটন ছাড়াই শেষ করতে পারে জুভেন্তাস।

দলের টার্গেটঃ

মার্সেলোর জন্য তারা যে কোন ডিল করতে প্রস্তুত। যদিও তাদের প্রাক্তন প্লেয়ার পগবাও দলে ফিরতে চাচ্ছে কোন কোন সোর্সের মতে।এটি সম্ভব হতে পারে দাম ও শর্ত ঠিক থাকলে।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

সেন্টারব্যাক বেনেটিয়া এবং ড্যানিয়েল দুইজনই দল ছাড়ার ইচ্ছা পোষন করেছেন ঠিকমত খেলার সময় পাচ্ছেন না বলে। এছাড়াও তাদের লেফট ব্যাক সন্দ্রোর ওপর নজর আছে অনেকের। ভালো দাম পেলে তাকেও ছাড়তে পারে তুরিনের বুড়িরা।

বায়ার্ন মিউনিখ

লীগ লিডার ডর্টমুন্ড থেকে ৯ পয়েন্ট পিছনে রয়েছে গতবারের লীগ চাম্পিয়নরা৷ এটিই দেখিয়ে দেয় দলটির ভঙ্গুর অবস্থান৷ তাই বায়ার্ন কিছু নতুন সাইন করাতে চায় লীগের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে।

দলের টার্গেটঃ

বায়ার্ন ১৮ বছর বয়সী আলফন্সো ডেভিস, পাভার্ডকে সাইন করিয়েছে। এছাড়াও ডিফেন্ডার ডি ইয়ং এবং রামসি’র দিকেও নজর আছে তাদের৷ তবে ডি ইয়ং এর ব্যাপারে তারা বেশি আশাবাদী।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

যদিও রদ্রিগেজ বায়ার্ন ছেড়ে রিয়ালে যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করেছেন, কিন্তু দল ভালো কাউকে না পেলে তাকে ছাড়তে নারাজ৷ তবে তাদের  স্ট্রাইকার সান্দ্রো ও ওয়াগনার দল ছাড়তে পারেন৷ আর যদি পাভার্টের সাইন হয়ে যাওয়ার পর বেয়েটাং অথবা ম্যাট হামেলস দল ছাড়তে পারেন।

বরুশিয়া ডর্টমুন্ড

তরুণ-অভিজ্ঞের সমন্বয়ে দল এবার ডর্টমুন্ড৷ প্লেয়ার বিক্রিই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এবার৷ তবে লীগ শিরোপার কথা মাথায় রেখে দলের মূল একাদশের খেলোয়াড় আর না বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা৷

দলের টার্গেটঃ

পাকো আলকেসারকে দলে ভিড়িয়েছে তারা এবং লোনে নেওয়া হাকিমিকে তারা স্থায়ীভাবে সাইন করিয়ে নিতে প্রস্তুত।

দল ছাড়ছেন যারাঃ

পুলসিচ ইতিমধ্যে দল ছেড়েছেন৷ জার্মান মিডফিল্ডার হুলিয়ান ওয়েগল এবং নতুন ইব্রাহিমোভিচ নামে খ্যাত আলেকজান্ডার আইজ্যাক (১৯) দল ছাড়তে পারেন৷

এই গেলো ইউরোপের রথী-মহারথী ক্লাবগুলোর সব দলবদলের জল্পনা-কল্পনার হিসাব-নিকাশ। ট্রান্সফার শেষেই বুঝা যাবে কোন ম্যানেজারের ঝুলি ভরলো, আর কার ঝুলি আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ল

Most Popular

To Top