টাকা-কড়ি

বারবি- সামান্য খেলনা পুতুলের গণ্ডি ছাড়িয়ে পাগলামির রসদ!

বারবি পুতুলের কথা আমরা সবাই জানি। ছোট বাচ্চাদের একটি পছন্দের খেলার পুতুল। আজকের দিনে আমরা যেই বারবিকে দেখি তা কিন্তু শুরুতে মোটেও এমন ছিল না, সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ছিল। অনেক পরিবর্তনের পর আজকের এই রূপে এসেছে বারবি।

যেভাবে শুরু হলো “বারবি”

বারবি’র শুরুটা ছিল আজ থেকে ৫৯ বছর আগে। তখনকার সময়ে ছোট বাচ্চাদের খেলার পুতুলগুলো বাচ্চাদের আদলে বানানো হত। কিন্তু অনেকেই চাইতো বড় আদলে পুতুল বানিয়ে খেলার জন্য। বারবি’র প্রতিষ্ঠাতা রুথ হ্যান্ডলারের ছোট মেয়েটিও ছিল তেমনই। কাগজ দিয়ে বড়দের আদলে পুতুল বানিয়ে নিজের পছন্দ মত করে খেলত। সেই থেকেই বারবির ধারণা শুরু হয়।

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

১৯৫৬ সালে রুথ হ্যান্ডলার তার পরিবার সহ ইউরোপে ঘুরতে যান। ওখানে তিনি বড়দের আদলে এক ধরণের জার্মান পুতুল দেখতে পান। জার্মান পুতুল গুলো বিল্ড লিলি (Bild Lilli) নামে পরিচিত ছিল। যদিও বড়দের জন্য বানানো হলেও পুতুলগুলো ছোটদের মাঝেও সমান জনপ্রিয় ছিল। রুথ হ্যান্ডলার সেখান থেকে তিনটি পুতুল কিনে আনেন। একটি পুতুল তার মেয়েকে দেন। এর পর থেকেই তিনি বারবি তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করেন। যদিও তার এই প্রস্তাবকে প্রথমদিকে কেউ সাধুবাদ জানায়নি। সবাই ভেবেছিল যে তখনকার সমাজে বড়দের আদলে তৈরি এই পুতুল চলবে না।

১৯৪৫ সালে রুথ হ্যান্ডলার এর স্বামী এলিয়ট হ্যান্ডলার ও হ্যারল্ড “ম্যাট” ম্যাটসন মিলে যৌথভাবে Mattel Inc. গঠন করেন। পরবর্তীতে ম্যাটসন তার শেয়ার বিক্রি করে দিলে রুথ তা কিনে নেন। শুরুতে ছবির ফ্রেম, ডলহাউজে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে ম্যাটেল পুরোপুরি পুতুলের ব্যবসায় চলে যায়।

আরো পড়ুনঃ কে-পপ: ভালোবাসব না ঘৃণা করব?

যেমনটা আগেই বলা হয়েছে, ১৯৫৬ সালে দেশে ফেরার পর থেকেই রুথ হ্যান্ডলার বারবি বানানোর চিন্তা ভাবনা করছিলেন। ১৯৫৯ সালে ৯ নভেম্বর প্রথমবার নিউ ইয়র্কের “আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল টয় ফেয়ার”-এ বারবিকে জনসম্মুখে আনা হয়। বারবির জন্ম দিনও এটাই। রুথের মেয়ে বারবারা’র নামানুসারে নাম রাখা হয় বারবি। প্রথম বারবি পুতুলের পরনে ছিল সাদাকালো স্ট্রাইপের সুইমসুট। ৩ ডলারে বিক্রি হওয়া ঝুঁটি করা পুতুলের চুলের রঙ সোনালী ও হালকা বাদামী ছিল। প্রথম দিককার তৈরী হওয়া আমেরিকান এই বারবি কিন্তু মোটেও আমেরিকায় তৈরি হয়নি। আমেরিকায় শ্রমিক পারিশ্রমিক বেশি হওয়ায় জাপানে তৈরি হয় প্রথম দিককার বারবি পুতুলগুলো। প্রথম বারবি’র সকল পোশাকও হাতে সেলাই করে তৈরি ছিল। শুরুর বছরেই প্রায় ৩,৫০,০০০ বারবি বিক্রি হয়।

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

“বারবি” যেন শুধু একটি পুতুল নয়!

