ফ্লাডলাইট

রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ১৬ দলের কার কি দুর্বলতা?

বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব। মহারথীরা মাঠে নামছে তাদের এবং দলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে। আসুন, এক নজরে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেই রাউন্ড অফ সিক্সটিনে কোয়ালিফাই করা দলগুলোর শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার জায়গাগুলোতে।

গ্রুপ- এ

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম- উরুগুয়ে।

ডাকনাম- চারুস।

র্যাংকিং- ১৭

কোচ- অস্কার তাবারেজ।

স্টার প্লেয়ার- লুইস সুয়ারেজ।

শক্তির জায়গা- উরুগুয়ের শক্তির জায়গা হল ফরোয়ার্ড লাইন। কাভানি, সুয়ারেজ প্রস্তুত বিপক্ষ দলের ডিফেন্স গুঁড়িয়ে দিতে। সুয়ারেজের ফর্ম দলে শক্তি যোগাচ্ছে। গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে ১টি গোলও হজম করেনি তারা।  ফলে ক্ষুরধার এটাকের সাথে সলিড ডিফেন্স নিয়েই নামছে তারা।

দুর্বলতা- দুর্বলতা বলতে বাম পাশের মিডফিল্ডার রদ্রিগেজ। ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের ধীর খেলা ফুল ব্যাক মার্তিনেজকে উন্মুক্ত করে দেয়। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় ডিফেন্স লাইনকে। এছাড়াও দলের মধ্যভাগ যেন ফাঁকাই থাকে। বল বিল্ডআপে মিডফিল্ডারদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

রানার্সআপ দলের নাম- রাশিয়া

ডাকনাম- সোবরনায়া

র্যাংকিং- ৬৬

কোচ- স্টেইনিসাব চারডিসোভ।

স্টার প্লেয়ার- ইগোর আকিনফিভ।

শক্তির জায়গা- দলে রয়েছে কিছু দ্রুতগামী প্লেয়ার। নতুনদের নিয়ে গড়া দলে সবার ফর্ম মোটামুটি সন্তোষজনক। দলের স্ট্রাইকার চেরিসেভও ফর্মে আছেন। দলে বক্স টু বক্স খেলা প্লেয়ার থাকার সুবাদে ভুগতে হচ্ছে  প্রতিপক্ষকে। আর হোস্ট হওয়ার সুবিধা তো থাকছেই।

দুর্বলতা- নতুন দল। এছাড়া বড় টুর্নামেন্টে বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে দল অনভিজ্ঞ। উরুগুয়ের সাথে তাদের ভুলগুলো চোখে পড়ার মতন। ডিফেন্স লাইনআপ দলকে সমস্যায় ফেলবে। ইন্জুরিতে থাকা কোকারিনের জন্য হয়ত আফসোসই করতে হবে তাদের। তবে তাদের উইং ব্যাক বেশী বয়সী এবং ফুলব্যাক অভিজ্ঞতাহীন এবং কমবয়সী। ফলে তা দলের খেলায় প্রভাব ফেলবে।

গ্রুপ- বি

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম-স্পেন

ডাকনাম- দি ফুরিয়া রোযা।

র্যাংকিং-

কোচ- ফার্নানদো হিয়েরো।

স্টার প্লেয়ার- ডেভিড সিলভা।

শক্তির জায়গা- এবারের বিশ্বকাপের সেরা স্কোয়াডের একটি হল স্পেনের। ডিফেন্সে সার্জিও রামোস,জেরার্ড পিকে, মিডফিল্ডে ইনিয়েস্তা, ডেভিড সিলভা, এসেনসিও, ইস্কো যেকোন দলকে চ্যালেন্জ দিতে প্রস্তুত।

দুর্বলতা- দলে মোটামুটি ফিনিশারের অভাব। দলের মিডফিল্ডে ভুলগুলো চোখে পড়ার মতন। মাঝে মাঝে প্রেসিং ফুটবলে দল দিশেহারা হয়ে পড়ছে। ডেভিড ভিয়া ও দিয়াগো কস্তার মিডফিল্ডের সাথে ক্যামেস্ট্রির অভাবে ভুগতে হচ্ছে তাদের। বিশ্বকাপের আগ মূহুর্তে কোচ ছাটাই দলকে চাপে রাখছে। এছাড়া গোলবারে ডি হিয়ার অবস্থানও নড়বড়ে।

