ফ্লাডলাইট

আসন্ন বিশ্বকাপ এবং ডার্ক হর্সেস (পর্ব- ২)  

[প্রথম পর্ব]

আসন্ন বিশ্বকাপে কে হতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন? পূর্বের কেউ নাকি নতুন কোন পরাশক্তি? নতুন পরাশক্তি হবার সম্ভাব্য তালিকায় আছেন কারা? কারা এই একুশতম বিশ্বকাপ ফুটবলের ডার্ক হর্স? পূর্বেই বলা হয়েছে বেলজিয়াম, কলোম্বিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার কথা। আজ আলোচনা হবে বাকি ডার্ক হর্সদের নিয়ে।

১. ইংল্যান্ড

তারুণ্যে পরিপূর্ণ একটি দল। দলে অভিজ্ঞতার চেয়ে ফর্মকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং সবাই ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা পার করছেন। সদ্য শেষ হওয়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ২৪ গোল করে গোল্ডেন বুট প্রত্যাশী অধিনায়ক হ্যারি কেইন আছেন আক্রমণে। তাকে সঙ্গ দিবে মার্কাস রাসফোর্ড, রাহিম স্টারলিং, ড্যানি ওয়েলব্যাক, জিম ভার্ডির মতো দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্ট্রাইকাররা। মধ্যভাগে আছেন এরিক ডায়ার, দেলে আলি, জর্ডান হেন্ডারসন, জেসে লিঙ্গারড এবং রুবেন লোফটাস-চিকের মতো ফর্মে থাকা খেলোয়াড়। রক্ষণভাগও কম নয়, আছেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার, কাইল ওয়াকার, অ্যাশলে ইয়াংয়ের মতো তারকারা। এমন লাইনআপ যে কোন প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে এবং যে কোন সময় যে কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দেয়াও এই দলের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়।

 

প্রিমিয়ার লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন থাকবেন ইংলিশ আক্রমণের কাণ্ডারি হয়ে

বেলজিয়াম, তিউনিসিয়া এবং পানামার সাথে থাকা গ্রুপ জি ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন কোন বাধা হওয়ার কথা নয়। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে দেখা হবে কলোম্বিয়া, সেনেগাল কিংবা পোল্যান্ডের সাথে। খুব সহজ না হলেও দল বিবেচনায় এ পরীক্ষায়ও ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকবে। তারুণ্যভরা এই দল আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হলে আর তাদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না কোন দলই।

আবার নতুন করে লেখা হবে ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস, ফিরে আসবে সোনালি অতীত, এ আশায় বুক বেঁধে আছে হাজারো ইংরেজ। সে স্বপ্ন কতোটা পূরণ করতে পারে হ্যারি কেইনরা, তা-ই দেখার বিষয়।

২. মিসর

কিছুদিন আগেই সমাপ্ত হল ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ। অসাধারণ একটি মৌসুম পার করলেন লিভারপুলের মিসরীয় উইঙ্গার মোহাম্মাদ সালাহ। লিগে ২৪ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় হ্যারি কেনের পাশাপাশি অবস্থান করছেন। চমৎকার সময় কাটিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্সলিগেও, সর্বমোট গোল করেছেন ৩৩টি। তিনিই কঙ্গোর বিরুদ্ধে ৯৪ মিনিটে পেনাল্টিতে অসাধারণ এক গোল করে ২৮ বছর পর মিসরের বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছেন। শুধু ক্লাবের হয়ে নয়, বাছাইপর্বে মিসরের দেয়া মোট গোলের ৭০%ই সালাহর দেয়া। বিশ্বকাপ খেলা দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন কিংবা আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি বাদে আর কারোই এতো আধিপত্য নেই।