বারবি পুতুলটা পরবর্তীতে রূপ নেয় একটি মিডিয়া চরিত্রে। তাকে নিয়ে ১৯৬০ এর দশকে বের হয় একটা উপন্যাসের সিরিজ। সেখানে এই চরিত্রের পুরো নাম বারবারা মিলসেন্ট রবার্টস। বাবা মায়ের নাম যথাক্রমে জর্জ ও মার্গারেট রবার্টস। বারবি’র মোট ভাই-বোনের সংখ্যা ৭ জন। বারবি’র জন্মস্থান ধরা হয় কাল্পনিক শহর উইসকনসিনের উইলোসে। উইলোস হাইস্কুল ও ম্যানহাটন ইন্টারন্যাশনাল হাইস্কুল ইন নিউ ইয়র্ক সিটি’তে বারবি পড়ালেখা করেছে। এছাড়াও সে একজন টিনএজ মডেল। সাড়ে ১১ ইঞ্চি উচ্চতার পুতুলের পিছনে বারবারা মিলসেন্ট রবার্টস চরিত্রটির উচ্চতা ধরা হয় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। আর এই বারবি’র রয়েছে ৪০ টিরও বেশি পোষা প্রাণী- পান্ডা, কুকুর, ঘোড়া, তোতাপাখি সহ আরো অনেক। ১৯৬১ সাল থেকে বারবি’র বয়ফ্রেন্ড হচ্ছে “কেন”। যদিও ম্যাটেল প্রতিষ্ঠানের কথা অনুযায়ী ২০০৪ সালে তাদের ব্রেক আপ হয়ে যায়। পরবর্তীতে “টয় স্টোরি ৩” চলচ্চিত্রে তাদেরকে আবার ফিরে যেতে দেখা যায় তাদের পুরনো সম্পর্কে। প্রায় ১৫০ টিরও বেশি পেশার সাথে জড়িত বারবি। এর মধ্যে রয়েছে ডাক্তার, নভোচারী, ইঞ্জিনিয়ার, ফ্লাইট এটেন্ডেন্ট, র‍্যাপার সহ আরো অনেক কিছু।

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

বারবি আর কেন

বারবি নিয়ে যত বিতর্ক

শুরু থেকেই বারবির জনপ্রিয়তা ছিল তবে বিতর্ক এর পিছু ছাড়েনি কখনোই। বারবি জার্মান পুতুলের আদল থেকে তৈরি ছিল। তারই সূত্র ধরে ১৯৬১ সালে “লুইস মার্ক্স অ্যান্ড কোম্পানি” জার্মান পুতুলটির লাইলেন্স পাওয়ার পর ম্যাটেলের বিরুদ্ধে মামলা করে নকলের। ১৯৬৩ সালে এই মামলার নিষ্পত্তি হয় ও ১৯৬৪ সালে ম্যাটেল বিল্ড লিলি পুতুলের প্যাটেন্ট ২১,৬০০ ডলারে কিনে নেয়।

শুধু তাই নয়, বরং বারবির গঠনের জন্য নানা ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয় ম্যাটেলকে। সাড়ে ১১ ইঞ্চির বারবি’র মনুষ্য উচ্চতা হচ্ছে ৫ ফুট নয় ইঞ্চি। এছাড়াও বারবি’র শারীরিক গঠন হচ্ছে ৩৬-১৮-৩৩, এবং ওজন হচ্ছে ৩৫ পাউন্ডের কাছাকাছি। মানব শরীরের স্বাভাবিক গড়নের তুলনায় এটি পুরোপুরি অবাস্তব। ফিনল্যান্ডের হেলসিনকি’র ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল হসপিটালের গবেষকদের মতে বারবি’র শরীরে প্রায় ১৭-২২% এর মত বডি ফ্যাট, যা মেয়েদের পিরিয়ডের জন্য দরকারি, তা নেই। এইসকল কিছুর জন্য ম্যাটেলকে প্রচন্ড বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

অনেক ছোট বাচ্চারাই খেলার জন্য বারবিকে পছন্দ করে,আর যখন পছন্দের পুতুলের গঠন এরকম দেখে, অনেক বাচ্চারাই নিজেদেরকে এরকম শুকনো রাখতে চায় যা কিনা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৬৩ সালে বারবি’র একটি আউটফিটের সাথে সাথে একটি বই ও ওজন মাপার স্কেলও দেয়া হয়। বইটির নাম “How to Lose Weight” (কিভাবে ওজন কমাবেন) এবং তাতে একটিই পেজ যাতে লেখা “Don’t Eat”। এছাড়াও স্কেল ওজন ১১০ পাউন্ডে ঠিক করে দেওয়া। বাচ্চাদের উপর এর প্রভাবের কারণে ম্যাটেলের উপর আবার বিতর্কের তৈরি হয়।

