ফ্লাডলাইট

টেস্ট দলে কি ফিরছেন তুষার ইমরান?

তুষার ইমরান ফেরা নিয়ন আলোয় neonaloy

ক্যারিয়ারের সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০০৭ সালের ১১ জুলাই। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ হয়নি ৩৪ বছরে পা রাখা তুষার ইমরানের। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে রান ক্ষুধা যেন আরো বেড়েছে তুষারের, সমান তালে পাল্লা দিয়ে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তারচেয়ে কম বয়সী তরুণদের, আর সমবয়সী যারা ছিলেন তারা তো নেই ধারেকাছে তুষারের।

দেশে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে একমাত্র দশ হাজার রান তুষারের (১০৮১৬), সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি তুষারের (৩০)।

জাতীয় লীগের প্রথম রাউন্ডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় জোড়া সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন (১০৪ এবং ১০০*), প্রথম জোড়া সেঞ্চুরিটাও বেশিদিন আগের নয়। গত এপ্রিলে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে করেছিলেন ১৩০ এবং ১০৩*।

নিজেকে ফিট রেখে অনবরত রান করে যাওয়ার পুরস্কার অবশেষে পাচ্ছেন তুষার ইমরান। ১১ বছরের বেশি সময় পরে টেস্ট দলে ফেরাটা প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন সূত্রে।

আসছে নভেম্বর মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে হয়তো ডাক পেতে যাচ্ছেন তুষার। টেস্ট দলে তামিম-সাকিবের অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞতার অভাব পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নির্বাচকমণ্ডলী।

তুষার ফিরলে সেটা হবে রূপকথার মতো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তো বটেই এই উপমহাদেশীয় সংস্কৃতিতে সাড়ে ১১ বছর পর দলে ফেরার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। একবার দলের বাইরে চলে গেলে আর বয়স ত্রিশের ঘর পার হলে এই অঞ্চলে দলে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব বলেই বিবেচনা করা হয়।

যদিও বছরের শুরুতে প্রায় ৪ বছর পর হুট করে দলে ফিরেছিলেন আবদুর রাজ্জাক রাজ। মূলত সাকিবের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে।

তুষার ইমরান তার ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৭ বছর বয়সে, খুলনা বিভাগের হয়ে ১০৬ বলে ১৩১ রান করে নজরে আসেন ২০০১ সালে। তারপর যা হতো তখন, তড়িঘড়ি করে ২০০২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক করানো হয় শ্রীলংকার বিপক্ষে। চামিন্দা ভাস, মুরালিধরনের শ্রীলংকার সামনে অভিষেকে দুই ইনিংসে রান করেন ৮ এবং ২৮।

এই ম্যাচে তুষার ইমরানকে খেলানোর জন্য বাংলাদেশের তিনজন সাবেক অধিনায়ক এবং অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে উপেক্ষা করা হয়। তারা হলেন নাঈমুর রহমান দূর্জয়, আকরাম খান এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

তৎকালীন কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্ট তরুণদের সুযোগ দেয়ার কথা বলে ছাঁটাই করেন আমাদের নব্বই দশকের হিরোদের।

যাইহোক এরপর ২০০৩ সালে তুষার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলেন। ১৮ বছরের একজন কিশোর যার দেশে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট চালুই হয়েছে মাত্র দুই বছর, যার কোন ধারণা ছিলো ম্যাকগ্রা, গিলেস্পি, ওয়ার্ন কি জিনিস তার সিরিজ যেমন হবার কথা তুষারের ঠিক তাই হয়েছিলো।

খুব ঘটা করে যার আগমন তাকে পাঁচ বছরে মাত্র ৫ টেস্ট খেলিয়েছিলো বাংলাদেশ। ৫ টাই বিদেশের মাটিতে। আর ওয়ানডে খেলেয়েছিলো ৭ বছরে মাত্র ৪১ টি। তার বেশিরভাগ আবার ৩ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে যখন বাংলাদেশ আগেই সিরিজ হেরে শেষ ম্যাচ আসলে আনুষ্ঠানিকতা।

