বিশেষ

ইন্দালো’র মুখোমুখি আমরা, সাথে শ্রোতাদের অসংখ্য প্রশ্ন!

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

ইন্দালো ব্যান্ডটি আত্মপ্রকাশের পরপরই শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছে তাদের প্রথম রিলিজড গান দিয়ে। কিন্তু শ্রোতারা মুগ্ধ হবার সুযোগ পাওয়ার আগেই তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে “আইএসডি” (ব্যান্ডের প্রথম ট্র্যাকের টাইটেল) মানে কি? তার পরের জিজ্ঞাসাটা যেন আরেকটু দুর্বোধ্য- “ইন্দালো” মানে কি?!?

এরকম প্রশ্ন আমাদের মনেও ছিল। সেই সাথে ফেসবুকের বিভিন্ন মিউজিক গ্রুপে ব্যান্ডের ফ্যানদের অজস্র প্রশ্ন নিয়ে নিয়ন আলোয়-এর পক্ষ থেকে রেজওয়ান হাসান মুখোমুখি হয়েছিলেন ইন্দালো’র।

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

ইন্দালো (ছবিঃ- ফেসবুক)

এতো জনরা থাকতে “গ্রাঞ্জ” জনরাটিকেই কেন আপনারা বেছে নিলেন?
জুবাইরঃ আসলে এক নাম্বার হচ্ছে, গ্রাঞ্জ আমরা বেছে নেই নাই। গ্রাঞ্জের আমাদের উপর প্রভাব আছে, কিন্তু এর মানে এই না যে আমরা শুধু গ্রাঞ্জই করি। গ্রাঞ্জ হচ্ছে আমাদের বড় একটা ইনফ্লুয়েন্স আর কি, কিন্তু আমাদের আরো অনেক অনুপ্রেরণাই আছে। যেমন রক জনরার মধ্যেই যেমন গ্রাঞ্জ, অল্টারনেটিভ, সাইকাডেলিক। আর কিছু ব্যান্ড একদম ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, তাই তাদের একটা প্রভাব থাকেই আর কি। যেমন সাউন্ডগার্ডেন, স্টোন টেম্পল পাইলটস, এলিস ইন চেইন্স, পার্ল জ্যাম, রেডিওহেড আর এর বাইরে আরো অনেক অনুপ্রেরণাই আছে আর কি, এসব মূল কিছু।

ব্যান্ডের শুরুর সময়কার কিছু ইন্টারেস্টিং ঘটনা আছে শেয়ার করার মতো?
জনঃ (একটু হেসে) আমরা এখনো মনে করি আমরা প্রথমদিকে। আমরা মনে করতে চাই আমরা কখনো শেষের দিকে যাচ্ছি না। ইন্টারেস্টিং ঘটনা প্রতিটা জ্যামিংয়েই ঘটতে থাকে।
বার্টঃ সবসময়ই ঘটতে থাকে। (হাসতে হাসতে)
জনঃ আমরা কখনো একটা ডিসেন্ট বেজ এম্প ব্যবহার করতে পারি নাই। কখনো ভালো বেজ এম্প বাজাতে পারি নাই। কখনো না, এটা কখনো হয় নাই।

ইন্দালো নামটার পিছনে গল্প কি? ব্যান্ডের নাম ইন্দালোই কেন হলো?
জুবাইরঃ ইন্দালো, এটার আসলে কোন নির্দিষ্ট বা আক্ষরিক মানে নাই, কিন্তু এটা হচ্ছে আসলে একটা প্রতীক। প্রতীকটা হচ্ছে একটা লোক, যে তার নিজের একটা গুহার মধ্য চলে যায়।
বার্টঃ এটা হচ্ছে একটা স্টিক ফিগারের ড্রয়িং। স্টিক ফিগার মানে কি? একটা মাথা, দুটো হাত, দুটো পা। তো, ইন্দালো’র স্টিক ফিগারটা হচ্ছে গিয়ে এরকম একটা মানুষ। হাত উপরের দিকে এবং দুই হাতে একটা রংধনু আঁকা। মূলত এটা একটা আশার প্রতীক। আমার কাছে এমন লাগতো যে, মানুষ গুহায় কখন যেতো? যখন ঝড় হতো। কিন্তু যখন তারা বের হতো, তারা সেই নির্দিষ্ট রংধনু দেখতে পেতো। সেটাই অনেকটা।
জুবাইরঃ ব্যাপারটা হচ্ছে যে তারা লুকাতো যখন বৃষ্টি-ঝড় হতো; কিন্তু যখন তারা বের হয়ে আসলো, তারা একটা রংধনু নিয়ে বের হয়ে আসলো। এটাই মূলত। একটা বিরতি নেয়, বিরতির পর একটা রংধনু নিয়ে বেরিয়ে আসে।

