নাগরিক কথা

শুধু প্রিয়াংকা চোপড়া এসে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিলেই তো হবে না!

প্রিয়াংকা চোপড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প জাতিসংঘ নিয়ন আলোয় neonaloy

মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর মাস নয়েক আগে নির্যাতন চালায়। নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ চালিয়ে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া করে, ঠেলে বর্ডারে পাঠিয়ে দেয়, আর আমরা তাদের দিই আশ্রয়। থাকার জায়গা দিই, করি খাবার আর চিকিৎসার ব্যবস্থা।

আমি সেদিনও কাউকে আশ্রয় দিতে মানা করিনাই, রোহিঙ্গারা মুসলমান না হয়ে অন্য ধর্মের হলেও সমর্থন দিতাম ঐ মানবিক কারনেই। এখানে তাদের ধর্ম আমি কখনোই টেনে আনি নাই। তবে তাদের আশ্রয় দেয়ার মুদ্রার ওপিঠের সত্যিটাও দেখিয়ে দিয়েছিলাম দেখে অনেকেই আমাকে ফেসবুকেও কলার ধরে মারতে আসার মতো অবস্থা। তারা বলেছিল একটা রুটি নাকি দুইভাগ করে খাবে। আমি ভাবছি, আজ তাদের রুটি কয়টুকরা হলো?

তো হ্যাঁ, রোহিঙ্গারা এই আশ্রয়-খাবার-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসা এসবের জবাব কিভাবে দিয়েছে জানেন? ইয়াবা পাচার করে, অস্ত্র চালান দিয়ে, ডাকাতি করে! আরে ভাই, পবিত্র কোরআন কেটে তারা ইয়াবা পাচার করার মতো ঘটনা আছে, আছে রাস্তায় গাছ কেটে ফেলে রেখে ডাকাতির ঘটনা। ছিনতাই, বাঙালিদের নানানভাবে আক্রমণ করার ঘটনা তো অহরহ!

আরো আছে, জাতি হিসেবে তাদের রেকর্ড খুব বেশি ভালো না। প্রোডাক্টিভ তো না-ই, উলটো ধ্বংস করতেই তারা অভ্যস্ত। আর এবার তো ওরা বাধ্য হচ্ছে, তো বনাঞ্চলের পর বনাঞ্চল কেন কেটে বিলীন করবেনা?

সবচাইতে দূঃখ লাগে কখন জানেন? যখন তারা এই দেশটাকে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিই ভাবে। তাদের অনেকে চট্টগ্রামকে এখনো আরাকান রাজ্যের অংশই মনে করে। আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি আর্মি (আরসা) নামে একটা সংগঠনের নাম শোনা যায়, আজকের তাদের এই অবস্থার পেছনেও ঐ সংগঠন অনেকটাই দায়ী। আরসা’র মতো সংগঠনের কাজই অস্ত্র সাপ্লাই দেওয়া, অস্থিতিশীল করা সব। সব জায়গাকে তাদের আরাকান রাজ্য ঘোষনা করা! এখন নাকি তারা ঐদিক থেকে এইদিকে অস্ত্র সাপ্লাইয়েই নাকি বেশি সক্রিয়।

হ্যাঁ ভাই, এখন ঐ জায়গাটাতে বাঙালি সংখ্যালঘু। বনের পর বন, পাহাড়ের পর পাহাড় তারা বিলীন করছে, এই দেশ এখন যেন তাদের অনেকটা এমন এ্যাটিচিউডই তাদের। তারা এই দেশে আসাতে লাভ কি হয়েছে? তাদের নিয়ে কাজ করা নানা এনজিও’র কারণে এদেশের কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু ভাই খারাপ লাগে, যখন তাদের দেখাশুনা করতে যাওয়া মানুষদেরই তারা তাদের চাকর ভাবা শুরু করে। বড়ভাইদের যখন বলতে শুনি তাদের দেয়া ওষুধ ছুঁড়ে মেরে তারা বলে, “এই গ্রুপের ওষুধ কিল্লাই দিয়্যুস দে?? ওমোপ্রাজল গ্রুপের দে! দিবি দি, দউন ফরিবুই” (এই গ্রুপের ওষুধ কেন দিয়েছিস? ওমিপ্রাজল গ্রুপের দে,দিতেই হবে”, ভাবখানা এমন যেন বলছে “আরে ব্যাটা আমাদের টাকাতেই তো তোদের দেশ চলে, যা বলি করবি!”

যেন ভাই চাকর তাদের। আর ভাই হবেই না কেন? কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন যেন তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে এই প্রাপ্যটা তাদের অধিকার, তাদের কারণে বাংলাদেশ বিশাল টাকা পাচ্ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। তাই তাদের এটা একেবারে বদ্ধমূল ধারনা হয়েই বসে গেছে যে আমরা তাদের সেবা করতে বাধ্য। আমরা কোনো করুণা করছি না, এটা তাদের রাইট! রাইট? মাই ফুট!!

