নাগরিক কথা

“এদেশে মিউজিককে প্রফেশন হিসেবে নেওয়াটা অপরাধ!”

বখতিয়ার হোসেন নিয়ন আলোয় neonaloy

একজনের সম্পত্তি যখন অন্য কেউ নিজের নামে চালিয়ে দেয়, তখন তাকে কি চুরি বলা যায়? অবশ্যই বলা যায়। অন্যের সম্পত্তি নিজের নামে চালিয়ে নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার করা যদি চুরি না হয়, তবে অভিধানে “চুরি” শব্দটার সংজ্ঞা নতুন করে লেখা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তবে শুধু কি টাকা-পয়সা, গাড়ি-সাইকেল এসবই চুরি হয়? এর বাইরে কি আর কিছু চুরি হয় না? হয়। তবে আমরা সম্ভবত বেশ কিছু চৌর্যবৃত্তিকে কখনো অপরাধ বলেই মনে করি না।

এই যেমন ধরুন আপনি ফেসবুকে একজনের স্ট্যাটাস আপডেট দেখলেন, যেটা পড়ে আপনার বেশ ভাল লাগলো। আর আপনি কি করলেন? লাইক বাটনে একটা চাপ দিয়ে শেয়ার বাটনে ক্লিক না করে লেখাটা কপি করলেন, এরপর সরাসরি নিজের টাইমলাইনে পোস্ট। ব্যাস, সাথে সাথেই লাইক-কমেন্টের বন্যা। কপাল ভাল হলে ৫-১০ জন কিংবা ডজনখানেক ফলোয়ারও জুটে যেতে পারে! অথবা আপনি যদি কিছুটা “নীতিবান” হয়ে থাকেন, তবে পোস্টের নিচে “কালেক্টেড” লিখেই লেখকের প্রতি নিজের দায় সারবেন।

আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে, সামান্য কয়টা লেখা কপি-পেস্টের জন্য কেন আপনাকে চোর-ডাকাত অপবাদ শুনতে হচ্ছে? এই কপি-পেস্টে তো মূল লেখকের এক পয়সাও ক্ষতি হচ্ছে না, তাহলে সমস্যা কি? এইখানে সমস্যাটা হচ্ছে এই লেখাগুলোর মেধাসত্ত্বের অধিকারী যে মূল লেখক, এবং সেটি কপি-পেস্ট করে যে আপনি তার সম্পত্তি ভোগ-দখল করছেন, সেই বিষয়টিই আপনার মাথায় আসেনি কখনো। অথবা মাথায় আসলেও জেনেশুনে এই অপরাধ আপনি করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পড়ে দেখতে পারেন এখানে- “ইন্টারনেট মানেই কি চোর-ডাকাতের আড্ডাখানা?”

এ তো গেল আপনার-আমার মত সাধারণ মানুষের কথা। যারা শিল্পী মানুষ, কিংবা পরিচালক-গল্পকার-নির্মাতা, তারা তো নিশ্চয়ই এই মেধাসত্ত্বের ব্যাপারটি বুঝেন। কেননা তাদের নিজের হাতে করা একটি কাজ যদি অন্য কেউ নিজের নামে চালিয়ে দেয়, তাহলে কেমন খারাপ লাগবে সে ধারণা অবশ্যই তাদের আছে! আর এই লোকগুলোই যখন জেনে বুঝে অন্য কারো কাজ সুযোগ বুঝে “মেরে দেয়” তখন কি আর কিছু বলার থাকে?

আর এরকম একটি সমস্যা থেকেই নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন বে অফ বেঙ্গল ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, গিটারিস্ট এবং ফ্লুটিস্ট বখতিয়ার হোসেন। যারা অনলাইনে মোটামুটি নিয়মিত, কিংবা দেশের সঙ্গীতাঙ্গনের কিছুটা খোঁজখবর রাখেন, তারা সবাই বখতিয়ার হোসেনকে চেনার কথা তার অসাধারণ ফ্লুট কভারগুলোর জন্য। বখতিয়ার হোসেন তার সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বেশ ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন কত কষ্ট করে বাংলাদেশে একজন মিউজিসিয়ানকে টিকে থাকতে হয়, এবং এই টিকে থাকার সংগ্রামের মাঝেও কিভাবে অহরহ তাদের সাধনার ফলগুলো এদিক-ওদিকে চুরি হয়ে যায়!

পাঠকদের সুবিধার্থে বখতিয়ার হোসেনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল নিয়ন আলোয়-এর পাঠকদের জন্য। বিস্তারিত পড়তে স্ট্যাটাস আপডেটটির “See more” বাটনে ক্লিক করে চলে যান বখতিয়ার হোসেনের মূল স্ট্যাটাস আপডেটে

বিচারের ভার রইলো পাঠকের উপর। আমরা কি মেধাসত্ত্বের মূল্যায়ন করতে শিখবো, নাকি এরকম প্রকাশ্যে চুরি-চামারিগুলো দেখেও না দেখার ভান করে সৃষ্টিশীল শিল্পীদের একটু একটু করে ধ্বংস করে দিবো?

Most Popular

To Top