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

ইন্দালো [দা স্টিকফিগার] (ছবিঃ- ইন্টারনেট)

লোগো ডিজাইন কার বা কাদের করা ছিলো?
জুবাইরঃ লোগো ডিজাইন করেছিলো তিলক, তিলক আদনান। ও যখন আমাদের এ্যালবামের সবকিছু ডিজাইন করলো তখন ও এই লোগোটা করেছে।

কোন গানের মেকিংয়ের পিছনে কোন মজার গল্প আছে কি?
জুবাইরঃ আন্তঃনগরের গল্প ছিলো আমি, জন, আর ডিও আসি নাই সেদিন। আমাদের একটা গেস্ট, গেস্ট ড্রামারও বলবো না একটা ফ্রেন্ড- ও এসে শুধু বসেছে। তখন সেই রিফটা আমরা বাজালাম। আর তখন শুধু রিফটা শুরু হয়েছে আর কিছু হয় নাই। এরপরে একদিন “মাইলস” এর তূর্য ভাইয়া আসলো জ্যামিং করার জন্য। তখন আমরা ঐ জিনিসটা আরেকবার শুধু জ্যামিং করছিলাম। জ্যামিং করতে করতে তখন তূর্য ভাইয়া বাজাচ্ছেন তো বাজাচ্ছেনই! তো ওই একটা গানের শেষে অনেক বড় একটা সলো আছে। উনার আইডিয়া ছিলো লাস্টের দিকটা অনেক বড় হবে। পরে ডিও আসার পর ডিও আরো অনেককিছু এড করলো। মাঝখানের পরিবর্তনগুলো আসলো।

“আইএসডি” এর মানে কি আসলে? প্রথম সিঙ্গেল গানের নাম আই-এস-ডি কেন রাখা হয়েছে?
জুবাইরঃ আগে ইন্টারন্যাশনাল কল করতে কি? আইএসডি কল করতে হতো। তোমাদের সময় ছিলো না, আমাদের সময় ছিলো আর কি। যখন বাইরে কল করতে হতো, তখন আইএসডি-ই বলতে হতো- “International Standard Dial”, গানটা তো মূলত লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ নিয়ে, ঐখান থেকে “ISD” নামটা আর কি। তবে এটা পরে মিনিং বানানো হয়েছে গানটার। কিন্তু এটার আসল ব্যাপারটা ছিলো আইএসডি’তে আমরা গানটা করেছি, ঐ স্কুলে। তো গানটার কোন নাম ছিলো না তখন। ঐ আইএসডি বললেই এই গানটির কথা মনে হতো আরকি যখন জ্যাম করতাম আমরা। এটা নিকনেম দেয়া হয়েছিলো আর কি।

আপনারা কিভাবে আপনাদের গান সুর করেন? একটা গানের সুর কেমন হবে সেটা কিভাবে মাথায় আসে?
জুবাইরঃ সুরের আসলে… সুরের আসলে ঠিক নেই।
জনঃ আমরা জানি না, আমি জানি না! (হাসতে হাসতে)
ডিওঃ মানে মনে করো এমন হয় যে সে (জুবাইর) কোন একটা রিফ বাজানো শুরু করলো, তারপর আমরা সবাই বাজানো শুরু করলাম, বা আমি একটা বিট ধরলাম আর সবাই র‍্যান্ডম একটা বাজানো শুরু করলো।
জুবাইরঃ সেটা বাজাতে বাজাতে ভালো লাগছে।
ডিওঃ বাজাতে বাজাতে বললো যে এই এখানে তো মনে হয় কিছু একটা হচ্ছে, রেকর্ড করো। এই যে আজকে একটা হয়েছে এমনকি। সে কি জানি বাজাচ্ছিলো আর আমি বললাম এই দাঁড়াও, দাঁড়াও… এখানে কিছু একটা হচ্ছে।
রেজওয়ানঃ লিরিক্সটা কি আপনারা পরে এড করেন?
ডিওঃ হ্যাঁ, লিরিক্সটা পরে আসে।
জনঃ লিরিক্স হচ্ছে আমাদের লাস্ট।
ডিওঃ লিরিক্স পরে লেখা বা আগে লেখার ব্যাপারটা হচ্ছে, ঐ যে আছে না যে মানে মিউজিক একটা হচ্ছে, ঐ মিউজিকটার থেকেই কিন্তু মাঝে মাঝে একটা মিনিং বের হয়ে আসে। গানটা মনে হচ্ছে এই ফিলিংয়ের, এটা নিয়ে কিছু একটা হতে পারে, তো এখন লিখে দেখি যে কোথায় যায়। ঐভাবেই ওই জিনিসগুলো আসে কিন্তু। আমার মনে হয় সবাই এভাবেই কাজ করে।

