নাগরিক কথা

কেউ কথা দিয়ে কথা রাখে না…


দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আন্দোলন দেখছিলাম, আর কথা বলছিলাম স্কুল-কলেজের কয়েকজনের সাথে। তাঁরা এসেছে টং-এ পানি খেতে। খাওয়ার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আজকে আন্দোলনের কি অবস্থা? তিন-চারজন একসাথে বললো, ভাই দাবি আদায় না হলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আগের আন্দোলন থেকে শিক্ষা পাইছি কেউ কথা দিয়ে কথা রাখে না।

আমি ফিরতি কইলাম, মানুষের কষ্টও তো হচ্ছে। একজন বললো, ভাই, কারো যদি মিনিমাম বিবেক থাকে তাইলে বুঝবে এইটা তাঁদের জন্যে, আমরা তো তাদেরই বাচ্চাকাচ্চা। আমি করুণ স্বরে কইলাম, জেগে থাকা মানুষরে ঘুম থেকে তুলবা ক্যামনে? এইবার সবাই মিলে আরো দৃঢ় স্বরে কইলো, আমরা সবাইরে জাগাবো। এই দৃঢ় স্বর অন্য জিনিস দিয়ে তৈরি, সামনা-সামনি শুনলে বুঝতে পারতেন। এই স্বরে ভেঙে গড়ার প্রত্যয় আছে।

আমিও পরে জিগাইলাম, তোমাদের তো জোর করে তুলে দিতে পারে! ছেলেগুলো বললো, ভাই আমাদের কোন নেতাও নাই, কমিটিও নাই। সহজে তুলে দিতে পারবে না। দাবি আদায় হইলেই রাজপথ ছাড়ব।

আন্দোলন চলছে এভাবেই। গাড়ি আটকালে যতটা নরমসুরে কথা বলা যায় ততটাই নরম সুরে কথা বলছে এই ছেলেপেলে। অসুস্থ কেউ থাকলে রিকশা দেখেও দিচ্ছে। সি এন জি ঠিক করে দিচ্ছে।

লাইসেন্স চেক করার জন্যে একজন পুলিশের বাইক আটকায়। ছাত্ররা সবাই জড়ো হয়ে যায়। একজন উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে ধাক্কা মেরে দিয়েছিল, পরে এই ছাত্ররাই এর প্রতিবাদ করছে, যে ধাক্কা মারছিল তারে বের করে দিছে।

রামপুরা ব্রিজে দেখলাম তিনটা পিচ্চি মেয়ে বাংলাদেশের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে, আর তাঁদের ছবি তুলে দিচ্ছেন একজন মা, হয়তোবা এই তিনজনেরই কারো মা বা অভিভাবক।


গতকাল বলছিলাম স্কুলের ছেলেপেলেগুলো যথেষ্ট ম্যাচিউরড। ওরা যখন বলছিল নেতা না থাকায় আন্দোলন জমছে ও টিকে আছে, মানে ওরা যখন এই ‘নেতৃত্ব’ বিষয়টাকে অস্বীকার করছে তখন আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। এরা যেভাবে পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাঠে কাজ করছে, মাইক-মঞ্চ-কমিটিকে অস্বীকার করছে সেটা রীতিমত বিস্ময়কর। আরো মজার বিষয় হচ্ছে এরা সবাইকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। সিএনজি ড্রাইভারকে আটকালে বলছে, ভাই আপনারও তো ছেলে আছে, আমরা তো আপনার ছেলের মতোই। পুলিশ/আর্মির লোকদের আটকালেও একই কথা বলছে, আমরা আপনাদেরই ছেলেপেলে। মানে, ওরা কাউকে বাদ দিয়ে আন্দোলন করছে না, বরং, সম্পর্কের অলিগলি ধরে এরা সবার অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করে তুলছে।


নিচের ছবিটা তুলেছি রামপুরা ব্রিজের উপর থেকে। মেঘে অন্ধকারচ্ছন্ন আকাশের নিচে এক কিশোর পতপত করে লাল-সবুজের পতাকা উড়াচ্ছে – প্রতীকী অর্থে এই ছবি আমাদের সব বলে দিচ্ছে। এই অন্ধকার সময়ে এই বাচ্চা-কাচ্চাগুলোই সবাইকে পথ দেখাচ্ছে। চিল্লাচ্ছে, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top