বিশেষ

৫০ রুপি দিয়ে শুরু…

শাহরুখ খান নিয়ন আলোয় neonaloy

শাহ্‌রুখ খান, বিশ্বজুড়ে ৮০০ মিলিয়ন ফ্যান ফলোয়িং আছে এই নামের পেছনে। শাহ্‌রুখের জন্যে উন্মাদনা দেখেছি আমেরিকার সিনেমা হলে পর্যন্ত। অভিনেতা অনেকেই আছেন। সমসাময়িক আমির খান আছেন। বেছে বেছে কাজ করেন। প্রতিটা কাজ ভেবে চিন্তে করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল। শাহ্‌রুখ এমন নন, নিজেই বলেছেন,

“আমি কখনো কাজের ফলাফল ভেবে কিছু করি নি। যখন সফল হই, সেটাকে মনে রাখি। ব্যর্থতাটাকে ভুলে যাই। মন থেকে যে কাজটা করার জন্যে আমি সাড়া পাই, সেটাই করি। আমার একান্ত নিজের বলে কিছু নেই। আমার জীবন খোলা বই এর মতো। আমার ভেতর-বাহির সবই দেখা যায়।”

‘সেলফ মেড’ শব্দটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ শাহ্‌রুখ। এজন্যই হয়তো বেশি ভালো লাগে মানুষটাকে। গৌরীকে বিয়ে করে ইন্ডাস্ট্রিতে আসা শাহ্‌রুখকে নিয়ে কখনো কোন কেলেঙ্কারী বা স্ক্যান্ডাল শোনা যায় নি। হয়তো যাবেও না।

শাহরুখ খান জন্মদিন নিয়ন আলোয় neonaloy

ক্রিকেটে টেন্ডুলকার, বলিউডে শাহ্‌রুখ, একই নাম। মুম্বাই এর জুবিলী সিনেমা হলের সামনে বসে ছোট্টবেলায় বসে বাদাম চিবুতে থাকা বাচ্চাটা একদিন শাহ্‌রুখ হবে। কে জানতো? গৌরীর প্রেমে পড়ে গৌরীকে খুঁজতে দিল্লী থেকে মুম্বাই আসার জন্যে নিজের প্যান্ট্যাক্স ক্যামেরা ১০০০০ টাকায় বিক্রি করে গৌরীকে পথে পথে খুঁজে বেড়িয়েছেন। পার্কের বেঞ্চিতে ঘুমিয়েছেন। তরুণ বয়সে মাত্র ৫০ রূপি পারিশ্রমিকে কাজ করেছিলেন পঙ্কজ উদাসের একটি কনসার্টে স্পট বয় হিসেবে। সেটাই ছিল জীবনের প্রথম পারিশ্রমিক। সেই ৫০ রূপি দিয়ে ট্রেনের টিকেট করে গিয়েছিলেন তাজমহল দেখতে। ‘কাভি হাঁ কাভি না’ মুভির জন্যে পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ৬০০০ রূপি। সেই শাহ্‌রুখের আজকের ব্যাংক ব্যালেন্স ৬০০ কি ৭০০ মিলিয়ন ডলার।

শাহরুখ খান জন্মদিন নিয়ন আলোয় neonaloy

সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ শাহরুখ

‘ডার’ এবং ‘বাজিগর’ ছবির ভিলেন চরিত্র দিয়ে শুরু। সেখান থেকে ‘দিল ওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির ‘রাজ’ এর মতো রোমান্টিক চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। মুম্বাই এর মারাঠা মন্দির থিয়েটারে মুক্তির পর থেকে ২০১৫ পর্যন্ত টানা ২০ বছর চলেছে এই মুভি। মুভিটির প্রথম দর্শনেই হাত বাড়িয়ে কাজলকে ট্রেনে টেনে তোলার দৃশ্য কেউ কখনো ভুলতে পারবে?

টাইমস ম্যাগাজিনের হিসেব মতে শাহ্‌রুখ’ই বিশ্বের বিগেস্ট সুপারস্টার। হলিউডের লিওনার্দো, ব্র্যাড পিট, টম ক্রুজ, ডাউনি জুনিয়র সবাইকে টপকে।

মানুষকে ভালোবাসতে শেখানোটা সবচেয়ে কঠিন কাজ। শাহ্‌রুখ তাঁর মুভিতে এই কাজটা করে দেখিয়েছে। তরুণ-তরুণীদের নতুন ভাবে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। সে যখন স্ট্রং স্ক্রীপ্টের মুভি করে। আমরা তাঁকে বক্স অফিসের ফিগার দেখাই। আবার যখন বক্স অফিস কাপানোর মতো মুভি করে, আমরা গল্প আর অভিনয়ের দোহায় দিই।