হয়তো মোহাম্মদ আশরাফুলের উপর বেশি ইনভেস্ট করতে চেয়েছিলো ম্যানেজমেন্ট, কারন আশরাফুল অভিষেকে শতক হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু আশরাফুলের মতো তুষারের উপর ইনভেস্ট করলে কি হতো সেটা কেউই দেখার দরকার মনে করেনি তখন। দেশে দুইজন ট্যালেন্ট ছিলো সমবয়সী, আশরাফুল আর তুষার। ম্যানেজমেন্ট একজনের পেছনে সময় ব্যয় করেছে অন্যজনকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে। তারপর একসময় মুশফিক-তামিমদের জেনারেশন আসলে একেবারে বাদ দিয়ে দেয়া হয় ঠিক যেভাবে আকরাম, আমিনুলদের বাদ দেয়া হয়েছিলো।

যাইহোক এসব নিয়ে তুষার কখনো সেভাবে কথা বলেননি, শুধু একবার বলেছিলেন মাত্র ১৮ বছরে টেস্ট অভিষেক না দিয়ে আরো পরে দিলেই মনেহয় তার জন্য ভালো হতো। ব্যাস এইটুকুই, কোন অভিযোগ করেননি।

কতজনের কত সমস্যা শোনা যায়, অনুশীলনের সুযোগ পাননা, জাতীয় দলে না ডাকলে, বা না সুযোগ পেলে জাতীয় লীগ কেন খেলবে? কিন্তু তুষার খেলেই গিয়েছেন। খেলাটার প্রতি ভালোবাসা কতখানি সেটা এখান থেকেই বুঝে নিতে হবে। দারুন ফিট, ইনজুরি সমস্যাও নেই। তাই কোন মৌসুম বাদ যায়নি জাতীয় লীগের।

তুষারের এই ফিরে আসা শাহরিয়ার নাফিসদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে, যিনি গতবছর অভিমানে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন জাতীয় লীগ থেকে, এনসিএল থেকে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে তুষারকে ফেরানোর ইচ্ছাটা বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই ছিলো। তবে সেটা হোম সিরিজ দিয়ে। যার অংশ হিসেবে শ্রীলংকা “এ” দলের বিপক্ষে সুযোগ দেয়া হয়েছিলো, সেখানে সফল না হলেও আরেকবার সুযোগ পাচ্ছেন তুষার ইমরান। সফল হলে হয়তো উইন্ডিজ সিরিজেও দেখা যাবে তাকে।

৫ ম্যাচে ৮.৯০ গড়ে রান করেছিলেন মাত্র ৮৯। শুধু এই টুকু দিয়ে যারা তুষারকে পরিমাপ করেন, বলেন “ঘরোয়া ক্রিকেটের লিজেন্ড” তারা মস্ত ভুল করেন। তুষার এর চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেটার। এইবার সুযোগ পেলে তুষার আশাকরি সেটা প্রমাণ করে দিবেন। একসময় তুষারকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক এবং সেরা প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানদের একজন ভাবা হতো।

এছাড়া আরেকটি খবর হচ্ছে ওয়ানডে দলে সাকিবের অভাব পূরনে তিনজনের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, আবদুর রাজ্জাক রাজ, সোহাগ গাজী এবং আফিফ হোসেন ধ্রুব। আবদুর রাজ্জাক যদি রাজি হন তাহলে এটা হতে পারে তার “ফেয়ারওয়েল সিরিজ”। এর আগেও দুইবার এই অফার দেয়া হয়েছিলো, তিনি রাজি হননি।

আলোচনায় বেশি আসছে সোহাগ গাজীর নাম, সেঞ্চুরি করেছেন জাতীয় লীগের প্রথম রাউন্ডে। আবার আফিফ নিয়েছেন ৬ উইকেট!

কে আসছেন আর কে আসছেন না সেটা জানা যাবে সামনের সপ্তাহে, তবে কয়েকজন পুরানো সৈনিক ফিরছেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের ক্যাম্প শুরু হবে ১৫ তারিখ থেকে।

Most Popular

To Top