ফ্লাডলাইট

বড় ধরণের ঝড় উঠতে যাচ্ছে ক্রিকেটবিশ্বে!

ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ন আলোয় neon aloy

ম্যাচ ফিক্সিং এর বোমা ফাটালো আল জাজিরা টেলিভিশন! প্রায় ১৮ মাস গোপন অপারেশন চালিয়ে ম্যাচ ফিক্সিং-এর ভয়াবহ তথ্য তুলে এনেছে তারা। মুম্বাইয়ের উচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ ফিক্সার অনিল মুনাওয়ারার মাধ্যমে ফাঁস হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের অজানা অনেক অন্ধকার খবর।

অনিল এমন একটি মাফিয়া চক্রের হয়ে কাজ করে যার নাম D-company বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের গোয়েন্দারা। এই কোম্পানী টপ লেভেলের ক্রিকেটারদের টেস্ট ক্রিকেটে অর্থ দিয়ে থাকে খারাপ পারফর্মেন্স করার জন্য।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে চেন্নাইতে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট ম্যাচে ফিক্সিং হয়েছিলো আবার মার্চে রাঁচিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচ ফিক্সিং হয়েছিলো।

দুটি টেস্টেই “সেশন” হিসাবে ফিক্সিং হয়। নির্দিষ্ট ম্যাচের নির্দিষ্ট সেশনে অনিল যেভাবে-যেভাবে বলেছে, ঠিক সেভাবেই ম্যাচ গড়িয়েছে।

“আমি আপনাদের বলছি, ঠিক যেভাবে যেভাবে আমি বলবো সেভাবেই হবে আর আপনারা বিরাট অংকের টাকা লাভ করতে পারেন আমার দেয়া তথ্য থেকে”

– আল জাজিরার বিশেষ টিমকে এভাবেই বলেছে অনিল।

উল্লেখ্য, আল জাজিরা টিম নিজেদের “আরবের অনেক বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ” হিসেবে পরিচয় দেয়।

অনিলের দেয়া তথ্য পুরোপুরি মিলে যায় ওই দুই টেস্ট ম্যাচে।

আন্ডারগ্রাউন্ড একটি সূত্র ব্যবহার করে আল জাজিরা টিম অনিলের সাথে যোগাযোগ করে। প্রায় ১৮ মাসের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে ক্রিকেটে ব্যাপক আকারে ম্যাচ ফিক্সিং হলেও বর্তমানে সেগুলো প্রমাণ করা কঠিন হয়ে গিয়েছে।

অনিলের ভাষ্যমতে ৬০-৭০% ম্যাচ ফিক্সিং করা সম্ভব। আর বিগত সাত বছর ধরে সে এইকাজ করে আসছে। D-company সাধারণত সম্পূর্ণ ম্যাচ, মানে রেজাল্ট ফিক্স করলেও এখন স্পট ফিক্সিং করাতেও আগ্রহী।

কিভাবে ফিক্সিং হয়?

ফিক্সিং-এ জড়িত খেলোয়াড়রা টেস্ট ম্যাচের ফিক্সড সেশনে ব্যাট হাতে নির্ধারিত রানের চেয়ে কম রান করে থাকে, অথবা বোলিং-এ বেশি রান লিক করে থাকে। অনিলের ভাষায় বর্তমানে টপ লেভেলের দুই দলের টেস্ট ম্যাচের ছোট ছোট অংশ ফিক্সিং করাই লাভজনক।

“আমার কোম্পানি সব কয়টি দলেই এইরকম ক্রিকেটার রেখেছে মূলত টেস্ট এবং হাই প্রোফাইল ওয়ানডে ম্যাচ ফিক্সড করার জন্য। তবে আমরা টি-টুয়েন্টি লীগও ফিক্সড করি কখনো কখনো, তবে আমাদের প্রধান টার্গেট টেস্ট ক্রিকেট, সেটাই তো সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলা এবং লম্বা সময় হয়”

চেন্নাই এবং রাঁচি দুই টেস্টেই টস হবার পর থেকে প্রথম সেশনে একদম সেভাবেই সব হতে দেখেছে আল জাজিরা টিম যেভাবে অনিল আগেই বলেছে।

অনিল অল্প কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান এবং ইংল্যান্ড ক্রিকেটারের নাম আল জাজিরা’র কাছে স্বীকার করেছে। আল জাজিরার বিস্তারিত ডকুমেন্ট আইসিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আল জাজিরা এক বার্তায় জানিয়েছে তারা আইনগত কারণে এখনই প্লেয়ারদের নাম প্রকাশ করতে পারছে না, তবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অভিযোগ এবং তথ্য প্রমাণ পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে।