বার্ট ভাই আগে কোন ব্যান্ডে প্লে করতেন নাকি?
জনঃ কোন? কমপক্ষে এখন দশ মিনিট যাবে কিন্তু!
বার্টঃ হেহে, আমি সবার সাথে বাজিয়েছি।
জুবাইরঃ এখন লং টার্ম রিলেশনশিপে আছে।
বার্টঃ হ্যাঁ, এখন লং টার্ম রিলেশনশিপে আছি। কিন্তু, ঐভাবে বলতে গেলে আমার স্টেডি ব্যান্ড ছিলো “আজব”। ২০০৬-এ আমি যোগ দেই আজবে। স্টেডি ব্যান্ড বলতে ঐ একটাই, কিন্তু অন এন্ড অফ অনেক ব্যান্ডে বাজিয়েছি। অনেক সময় দেখা গেছে যে কোন একটা সদস্য মিসিং বা কোনকিছু। ফেইটে যেমন (ক্রিপটিক ফেইট) বাজিয়েছি। ফেইটে বোধহয় দুই মাস না তিন মাস বাজিয়েছি। কিন্তু, ঐ সময় বেজ গিটারিস্ট হিসেবে না, গিটারিস্ট হিসেবে। আরমিনের সাথে বাজিয়েছি, তারপর রাস্টি, “রাস্টি র‍্যামব্লারস”; তারপর অনেকগুলো ব্যান্ডের সাথে ছিলাম। স্টোন সাওয়ার, স্বাধীন ব্যান্ড অনেক ব্যান্ডে আছি, ছিলাম আর কি।
জনঃ মূলত, বার্ট এখনো অন-কল মিউজিসিয়ান।

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

আজব ব্যান্ডের সাথে “বার্ট” (ছবিঃ- ফেসবুক)

 

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

যুবক বার্ট, দুই দশক আগেকার ছবি (ছবিঃ- ফেসবুক)

জুবাইর ভাইয়ের লিরিক লেখার শুরুটা কিভাবে? প্রভাব?
জনঃ ছোটবেলায় ক, খ, গ, ঘ শিখেছি- এটা হচ্ছে শুরু। (একটু হেসে)
জুবাইরঃ ইনফ্লুয়েন্স, ইনফ্লুয়েন্স আসলে এটা জানি না কিভাবে। এটা শুধু, আমাদের গানগুলো কিন্তু সবগুলো ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ইমোশনস নিয়েই কথাবার্তা মূলত। এটা ভেতর থেকেই এসেছে।

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

জুবাইর হাসান চৌধুরী (ছবিঃ- রাইসুল ইসলাম)

 

নতুন অ্যালবাম কবে পাচ্ছি আমরা?
জনঃ সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন এটা।
জুবাইরঃ চেষ্টা হচ্ছে সামনের বছরে।
ডিওঃ সামনের বছর হচ্ছে টার্গেট।

সামনে কি প্ল্যান আপনাদের? অ্যালবাম বের করা ছাড়া আর কি কি কাজ করার প্ল্যান আছে আপনাদের সামনে?
জুবাইরঃ আরো অনেকগুলো সলো কনসার্টস।
ডিওঃ সলো ব্যাপারটা এমন না যে চলো আমরা একটা শো করি। আমাদের প্রতিটা শো এরই কিন্তু একটা মিনিং আছে, একটা থীম আছে।
জনঃ এমন না অনেকদিন শো করি না, মানুষ ভুলে যাবে, Let’s do this.
ডিওঃ হ্যাঁ, ঐটা না। সাধারনত যেটা কয়েকদিন আগে আমরা একটা রেডিওহেড ট্রিবিউট দিলাম। সেখানে আমাদের একটা গানের (হবেকি?) রিলিজ ছিলো।
জনঃ it’s not that we are set out to do tributes. We have a theme behind it.
ডিওঃ But, we love playing covers.