দিনে দুই প্যাকেট সিগারেট লাগে তাঁর। সবারই তাঁর স্মোকিং নিয়ে সমস্যা। এটা নিয়ে শাহ্‌রুখ বলে,

“আমি যখনই খুব স্ট্রেসে থাকি। সিগারেট তুলে নিই। জীবনটা শুধুই আমার। আমি মনে করি আমার বেঁচে থাকতে হলে সিগারেটের দরকার আছে।”

এখনো শিশুদের মতোই মন তাঁর। একজন দায়িত্ববান স্বামী, একজন বাবা। তাঁর ছেলে ক্রিকেট পছন্দ করে বলেই কিনে নিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্স। বারবার হারলেও আইপিএলে যে দলটা ব্যবসা করতো সবচেয়ে বেশি। মাঠে আসতেন। দল হারলে গ্যালারীতে বসে চোখের কোনায় পানি মুছতেন। তাঁর আবেগটা সত্য, পরিষ্কার। প্রতিদিন তাঁর বাড়ি ‘মান্নাত’ এর সামনে ভিড় জমে হাজারো ভক্তের। ঘুম ভেঙ্গে বারান্দায় এসে সাবার প্রথমে ভক্তদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন শাহ্‌রুখ।

যতোকিছুই হোক, নাইন্টিজে জন্ম নেয়া খুব রোমান্টিক ছেলেটা বা নতুন প্রেমে পড়ে ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ দেখা মেয়েটির রুমে শাহ্‌রুখের পোস্টার রয়ে যাবে। সেটা অন্য কাউকে দিয়ে কখনোই রিপ্লেস হবে না। হাত বাড়িয়ে শাহ্‌রুখের ট্রেডমার্ক পোজটায় আর গালের টোলে ভক্তরা পাগল হবে। যুগ যুগ ধরে।

শাহরুখ খান জন্মদিন নিয়ন আলোয় neonaloy

‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ মুভিতে মোটর সাইকেল থামিয়ে সানগ্লাস নামিয়ে দেখা, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ মুভির ওপেনিং এ রানীর সাথে প্রথম দৃশ্যটা, ‘সুরাজ হুয়া মাধ্যম’ গানে হাত ছড়িয়ে দাঁড়ানো, ‘ভীর জারা’র কোর্টে দাঁড়িয়ে কয়েদি নাম্বার ৭৮৬ এর চিঠিটা পড়া, ‘চালতে চালতে’তে রানীর বাড়ির সামনে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা, ‘চাক দে ইন্ডিয়া’র সত্তুর মিনিটের স্পিচ, ‘কাল হো না হো’র প্রীতিকে সাদা ডায়েরী পড়ে শোনানোর দৃশ্য, ‘রাব নে বানা দি জোড়ি’র প্যান্ট টেনে কোমর থেকে নীচে নামিয়ে রাজ এর এন্ট্রি, ‘দেবদাস’ এর শেষ দৃশ্যে পারুর মহলের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকা, ‘বাজিগার’ এর “কাভি কাভি কুচ জিতনে কে লিয়ে কুচ হারনা ভি পারতা হ্যায়… অর হার কার জিতনে ওয়ালে কো বাজিগার কেহতে হ্যায়” ডায়ালগটা আমাকে এখনো গুজবাম্প দেয়!

কেভিন স্পেইসী, টম হ্যাঙ্কস, ডেনজেল ওয়াশিংটন, এডওয়ার্ড নর্টন, ব্র‍্যাড পিট’রা মুগ্ধ করেছেন অনেকবার। বলিউডের উপর থেকে আগ্রহ চলে গেছে সেই স্কুল লাইফের পরেই। কিন্তু আবেগটা রয়ে গেছে একমাত্র সেই ছোটবেলার সুপারস্টারের জন্যই।

সবশেষে কথা একটাই, যদি কড়াকড়ি রকমের ফ্যান না হয়ে থাকেন। কখনোই বুঝবেন না অবসেশনটা, কখনোই না। একজন অন্ধ ফ্যান’কে জিজ্ঞেস করে দেখুন। তাঁর সুপারস্টার তাঁর কাছে কি? ফ্যান হবার অবসেশনটা কি রকম, জিজ্ঞেস করে দেখুন।

শুভ জন্মদিন শাহরুখ। কৃতজ্ঞতা দু’হাত বাড়িয়ে ভালোবাসতে শেখানোর জন্য, একজন ‘ইমোশোনাল ফুল’ বানানোর জন্য। Thanks For Making My Boyhood Wonderful!

শাহরুখ খান জন্মদিন নিয়ন আলোয় neonaloy

প্রতিবারের মতো মান্নাতের সামনে ভিড় জমবে আজকে ভোরে আবার। একদিন ঠিক’ই জন্মদিনের প্লেকার্ড নিয়ে হাজির হয়ে যাবো।

Most Popular

To Top