নাগরিক কথা

এই সব হারানোর বেদনা কি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাড়িয়ে ফিরবে?

এই সব হারানোর বেদনা কি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাড়িয়ে ফিরবে?

সব হারানোর ব্যাথাগুলো আমাদের একটা ট্রমায় রেখে যায়। খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম কিছুদিন আগে বরগুনায় সার্ভে’র কাজে গিয়ে। সিডর কি ভয়বহতা নিয়ে এসেছিল আর তার কি প্রকট ছায়া রেখে গেছে সেখানকার মানুষের উপর। সব হারানো মানুষগুলো সম্পদের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারলেও মানসিক ক্ষতিটা কোনদিন বোধহয় পুষিয়ে উঠতে পারবে না।

ঘটনা ১
ঘরের ঠিক নাই; এক লোক রাস্তার সাইডে টিনের বেড়া রেখে দিয়েছে। কারন কি জানেন??
সেই বেড়ার পিছনে তার বাবা, মা আর সন্তানের কবর। সিডরের সাক্ষী। তাদের গায়ে তো আর রোদ বৃষ্টি লাগতে দেয়া যায় না। সিডরের ফলে এরকম সাইকোলজিক্যালি সমস্যায় ভুগছে এমন অসংখ্য মানুষ আছে।

ঘটনা ২
আর একটি ঘটনার উদাহরণ দেই এই মানসিক ট্রমার।

“শুকনা বন্যা”। শুনেন নি নিশ্চয়ই। সিডরের পর পর মানুষ এতটাই আতংকিত হঠাৎ বন্যার কথা শুনে দিক-বেদিক ছুটেছে। পদদলিত হয়ে মারা গেছে অনেকে। এক মহিলা নিরাপদ স্থানে এসে কোলে রাখা সন্তানের গায়ে হাত বুলিয়ে বলছে ভয় নেই। মানুষজন হা করে দেখছিল। কারণ মহিলার কোলে কোন বাচ্চা ছিল না। ছিল একটি মুরগী। যখন মহিলার হুশ হয়েছে বুঝেছেন আতংকিত হয়ে তাড়াহুড়োয় বাচ্চা রেখে মুরগী নিয়ে চলে এসেছেন।

একবার ভাবুন কি পরিমাণ আতংকিত হলে, কি পরিমাণ ট্রমাটাইজড হলে মানুষ এমন জ্ঞানশূন্য হতে পারে।

ঘটনা ৩
১৪০ টিরও বেশি দোকান আর অসংখ্য মানুষের জীবিকা আর স্বপ্ন নিয়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ময়মনসিংহ হকার্স মার্কেট।

দোকানের চেয়ে বেশি জ্বলেছে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা, রুটিরুজি, স্বপ্ন এবং শেষ অবলম্বন। এই সংগ্রামী মানুষ গুলোই হয়তো আবার যুদ্ধ করে উঠে দাঁড়াবে। কিন্তু এই মানসিক ট্রমা কি কাটিয়ে উঠতে পারবে?

সমাজের যারা বিত্তশালী আছেন যাকাতের টাকাটা যদি একটু চিন্তাভাবনা করে ব্যবহার করেন তবে এই সব হারানো মানুষগুলো হয়তো একটু সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবে এই দূরাবস্থা।

আল্লাহ্‌ সহায় হোন সকলের। এই বিপদ কাটিয়ে উঠার শক্তি দিন তাদের।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ Studio SiX এবং অঙ্কুর দত্ত

Most Popular

To Top