নিজেরাই নিজেদের স্বতন্ত্র শোগুলো (Alive in the superunknown, No suprises) আয়োজন করার সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার পেছনের গল্পটা কি? কি কি প্রতিকুলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে? এরকম ট্রিবিউট শো সামনে আরো পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন?
জনঃ সত্যি কথা বলবো? কোন বাধার সম্মুখীন হই নাই।
জুবাইরঃ It’s been very smooth.
জনঃ It was very smooth. But I wouldn’t say it was easy. কিন্তু, যদি কোন জিনিসে তুমি ফোকাসড থাকো তাহলে কোন বাধাই আর বাধা মনে হবে না তোমার কাছে। আমি এটা করবোই। মাইন্ডসেটটা যদি “আমি এটা করবোই” হয় তাহলে সেটা আর তেমন কিছু না এবং আমরা সবসময় ঐরকমই, আমরা সেটা করবোই, শেষ, আর কোন কথা নাই।

মিউজিক ভিডিও নিয়ে তো অনেক পুরনো একটা ডিবেট ছিলো, এখনো আছে। আপনাদের কি মনে হয়? এটা কি শুধুই বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা, নাকি এটা শিল্পের বিবর্তনেরই একটি অংশ?
ডিওঃ এটা আর্টিস্টের উপর নির্ভর করে।
জনঃ না, এখানে ব্যাপার আছে।  অনেক ধরনের আর্টিস্ট তো আছে, নাহ? যেমন পপ যারা, পপ আর্টিস্ট- তুমি কিন্তু আশা করতে পারো না যে তাদের মিউজিক ভিডিওটা খুব ভালো হবে। সেটা আশা করাটাই তোমার ভুল। কিন্তু, যদি একটা রক ব্যান্ড যদি চিন্তা করে যে পপ আর্টিস্টের ভিডিওতে তো অনেক ভিউ আছে, অনেক হিট হয়েছে। আমরাও এমন একটা ভিডিও করবো। সেটাও ভুল। তো আমার মনে হয় এখানে ডিবেটের কিছু নাই। যে যেভাবে নিজেকে প্রজেক্ট করতে চায়, ঐভাবে করছে।
ডিওঃ ভালো ভিডিও বলতে গেলে মনে করো, অনেকের কাছে ভালো ভিডিও হচ্ছে রঙ্গিন, চকচকা হলো। ঐটাই ভালো ভিডিও। কিন্তু, আমরা যেখানের থেকে এসেছি, আমাদের কাছে ভিডিও ভিজ্যুয়ালি ইন্টারেস্টিং হতে হবে, আর্টিস্টিক হতে হবে। কিন্তু, নাহ সবাই তো আর ঐভাবে জিনিসটাকে দেখে না।
জনঃ এক্সাক্টলি।
ডিওঃ আমাদের কাছে চকচকা ফ্যাক্টর না যে সুন্দর একটা মেয়ে থাকলো বা কিছু একটা, কিন্তু অনেকের কাছে ঐটাই ভালো লাগে।
জনঃ দেখো, যেই টাইপের গান তেমন মিউজিক ভিডিও। এখানে কোন মিউজিক ভিডিওকে নিচু করে দেখার কিছু নেই। যেমন মনে করো “লোকাল বাস”। যেমন গান, তেমন মিউজিক ভিডিও। এটার ভিডিও যদি খুব আর্টিকুলেট একটা খুব লাইটিং সহ ওইরকম কিছু একটা হতো?
ডিওঃ হতো না, ঐ ফিলটাই হতো না।
জনঃ তো এটা পারফেক্ট।

