বিশেষ

#MeToo ঝড়ে এলোমেলো এ বছরের নোবেল পুরষ্কার…

নোবেল সাহিত্য #me_too নিয়ন আলোয় neonaloy

প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হয় নোবেল প্রাইজের বিজয়ীদের নাম ঘোষনা। ৬টি বিভাগে দেওয়া এই পুরষ্কারের বিজয়ীদের নাম জানার জন্য সারা বিশ্বের মানুষ প্রতি বছর মুখিয়ে থাকে। যথারীতি এই বছরও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে মে মাসের একটি স্টেটমেন্টে জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই বছর সাহিত্যে কোন নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হবে না। বরং এই বছরে এবং পরবর্তী বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার একসাথে ২০১৯ সালে দেওয়া হবে। সর্বশেষ সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার ১৯৪৯ সালে স্থগিত করা হয়েছিল।

পুরো বিশ্বজুড়ে অভিনেতা অভিনেত্রীরা, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গরা তাদের জীবনের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের ঘটনা #MeToo হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। নিজের জীবনের কালো অন্ধকার জীবনের চিত্র সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরছেন আর মানুষকে আরো সচেতন, প্রতিবাদী হয়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ করছেন যাতে অন্যায়ের কাছে মানুষ পরাজিত না হয়ে। এই #MeToo হ্যাশট্যাগই বাধ্য করেছে এই বছর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার স্থগিত রাখতে।

নোবেল সাহিত্য #me_too নিয়ন আলোয় neonaloy

#MeToo আন্দোলন, কাঁপিয়ে গিয়েছে নোবেল পুরষ্কারকেও!

সাহিত্যে এই বছর নোবেল পুরষ্কার স্থগিত রাখার কারণের মূল হোতা হচ্ছেন ফরাসী-সুইডিশ ফটোগ্রাফার জ্যাঁ-ক্লদ আর্নো। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের  #MeToo হ্যাশট্যাগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৮ জন নারী এই ফটোগ্রাফারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের অভিযোগ আনেন।

নোবেল সাহিত্য #me_too নিয়ন আলোয় neonaloy

জ্যাঁ-ক্লদ আর্নো

যদিও তিনি এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। ৭২ বছর বয়সী জ্যাঁ-ক্লদ আর্নো’র বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। ফ্রান্স এবং সুইডেনে গত বিশ বছরে ধরে তিনি নানাভাবে এই ধরনের অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজেকে নোবেল একাডেমীর ১৯তম সদস্য বলে সবার কাছে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন। প্রথম ট্রায়ালেই তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সপ্তাহখানেক আগে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের ট্রায়াল শেষ হয় ও তাকে ২ বছরের কারাবাস দেওয়া হয়। ফটোগ্রাফার ছাড়াও তার আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি নোবেল কমিটির সদস্য ও লেখক কাটারিনা ফ্রস্টেনসন এর স্বামী।

নোবেল সাহিত্য #me_too নিয়ন আলোয় neonaloy

কাটারিনা ফ্রস্টেনসন

আর্নো ও তার স্ত্রী ফ্রস্টেনসন দুজন মিলে একটি ফোরাম চালাতেন। যেখানে তারা বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ ও অতীতের নোবেল বিজয়ীদের নিয়ে নানা ধরনের পাঠ কার্যক্রম ও পারফরমেন্স এর আয়োজন করতেন আর তাতে আর্থিক ভাবে নোবেল কমিটি থেকে সহায়তা করা হতো। আর তার এই অনৈতিক কাজের অনেক কিছুই করেছেন নোবেল কমিটির সম্পত্তি ব্যবহার করে। এছাড়াও অতীতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করার আগেই নাম ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জ্যাঁ-ক্লদ আর্নো দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই সুইডিশ একাডেমী মেম্বাররা এই দম্পত্তির নোবেল কমিটিতে থাকার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে অসন্তুষ্টিতে ছিলেন। সুইডিশ কমিটির ফ্রস্টেনসন নোবেল কমিটিতে বহাল থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কমিটিতে সদস্যদের মাঝে মতাভেদ সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৮ জন সদস্যের কমিটির মাঝে ৩ জন তাদের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন ও পরবর্তীতে কমিটির পার্মানেন্ট সেক্রেটারীও এর প্রতিবাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন, যদিও পরবর্তীতে ফ্রস্টেনসন তার দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

নোবেল সাহিত্য #me_too নিয়ন আলোয় neonaloy

সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কারের স্মারক মেডেল

এই ঘটনা সুইডিশ কমিটি ও নোবেল কমিটির উপরে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। একাডেমীর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে। তাছাড়া এই ঘটনার ফলে নোবেল কমিটি তাদের কাজে পরবর্তীতে আরো বেশি মনযোগী হবে। ফাউন্ডেশন বোর্ডের সভাপতি কার্ল-হেনড্রিক হেলডিন তার এক বিবৃতিতে বলেছেন,

“একাডেমির সিদ্ধান্তটি পরিস্থিতিটির গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং নোবেল পুরস্কারের দীর্ঘমেয়াদী খ্যাতি রক্ষা করতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে অন্য কোনো পুরস্কার বিভাগে  নোবেল পুরস্কার প্রদানের উপর প্রভাব ফেলবে না। নোবেল ফাউন্ডেশন মনে করে যে সুইডিশ একাডেমী এখন তার সমস্ত প্রচেষ্টা পুরষ্কার হিসাবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের কাজে লাগাবে।”

কার্ল-হেনড্রিক হেলডিন

Most Popular

To Top