রানার্সআপ দলের নাম- পর্তুগাল।

ডাকনাম- সেলেসাও ডস কুইনোস।

র্যাংকিং- 

কোচ- ফার্নান্দো সন্তোস।

স্টার প্লেয়ার- ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

শক্তির জায়গা- রোনালদো দলের কেন্দ্রবিন্দু। প্রথম ম্যাচে হ্যাট্রিকসহ ঝুলিতে রয়েছে তার ৪টি গোল। আরেক ফরোয়ার্ড কোরেজমাও রয়েছে ফর্মে। ফলে শক্তিশালী এটাকের জানান দিচ্ছে তারা। এছাড়া বার্গাস সিলভা,আন্দ্রে সিলভা, মার্তিনেজ এর সমন্বয়ে গড়া দল তাক লাগিয়ে দিতে প্রস্তুত।

দুর্বলতা- রোনালদোর ওপর অতি নির্ভরশীলতা দলকে ভোগাচ্ছে। প্লেয়ার মার্কিং-এ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। ইরানের সাথে খেলায় তা চোখে পড়ার মতন। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে একমাত্র ভরসা পেপে, তবে সেও বয়সী। বাকি দুই ডিফেন্ডার ব্রুনো আলভেজ, জোসে ফন্তের অফ ফর্ম দলকে সমস্যায় ফেলছে।

গ্রুপ সি

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম- ফ্রান্স

ডাকনাম- লেস ব্লুস।

র্যাংকিং-

কোচ- দিদিয়ের দেশম।

স্টার প্লেয়ার- অ্যান্তোনিও গ্রিজমান।

শক্তির জায়গা- মার্শাল, লাপেত্তি দলে না থাকলেও গ্রিজম্যান, এম্বাপ্পে, জিরু, পগবার র মত স্টারের সমন্বয়ে গড়া দল। দলের তারকা পগবা, এম্বাপ্পে, গ্রিজম্যানের অসাধারণ ফর্ম দলের এটাক লাইন যেন অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।

দুর্বলতা- যদিও দল গ্রুপ চাম্পিয়ন, তবুও দলের খেলায় কিছুটা ঘাটতি আছে। নতুন দল। কমবয়সের সাথে অভিজ্ঞতার অভাবও রয়েছে দলে। বড় দলগুলোরর সাথে গা বাচিয়ে জয় যেন তারই প্রমাণ, যা ভোগাবে দলকে। তাদের ফুলব্যাক সিডিবি আর বেনজামিন মেনডির ইন্জুরি থেকে সদ্য ফেরা ফ্যান এবং কোচ উভয়কেই চিন্তায় রেখেছে।

রানার্সআপ দলের নাম-ডেনমার্ক

ডাকনাম- ড্যানিশ ডাইনামাইট।

র্যাংকিং-১২

কোচ- এজি হ্যারিয়ার্ড।

স্টার প্লেয়ার- ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন।

শক্তির জায়গা- দলে আছে ইউরোপের অন্যতম সেরা প্লেমেকার এরিকসন। আর বাম প্রান্তে সিসিতে দলের দূর্দান্ত পারফর্মেন্সে হাওয়া দিচ্ছে। দলের ডিফেন্স লাইনআপও মোটামুটি সন্তোষজনক। ভেসতারগার্ড, কাজাইন, কনুডসেন প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের ভালই পরীক্ষা নিচ্ছে ।

দুর্বলতা- মিডফিল্ডে বলের দখলে দল পিছিয়ে আছে। এছাড়া দলে ফিনিশারের অভাবও চোখে পড়ার মতন। ডিফেন্সিভ মিডে কোচের পছন্দ উইলিয়াম কিভেস্ট ক্লাবেও নিয়মিত নয়, ফলে খেলায় গ্যাপ সৃষ্টি হচ্ছে। মিডে দলের নড়বড়ে অবস্থান চিন্তার বিষয়।