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

বারবি’র দৈহিক গড়ন বনাম একজন গড়পড়তা মার্কিন তরুণীর দৈহিক গড়ন।

এছাড়াও ১৯৯২ সালে “টিন টক বারবি” (Teen Talk Barbie) নামে একটি বারবি বাজারে ছাড়া হয় যেখানে বোতাম টিপলে পুতুলগুলো কথা বলতো। কিন্তু সেখানেও বিতর্কের তৈরি হয় “Math class is tough!” কথার কারণে। পরবর্তীতে বাজার থেকে তা তুলে নেওয়া হয়। ২০১০ সালে বারবি’র মাঝে ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন করা হয় যা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভিডিও করতে সক্ষম ছিল। এই ফিচারটিকে শিশুদের নিরাপত্তার উপর হুমকি হিসেবে উপস্থাপিত হয়। বারবি’র গায়ে ট্যাটু লাগানো নিয়েও ছিল বিতর্ক। এছাড়াও শুরুতে বারবি তৈরিতে ভিনাইল ব্যবহার করা হয় যা স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ।

আরো পড়ুনঃ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পাহারা দেওয়া বাড়ি

ম্যাটেল একই গায়ের রঙেরই পুতুল  তৈরি করতো প্রথমদিকে। একারণেও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয় তাদেরকে। এই বিতর্কের থেকে বের হতে এশিয়ান, মেক্সিকান, হিসপ্যানিক, আফ্রিকান সহ নানা ধরনের বারবি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের আদলে যেমন বারবি তৈরি হয়েছে তেমনই নানা পেশার বারবি ও তৈরি হয়েছে। Stereotype হিসেবে বিভিন্ন দেশের বারবি তৈরি করার কারণে মুখোমুখি হতে হয়েছে বিতর্কের। নানা পেশার বারবি তৈরি করলেও বারবিকে সবসময় একজন ফ্যাশনিস্তা হিসেবেই দেখানো হয়েছে।

১৯৯৫ সালে সৌদি আরব থেকে ইসলামিক নিরাপত্তার দায়ে বারবিকে ব্যান করে দেওয়া হয়। বারবির পরিবর্তে সেখানে ফুলা নামে একই ধরনের পুতুল ছাড়া হয়। যদিও ফুলা পুতুলটি বারবি’র মত এত জনপ্রিয়তা পায়নি। ২০১৮ সালে এসে আমেরিকান এথেলেট ইবতিহাজ মুহাম্মদের আদলে হিজাব বারবি বাজারে ছাড়া হয়।

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

ইবতিহাজ মুহাম্মদের আদলে গড়া হিজাবী বারবি।

বারবি নিয়ে ব্যবসাপাতি

এই পর্যন্ত অনেকবার বারবি’র দেহের পরিবর্তন ঘটেছে। শুরুতে বারবি’র চোখ অন্য দিকে ছিল। পরে তা পরিবর্তন করে সরাসরি করে দেওয়া হয়। কোমড় আরো সরু করে আনা, পা লম্বা করা, আরো বেশি রিয়ালেস্টিক ও ন্যাচারল লুকও আনা হয় বারবি’র মাঝে। বিতর্কের ফলে পরবর্তীতে সরু বারবি’র সাথে সাথে প্লাস সাইজ বারবি বানানো হয়। এখন পর্যন্ত ১৭টি স্কিন কালার ও ২২ টি চোখের কালারের বারবি রয়েছে। শুধু পুতুল নয় বরং ডল হাউজ, বিভিন্ন এক্সেসরিজ, বই, কাপড়, কসমেটিক্স ইত্যাদির ক্ষেত্রে বারবি এগিয়ে আছে।

বারবিকে নিয়ে নানা ধরনের এনিমেশন, সিনেমা ও ভিডিও গেমস বানানো হয়েছে। বিভিন্ন বিখ্যাত ব্র্যান্ডও বারবি’র জন্য আলাদা ভাবে পোশাক তৈরি করেছে। এর মাঝে Givenchy, Gucci এগুলো উল্লেখযোগ্য। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ান গহনার ডিজাইনার স্টেফানো কান্টুরের সাথে মিলিত ভাবে তৈরি বারবিটি ৩,০২,৫০০ ডলার দামে বিক্রি হয়, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী বারবি থেকে ম্যাটেলের রেভিনিউ হচ্ছে ৯৫৪.৯ মিলিয়ন ডলার যা ২০১৬ সালের চেয়ে ২% কম। প্রতি ৩ সেকেন্ডে একটি করে বারবি বিক্রি হয়। এই পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়নের চেয়েও বেশি বারবি বিক্রি হয়েছে। তাইওয়ানে বারবি থিমের উপর ভিত্তি করে একটা রেস্টুরেন্টও আছে যেখানে সব খাবার বারবির মত করে বানানো হয়।

