টুকিটাকি

এই যে ভায়া, লাইনে আসতে পয়সা লাগে না!

এই যে ভায়া, লাইনে আসতে পয়সা লাগে না!

আশেপাশের বলতে গেলে প্রায় সবাই দেখি দেশের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। কারণ কি? আমাদের ছাড়া বিদেশে নাকি সব উন্নয়ন হয়ে ভরে গিয়েছে, বিদেশ মানেই পাকা পায়খানা, উন্নত অবকাঠামো, আইন বিচার ব্যবস্থাও বেশ। তাই দেশের যে কোনো বিপর্যয়েই আমারা বলি, বিদেশ যামুগা! এই দেশ আমার না!

প্রথম প্রশ্ন, আচ্ছা এই দেশের কত পার্সেন্ট লোক বিদেশ ভ্রমণে যায়? আমি পরিসংখ্যান জানি না। তবে আম-জনতা কর্মসূত্রে মালয়েশিয়া, মিডল ইস্ট, ইতালি, ইউরোপ যায় বেশির ভাগ। হজ্জ্ব করতে যান অনেকে সৌদি, তাও ঐ এক বারই। পড়াশুনা করতে ইউরোপ, আমেরিকা আর অষ্ট্রেলিয়া যেতে দেখেছি বেশির ভাগ অগ্রজ এবং বন্ধুদের। এর বাদে? নিয়মিত ঘুরতে কিংবা আসলেই বিদেশের কালচারটা থেকে বুঝে আসতে কয়জন যান? সংখ্যাটা কি খুব কম না? আমি ভুল হলে ভুলটা ধরিয়ে দিয়েন, শুধরে নেয়ার চেষ্টা থাকবে।

বিদেশ তো দূর, ছোট্ট এই বাংলাদেশটাই কয়জন ঘুরে দেখতে চান? আচ্ছা, বিদেশ উন্নত এটা কি আপনি গিয়ে দেখে এসেছেন? এখন না হয় ইন্টারনেটের যুগ। কিন্তু বছর বিশেক আগে আপনাকে বিদেশের গল্প কে শোনাতো? প্রবাস ফেরত কেউই তো? সে তার কষ্ট করে বিদেশ যাত্রাকে মহান করতে যা যা গালগল্প করেছে সেটা আপনার কাছে জান্নাত বৈ কম কিছু মনে হয়নি। তাই আজও বিদেশে থাকাটাই এই দেশে পরিচয় দেবার জন্য যথেষ্ট, পাত্র-পাত্রীর বাজারও গরম যেখানে প্রবাসী পরিচয়টা থাকে। কি করে সেটা বিন্দুমাত্র জানার বিষয়ও না, কারণ বেশিরভাগই মনগড়া মিথ্যাই বলেন বলে মনে হয় আমার। তারা ভালো করেই জানেন যে আপনি কখনো যাবেন না ঐখানে, আর গেলেও আপনি যদি সত্যিটা বলে দেন তাহলে আপনার বিদেশযাত্রা খাটো হবার ভয়ে আপনিও তার সুরেই গাইবেন।

এবার আসি উন্নত দেশের কথায়। হ্যাঁ তাদের অনেক কিছুই আমাদের চেয়ে উন্নত। কেন জানেন? ঐ দেশের সরকারের জন্য নয়, বরং ঐ সব দেশের নাগরিকদের জন্য ঐ দেশগুলো উন্নত। আপনি রাস্তায় ময়লা ফেলে উন্নত হবার আকাঙ্খা পুষলে হবে ভাই? এসব অভ্যাসের বিষয়। আমাদের বিচার ব্যবস্থা, আইন, সমাজ, শ্রদ্ধার এই ভগ্ন অবস্থা আমাদের জনগণের জন্যই এমন। নাগরিক ভালো না হলে ফেরেশতা এসে প্রধানমন্ত্রী হলেও লাভ নাই। ব্যপারটা মোটেও মেধার ঘাটতির নয়। একটা বাচ্চা নেদারল্যান্ডেও যে মানবিক শক্তি নিয়ে জন্মায়, আমাদের এখানেও কি তাই নয়? কিন্তু দুই জন ভুমিষ্ট হবার পর যে পরিবেশে বড় হবে তার উপর এদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে অনেকাংশে। আবার দেখেন, এই আমাদের দেশেই যে লোকটা বিড়ি খেয়ে রাস্তাতেই বাটটা পিষে গেলো বাইরে কোনো উন্নত দেশে গেলে জরিমানার ভয়ে সে সিগারেট ধরানোরই সাহস পাবে না! সে এখানকার যত হ্যাডমই হোক না কেন!

শুধু মানসিকতার পরিবর্তন আনলেই এই ছোট্ট দেশটা আরও কতো এগিয়ে যেত তা যদি বুঝতো জনগন। সব যায়গায় দূর্নীতি! সব! তো গ্রহীতারা তো আমাদের সমাজ শত্রু! কিন্তু যাঁরা দিচ্ছেন? তাদের তো আবার আপনারা ভিকটিম বানান যে না দিয়ে উপায় ছিলো না! আরে ভাই আপনি না দিলে ও নেয় কিভাবে? অভ্যাস তো আপনেই করাইছেন! এক জনও দিয়েন না। তাইলে ঐ ঘুষের জায়গাটা যোগ্যতা দিয়ে রিপ্লেস হয়ে যাবে। কিন্তু আপনে তো খুঁজেন শর্টকাট! তাই আপনার স্পিডমানি ইউজ করতে হয়। খাইতে খাইতে খাদকের যখন প্যাট মোটা হয়া যায় তখন সে আরো চায়, মাত্রাতিরিক্ত চায়, তখন আপনে নিজেরে ভিকটিম বইলা বিচার চান! সেলুকাস।

দৃ ষ্টি ভ ঙ্গি
ব দ লা ন।

এইটুকুই করেন। কেমনে করবেন? নিজে মুখে যা বলেন জাষ্ট ঐটুকুই করেন। এর বাইরে বলা বাদ দেন। ঐসব বলতে চাইলে ফিকশন লিখেন, বিখ্যাত হবেন। টাকা যশ খ্যাতি সব হবে।

ভালো থাইকেন সবাই। ভালো থাকার অভ্যাস করতেছি ইদানিং। মানুষ নাকি অভ্যাসের দাস।

লিখেছেনঃ খন্দকার রাকিবুল হাসান সৌরভ

Most Popular

To Top