অভিযুক্ত ইংল্যান্ড ক্রিকেটাররা তাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করেছে তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা কোন মন্তব্য করেনি আল জাজিরা’র কাছে।

ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ন আলোয় neon aloy

ফিক্সার অনিল মুনাওয়ারা

অনিল মুনাওয়ারার কোম্পানি বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ করে র‍্যাংকিং-এর উপরের দিকে থাকা টেস্ট দলের সেরা প্লেয়ারদের হাত করার জন্য। তবে ওই প্লেয়ারদের বাইরে দলের অন্য সদস্যরা এসবের কিছুই জানতে পারেনা। প্লেয়ারদের পেমেন্ট হয় কোন মিডলম্যান, না হয় কোন ম্যাচ অফিশিয়ালদের মাধ্যমে করা হয় নিরাপত্তার জন্য। ম্যাচ অফিশিয়ালদের মাধ্যমে লেনদেন করাই নিরাপদ।

“আমরা প্লেয়ায়দের মান বুঝে দাম ঠিক করিনা, সব প্লেয়ারকেই একটা গ্লোবাল এমাউন্ট দেই, সে যে দলেরই হোক। তারা নিজেরা বেশিরভাগ অংশ রাখে এবং কিছু অন্যদের দিয়ে থাকে যখন ফিক্সিং করার জন্য আরো কারো সাহায্য দরকার হয়।”

“বিশ্বে আমাদের ২০-২৫ জন বড় ক্লাইন্ট রয়েছে যাদের ম্যাচ প্রতি ১.৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করতে দেখা যায় বিভিন্ন দল এবং প্লেয়ারদের উপর।” তবে অনিলের দাবি ১.৫ মিলিয়ন খরচ হলেও লাভের অংক অনেক বেশি।

কখনো কখনো এন্টি করাপশন তদন্ত কিছুটা ঝামেলা করলেও তার কোম্পানি এসব সমাধান করে ফেলে। “আপনার কাছে টাকা থাকলে সবই সম্ভব” মন্তব্য অনিলের। “কোম্পানির অনেক জায়গায় যোগাযোগ আছে আর তারা এসব সমস্যা ফিক্সড করে ফেলে”।

আল জাজিরা ২৭ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ক্রিকেটের বিভিন্ন ফিক্সারদের ভিডিও প্রকাশ করবে। আজ ২৭ তারিখ প্রথম দফায় ফিক্সিং যাদের হাতের মোয়া সেই পাকিস্তানের হাসান রাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে।

হাসান রাজা সবচেয়ে কম বয়সে অভিষিক্ত ক্রিকেটার। ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিলো ২৩ ওয়ানডে খেলা রাজার।

ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ন আলোয় neon aloy

পাকিস্তানী ক্রিকেটার হাসান রাজা

বিভিন্ন লীগে তার বন্ধুরা ক্রিকেট খেলে এবং তাদের দ্বারা স্পট ফিক্সিং করিয়ে ৪৫ লাখ টাকা (৭০ হাজার ডলার) পর্যন্ত ইনকাম করা যাবে বলে আল জাজিরার টিমকে জানায় হাসান রাজা।

“খেলায় দুটি ভাগ, ১০ ওভার করে, ৭ ওভারে কত রানের কম করবে, ৯ ওভারে কত রানের কম করতে হবে এভাবে ডিল করা যায়।”

“বোলার বল ডেলিভারি করার ঠিক আগে ব্যাটসম্যান তাকে হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিবে, হেলমেট ঠিক করবে, ঠিক তখন থেকে বুঝতে হবে ফিক্সিং শুরু হয়ে গিয়েছে”

এভাবেই আল জাজিরার কাছে ফিক্সিং করার নিয়ম তুলে ধরেন রাজা, যিনি আল জাজিরা’র ছদবেশী টিমকে মধ্যপ্রাচ্যের আরব শেঠ বলে মনে করেছিলেন।

এমনিতেই আল জাজিরা ব্যাপক আলোচিত, সমালোচিত একটি টেলিভিশন চ্যানেল। আইএস, আল কায়দা ইত্যাদি সংগঠনের ভিডিও প্রকাশ করে বিশ্বে তোলপাড় করে দেওয়ার ইতিহাস আছে তাদের।

কিন্তু এবার মনে হচ্ছে ক্রিকেট দুনিয়াকে এলোমেলো করে দিতে যাচ্ছে আল জাজিরা!

সূত্রঃ আল জাজিরা

Most Popular

To Top