ফ্লাডলাইট

শচীন নাকি কোহলি, সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান কে?

কে বেশি সেরা??? শচীন না কোহলি???

তারেক আহসান ঈগলঃ

এতদিন অল্পস্বল্প তুলনা হলেও কালকে থেকে অনেকেই শচীনের চেয়ে ভাল বলে মেনে নিচ্ছে কোহলিকে। বিরাট কোহলি যেভাবে ব্যাটিং করে যাচ্ছে কয়েক বছর ধরে, সেইটা জাস্ট ডিফরেন্ট একটা লেভেলের। এত ভাল, এত কনসিস্টেন্ট!

এবার এই তুলনা প্রসঙ্গে আমার নিজের যা মনে হয়, তা নিয়ে হালকা আলোচনা করি।

যারা শচীনকে পিক সময়ে দেখেছে আবার বিরাটকেও দেখছে তারা আসলে ভাগ্যবান। দুই রকম দুইটা ব্যাটসম্যান। কিন্তু রান করাতে কোন ক্লান্তি নাই। অনেক বছর আগেই, শচীন ব্যাটিং-এ নামলে আমি ‘বোরড’ হতাম- বোলারদের কোন সুযোগ দেবে না, রান করে যাবে তো যাবেই, থামবে না। এখন কোহলিও তাই করে।

ক্রিকেট সময়ের সাথে সাথে ব্যাটসম্যান গেম হয়ে গেছে। টি-২০ আসার পর থেকে সব সুযোগ সুবিধা শুধু ব্যাটসম্যানদের জন্যেই। ফ্লাট পিচ থেকে শুরু করে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে ইত্যাদি জিনিস ঘুরে এখন মাঝের লম্বা একটা সময় বৃত্তের বাইরে ৪ জনে এসে স্থির হয়েছে রুলস। গ্যাপ বেড়ে গেছে, স্পিনারদের চ্যালেঞ্জও। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, যেটা নিয়ে মানুষ তেমন কথা বলে না- দুই পাশ থেকে দুইটা নতুন বলে খেলা হয়, স্পিনারদের জন্যে এখন আর তেমন কিছুই থাকে না ওয়ানডে ক্রিকেটে। আগে ইনিংসের মাঝের সময়টা সফট বলে স্পিন করানোর যে সুযোগটা ছিল, এখন আর তা নাই। হার্ড বল প্রায় নতুনই থাকে পুরো ইনিংস।

ওয়ানডেতে এখন ৩০০/৩৫০ রান এখন নৈমিত্তিক। টি-২০ এর প্রভাবে ব্যাটসম্যানদের মানসিকতায় অনেক আগ্রাসন। বোলারই তো খুঁজে পাই না। একটা ভাল অফ স্পিনার নাই, নাই একটা লেগ স্পিনার, নাই একটা ফাস্ট বোলার। কোহলির কিছু ফ্ল ছিল বা আছে। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে সুইং-এ সমস্যা হয়, লেগ স্পিনেও অনেক সময় প্রব্লেম হতে দেখছি। কিন্তু এই জায়গাগুলার সুযোগ নিবে, এরকম বোলারই তো দেখি না। এবার ইংল্যান্ডে রান করলেও নিকট অতীতে এত এজ হওয়া টাইপ ব্যাটিং খুবই করতে দেখছি কোহলিকে।

কিন্তু এসবের মধ্যে সবাই কেন কোহলির মত রান করতে পারতেছে না? কারণ একটাই- কোহলি আসলেই এতটা ভাল। টু গুড। শুরুর দিকের ফোলা গালের লুতুপুতু বিরাট হার্ড ওয়ার্ক করে শরীরের শেষ চর্বিও সম্ভবত ঝরিয়ে ফেলেছে। প্রচন্ড পরিশ্রমী। শুরুতে অল্প কিছুদিন স্ট্রাগল করেছিল, এরপর প্রতিনিয়ত নিজেকেই ছাড়ায়ে যাচ্ছে, সামনে কোন চ্যালেঞ্জই পাচ্ছে না।

ক্রিকেট গত এক এক যুগে বিশাল একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিরাট সেই সময়েও এখনকার মত সফল হতে পারতো? আমার ধারণা সে ভাল করতো। সেই ক্যাপাবিলিটি তার আছে। তবে এত কম সময়ে ১০ হাজার রান বা এত দ্রুতগতিতে এত এত মাইলস্টোন ছুতে পারতো কিনা সেটা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।

বিভিন্ন সময়ের জিনিয়াসদের তুলনা করাটা আসলে টাফ। বোকামিও। অনেকেই ওয়ানডে সেরা ব্যাটসম্যানের কথা বলতে গিয়ে ভিভ রিচার্ডসের সাথে কারো তুলনাই করতে চান না। সেরা সেরা বোলাররা আক্ষরিক অর্থেই ভয় পেত ভিভকে বল করতে। তখনকার কন্ডিশন তো আরো টাফ ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্যে। এটা শুনে অবশ্য এখনকার সময়ের একজন ক্রিকইনফো অ্যাপ বের করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ঘেটে এই দাবিকে হেসে উড়িয়ে দেবে। এই জিনিসটাই মডার্ন সময়ের সবচেয়ে ট্র‍্যাজিক ব্যাপার- ‘স্ট্যাটিস্টিকস’! আজকাল এসিস্ট, গোল ইত্যাদি যাচাই করে আমরা জিদান, রোনালদিনহোর চেয়ে প্রচুর ‘ভাল’ ফুটবলার বের করে ফেলতে পারি।

আরো পড়ুনঃ ভিভ রিচার্ডস- ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাটসম্যান!

কোহলির জন্যে ব্যাপারটা সম্মানের, এখনই শচীনের সাথে তার তুলনা হচ্ছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে শচীনই তুলনার শেষ স্তর। তবে শেষ বয়সের অ্যান্ডারসনরা টেস্টে যেভাবে কোহলির টেকনিকের পরীক্ষা নিয়েছে (এবং কোহলিও তা পার করে যাওয়ার চেষ্টা করছে) ওয়ানডেতেও এই ধরনের কিছু ব্যাটল দেখতে পারলে ভাল লাগত। কোহলি নিজেও হয়ত নিজেকে আরেকধাপ উপরে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতো। কয়েক বছর ধরে সে জিনিসটাকে বেশিই একপেশে বানায়ে ফেলছে।

এখনই শচীনের চেয়ে কোহলি ভাল এটা বলবো না, তবে এভাবে আরো কয়েক বছর চললে সেটা নিয়ে হয়ত আরেকবার ভাবতে হতে পারে। হি ইজ এ জিনিয়াস।

Most Popular

To Top