গ্রুপ- ডি

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম- ক্রোয়েশিয়া

ডাকনাম- ভেটরানি(দি ব্লেজারস)

র্যাংকিং-১৮

কোচ- জলাতকো দালিচ

স্টার প্লেয়ার- লুকা মড্রিচ

শক্তির জায়গা- দলের সব প্লেয়ার যেন সব উজাড় করে দিয়ে খেলছেন। মিডফিল্ডে লুকা মড্রিচ, ইভান রাকিটিচের মত প্লেয়ার রয়েছে দলে ফলে বল পেতে প্রতিপক্ষকে ঘাম ঝরাতেই হচ্ছে। শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং প্রেসিং ফুটবলে দল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

দুর্বলতা- ডিফেন্স তাদের সমস্যার জায়গা। করলুকার ইন্জুরীতে লোভরেনের সঙ্গী অনভিজ্ঞ ভিদা। ফলে দলের ডিফেন্স নড়বড়ে। শক্তিশালী মিডের কারনে ফরোয়ার্ড লাইনের ব্যর্থতা কাটলেও এ সমস্যা দলকে ভোগাবে।

রানার্সআপ দলের নাম- আর্জেন্টিনা

ডাকনাম- লা আলবিসেলেস্তে।

র্যাংকিং-

কোচ- জর্জ স্যাম্পাউলি।

স্টার প্লেয়ার- লিওনেল মেসি।

 

শক্তির জায়গা- মেসির প্রশংসা বলে শেষ করা যাবে না। যার সাথে রয়েছে ডি মারিয়া, আগুয়েরো, ডিবালার মত বিশ্বসেরা প্লেয়ার। যা প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। এছাড়াও মাশ্চেরানো, ওটামেন্ডির মত ডিফেন্সম্যান তো আছেই।

দুর্বলতা- অতিরিক্ত মেসি নির্ভরশীলতা দলের প্রধান সমস্যা। মেসি মার্কিং খেলায় ভুগতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও রয়েছে অপরিপক্ক মিডফিল্ড।  আগুয়েরো, হিগুয়েন যেন গোল করার চেয়ে মিসই বেশি করছেন। ওটামেন্ডি ও ফাজিও’র মধ্যে বোঝাপড়া তেমন সুবিধার না। তবে গোলকিপারও ভোগাবে দলকে। রোমারিও ইন্জুরিতে, আর জাতীয় দলের হয়ে নতুন গোলকিপার খেলছেন মাত্র ১০টি ম্যাচ। এছাড়া কোচের সাথে প্লেয়ারদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চাপে রাখছে দলকে।

গ্রুপ-ই

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম- ব্রাজিল

ডাকনাম- সেলেসাও

র্যাংকিং- 

কোচ- তিতে

স্টার প্লেয়ার- নেইমার

শক্তির জায়গা- নেইমার রয়েছে ফর্মে।  এছাড়া কৌতিনহোর চোখ ধাঁধাঁনো খেলা চোখে পড়ার মতন। ডিফেন্স লাইনে সিলভা, মার্সেলো, মিরান্ডার মত বিশ্বসেরা ডিফেন্সম্যান রয়েছে। মোটকথায় অসাধারণ টিম নিয়েই মাঠে নামছে ব্রাজিল। যা প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম করে দিতে প্রস্তুত।

দুর্বলতা- দানি আলভেজের ইন্জুরী দলে প্রভাব সৃষ্টি করছে। ডিফেন্সে কিছু ভুল চোখে পড়ার মতন। নেইমারও সদ্য ইন্জুরি থেকে ফেরা। হয়তো ১০০% ফিটও না। যা তার ম্যাচের পারফর্মেন্সে প্রভাব ফেলছে। সাথে যোগ হয়েছে মার্সেলো, দিয়েগো কস্তা’র ইনজুরি।

