নাগরিক কথা

“অপসংস্কৃতি”র সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনবে কে?

ওয়াশি আবিরঃ

অন্তু, দোস্ত তোর মনে হয়না ‘বিদায় সংবিধান’ অ্যালবামটা সময়ের অনেক আগে বাইর হইসে?

একটু বুঝা তো, ওই যে দুই হাজার তেরো’র মতো মানুষ কি এখনো উত্তরা দিয়া মিনার্ভার শো দেখতে শাহবাগ যায়? মিনার্ভা তো ‘বন্ধ'(আপাতত), কিন্তু যায় কি?

দোস্ত, একটু বুঝা তো মানুষ কি এখনো ‘রকনেশন’ এ ঢুকার জন্য ৩ ঘন্টা রৌদ্রে আরাম কইরা দাঁড়ায়? তারপর, ৬ ঘন্টা পর কিছু একটা সাথে নিয়া বাইর হয়? দেখিও নাই কিন্তু বুঝসি যে কিছু একটা নিয়া বাইর হইতেসি।

রকনেশন তো ‘বন্ধ'(আপাতত), কিন্তু মানুষ কি অন্ততপক্ষে এসি’র নিচে হইলেও দাঁড়ায়?

দোস্ত, মানুষ কি এখন আর কনফিউজডলী নেট নিয়া ঘাঁটে যে ‘মিনার্ভা’ নামটা ডেফটোনস এর গান থেকে ওরা নিসে, নাকি Minerva- the Roman goddess of wisdom and strategic warfare and the sponsor of arts, trade and strategy’- এখান থেকে নিসে?

দোস্ত, মানুষ কি এখন আর কাঁপতে কাঁপতে সুলতান রাফসানের কাছে যায় একটা অটোগ্রাফের জন্য? বা অন্য কারো কাছে?
দোস্ত, মানুষ কি ভার্সিটির ৪ নম্বর বিল্ডিং এ ৬ তলায় লিফটের সামনে কাঁপতে কাঁপতে গালিব ভাইয়ের কাছে গিয়া বলে, “You are like a God to me”, আর গালিব ভাই একটা হাগ দেয়?

দোস্ত, ওরা কি “চু*না” কথাটা প্রথম মেইনস্ট্রিম রেকর্ডে কারা ব্যাবহার করসে এইটা জানে? ওরা কি ‘আশীর্বাদ’ শুনেনা এখন আর?

দোস্ত, মানুষ কি এখন আর দুইজন এক রুমে বইসা “ধংসপ্রাপ্ত জাতিসত্ত্বা” শুইনা মেজাজ গরম কইরা দেশ কিভাবে বদলানো যায় এইটা নিয়া আলোচনা করে না? ওই গানেই না ফেলানীর কথা বলসিলো ওরা- ফেলানিরে কি ওরা আদৌ চিনে?

দোস্ত, কেউ কি খুঁইজা বাইর করার চেষ্টা করে যে গালিব ভাই God of War গানটা খালি ভিডিওগেম এর থিমে বানাইসে, নাকি ‘জেদ’ শব্দটার অর্থ বুঝানোর জন্য?

দোস্ত, কেউ কি এখন আর সাউন্ড তৈরির কৌশল শিখতে অনেক কষ্টে খুঁইজা লিংকন দা’র বাসায় পলায়া ঢুকে? পরে, সামনে পড়লে শ্রদ্ধায় পা ধইরা বইসা থাকে, যে আমারে শিখান?

আমি ভাবতাম মানুষ এসব করেনা।

কিন্তু গত ৭ টা দিনে আমি বুঝতে পারসি যে, এই যে ২০০০-এর পরে জন্ম নেয়া ছেলেমেয়েগুলা, ওরা এগুলা খুঁজতেসে, করতে চাইতেসে। জানেও না কি খুঁজে, কিন্তু খুঁজতেই থাকে, হাল ছাড়ে না।

তাইলে, আমরা দিতাসিনা ক্যান?
দোষ তো আমাগো!

এইজন্যই জিগাইসিলাম শুরুতে, দোস্ত তোর মনে হয়না ‘বিদায় সংবিধান’ অ্যালবামটা সময়ের অনেক আগে বাইর হইসে?

আয় যতটুকু পারি দেই।

২০০৪-এর মত হাত কাইট্যা কেউ BLACK লিখে কিনা বাদ দিলাম। অত পিছনে না যাই।
আজম খান- যে মুক্তিযুদ্ধ করসে, কইরা পরে গান বানাইসে ‘রেললাইন এর অই বস্তিতে’ – ওইডা শুনসে কি না এডা তো জিগানই যাইবোনা।
বাই দা ওয়ে, মিনার্ভার ট্রিবিউটটাও কিন্ত ওই গান দিয়া শুরু হয়!

আয় একটু রাস্তা দেখাই।
রাস্তার লিংক এখানে দেই যতদূর পারি…

ও আরেকটা কথা- মিনার্ভা ট্রিবিউট দিসিলো যে, কাদের যেন? – প্রথমে তো আজম খান, এরপর নগরবাউল, এল.আর.বি., মাইলস, ওয়ারফেজ, অর্থহীন, ক্রিপটিক ফেইট, ব্ল্যাক, নেমেসিস, আর্বোভাইরাস, পাওয়ারসার্জ, মেকানিক্স- ওগো কথা তো বলাই হয় নাই। আর জাহিন ভাই যে আত্মহত্যা করলো চেস্টার, ক্রিস এর কিছুদিন পরেই, উনি তো মেকানিক্স-এই বাজাইতো? না, দোস্তো?

আর রঞ্জন দা, ওই যে যার গিটার দিয়া আর্টসেল-এর এরশাদ ভাই প্রথম এলবামে বাজাইলো, ‘অসমাপ্ত’ এর কথাগুলা লেখা যার-

“তবুও আঁধার শেষে,
দেখা দেয় আলো-
অনেক সম্ভাবনার মাঝে
খেলা করে রোদ!”

থাক দোস্ত, কাইন্দা দিতে পারি; খুশিতে, জেদে, না কষ্টে এইডা জানিনা।
খাড়া। পাইসি, এইটা তো দুঃসাহসের কান্না! শালা, সাহস শব্দটাও মাথায় আসলোনা।

আবার বলি, রাস্তার লিংক এখানে…
আর কোন ভাই বেরাদার যদি ওনাদের যে রাস্তাগুলা, ওইগুলার লিংক কমেন্টে দেন, তাইলে ইয়ে মানে চলতে ফিরতে একটু সুবিধা হয় আর কি।

বিঃ দ্রঃ- ইউটিউবে গানগুলার টাইটেল আমার দেওয়া না।
এবং এমনে হুইনেন না, সিডি কিনেন অথবা অনলাইনে কিনেন। শিল্পীগুলারে বাঁচতে দেন।

 

Most Popular

To Top