ফ্লাডলাইট

এমন রক্ত গরম করা পাগলাটে ফাইনাল শেষ কবে দেখেছিলেন?

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০১৮ নিয়ন আলোয় neonaloy

ম্যাচটা শুরু হয়েছিল যেকোন ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্নের মত। স্বাভাবিকভাবেই নিরপেক্ষ দর্শকদের আন্ডারডগ দলের প্রতি সহমর্মিতা বেশি থাকে। সে হিসাবে গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের তুলনায় প্লে-অফ খেলে আসা লিভারপুলকে নিশ্চিতভাবেই আন্ডারডগ ধরা যায়। কিন্তু মাঠের খেলা দিয়ে যেকোন রেকর্ড উল্টে ফেলা সম্ভব- এই মন্ত্র জপেই যেন মাঠে নেমেছিল লিভারপুল।

সাধারণত হাই-ভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচগুলো অধিকাংশ সময়ই হয় কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে। দুই দলই থাকে অতিরিক্ত সাবধানী, আক্রমণের চাইতে রক্ষণেই মনোযোগ বেশি থাকে অনেকসময়। ট্রফি জেতার জন্য এই স্ট্র্যাটেজি বেশ কার্যকর হলেও দর্শকের মন ভরে না এমন খেলায়। আর এর পুরো বিপরীত ছিল এবারের ফাইনাল।


শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে চেপে ধরে লিভারপুল। “আমাদের হারানোর কিছু নেই”- এই বিশ্বাস নিয়েই যেন অলআউট আ্যটাকে খেলতে থাকে শুরু থেকে। যে দলে আছে সাদিও মানে-ফারমিনো-মো সালাহ’র মত তিন তরুণ খুনে ফরওয়ার্ড, সেই দল তাদের শক্তিশালী দিকটাকে অকেজো করে রাখবে- এমনটা আশা করাও ভুল। একের পর এক আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে রিয়ালের রক্ষণভাগে।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০১৮ নিয়ন আলোয় neonaloy

তবে খেলার স্রোতের বিপরীতে প্রথম ভয়ংকর আক্রমণ হেনেছিলো রিয়াল মাদ্রিদই। কিছুটা সুবিধাজনক পজিশনে বলও পেয়েছিলেন ডান পাশ ধরে এগিয়ে আসা রোনালদো। কিন্তু তার জোরালো শট চলে যায় বারের উপর দিয়ে।

এরপর আবার সেই লিভারপুলের একাধিপত্ব। রিয়াল মাদ্রিদকেও বাহবা দিতে হয়, তাদের অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ একের পর এক ব্লক করেছে ফারমিনো-সালাহ-মানে’র শট, জায়গা নিয়ে খেলতে দেয়নি স্বাচ্ছন্দ্যে। শক্তিশালী আক্রমণ আর গুছানো ডিফেন্সের এমন জমজমাট লড়াই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল চেলসি আর বায়ার্ন মিউনিখের মাঝে ২০১২ সালে।

তবে এর মাঝেও একবার ভয়াবহ বিপদে পড়ে রিয়াল। ফারমিনো’র জোরালো শট সার্জিও রামোসের পায়ে ব্লকড হয়ে পড়ে আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পায়ে। তার শট এক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক গলে নিশ্চিতভাবেই গোলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছিলো। অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে ডানে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে যাত্রায় রিয়ালকে বাঁচান নাভাস।

তার ২ মিনিট পরেই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে অনাকাংক্ষিত ঘটনাটি। মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোসের সাথে বল দখলের লড়াইয়ে নেমে কাঁধে চোট পান লিভারপুলের এই সিজনের সাফল্যের কান্ডারি মো সালাহ, যার উপর চোখ ছিল সবার। প্রচন্ড যন্ত্রণা নিয়ে মিনিট কয়েক মাঠে শুয়েও ছিলেন। তবে আবার খেলা শুরু করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাঠে। ৩০তম মিনিটে অশ্রু চোখে মাঠ ছেড়ে যান। ম্যাচশেষে জানা যায় তার কাঁধের হাড় সরে গেছে, যে কারনে হুমকির মুখে পড়েছে তার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণও!

