ফ্লাডলাইট

নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ এতো সিরিজ কিভাবে?

নিউজিল্যান্ড নিয়ন আলোয় neonaloy

২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত এফটিপিতে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ রয়েছে সর্বমোট পাঁচটি। অন্য অনেক দলের সাথে যেখানে এক/দুইবারের বেশি দেখাই হবে না সেখানে নিউজিল্যান্ডের সাথে পাঁচটি সিরিজ বেশ অবাক করার মতো ঘটনা বটে।

আরো অবাক করা বিষয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ চালু হলে বেশিরভাগ টেস্ট সিরিজ ২ ম্যাচ এবং ওয়ানডে ৩ ম্যাচ সিরিজ হবে এই জিনিসটা জানতে পেরে দুই বছর আগেই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড সব হোম টেস্ট সিরিজ ২ ম্যাচ এবং ওয়ানডে সিরিজ ৩ ম্যাচ করে করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। ২ ম্যাচের অধিক টেস্ট আয়োজন করাটা তাদের জন্য সব দিক থেকেই কঠিন বলে জানিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড বোর্ডের প্রধান। ফলাফল ২০১৭ সালের মার্চ মাসের পর আর ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেনি ব্ল্যাক ক্যাপসরা। এমন কি উইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডের সাথে পূর্ব নির্ধারিত ৩ ম্যাচের সিরিজ থেকে একটি করে টেস্ট বাতিল করা হয়েছিলো। সামনের সামারে (গ্রীষ্ম) শ্রীলংকার সাথে ২ টেস্ট আর ভারতের সাথে কোন টেস্ট না থাকলেও বাংলাদেশের সাথে ঠিকই ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা।

আপনি যদি ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের এফটিপি খেয়াল করে থাকেন তাহলে দেখবেন তারা ঘরের মাঠে মাত্র দুইটি ৩ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলবে (সর্বমোট দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পাঁচটি) যার ভেতর একটি আবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ আইসিসির। আর ওয়ানডে সিরিজ একটি বাদে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে সবগুলি ৩ ম্যাচের। একমাত্র ৫ ম্যাচের সিরিজ ভারতের বিপক্ষে। সেটা অবশ্যই আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলেই।

স্বাভাবিক প্রশ্ন, নিউজিল্যান্ড কেন বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট কমাতে পারলো না? আর কেনই বা এফটিপি’র এক সাইকেলে পাঁচটি সিরিজ পাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে?

এর কারণ আর কেউ নন, আমাদের আলোচিত বোর্ড সভাপতি জনাব নাজমুল হাসান পাপন। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে তিনি নিউজিল্যান্ড, ভারত এবং ইংল্যান্ডের সাথে কিছু সিরিজের নিশ্চয়তা আদায় করেছিলেন এফটিপির বাইরে অন্য একটি চুক্তির মাধ্যমে।

এই চুক্তিকে বলা হয় MPA মানে Members Participation Agreement, এই চুক্তিতে যেসব সিরিজ থাকে সেসব সিরিজ বাতিল করা যায় না, বাতিল করলে সেজন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এমনকি এই চুক্তিতে এক পক্ষের ইচ্ছায় কোন পরিবর্জন, পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। এফটিপির কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও MPA-এর আছে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড ২০২৩ সাল পর্যন্ত দশ বছরে মোট সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য MPA স্বাক্ষর করেছিলো।

যার ভেতর ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ সফর করেছিলো, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড সফর করেছিলো। আর বাদ বাকি পাঁচটি সিরিজ আইসিসির বর্তমান এফটিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

MPA অনুযায়ী এই সাত সিরিজের ভেতর দুইটি টেস্ট সিরিজ ছিলো ৩ ম্যাচের। একটি দেশের মাটিতে অন্যটি বিদেশের মাটিতে। বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে কোন ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রাখেনি নিউজিল্যান্ডের সাথে তবে সম্ভবত বিদেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগের সাথে কম্প্রোমাইজ করে নি। যার কারণে নিউজিল্যান্ড তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও ৩ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ আয়োজন করছে। কারণ নিউজিল্যান্ড একার ইচ্ছায় MPA-এর কোন কিছু পরিবর্তন করতে পারবে না।

বিদেশের মাটিতে খেলার অভ্যস্ততা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের সাত সিরিজের পাঁচটি সিরিজই নিউজিল্যান্ডে হবার কথা হয়েছিলো তখন। যার কারণে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাদ বাকি পাঁচ সিরিজের একটি মাত্র সিরিজ বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে। সেটা শুধুমাত্র ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

এখানে অবশ্যই কিছুটা ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। হতে পারে পরপর দুইবার ওয়ানডে সিরিজে “বাংলাওয়াশ” হবার পর নিউজিল্যান্ড আর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলতেই রাজি হয়নি।

তবে ভালো দিক হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২০ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলার সুযোগ হয়েছে। এটা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

২০১৯-২০২৩ এফটিপিতে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
২০১৯ ফেব্রুয়ারি-মার্চঃ ৩ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে
২০২০ আগস্টঃ ২ টেস্ট (বাংলাদেশ)
২০২০ অক্টোবরঃ ৩ টি-টুয়েন্টি
২০২১ ফেব্রুয়ারি-মার্চঃ ৩ ওয়ানডে, ৩ টি-টুয়েন্টি
২০২১ ডিসেম্বর-২০২২ জানুয়ারিঃ ২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে

এমনিতে নাজমুল হাসান পাপন এতোগুলা সিরিজ নিশ্চিত করায় ধন্যবাদ পেতেই পারেন কিন্তু ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দশ বছর কোন ওয়ানডে/টি-টুয়েন্টি সিরিজ না থাকাটা বেদনাদায়ক। যেখানে শেষ দুটি হোম ওয়ানডে সিরিজেই নিউজিল্যান্ড “বাংলাওয়াশ” হয়েছিলো।

নিউজিল্যান্ডের সাথে এতো যখন সুসম্পর্ক তাহলে এফটিপি’র বাইরে অন্তত লিমিটেড ওভার সিরিজ আয়োজন করা হবে এই আশা করাই যায়।

Most Popular

To Top