নতুন সিঙ্গেল “ছবি” এর মিউজিক ভিডিওটা নিয়ে কিছু বলা যাবে?
বার্টঃ ঐটার ভিডিওয়ের পিছনে অনেক কাহিনী।
রেজওয়ানঃ সেটার লাইটিংটা অসাধারণ ছিলো, ন্যাচারাল ছিলো কি একদম?
ডিওঃ ঐটা পুরাই লাক।
জনঃ আমরা কোন লাইট নিয়ে যাই নাই। সেখানে কোন লাইট ছিলো না সেটায়।
রেজওয়ানঃ এগুলো নিয়ে উঠলেন কিভাবে? এই সেলফগুলো এবং বাকি আরো সব জিনিসপত্র মিউজিক ভিডিওতে যেসব দেখা গিয়েছে?
বার্টঃ হাহা
জনঃ অনেক কষ্ট হয়েছে, আমি দুটো এম্প উঠিয়েছি দুই হাতে। সেটা এতো কষ্টকর ছিলো।
বার্টঃ এটা ইন ফ্যাক্ট খুব মজার কাহিনী। আমরা দুইদিনের প্ল্যান করে গিয়েছিলাম শুট করার জন্য বান্দরবনে। ওই বৃষ্টি এবং অন্যান্য কারণে সেটা হয়ে গেলো এক দিন। তারপর যখন শুট করতে গেলাম, একদিনটা হয়ে গেলো কয়েক ঘন্টা।
ডিওঃ আমরা যেখানে পৌঁছিয়েছি, পৌঁছানোর সাথে সাথে তখন দেখি সবকিছু সেট-আপ হচ্ছে আর ভয়ংকর রোদ। তারপর শুটিং করতে যাবো, সেখানে ডিরেক্টরের একটা ব্যাপার আছে যে আমাদের লাইটের সময় কম। কিন্তু, একটু সময় তো লাগবে ভিডিও শুট করতে, এক শটে তো আর হয় না। এক শট দিলাম তারপরে ফাটায়া বৃষ্টি। প্রায় দেড় ঘন্টা বৃষ্টি হয়েছে।

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

“ছবি” এর মিউজিক ভিডিওর সেট  (ছবিঃ- ফেসবুক)

বার্টঃ আমরা দেখলাম পাশের পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে এরপর সেটা আমাদের দিকে আসছে।
জনঃ বান্দরবনের এক্সপেরিয়েন্সটা মজার ছিলো। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কোন পাহাড়ের কাছে বৃষ্টি আসছে। আমরা আসলে বুঝতে পাচ্ছিলাম বৃষ্টি কখন আসবে।
ডিওঃ কিন্তু বৃষ্টি পড়ার পর যেই লাইটটা বের হয়েছে, সেটা ছিলো একদম পারফেক্ট।

এখনকার মিউজিক সিনে কি কি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখছেন? ইতিবাচক-নেতিবাচক দিকগুলো?
জনঃ এটার সবচেয়ে ভালো উত্তর দিতে পারবে ডিও। কারণ, এখনকার মিউজিক সিনে ও সবচেয়ে বেশী একটিভ।
ডিওঃ মিউজিক সিন ইজ ভেরী গুড ইন দ্যা সেন্স দ্যাট এখন অনেক ব্যান্ড আছে। অনেক ডিফারেন্ট জনরার ব্যান্ড আছে। আগে যেমন সম্ভবত সাউন্ড বলতে গেলে সাউন্ডওয়াইজ আমি তোমাকে বলতে পারবো তিন ধরনের সাউন্ড ছিলো। অল্টারনেটিভ রক, বাংলা রক এবং ফোক। আর মেটাল তো আছেই যাই হোক। কিন্তু মেটাল ছিলো আগে যেমন শুধু মেটালিকা টাইপের মেটাল ছিলো। এখন অনেক ডিফারেন্ট টাইপের মেটাল। থ্র্যাশ মেটাল আসছে এই-সেই। যেটার থেকে বোঝা যায় যে মানুষ এখন আরো অনেক ধরণের গান শুনছে। এটার মাঝখানে আমরা গ্রাঞ্জ করছি। তারপর অনেক মানুষ যেমন ইলেকট্রিক মিউজিকের সাথে এক্সপেরিমেন্ট করছে। তো ঐভাবে অনেক কিছু হচ্ছে, যেটা ভালো।
জুবাইরঃ অনেক ইউটিউবার আসছে।
ডিওঃ ইউটিউবার হচ্ছে। আমরা যখন শুরু করছিলাম, তখন কিন্তু সবকিছু মুখে মুখে হতো। যে এই, ঐ ব্যান্ডটাকে দেখছিস? চল এই শো-তে গিয়ে ঐ ব্যান্ডটাকে দেখি। কিন্তু এখন সবকিছু শুধু শেয়ার। ওইভাবে এক্সেসিবল হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। আমি এখন বাসায় বসে প্রোপার ক্যামেরা বা ইকুইপমেন্ট থাকলেই প্রোপারভাবে প্রেজেন্ট করতে পারছি আমার গান।

