ফ্লাডলাইট

আফিফের ইনিংস প্রশান্তি দিয়েছে চোখে-মনে!

আফিফ হোসেন ধ্রুব নিয়ন আলোয় neonaloy

লিটন দাস, সাব্বির রহমান এবং নাসির হোসেন, তিনজনেরই প্রমাণ করার অনেক কিছু রয়েছে, কিন্তু তিনজনই বাজে শটে অথবা বাজে ফুটওয়ার্কে আউট হয়েছেন। লিটন সেই লেগ সাইডে খেলতে যেয়ে লিডিং এজ, নাসির পাওয়ারলেস শট খেলে লং-অনে আর সাব্বির কোনরকম ফুটওয়ার্ক ছাড়া পয়েন্টে খেলতে যেয়ে প্লেয়ড-অন। খুব হতাশ হয়েছিলাম টপ অর্ডারে এই তিনজনের ব্যাটিং দেখে। সবচেয়ে বিরক্ত লেগেছে নাসিরের ডাউন দ্যা উইকেটে মারতে যাওয়ার চেষ্টা দেখে। ডাউন দ্যা উইকেটে গেলে হয় পাওয়ার লাগবে আর না হয় পারফেক্ট টাইমিং, নাসিরের কোনটাই হয়নি! সাব্বির আসলে কি চাচ্ছিলেন? সামনে এগিয়ে আবার জায়গায় দাঁড়িয়ে না শট খেললেন না ডিফেন্ড করলেন? এসব বোঝা বড় দায়!

৬/৩ অবস্থায় সিলেট যখন ধুঁকছে, তখন নজরকাড়া এক ইনিংস খেললেন ফিউচার স্টার আফিফ হোসেন ধ্রুব। ২৮ বলে ৪৫ রানের ইনিংস, স্ট্রাইক রেট ১৬০.৭১!

প্রথম কথা, আমি আফিফের কাছ থেকে কাউন্টার এটাক আশা করি নাই। পাল্টা আক্রমণ যদি আসে সেটা ওয়ার্নার করতে পারে এমনই স্বাভাবিক চিন্তা ছিলো। যদিও ওয়ার্নার সেটা করবেন না জানতাম। কারণ ব্যক্তিগত লক্ষ্য হচ্ছে রান করা যত বেশি সম্ভব। সেজন্য সে শুরুতে রিস্ক নিবেনা।

যাইহোক ক্রিকেট ফানি গেম, আফিফ উইকেটে এসেই মিড উইকেটের উপর দিয়ে যে ছয় মারলেন সেটা দেখে মনে হয়েছিলো কি দরকার? ৩ উইকেট নেই, এখন কয়েক ওভার দেখে খেলা উচিৎ। আফিফ আউট হলে ওই শটে কিন্তু প্রচুর সমালোচনা হতো।

তারপর আফিফ আরো দুটি ছয় মেরেছেন। মোট তিন ছয়ের দুটিই মিড উইকেট অঞ্চল দিয়ে সামান্য বের হয়ে টাইমিং করে মারা, অন্যটা খালেদের পেস ব্যবহার করে জাস্ট টাইমিং করে মারা। ইনসাইড আউট করে মারা চার, সিকান্দার রাজাকে কাভার দিয়ে মারা ইফোর্টলেস ড্রাইভ ছিলো দেখার শান্তি।

টি-টুয়েন্টি যে কেবল গায়ের জোরের খেলা না সেটা আফিফ করে দেখালেন টাইমিং, প্লেসমেন্ট আর বুদ্ধি দিয়ে।

অন্যপ্রান্তে ডেভিড ওয়ার্নারকে রেখে এইরকম ব্যাটিং আলাদা তাৎপর্য বহন করে। ওয়ার্নার যখন ক্রিজে থাকেন স্বাভাবিক বিশ্বজুড়ে তার ফ্যানরা টিভিস্ক্রিনে বা অনলাইনে নজর রাখেন। আর একজন ইয়াং স্টার চেষ্টা করেন সেই সময়টাতে বিশেষ কিছু করে মানুষের নজর কেড়ে নিতে। আফিফ সেই কাজটা দারুণভাবে করেছেন, ওয়ার্নারকে দর্শক বানিয়ে সুন্দর সুন্দর শটে সিলেটকে খাদের কিনারা থেকে শক্ত একটা অবস্থানে তুলে বড় রান করার প্লাটফর্ম করে দিয়েছিলেন।

আফিফ এইরকম ইনিংস যে কোন দিনেই খেলতে পারতেন, যে কোন অবস্থানেই খেলতে পারতেন। তবে আজকে যেমন দলীয় ৬/৩ রান এবং অন্যপ্রান্তে ওয়ার্নারের মতো সুপারস্টার থাকায় আলাদাভাবে চোখে পড়েছে তার ইনিংস, অন্যদিন এমন নাও হতে পারতো। তাছাড়া ওই অবস্থানে উইকেটে এসে পাল্টা আক্রমণ করে খেলার সাহস দেখানোয় তার প্রশংসা করতে হবে।

 

চিটাগাং অন্তত আফিফের কাচ থেকে এমন ইনিংস আসা করেনি ওই মুহুর্তে এটা নিশ্চিত।

তবে ইনিংস আরো বড় করতে পারতেন আফিফ! তরুণ বয়স, তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। পয়েন্ট দিয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন কিন্তু লেংথ আদর্শ ছিলোনা বলটার। পেস ছিলো, যদিও স্কয়ার কাট করার ব্যতিক্রমী চিন্তাটা ভালো লেগেছে। বেশিরভাগ বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান এমন বলে “আপার-কাট” করতে যেয়ে থার্ড ম্যানের হাতে ক্যাচ হয়ে যান।

এই বছর এনসিএল ভালো যায়নি আফিফের, ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপটাও প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি; তাই আফিফের উপর সামান্য চাপ ছিলো। সিলেটের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখলাম আফিফ রান করতে মরিয়া, চেষ্টা করছেন ভালো স্ট্রাইক রেট নিয়ে খেলার। পাশাপাশি বোলিং তো আছেই। নিজেকে কার্যকরী একজন অলরাউন্ডার হিসেবে প্রমাণ করার আরেকটি মঞ্চ পাচ্ছেন আফিফ। আগের দুই আসরের চেয়ে আফিফের স্কোরিং শট খেলার রেঞ্জ অনেক বেড়েছে। রিভার্স সুইপের মতো কঠিন শট খেলতেও ভয় পাচ্ছেন না।

উইকেটে ওয়ার্নার থাকার পরেও আফিফ আলো ছড়াচ্ছেন এটাই দেখতে চাই বিপিএল থেকে!

খুলনার একটা চরম বাজে সিদ্ধান্ত আফিফকে রিটেইন না করা, আগেও বলেছিলাম তবে এখন নিশ্চিত হচ্ছি আমি।

আর লিটন, সাব্বির, নাসিরদের একটু বিব্রত হওয়া উচিৎ এখন।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top