এখনি নাকি অনেকে বলে এটা তাদের জায়গা, তাদের জন্য নির্ধারিত, তাই কেউ চাইলেই তাদের কিছু করতে পারবেনা। এইটার অধিকার যেন সংস্থাগুলো তাদের হাতে তুলে দিছে। সব মিলে এই দেশকে নিয়ে সবাই যেন ফাঁদ পেতে রাখছে।

আর আমরা কি করছি? আমরা তাদের জন্য আলিশান ভাবে দ্বীপ বানাচ্ছি মা’শা’আল্লাহ্। তারা সেখানে যেন ফাইভ স্টার হোটেলে থাকবে মতই অবস্থা। বার্মায় তাদের বার্মিজ সেনাবাহিনী কন্টিনিউয়াসলি মারের উপর রাখতো। ২৪ ঘন্টা মার খেতো অথচ এইখানে তাদের সে কি গলাবাজি। এইখানে উল্টো অবস্থা, আমাদের পুলিশ বিজিবি’র সাথে তাদের সে কি গলাবাজি! কি এক প্রতিবাদ রে! কেন রে ভাই? এত গলার জোর বার্মায় কই ছিলো? তখন অধিকার কই ছিলো? গলাবাজি কই ছিলো? এখন এত বিক্ষোভ আর অধিকার দেখাচ্ছো কেন?

আর আমাদের পুলিশ বিজিবিও! রাস্তায় দুইটা ছাত্র দাঁড়ালে মেরে অবস্থা খারাপ করে ফেলে। আর তাদের সামনে করে কিনা মিউ মিউ! এমন হইলে ক্যামনে হবে ভাই?? এক পরজীবী এসে যেন ভর করসে, ঐখানের সংখ্যালঘু আমরা বাংলাদেশীদের কাছে এরা কখনো ইসরায়েলের মতো ভয়ংকর হয়ে উঠলেও অবাক হবোনা।

তো যেটা বলছিলাম, বার্মিজ সেনাবাহিনী নয়মাস আগে ওখানে যা ধর্ষণ চালিয়েছে, তার ফলাফল বাংলাদেশ আর মাস খানেকের মধ্যে পেতে শুরু করবে দেখো। এখনি প্রতিদিন নাকি ৬০ টারও বেশি করে নবজাতকের জন্ম হচ্ছে, আগামী মাসে সেই সংখ্যাটা অবশ্যই অবশ্যই বাড়বে। সাথে এনেছে এইডস সহ অসংখ্য রোগবালাই। যেন মায়ানমার এক সুনামী তুললো মাঝসমুদ্রে আর ঢেউ এতদিন পরে এখন বাংলাদেশে আছড়ে পড়বে। তারপর কি হবে?

এদের এমনিতেও কোনো জাত-পাত-মায়া-মমতা কিছুই নাই, পথেঘাটে দেখবেন সদ্যভূমিষ্ট বাচ্চা ফেলে যেতে কোন দ্বিধাবোধও করবেনা। পথেঘাটে জীবিত মৃত বাচ্চা পড়ে থাকবে। অনেকে তো ভাই তখন প্রতি ফ্যামিলিতে একজন করে রোহিঙ্গা আশ্রয় দিবেন বলেছিলেন, এখন বাচ্চাগুলোকে কুঁড়ায়ে নিয়ে যান তো দেখি বাসায়, দেখবো বাবারা বুকের পাটা কতবড়।

কথায় আছে যার বোঝা তারই টানতে হয়, আমরা তো নিজের বোঝাই টানতে পারতাম না, সেখানে আরেক দেশের বোঝা? এইভাবে?

শুধুমাত্র জাহাজ ভরে ত্রাণ পাঠায়ে খালি জাহাজ তোমরা ফেরত নিলে তো হবে না, প্রিয়াংকা চোপড়া এসে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিলে তো হবে না। এর বাইরেও একটা সময় আছে, আসছে। খুব কঠিন সময় সেটা।

যাও ভাইয়েরা, বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা।

লেখকঃ সাদেকুল করিম

[এডিটরস নোটঃ নাগরিক কথা সেকশনে প্রকাশিত এই লেখাটিতে লেখক তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। নিয়ন আলোয় শুধুমাত্র লেখকের মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফরমের ভূমিকা পালন করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির সম্মানহানি এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আপনার আশেপাশে ঘটে চলা কোন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতে চান সবার কাছে? আমাদের ইমেইল করুন neonaloymag@gmail.com অ্যাড্রেসে।]

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top