ফ্লাডলাইট

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ খেলাঃ ইতালি বনাম পশ্চিম জার্মানি

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ খেলাঃ ইতালি বনাম পশ্চিম জার্মানি

ফুটবল বিশ্বকাপ – The Greatest show on Earth. বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। সমর্থকদের আবেগ কতখানি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে সেটা ফ্যানদের পাগলামি দেখলেই বুঝা যায়। হাসি, কান্না, নিজের দলকে নিয়ে মাতামাতি, অন্য সমর্থকদের সাথে বাকবিতন্ডা এসব যেন বিশ্বকাপের নিত্যদিনের অংশ।

১৯৩০ এখন অব্দি ফুটবল বিশ্ব দেখেছে অনেক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। আজ বলব তেমনি এক ম্যাচের কথা। ইতালি বনাম পশ্চিম জার্মানি। এটি “The Match of The Century” নামে পরিচিত এবং বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে দেওয়া ম্যাচগুলোর একটি। ২০০৭ সালে যখন জার্মান গ্রেট বেকেনবাওয়ারয়ার এটি জানতে পেরেছিলেন যে এই ম্যাচকে ফিফা শতকের সেরা ম্যাচ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তখন তিনি বলেন,

 “মানুষ ভুলে গিয়েছে এর প্রথম ৯০মিনিট কেমন ম্যারম্যারে ছিল, যা ছিল তা হল শেষ ৩০ মিনিট এবং তা অবিশ্বাস্য।”

টুর্নামেন্ট

১৯৭০ এর বিশ্বকাপ। আসরটি বসেছিল মেক্সিকোতে। এটিই প্রথম আসর যা ইউরোপ অথবা দক্ষিণ আমেরিকার বাহিরে অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশ্বকাপেই সর্বপ্রথম রঙিন টিভিতে খেলা দেখানো হয়। স্বাগতিক হিসেবে মেক্সিকো এবং আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ছিল অটো চয়েস। আর বাকি ১৪টি স্পট ভাগ হয়েছিল এইভাবে-

১. ইউরোপ- ৮টি দল,

২. আফ্রিকা- ১টি দল,

৩. দক্ষিণ আমেরিকা-৩টি দল,

৪. কনকাকফ- ১টি দল,

৫. এশিয়া/ওশেনিয়া- ১টি দল।

আফ্রিকা নিজেদের স্পট নিশ্চিত করেছিল দীর্ঘদিন পর কারণ ১৯৬৬ সালে ফেডারেশন অফ আফ্রিকা কোয়ালিফাইং রাউন্ড বয়কট করে যখন আফ্রিকা, ওশেনিয়া এবং এশিয়াকে ১টি স্পটের জন্য লড়াইয়ে নামতে বলা হয়।

আফ্রিকা যখন টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে, তখন কোয়ালিফাইং রাউন্ডে কিছু রাজনৈতিক ঘটনা ছিল চোখে পড়ার মত। ১৯৬৬’র কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট উত্তর কোরিয়া কোয়ালিফাইং রাউন্ড থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় ইসরাইলের সাথে খেলবেনা বলে। এটিই ইসরাইলের একমাত্র বিশ্বকাপ ছিল যারা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে কোয়ালিফাই করেছিল। কনকাকাফ (CONCACAF) কোয়ালিফাই হয়েছিল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচের মাধ্যমে। যেখানে হন্ডুরাস এবং এল সালভেদের ফ্যানদের মাঝে মারামারি সংঘটিত হয় যা “ফুটবল ওয়ার” নামেও পরিচিত। এল সালভেদর হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে পদার্পন করে।

পলিটিক্যাল এজেন্ডা চোখে পড়ে ড্র-এর মধ্যেও। মরক্কো ইসরাইলের সাথে কোন ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়; ফলে প্রথমবারের মত মডার্ন জিওগ্রাফিকাল পট সিস্টেম ব্যবহার করা হয় গ্রুপিং এর জন্য।

রোড টু সেমিফাইনাল

৩২ বছর ইতালি প্রথম রাউন্ডেই আটকে ছিল। ভিট্টরিও পোজ্জো’দের সোনালী দিনগুলো যেন অমাবশ্যার চাঁদ হয়ে গিয়েছিল তাদের জন্য। “The Superga Air Disaster” তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে ভুগিয়েছিল এবং ১৯৬৬-তে উত্তর কোরিয়ার কাছে লজ্জাজনকভাবে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা।