সালাহ’র পায়েই এবার মিশরের সব স্বপ্ন

কয়েকদিন আগে চ্যাম্পিয়ন্সলীগ ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে খেলায় প্রথমার্ধে মারাত্মকভাবে কাঁধে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই তারকা খেলোয়াড়। সালাহবিহীন বিশ্বকাপের আশংকায় ভেঙে পড়েন অনেক ভক্তই। তবে মাঠ ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেই ঘোষণা দেন, আঘাত তেমন গুরুতর নয়, গ্রুপপর্বেই মাঠে নামার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। শুধু সালাহ নয়, দলে আছেন আর্সেনালের মধ্যভাগের মধ্যমণি মোহাম্মাদ এলনেনি, ওয়েস্ট ব্রুমের রক্ষণ ত্রাস আহমেদ হেগাজি এবং অভিজ্ঞ গোলকিপার এসাম এল-হাদারি।

এমন দল নিয়ে অচিরেই পার হওয়া সম্ভব রাশিয়া, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের সাথে থাকা গ্রুপ পার হওয়া। রাউন্ড অব সিক্সটিনে দেখা হতে পারে স্পেন কিংবা পর্তুগালের সাথে। খুব সহজ নয় পথটা কিন্তু আফ্রিকা থেকে প্রথম কোন চ্যাম্পিয়ন পেতে খুবই আশাবাদী ফুটবলবোদ্ধারা।

৩. ইরান

গতবারের বিশ্বকাপে জয় বাদেই বিদায় নিতে হয়েছিলো যাদের, সেই দলই এবার সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছেন। বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচের অপরাজিত দল, যার মধ্যে নয় ম্যাচই ছিল ক্লিন শিট (কোন গোল খায়নি)। বাছাইপর্বের ফলাফলই জানান দিচ্ছে অবশ্যম্ভাবী দুর্ঘটনার। “এবারের ইরান রাশিয়াতে ঘুরতে যাচ্ছে না” – কোচের এমন হুঙ্কারও সে কথা প্রমাণ করে।

 

“ইরানের মেসি” সরদার আজমন

দলে আছে সর্দার আজমনের মতো রাশিয়ান লিগের সেরা স্ট্রাইকার। ইরানে কিন্তু মেসি আছেন দুইজন- একজন রেজা পারাস্তেশ, যিনি দেখতে হুবুহু মেসি’র মত। আরেকজন সর্দার আজমন- যিনি খেলেন মেসি’র মত। সঙ্গে আছেন উঠতি খেলোয়াড় আলিরেজা জাহানবাকাস। দুর্দান্ত ফর্ম দেখিয়েছেন সদ্য শেষ হওয়া ডাচ লিগে। ইতিমধ্যে নেপলি, আর্সেনালের মতো বড় বড় দল নজর দিয়েছে এই তরুণের দিকে। তবে, এ দলের সব থেকে বড় চমক কোচ কার্লোস কুইরোজ নিজেই। পর্তুগিজ এ কোচ দীর্ঘদিন কাজ করেছেন স্যার আলেক্স ফারগুসনের সহকারী হিসেবে, ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদেরও ম্যানেজার। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পর্তুগালের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও চমক দেখিয়েছেন। আবারের বিশ্বকাপে কি হতে যাচ্ছে কুইরোজের চমক? সেটা জানতেই মুখিয়ে আছে ফুটবলভক্তরা।

আসন্ন বিশ্বকাপের এই ২১তম আসরে হট ফেভারেট আছে অনেকেই। ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের মতো পরাশক্তিই এবার বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় দিচ্ছে এমন মতামত অনেকের। আবার নতুনদের জয় জয়কারও দেখছেন অনেকে। সে হিসাবে সমীকরণ অনেক জটিল। আবার আসরের পর্দা উন্মোচিত হওয়ার পরই দেখা যাবে অনেক অপ্রত্যাশিত চমক। হয়তো বাধা ধরা সমীকরণে মিলবে না কোন হিসাবই। আর তাই, আশায় বুক বেঁধে, সেরা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে আর দুর্ঘটনার প্রস্তুতি নিয়েই রাশিয়াতে চোখ রাখছেন ভক্তরা। দেখা হবে মস্কোতে।

Most Popular

To Top