রানার্সআপ দলের নাম- সুইজারল্যান্ড

ডাকনাম- রোসোক্রোসিয়াতি

র্যাংকিং-

কোচ-ভ্লাদিমির পেটকোভিচ

স্টার প্লেয়ার- গ্রানিত শাকা

শক্তির জায়গা- কোচ ভ্লাদিমিরের বদৌলতে দলের ক্যামিস্ট্রি সুন্দর। একে অপরের জন্য কাজ করছে। শাকা, শাকিরির অনবদ্য ফর্মে গ্রুপ পর্বে কোন ম্যাচ হারেনি তারা। মিডফিল্ড ও এ্যাটাক লাইনআপ ভালো পরীক্ষা নিবে প্রতিপক্ষের।

দুর্বলতা- স্ট্রাইকার সেভারভিচের অফফর্মে গোলের সুযোগ মিস হচ্ছে তাদের। সাথে ডিফেন্স তাদের চিন্তায় রেখেছে। গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে ৪ গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। কোন ম্যাচে না হারলেও ডিফেন্সে তাদের দুর্বলতা চোখে পড়ার মতন।

গ্রুপ-এফ

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম-সুইডেন

ডাকনাম- ব্লাগাল্ট

র্যাংকিং-২৩

কোচ- জান্নি এনডারসান

স্টার প্লেয়ার- এমিলি ফসবার্গ

শক্তির জায়গা- এনডারসনের কোচিং-এ দল ভালোভাবেই চলছে। আর ফোসবার্গের আগ্রাসী ভূমিকা দলের পারফর্মেন্সে হাওয়া দিচ্ছে। দলের শক্তির জায়গা মিডফিল্ড। যেখানে প্রত্যেকের অনবদ্য পারফর্মেন্স দলকে এগিয়ে রাখছে।

দুর্বলতা- ফ্রন্ট লাইন চিন্তার কারণ। দলের স্ট্রাইকার মার্কস বার্গ খেলেন ইউনাইটেড আরব আমিরাতে, তিনিও ফর্মহীন। গোল করায় স্ট্রাইকারদের থেকে ডিফেন্ডাররা এগিয়ে। ১০ জনের জার্মানির সাথেও স্ট্রাইকারদের গোল করার ব্যর্থতা দেখিয়ে দিচ্ছে ফরোয়ার্ড লাইন কতটা দূর্বল।

রানার্সআপ দলের নাম- মেক্সিকো

ডাকনাম- এল ট্রাইকলার

র্যাংকিং- ১৫

কোচ- জুয়ান কার্লোস ওসোরিও

স্টার প্লেয়ার- জাভিয়ার হার্নানদেস

শক্তির জায়গা- জাভিয়ার হার্নানদেস দলের কেন্দ্র বিন্দু। ওচোয়ার প্রশংসা করতেই হবে। তবে উইঙ্গার লজানো প্রতিপক্ষের আরও বড় মাথা ব্যাথার কারণ। জার্মানিকে ১-০ তে হারিয়ে দেওয়া থেকেই বোঝা যায় দলটি কতটা পরিপক্ক।

দুর্বলতা- ডিফেন্স লাইনে কিছুটা সমস্যা রয়েছে দলের।  শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ৩-০ ব্যবধানে হার দলকে পিছিয়েই রাখবে। দলে কেমেস্ট্রির অভাব রয়েছে কিছুটা। হেক্টর হেরেইরা ডিফেন্স লাইনে মিডের মাঝে কখনও কখনও জায়গা বেশি দিয়ে ফেলেন, ফলে একরকম সমস্যাতেই পড়তে হচ্ছে দলকে।

গ্রুপ জি

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম- বেলজিয়াম

ডাকনাম- লেস ভায়াব্লেস রউগস।

র্যাংকিং-

কোচ- রবার্তো মার্তিনেজ

স্টার প্লেয়ার- ইডেন হ্যাজার্ড

শক্তির জায়গা- বিশ্বকাপের কমপ্লিট স্কোয়াডের মধ্যে বেলজিয়াম একটি। হ্যাজার্ড তার কারিশমা দেখিয়েই যাচ্ছে, আর লুকাকুর ফিনিশের কথা না-ইবা বললাম। শক্তিশালী এটাক ও ডিফেন্স লাইনআপ দলের ভালো পার্ফমেন্সের আশা যোগাচ্ছে।