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০১৮ নিয়ন আলোয় neonaloy

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০১৮ নিয়ন আলোয় neonaloy

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০১৮ নিয়ন আলোয় neonaloy

সত্যি বললে, অনেক ফুটবল-অনুরাগীর জন্য সেটি-ই ছিল “ম্যাচ নষ্ট করে দেওয়া মুহুর্ত”। অনেকে দাবী করেছেন সালাহ’র ইনজুরি পুরোটাই রামোসের ইচ্ছাকৃত। বিশেষ করে যারা রামোস-পেপে যুগের “ভাড়াটে গুন্ডা” গোছের ডিফেন্ডার রামোসকে দেখেছেন, তারা এমনটা দাবী করাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ঘটনার পর যদি কেউ টিভি অফ করে ঘুমাতে চলে যান, তার জন্য সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

সালাহ মাঠ ছাড়ার মিনিটখানেক পরেই আবার ইনজুরি’র ছোবল। এবার অশ্রু কারভাহালের চোখে। অ্যাকিলিস হিলের চোট তাকে শুধু মাঠ থেকেই না, সম্ভবত ছিটকে দিতে পারে বিশ্বকাপ থেকেও। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাচো। কারভাহালের জন্য খারাপ লাগতেই পারে আপনার। দুই বছর আগেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে মাঠে নামার কিছুক্ষণের মাঝেই চোটের কারণে উঠে যেতে হয়েছিল তাকে।

তবে এটা ঠিক, কারভাহালের চোট মাদ্রিদকে বলতে গেলে একটুও ভোগায়নি, কিন্তু সালাহ মাঠ থেকে বের হয়ে যাওয়া পুরো খেলাটিই বদলে গিয়েছে লিভারপুলের জন্য।

এত ঘটন-অঘটনের মধ্যেও খেলার মূল যে লক্ষ্য, সেই গোলটাই হচ্ছিলো না। প্রথমবার বল জালে জড়ান করিম বেনজেমা, বিরতির ঠিক ২ মিনিট আগে। মাঝমাঠ থেকে আসা ক্রসে হেড করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যা ঠেকিয়ে দেন লিভারপুলের জার্মান গোলরক্ষক ক্যারিউস। ফিরতি বল আলতো টোকায় জালে জড়ান বেনজেমা। কিন্তু লাইনসম্যানের পতাকা উঠে ছিল আগেই- অফসাইড। বেনজেমা না, রোনালদো বল পেয়েছিলেন অফসাইড পজিশনে থেকে।

গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

এরপরের ৪৫ মিনিট যা হলো, তার জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউই!

সেকেন্ড হাফের ২ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ পান ইস্কো। তার বল কীপার ক্যারিউসকে ফাঁকি দিলেও ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। মনে হচ্ছিল এই সুযোগ হারানোর জন্য পস্তাতে হবে রিয়ালকে।

কিন্তু তার ৩মিনিটের মধ্যেই যা হলো, পাড়ার ফুটবলে সবচেয়ে আনাড়ি খেলোয়াড়টাও এমন কিছু করবে না! প্রতিপক্ষের পা ঘুরে বল আসলো ক্যারিউসের হাতে, তার কিছু দূরে দাঁড়ানো রিয়াল ফরওয়ার্ড বেনজেমা। দুলকি চালে এগিয়ে আসলেন বেনজেমা কীপারের দিকে, এসে যেন হঠাৎ হাল ছেড়ে দিয়ে ঘুরে চলে যাচ্ছিলেন। এমন সময়ই ক্যারিউস বল ছূঁড়ে দিচ্ছেন তার ডিফেন্ডারের দিকে বুঝতে পেরে হুট করে নিজের পা এগিয়ে দিলেন বেনজেমা, আর তার পায়ে লেগে বল আস্তে আস্তে গড়িয়ে গিয়ে জড়ালো জালে! হতভম্ব ক্যারিউস, হতভম্ব ক্লপ, হতভম্ব স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো লিভারপুল সমর্থকেরা! এত সহজ গোল সম্ভবত জীবনে কখনো স্কোর করেননি বেনজেমা।

এরকম অদ্ভুত গোল হজম করেও ভেঙ্গে পড়েনি অল রেডরা। বেনজেমার গোলের চার মিনিটের মধ্যেই দারুণভাবে ফিরে আসলো লিভারপুল। এই ফিরে আসা দরকার ছিল। বামপাশ থেকে ফারমিনো’র কর্নার লোভরেনের হেডারে এসে পড়ল সাদিও মানে’র পায়ে। সুন্দরভাবে মার্সেলোকে এড়িয়ে, নাভাসকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়ালেন জালে, সেই সাথে নিজের দুই সতীর্থের সাথে হয়ে গেলেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগের এ আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা (সালাহ ১০ গোল, মানে ১০, ফারমিনো ১০)। ম্যাচের তখন ৫৫ মিনিট।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০১৮ নিয়ন আলোয় neonaloy