আজ্জুরিদের সোনালী দিনে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেরোচ্চিও ভ্যালকারেজ্জির ওপর। ভ্যালকারেজ্জি ছিলেন লেজেন্ডারি ইন্টার কোচ হেলেনিও হেরেরার ডান হাত(জয়েন্ট ম্যানেজার)। ১৯৬৭ সালে তিনি ইতালির কোচের চেয়ারে বসেন। মাত্র এক বছরে ইতালিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ানশীপ নিয়ে যান এবং বিশ্বকাপের হটকেক বানিয়ে দেন ২ বছরের মধ্যেই। মেক্সিকোর উচ্চতা এটিকে মোস্ট লো ক্রোরিং গ্রুপ স্টেজের খেলায় পরিণত করেছিল। এই রেট ছিল ২.৯৭/গেম, যা এখনও অটুট। কিন্তু ২য় স্টেজে সবকিছুই বদলে গিয়েছিল। গ্রুপ স্টেজে সুইডেনকে ১-০ তে হারায়, ০-০ গোলে উরুগুয়ে ও ইসরাইলের বিপক্ষে ড্র করে ইতালি। উরুগুয়ে গোল ডিফারেন্সে এগিয়ে থাকায় ওই গ্রপের রানার্সআপ হিসেবে কোয়ালিফাই করে। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হয় ইতালি। গ্রুপ চম্পিয়ন হওয়ার উপহার হিসেবে পরের রাউন্ডে তারা পায় স্বাগতিক মেক্সিকোকে। তাদের ৪-১ এ হারিয়ে সেমিতে চলে যায় ইতালি।

এদিকে তাদের সেমির আরেক প্রতিপক্ষ পশ্চিম জার্মানির যাত্রাপথ ছিল মোটামুটি মসৃণ। গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষ বুলগেরিয়া, পেরু ও মরক্কোকে হারিয়ে এবং ইংল্যান্ডের সাথে ২-০ তে পিছিয়ে থেকেও এক্সট্রা টাইমে ৩-২ এ জয় তুলে নেয় তারা।

শতকের সেরা ম্যাচটি

মেক্সিকোর এস্টেডিও এজটিকাতে মাঠে নেমেছিল ইতালি ও পশ্চিম জার্মানি। ইতালি মাঠে নেমেছিল তাদের ট্রেডিশনাল নীল জার্সি ও সাদা শর্টস পরে আর জার্মানরা নেমেছিল তাদের সাদা জার্সি ও কালো প্যান্টে। রেফারি ছিলেন মেক্সিকোর আর্তুরো ইমাসাকি মালডোনাডো।

“সাদাসিধে” উপমাটি প্রথম ৯০ মিনিটের জন্য যথার্থ। প্রথম গোলটি আসে রবার্তো বানিনসিগনার পা থেকে ৮ মিনিটে। বানিনসিগনা জিজি রিবার সাথে ওয়ান টু ওয়ান পাসে খেলে, পেনাল্টি বক্সের কোনা থেকে সুন্দর শটে বল জালে জড়ান।

ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে একরকম নড়েচড়ে বসে জার্মানরা, একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যাস্ত করে তোলে ইতালির ডিফেন্সকে। কিন্তু ইতালির বিশ্বখ্যাত রক্ষণভাগ যেন প্রতিবারই কোন না কোন ভাবে রুখে দিচ্ছিল সব। জার্ড মুলার, যিনি গ্রুপ স্টেজে হ্যাট্রিক করেছিলেন এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, যারা প্রথম হাফে বারবার রক্ষণ ভাঙ্গার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু কোনভাবেই পেরে উঠছিলেন না। কিন্তু জার্মানদের প্রথম সহজ চান্স আসে এক ইতালিয়’র পা থেকেই। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মারিও বার্তিনী নিজের নেটের দিকেই বল শট করেন। কিন্তু ভাগ্য বিধাতাও হয়ত জার্মান সাইডের ওপর তখনও প্রসন্ন ছিলেন না। বল চলে যায় বারের সামান্য ওপর দিয়ে।

আলবার্তসি, তার প্রথম সেভটি করেন যখন মুলারের দূর্ধর্ষ বাকানো শট ঠেকিয়ে দেন। তার ঠেকানো বলটি বারে লেগে কর্নারে পরিণত হয়। জার্মান আক্রমণ যেন থামছিলই না। প্রথমার্ধ শেষ হয় এভাবেই। শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধ।