দুর্বলতা- দলের তেমন দুর্বলতা নেই। তবে মার্তিনেজের ট্যাকটিসের সমালোচনা নভেম্বর থেকেই হয়ে আসছে। যার জন্য ভুগতে হতে পারে দলকে। দলে অভিজ্ঞ প্লেয়ার থাকলেও উচ্চ পর্বে খেলার অভিজ্ঞতার অভাব হয়ত দলকে ভোগাবে।

রানার্সআপ দলের নাম- ইংল্যান্ড

ডাকনাম- দি থ্রি লায়ন্স

র্যাংকিং- ১৩

কোচ- গ্যারেথ সাউথগেট

স্টার প্লেয়ার- হ্যারি কেন

শক্তির জায়গা- অধিনায়ক হ্যারি কেন অসাধারণ ফর্মে আছেন। এছাড়া লিনগার্ড, স্টোনসদের পার্ফমেন্স তাদের তুলেছে ফেভারিটদের খাতায়।

দুর্বলতা- ডিফেন্স লাইনআপ সুবিধার না দলের। দলে রয়েছে অধারাবাহিকতা এবং বোঝাপড়ার অভাব। যা চিন্তায় রেখেছে কোচ সাউথগেটকে।

গ্রুপ- এইচ

চ্যাম্পিয়ন দলের নাম- কলম্বিয়া

ডাকনাম- লস ক্যাফেটেরস

র্যাংকিং- ১৬

কোচ- হোসে পেকারম্যান

স্টার প্লেয়ার- হামেস রদ্রিগেজ

শক্তির জায়গা- দলের প্রাণ ভোমরা ফ্যালকাও ও রদ্রিগেজ ভালো ফর্মে আছেন। দলের শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং বল ধরে খেলার প্রবণতার ফলে দল ভালো কিছু করবে বলে আশাবাদী।

দুর্বলতা- ডিফেন্স লাইনআপে সমস্যা রয়েছে দলের। তাদের মধ্যে রয়েছে বোঝাপড়ার অভাব। প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে হার তা ভালোভাবেই দেখিয়েছে। গোলকিপার ডেভিড ওসপিনা আর্সেনালে নিয়মিত না এবং জাতীয় দলেও কিছু বড় ভুল চোখে পড়ার মত। যা দলকে ভোগাচ্ছে। তবে এই মুহুর্তে তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় গত আসরের গোল্ডেন বুট বিজয়ী হামেস রদ্রিগেজের ইনজুরী, যা অনিশ্চিত করে দিয়েছে নকআউট পর্বে তার মাঠে নামা।

রানার্সআপ দলের নাম- জাপান

ডাকনাম- সামুরাই ব্লুজ

র্যাংকিং- ৬০

কোচ- আকিরা নিশিনো

স্টার প্লেয়ার- মায়া ইউশিদা

শক্তির জায়গা- হাই প্রোফাইল তিনজন খেলোয়াড় হোনডা, কাগাওয়া, ওকাজাকি’র ফর্ম ভালোই। স্ট্রাইকাররাও গোল পাচ্ছে। নিজেদের মধ্যে ক্যামেস্ট্রিও ভালো। মোটামুটি দলগত পারফমেন্স ভালো খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দুর্বলতা- নিশিনোর ৩-৪-২-১ ফর্মেশন জাপান লীগে ভালো কাজ করলেও জাতীয় দল তা পুরোপুরি শিখে উঠতে পারেনি। ফলে দলে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ডিফেন্স লাইনে অধারাবাহিকতা চোখে পড়ার মতন। ফলে দল চাপেই থাকবে ।

চড়াই-উৎরাই এ পার হল প্রথম পর্ব। ইতিমধ্যে বাড়ির টিকিট কেটেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। আরও কি চমক নিয়ে অপেক্ষা করছে দ্বিতীয়পর্ব, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Most Popular

To Top