৬০ মিনিটের মাথায় ইস্কোকে উঠিয়ে গ্যারেথ বেলকে মাঠে নামান জিনেদিন জিদান। তবে তার ঠিক আগ মুহুর্তেই লুকা মদ্রিচের পাস থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন ইস্কো, যা ঠেকিয়ে দেন ক্যারিউস।

মাঠে নেমে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি গ্যারেথ বেল। লেফট উইং-এ স্বভাবজাত ভাবে উঠেছিলেন মার্সেলো। বল আসলো তার পায়ে, স্বাভাবিকভাবেই ক্রস করলেন তিনি। সাধারণত তার ক্রসগুলো যতটা ভয়াবহ হয়, সে তুলনায় এই ক্রসটি ছিল মামুলি। গোল থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়ানো বেলের কাছে আসছিলো ক্রসটা। আচমকা সবাইকে হতবাক করে বাইসাইকেল কিক নিয়ে বসলেন বেল। জোরালো শটটি জায়গা করে নিলো বারের একদম উপরের বাম কোণায়! ডাইভ দিলেও তাকিয়ে দেখা ছাড়া এক্ষেত্রে কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক লরিস ক্যারিউসের। বেলের স্ট্রাইকে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল পুরো স্টেডিয়াম।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০১৮ নিয়ন আলোয় neonaloy

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সেরা গোল ধরা হতো রিয়ালের হয়ে বেয়ার লেভারকুসেনের করা বর্তমান মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদানের ২০০২ সালের গোলটিকে। তিনি পর্যন্ত বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন শিষ্যের কান্ড দেখে। নিঃসন্দেহে এটি ছাড়িয়ে গেছে এই ক’দিন আগেই বুফনকে পরাস্ত করে স্কোর করা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওভারহেড কিকের গোলটিকেও!

গ্যারেথ বেলের গোলের পর জিনেদিন জিদানের প্রতিক্রিয়াঃ

প্রায় সময়ই দেখা যায় খেলায় হারের পিছনে রেফারি কিংবা ভাগ্যকে দোষ দেন খেলোয়াড়েরা। এই ম্যাচে এরকম কিছু বলার সুযোগই নেই। অন্তত ভাগ্যকে দোষারোপ করার তো কোন প্রশ্নই উঠে না। ভাগ্য দুই পক্ষকেই সমান সুযোগ যেমন দিয়েছে, হতাশও করেছে সমানভাবে। রিয়াল মাদ্রিদের শট যেমন বারে লেগে ফিরে এসেছে, তেমনি বারের কারণে গোলবঞ্চিত হয়েছে লিভারপুলও!

ম্যাচের তখন ৭০ মিনিট। মোহাম্মদ সালাহ’র অভাব যেন একাই পুষিয়ে দেওয়ার পণ করেছেন সাদিও মানে। সমতা আনার জন্য মরিয়া লিভারপুল ফরওয়ার্ডের মাটিঘেঁষা জোরালো শট নাভাসকে ফাঁকি দিলেও ফিরে আসে বারে লেগে।

এক গোলে এগিয়ে থেকেও যেন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছিল না রিয়াল। যদিও লিভারপুলের প্রথম দিককার আধিপত্য কমিয়ে খেলা নিজের আয়ত্ত্বে নিয়ে এসেছিল তারা, তারপরেও মনোযোগে ঢিল দেয়নি এতটুকুও; একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছিল। ৮১ মিনিটের মাথায় গ্যারেথ বেলের পাস থেকে পাওয়া বলে শুট নেন করিম বেনজেমা, সেইভ করেন ক্যারিউস।

ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড আসে এর পরের মিনিটেই। একরকম বলা যায় সার্জিও রামোসের অভিজ্ঞতার কাছেই হলুদ কার্ড দেখেছেন সাদিও মানে। শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে বল রামোসের পায়ে, তার কাছেই দাঁড়ানো সাদিও মানে। এমন অবস্থায় অন্যান্য ডিফেন্ডারের লক্ষ্য থাকে যত দ্রুত সম্ভব বল বিপদমুক্ত করা। কিন্তু রামোস যেটা করলেন, সেটা করার জন্য হতে হবে আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর একজন ডিফেন্ডার, নাহলে সাক্ষাৎ পাগল কোন ব্যক্তি। রামোস বল ক্লিয়ার না করে অপেক্ষা করতে থাকলেন সাদিও মানে’র জন্য। সাদিও মানে পিছন থেকে বল নেওয়ার জন্য ট্যাকেল করতেই পড়ে গেলেন রামোস, হলুদ কার্ড জুটলো মানে’র কপালে।