যখন দুইটিম সাইড চেন্জ করল তখন যেন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে জার্মানরা। তাদের আরেকটি সহজ সুযোগ জলে যায় যখন জার্মান ক্যাপ্টেন ইইউ সিলারের বাইসাইকেল কিক দিশা খুজতে ব্যার্থ হয়। জার্মানদের এত প্রচেষ্টার পরও কোন জার্মান এটাকই যেন পোস্টের মধ্যে সেরকম বিপদ সৃষ্টি করতে ব্যার্থ হচ্ছিল। প্রত্যেকটি বল হয় বার পোস্টের উপরে, না হয় সাইডে, না হয় আলবার্তসির বাহুতে।

দ্বিতীয়ার্ধের সময় বাড়তে থাকল, আবারও হতভাগ্য জার্মান দলের মিডফিল্ডার উলফগ্যাঙ্গের শট বারে লেগে ফিরে আসে। তবে প্রধান মোড়টি আসে হাফের শেষের দিকে। অপ্রতিরোধ্য বেকেনবাওয়ার বল নিয়ে ডি বক্সের দিকে ছুটে যাচ্ছিলেন কিন্তু পিয়েরেলুগি সিরার কর্তৃক ফাউলের শিকার হন। রেফারি মালদোনাডো সেটিকে পেনাল্টি না দিয়ে ফ্রি কিক দেন। পেনাল্টি না পেয়ে জার্মানরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তাদের ক্রোধ হতাশায় পরিণত হয় যখন সেই ফ্রি কিক থেকেও কিছু হাসিল হয় নি।

তবে জার্মান লেজেন্ড বেকেনবাওয়ার যেন নিজের জানটাই বাজি রেখেছিলেন সেদিন। ঘাড়ে গুরতর আঘাত পান তিনি। কিন্তু জার্মানরা সবস্টিটিউশন লিমিট শেষ করে ফেলেছিল। তাই হয়ত দাঁতে দাঁত চেপে সকল ব্যাথা সহ্য করে মাঠে টিকে ছিলেন এই লেজেন্ডারি মিডফিল্ডার।

রেফারি মালদোনাডোর আরেকটি ভুল সিদ্ধান্ত ইতালিয়ান সাইডকে বাঁচিয়ে দেয় যখন সিলারকে পেনাল্টি বক্সে ফেলে দেওয়া সত্ত্বেও পেনাল্টি দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। বলতে গেলে ভাগ্যদেবী সেদিন যেন দুহাত ভরেই দিচ্ছিলেন ইতালিকে।

কিন্তু জার্মান সাইড দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না। আক্রমণের ধার যেন বেড়েই যাচ্ছিল। জার্মান গোলকিপারই শুধু অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকত, বাকি সব প্লেয়ারের অবস্থান ছিল মধ্যমাঠ কিংবা ওপারে।  তবে তেমন কাজ হচ্ছিল না। এরই মধ্যে মিলারের আরেকটি পেনাল্টি আপিল নাকচ করে রেফারি। ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল হয়ত এটি জার্মানদের রাত নয়। কথাটি আরও প্রকট হয় যখন মিলারের হেড দক্ষতার সহিত উড়ে গিয়ে সেভ করে আলবার্তোসি।

অবশেষে মালদোনাডো একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা ছিল একমাত্র ডিসিশন জার্মানদের পক্ষে। এক্সট্রা টাইমের বোর্ড দেখানোর পরও তিনি কিছু সময় খেলা চালিয়ে যান । সময়টি ছিল অতিরিক্ত সময়ের শেষভাগ। যখন যার্গান গ্রাবোরসকির ক্রস ফুল ব্যাক কার্ল হেনজ সিনেলিন্জারের দক্ষতায় জালে ঢোকে। শত চেষ্টা যে কখনও বৃথা যায় না তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

জার্মান কমেন্টেটরের সেই উচ্ছাসই যেন মনে করিয়ে দেয় সেদিন তিনি কি করেছিলন। তার ভাষ্যে-

“সিনেলিন্জার,সিনেলিন্জার….. সকল জার্মানদের সিনেলিন্জার।”

বিষয়টি অবশ্য অবাক করার মতনই ছিল। ৪৭ ম্যাচে এটিই ছিল সিনেলিন্জারের প্রথম গোল। তার গোলটি এক্সট্রা টাইমে জার্মানদের জন্য যা ছিল সেই টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয়বার।

এক্সট্রা টাইমে প্রথম চান্সটি পায় জার্মানরা, কিন্তু আবারও ইতালিয়ান গোলরক্ষক দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন। তার দক্ষতায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় ইতালি। কিন্তু “একবার না পারিলে দেখ শত বার” কথাটির ফলও পান মুলার। এর ঠিক ৪ মিনিটের মাথায় পোলেত্তির ভুলে বল পান মুলার। এবার গোলে পরিণত করতে ভুল করেননি এই জার্মান। স্কোর ২-১। জার্মানরা বসে যায় চালকের আসনে।