টেকনোলোজির ব্যাপারটার নেগেটিভ দিকটাও আছে। আগে সিডি কেনা হতো, ক্যাসেট কেনা হতো। এখন আর ঐ যুগটাই নাই। এটা শুধু বাংলাদেশেই না, পুরো দুনিয়াতেই ঐ যুগটা নাই। এখন যেটা হচ্ছে যে মিউজিসিয়ানদের ইনকাম মূলত শুধু শো থেকেই আসছে। এই জিনিসটা আগেও স্ট্রাগল ছিলো। এই স্ট্রাগলটা এখনো হচ্ছে যে যথেষ্ট শো হচ্ছে কিনা? তো ঐটা দেখা যায় যে কয়েকটা ব্যান্ড বেশী সুযোগ পাচ্ছে, কয়েকটা ব্যান্ড পাচ্ছে না।

যেমন আমি নেমেসিসে বাজাই। নেমেসিসে যেমন আমরা যেমন মিউজিক করি, একটা শ্রোতা আছে। তো আমাদের ঐ অডিয়েন্সটা বানাতে অনেক সময় লেগেছে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম, ঐটা, ওই সাউন্ডে কেউ অভ্যস্ত ছিলো না। তো এখন যেমন ইন্দালোর বেলায়, এটা একটা নতুন সাউন্ড। এখনো আমাদের শ্রোতাটা কম। তো আস্তে আস্তে আশা করছি বাড়বে। আমরা কিন্তু গান সবাই শুনবে ঐটার জন্য বানাই নাই। আমাদের কাছে ভালো লাগছে, আমরা বানাচ্ছি। আমাদের কাছে আমাদের নিজেদের গান অদ্ভুত লাগে মাঝেমধ্য, কিন্তু ভালো। কিন্তু এখন দেখি মানুষও এরকম আছে যে ঐ গানটা ভালো লাগছে, এক্সেপ্ট করছে। তো হয়তো পাঁচ-ছয় বছর পর আরো এক্সেপ্ট করবে। তো এভাবে হতে থাকবে। It’s an evolution আর কি।

ইন্দালো ইন্টারভিউ নিয়ন আলোয় neonaloy

ইন্দালো ব্যান্ডের জন আগে ব্ল্যাকে থাকলেও এখন আর অন্য কোন ব্যান্ডে নেই। কিন্তু বাকিদের মধ্য ডিও এখনো নেমেসিসে ড্রামস বাজান। বার্ট এখনো অন-কল মিউজিসিয়ান। জুবাইর ইন্দালো’র পাশাপাশি “বাংলামটর” নামের একটা ব্যান্ডের ভোকাল এবং গিটারিস্ট হিসেবে আছেন। সম্প্রতি জুবাইরদের বাংলামটর ব্যান্ডের প্রথম সিঙ্গেল “লুসিড” মুক্তি পেয়েছে।

ইন্দালো যেমন বাংলাদেশে অন্যতম গ্রাঞ্জ রক ব্যান্ড হিসেবে গ্রাঞ্জ রকের সাথে শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, সেভাবেই তারা এই দেশের মানুষের সাথে বিদেশী বিভিন্ন ভালো ভালো আর্টিস্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে সেসব আর্টিস্টের গান কভার করে এবং ট্রিবিউট কনসার্ট করে। শুরু থেকেই তাদের নিজেদের মিউজিক সবসময় অন্যরকম ছিলো, কখনোই গতানুগতিক ছিলো না। তাদের অ্যালবামটিতে তাদের কাজ দেখলেই সেটি টের পাওয়া যায়।

আশা করি এভাবেই ইন্দালো তাদের ভক্তদের সাথে নতুন এবং ভালো মিউজিকের পরিচয় করিয়ে দিয়ে যাবে প্রতিনিয়ত, এই থাকবে কামনা।

Most Popular

To Top