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

তাইওয়ানের বারবি-থিমড রেস্টুরেন্টে একজন ওয়েটার।

২০০০ এর আগ পর্যন্ত বারবি’র একচ্ছত্র অধিকার ছিল। ২০০১ সালে বাজারে এমজিএ এন্টারটেইনমেন্ট থেকে “ব্র্যাটজ” সিরিজের পুতুল বের করা হয়। সেবারই প্রথমবারের মত বারবি’র বিক্রি কমে যায়। ২০০৫ সালের মধ্যে আমেরিকায় ৩০% ও সারা পৃথিবীতে ১৮% বিক্রি কমে বারবি’র। ২০০৬ সালে ম্যাটেল ব্র্যাটজ নির্মাতা কার্টার ব্রায়ান্ট এর বিরুদ্ধের নকলের অভিযোগে মামলা করে। অভিযোগ আনা হয় যে কার্টার ব্রায়ান্ট ম্যাটেলে কাজ করার সময়ই বারবি থেকে ধারণা নিয়ে তার পুতুল বানান। ২০০৮ সালে  কার্টারের উপর আনা অভিযোগ সত্যি বলে প্রকাশিত হয়। ম্যাটেলকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়, এবং এমজিএ’র উপর নিষেধাজ্ঞা বসে ব্র্যাটজ বিক্রির ব্যাপারে। পরবর্তীতে আরো বেশ কয়েক বার ব্র্যাটজ এর মালিকানা নিয়ে কোর্টে যেতে হয়। এমজিএ পরবর্তীতে ব্র্যাটজ নাম বদলে “মোক্সি গার্লজ” বাজারে আনে।

নিঃসন্দেহে বারবি দেখতে সুন্দর। তবে এর পুরোটাই কৃত্রিম এবং অস্বাভাবিক। কিন্তু তাও কিছু মানুষ আছে যারা কিনা বারবি’র মত হতে চায়। এর জন্য ছুরি-কাঁচির নিচে যেতেও বাঁধেনি তাদের। এমনই একজন হল ইউক্রেনিয়ান মডেল ভ্যালেরিয়া লুকিয়ানোভা। বারবি’র প্রতি অবসেশন থেকেই তিনি একাধিক সার্জারি করিয়েছেন এবং মেকাপের সাহায্যে তিনি নিজেকে বারবি’র মত করে তুলতে চান। এছাড়াও লেসি ওয়াইল্ড নামের একজন রিয়েলিটি পার্সোলানিটিও বারবি’র প্রতি অবসেশন থেকে ১২ বার সার্জনের ছুরি-কাঁচির নিচে গিয়েছেন। এমনকি বারবি’র বয়ফ্রেন্ড কেনের আদলেও একজন আছেন। রদ্রিগো আলভেজ নামের এক লোক ৩,৭৩,০০০ ডলার খরচ করে কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন শুধুমাত্র কেনের মত করে নিজের বাহ্যিক রূপকে তৈরি করতে। জাস্টিন জেডলিকা নামের এক আমেরিকান ব্যবসায়ীও বেশ কয়েকবার প্লাস্টিক সার্জারি করেছেন যাতে তাকে কেনের মত লাগে দেখতে। একে বারবি অবসেশন ছাড়া আড় কী-ইবা বলা হয়?!

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

ভ্যালেরিয়া লুকিয়ানোভা

বারবি নিয়ন আলোয় neonaloy

সার্জারি’র আগে ও পরে রদ্রিগো আলভেজ

বারবি তার পথচলার শুরু থেকেই খেলনা পুতুলের জগতে একটি নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। বারবি নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও বারবি পুতুলকে অনেক রোলে বসানোর কারণে এই চরিত্রটি এখন একটি অনুপ্রেরণাই বটে। এছাড়াও এত জাতি, এত রং, এত ভিন্নতা, এত পেশা এই সবকিছু মিলিয়েই যে আমাদের জীবন তার প্রতিফলনও আমরা দেখতে পাই বারবিতে।

আরো পড়ুনঃ শুধু বারবি নয়, পাগলামি আছে বোটক্স নিয়েও!

Most Popular

To Top