তার পরের মিনিটেই আবারো পাগলামী! একদম ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন বেল। সামনে কাউকে না দেখে জোরালো শট নিলেন অনেক দূর থেকেই। তেমন বিপজ্জনক কিছু ছিল না, কীপার বরাবর সোজাই আসছিলো বলটা। কিন্তু ক্যারিউস কি ফিস্ট করতে চাচ্ছিলেন সেটা, নাকি ধরতে গিয়েছিলেন কে জানে! তার হাত ফস্কে বল জড়ালো জালে! এরকম সস্তায় গোল পেয়ে আবারো আনন্দে ভাসলো রিয়াল মাদ্রিদ। উদযাপন করবেন কি, হেসেই গড়াগড়ি খেলেন যেন মাদ্রিদিস্তারা। বদলি খেলোয়াড় হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল খেলতে নেমে জোড়া গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে ইতিহাস গড়লেন গ্যারেথ বেল।

ম্যাচের হাইলাইটসঃ

এরপরের সময়টুকু আর তেমন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেনি লিভারপুল। চেষ্টা করেছে ঠিকই, কিন্তু গত ৫ বছরে ৪ বার ফাইনাল খেলা মাদ্রিদের অভিজ্ঞতার সাথে আর পেরে উঠেনি। পুরো রাতে রিয়ালের একমাত্র আফসোস হতে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল না পাওয়া। ম্যাচের একদম শেষভাগে হয়তো গোল পেতেও পারতেন এ আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা, কিন্তু বল পায়ে আগানোর সময়ই মাঠে এক দর্শক ঢুকে পড়ায় রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা বন্ধ করেন।

ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশি বাজতে না বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন অল-রেড ডিফেন্ডার লোভরেন। একাই অন্তত দুইটা গোল বাঁচিয়েছেন তিনি। একবার রোনালদো’র পা থেকে, আরেকবার গ্যারেথ বেলের শট। কিন্তু শেষ রক্ষা তো হলো না তার নিজের দলের গোলরক্ষকের ভুলেই। স্তব্ধ হয়ে জার্সিতে মুখ ঢেকে বসে ছিলেন ক্যারিউস নিজেও। সম্ভবত এই এক ম্যাচই শেষ করে দিতে পারে তার ক্যারিয়ার।

তবে নিজের ভুলের জন্য দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। হাতজোড় করে কেঁদেছেন লিভারপুল স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো দর্শকদের সামনে গিয়ে। দর্শকরাও করতালি দিয়ে বরণ করেছেন তাকে। দিনশেষে এটা তো একটা খেলাই, না? অথচ তার প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও অনেক সময় অফফর্মের কারণে রিয়ালের ঘরের মাঠ বার্নাব্যু’তে দুয়ো শুনতে হয়েছে মাদ্রিদ সমর্থকদের কাছ থেকেই।

দিনশেষে অনেক কিছুকেই এই ম্যাচের সারমর্ম ধরা যায়- জিনেদিন জিদানের ফাইনাল জয়ের অপ্রতিরোধ্য ধারাবাহিকতা, ইয়ুর্গেন ক্লপের ফাইনাল-দুর্ভাগ্য, মো সালাহ-কারভাহালের ইনজুরি, কিংবা ক্যারিউসের ভুলে বেনজেমা-বেলের স্কোর করা। তবে পুরো ফাইনালটা এক বাক্যে বর্ণনা করতে হলে বলতে হয়- এরকম পাগলাটে ফাইনাল অনেকদিন দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। সর্বশেষ দর্শকের আবেগ নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করেছিলো ২০০৫ এর আসরের ফাইনাল। সেবারও ফাইনাল খেলেছিল লিভারপুল। প্রথমার্ধে ৩ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে এনেছিল সমতা; আর টাইব্রেকারে জিতেছিল শিরোপা। তবে সেইবারের ফাইনাল যদি তারা মনে রাখতে চায় অবিশ্বাস্য কামব্যাকের কারণে, এবারের ফাইনাল তারা ভুলে যেতে চাইবে গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য সব ভুলের কারণে। আর দর্শক হিসাবে আমাদের চাওয়া থাকবে প্রতিটা ম্যাচই যেন এমন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরপুর উত্তেজনায় ঠাসা থাকে।

Most Popular

To Top