ফ্লাডলাইট

এবার কি অন্তত নিজেদের প্রাপ্যটা বুঝে পাবেন আমাদের বাঘিনীরা?

শামীমা সুলতানা, আয়েশা রহমান, ফারজানা হক, সানজিদা ইসলাম, ফাহিমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা, রুমানা আহমেদ, সালমা খাতুন, খাদিজাতুল কুবরা, নাহিদা আক্তার।

নামগুলা মনে রাখেন। এই নামগুলাই ইতিহাস তৈরি করলো আজকে। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক ট্রফি এনে দিয়েছে এই মেয়েগুলো। এদের কারণে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন রুপে বাংলাদেশ।

মনে আছে একটা সময় জাহানারাকে কি বলতো? ছোট খাটো এড বা কোনো ছোট খাটো ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে জাহানারাকে দেখার পর আমরা অতি আবেগী বাঙালীরা কত কথাই না বলেছি- “খেলার নাম নাই মডেলিংয়ে নেমেছে… টাকার পিছনে সবাই দৌড়ায়… এন্ড ব্লা ব্লা ব্লা…” সেই জাহানারা আজকে ২ বা ১ রানের হারের আক্ষেপ মিটালো। বরাবরই ছেলেরা ফাইনালে ২/১ রানে হেরে আসে না? আজকেও এমনটা হতে পারতো।

প্রত্যেকটা মেয়ে আজকে ভালো খেলেছে। যেমন ব্যাটিং-বোলিং, তেমনি ফিল্ডিং। তা না হলে কি টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে বধ করতে পারে?

ভালো কথা, মেয়েদের জয়ে তো খুব খুশি আমরা, তাই না? টিভিতে অলরেডি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি শুভেচ্ছা বানী দিয়ে দিয়েছে হয়তো। বোর্ড প্রেসিডেন্ট খুব করে ব্রিফিং দিচ্ছেন হয়তো। কত সুন্দর দৃশ্য! কিন্তু এসব নারী ক্রিকেটারদের জীবনে এতো সুন্দর দৃশ্য নাই।

ছেলেরা কি পরিমাণ ম্যাচ ফি পান তা সবার জানা আছে। মেয়েরা হয়তো বেশি হলে হাজার টাকা ম্যাচ ফি পান। কয়েকদিন পর পর পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতনবৃদ্ধি বা পরিবর্তনের খবর শুনি, কই মেয়েদের বেলায় শুনি না কেন?  আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে বৈষম্য এতো বেশি যে একজন নারী ক্রিকেটারের ব্যাট চুরি হয়ে গেলে নতুন ব্যাট কেনার টাকা থাকে না। তারা না পায় কোনো সুযোগ সুবিধা, না পায় পর্যাপ্ত ম্যাচ ফি, অনেক সময় তো প্রাপ্য বেতনটাও পায় না।

এই দলটা আজকে আমাদের আন্তর্জাতিক ট্রফি এনে দিয়েছে। মাত্র ১১ বছর, আই রিপিট মাত্র ১১ বছরের মধ্যে মেয়েরা প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি এনে দিলো সেইখানে ছেলেরা কি করলো? এতো সুযোগ সুবিধার মধ্যে থেকেও? না একটা ট্রফি এনে দেওয়ায় যে নারীবাদী আন্দোলন শুরু করে দিচ্ছি তা না। ছেলেরা আন্তর্জাতিক ট্রফি না আনুক, অনেক বড় বড় অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ কে চিনিয়েছে। তাদের অবদান অস্বীকার করার মতো না।

শুধু এটা বলতে চাই ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেটা আমাদের রক্তে মিশে আছে, আমাদের অনুভূতি। তবে অনুভুতিতে বৈষম্য কেন? কেন মেয়েরা এতো পিছিয়ে থাকবে? মেয়েরা ও ছেলেদের মতো সব রকম সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। শুধু বোর্ডের টনক নড়ার অপেক্ষায়। দেখা যাক বিসিবির টনক নড়ে কিনা, না হয় অকালে নারী প্লেয়াররা হারিয়ে যাবে।

তবে মহিলা দলের সভাপতি শফিউল আলম চৌধুরী, কোচ অঞ্জু জৈন এবং ম্যানেজমেন্টের সবাই প্রশংসার যোগ্য। বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া নতুন ম্যানেজমেন্টের অবদান এটা। প্রায় ভেঙ্গে যাওয়া নারী দলকে নতুন রুপ দিয়েছে তারা। ধন্যবাদ তাদেরকে।

এই জয়ে ক্রিকেটীয় বৈষম্যের অবসান হবে আশা করি। নারী ক্রিকেট আরও অগ্রগতি লাভ করুক। শুভ কামনা বাংলার বাঘিনীদের জন্য।

ঐতিহাসিক এই ফাইনালের মুহুর্তগুলো দেখুন এখানেই!

Most Popular

To Top