ফ্লাডলাইট

চলছে বিশ্বকাপ, আর ছিটকে পড়ছে এসি মিলান!

এসি মিলান নিয়ন আলোয় neon aloy

গোটা বিশ্ব এখন বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায়। ফেসবুক, টুইটার থেকে চায়ের দোকান, সবখানে আলোচনার বিষয় একটাই- সেমিফাইনালে জিতবে কোন দল, কার হাতে উঠতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইত্যাদি। তবে, ফ্যানদের চিন্তিত থাকতেই হচ্ছে, কারণ একের পর এক ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, একের পর এক তারকা নির্ভর হট ফেভারিট দল বাদ পড়ে যাচ্ছে, দলীয় শক্তিতে পরাস্ত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত পুঁচকে দলের কাছে।

বিশ্বকাপে চলতে থাকা এই দুর্ঘটনা, বিজয়ের উল্লাস কিংবা পরাজয়ের বেদনায় যখন চারিদিকে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে, ঠিক এমন সময়ই সবার অগোচরে ফুটবল দুনিয়াতে ঘটে যাচ্ছে আরেকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা! বিশ্বকাপে নয়, এই দুর্ঘটনাটা ঘটলো লিগভিত্তিক ফুটবলে।

সকল ধরনের উয়েফা কম্পিটিশন থেকে বাদ পড়লো সাত বারের ইউরোপিয়ান কাপজয়ী রেড অ্যান্ড ব্লাকস খ্যাত ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলান। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ এই দুই মৌসুমের জন্য এসি মিলানের উপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বয়ং উয়েফা।

এসি মিলান নিয়ন আলোয় neon aloy

মূলত, ‘ব্রেক-ইভেন’র মতো আবশ্যিক শর্ত না মানায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ‘ব্রেক-ইভেন’ হল উয়েফা ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে রেগুলেশনের একটি শর্ত। দীর্ঘ মেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দা থেকে ইউরোপের ক্লাবগুলোকে রক্ষা করতেই ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোল প্যানেলের নেতৃত্বে এই ফেয়ার প্লে রেগুলেশন কার্যকর করা হয়, যা এফএফপি নামে পরিচিত। এফএফপি’র নিয়ম অনুসারে, কোন টিম তার বাৎসরিক মোট আয়ের চেয়ে সর্বোচ্চ ৫% বেশি খরচ করতে পারবে (সর্বোচ্চ তিন মৌসুমের জন্য)। কিন্তু উয়েফার দাবি, ১৮ বারের ‘সিরি এ’ জয়ী ক্লাব এসি মিলান কয়েক বছর ধরে বাৎসরিক আয়ের থেকে ১৫% বেশি ব্যয় করছে, যা ‘ব্রেক-ইভেন’ শর্তের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, ফেলে আসা দশ বছরে (২০০৫-১৫) প্রায় ৫০৪ মিলিয়ন ইউএস ডলারের মতো লোকসান করে। ফলশ্রুতিতে মালিকানা বদল হয়। ৩১ বছর পরে ৭৪০ মিলিয়ন ইউরোর বদৌলতে এসি মিলানের দায়িত্ব নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তর করেন সাবেক মালিক ইতালির সাবেক প্রধান মন্ত্রী সিলভিয়ো বেরুলোস্কনি। নতুন মালিক হন চাইনিজ ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা লি ইয়ংহং।

এসি মিলান নিয়ন আলোয় neon aloy

লিয়ের আগমনের পরেই দলে পরিবর্তন আসে। দলের ম্যানেজার জেনারো গাত্তুসো নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন দলের সাথে। দলে আর যোগ দেয় নতুন কিছু মুখ। সামারের শুরুতে জুভেন্টাস থেকে ৩৫.১ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে দলে আনা হয় লিওনার্দো বোনুচিকে।

এসি মিলান নিয়ন আলোয় neon aloy

৩৩.৬ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে এফসি পোর্তো থেকে দলে আসেন আন্দ্রে সিলভা। ২০০২ সালের পর এই প্রথম এসি মিলান নবাগত খেলোয়াড়ের জন্য ৩০ মিলিয়নের সীমারেখা অতিক্রম করলো। আর এ সময়েই অভিযোগ নিয়ে হাজির হয় উয়েফার ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোল প্যানেল। তাদের দাবি, ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে রেগুলেশন না মেনে এসি মিলান গত বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়নের মতো ব্যয় করেছে খেলোয়াড় বেচাকেনার কাজে। ক্লাবের অর্থনৈতিক দুরবস্থাই দুশ্চিন্তার মূল কারণ বলে জানিয়েছে উয়েফা। এবং পরিশেষে এ শাস্তি এসি মিলানের জন্য কল্যাণকর হবে বলেই দাবি উয়েফার।

এসি মিলান নিয়ন আলোয় neon aloy

উল্লেখ্য, দুই মৌসুমের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও এ শাস্তি বহাল থাকলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ইউরোপা লিগের নিয়ম অনুসারে টুর্নামেন্টে ফিরতে প্রায় তিন মৌসুমের অধিক সময় অপেক্ষা করতে হবে রিয়াল মাদ্রিদের পরেই সর্বাধিকবার ইউরোপিয়ান কাপ জেতা দল এসি মিলানকে।

এসি মিলান এ শাস্তি বিষয়ে সামাজিক মাধ্যম টুইটারে একটি অফিশিয়াল ভিডিওতে তাদের মতামত তুলে ধরেন। ক্লাবের মতে, তারা সঠিক তথ্যের আলোকে এবং পক্ষপাতহীন বিচারে বিশ্বাসী। নতুন খেলোয়াড়দের প্রতিভাকে উন্মোচন করার জন্য, তাদের শারীরিক-মানসিক ভাবে গড়ে তোলাটাই ক্লাবের অর্থ ব্যয়ের প্রধান খাত। খুব দ্রুতই ক্লাব থেকে নারী খেলোয়াড়দের দলও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাবে। ক্লাব নিজেদের ভুলভ্রান্তির দরুন যে কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি এবং উয়েফা কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নিবে। শুধু উয়েফা সবার জন্য একই দৃষ্টিতে বিচার করবে এবং সঠিক যুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে রায় দিবে এটাই তাদের একমাত্র কামনা।

দ্রষ্টব্য, এ বছর ‘সিরি এ’তে ষষ্ঠ স্থানে থেকে লিগ শেষ করে ইউরোপা কাপে নিজেদের স্থান করে নেয় পাঁচ বারের সুপার কাপ জেতা এসি মিলান। দুই বছরের এ নিষেধাজ্ঞায় খুব খুশি হবে না হয়তো ফুটবলাররা। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই হয়তো দল ছাড়তে চাইবেন।

উয়েফা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করে, চাইলে এ শাস্তির বিরুদ্ধে এসি মিলান সালিশী আদালতে ব্যবস্থা নিতে পারে, প্রয়োজনে আবার তদন্ত করা হবে। সবশেষে, সকল বিষয় বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করা হবে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয় উয়েফা কর্তৃপক্ষ।   

Most Popular

To Top