জার্মানদের অপ্রতিরোধ্য আক্রমণের সামনে যেন ফিকেই দেখাচ্ছিল ইতালিকে। কিন্তু ৯৮ মিনিটে আবার হতাশ হতে হয় জার্মানদের। ইতালিয়ানদের মাথার ওপর দিয়ে দেওয়া ফ্রি কিক বুকে নিয়ে সুন্দরভাবে গোলে পরিণত করেন টার্সেসিও বুর্গনেক। বুর্গনেক ইন্টারে খেলেন, যিনি জাতীয় দলের হয়ে বিগত ৪ বছরে কোন গোল করতে পারেননি এবং এমনকি পরবর্তীও করেননি, তিনি বনে যান নায়ক। ১০ গজ দূর থেকে পাওয়া বলটি গোলে পরিণত করতে কোন ভুল করেন নি। অবিশ্বাস্য খেলাটি আবার ড্র-এ পরিণত হয়।

কিন্তু এক্সট্রা টাইমের হাফ টাইমের আগে ডিফেন্ডারের দেওয়া বল চলে যায় ডুমেগ্নির পায়ে। যা তিনি সুন্দরভাবে পৌছিয়ে দেন জিজি রিভার পায়ে। যা সিনেলেন্জারকে বোকা বানিয়ে গোলে পরিণত করেন তিনি। যদিও পুরো ম্যাচ দাপটের সাথে খেলে জার্মানরা, তবে শেষে আবার লিডে ইতালিয়ানরা।

এক্সট্রা টাইমের অর্ধেক বাঁশির আগ মূহুর্তে আক্রমণে যায় জার্মানি। তবে মিলারের নেওয়া দূর্দান্ত শট রুখে দেয় সেই আালবার্তোসি। জার্মান আর ইতালির মাঝে যেন দেয়ালই হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

শুরু হল এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধ। আবারও জার্মান অধিনায়কের নেওয়া পিনপয়েন্ট কোনায় শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন আলবার্তোসি। কিন্তু এ যাত্রায় আর রক্ষা হয়নি। হেডের সুযোগ ঠিকই কাজে লাগিয়ে গোলে পরিণত করেন মুলার।

উচ্ছাসে উন্মত্ত হয়ে যায় জার্মানরা। কিন্তু তাদের এই আনন্দ ৬০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হয়নি। সেন্টার হওয়ার পর পরই বল পায়ে পান পেলেত্তি। যা বানেনসেগনার কাছে পৌছিয়ে দেন তিনি। যা তিনি বক্সের আরেক প্রান্তে থাকা রিভেরার পায়ে দেন যিনি পেনাল্টি বক্সে অপেক্ষায় ছিলেন বলের। তার গোলে আরেকবার এগিয়ে এগিয়ে যায় ইতালি।

এরপরের খেলাটুকু হয় আরও জৌলুসময়। সৌভাগ্যবশত ঘড়ির কাটার শেষ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে সমর্থ হয় ইতালি, ফাইনালে উঠে যায় তারা। অবাক করার বিষয়, যে দল ৩২ বছর ধরে প্রথম রাউন্ডেই আটকে ছিল, তারাই পৌঁছে যায় ড্রিম ফাইনালে।

ম্যাচ পরবর্তী

এক ক্লান্তিকর ও রোমাঞ্চিত সেমিফাইনালের পর ব্রাজিল মুখোমুখি হয় ইতালি। সেখানে ১৮ মিনিটে পেলের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল কিন্তু ৩৭ মিনিটে ইতালিকে সমতায় ফেরান বনিনসেগনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর কোন পাত্তাই পায় নি ইতালিয়ানরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩ গোল করে, ইতালিকে ৪-১ এ হারিয়ে ঘরে ৩য় বিশ্বকাপ ঘরে তোলে ব্রাজিল। 

শতাব্দীর সেরা ম্যাচকে স্মরনীয় করে রাখতে এস্তেডিও অ্যাজতেকায় ফলক বসায় মেক্সিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফুটবল বিশ্বে এমন রোমাঞ্চিত ম্যাচ খুব কমই এসেছে। সেদিন যা ঘটেছিল তা মনে হয় গ্যালারি ও টিভি সেটের সামনে বসা লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের বুকের কাঁপুনি ধরিয়েছিল, কিংবা আনন্দ অশ্রু ঝরিয়েছিল। ফলকটিই হয়ত মনে করিয়ে দিতে থাকবে সে দিনের ম্যাচটির কথা অনন্তকাল।

Most Popular

To Top