ফ্লাডলাইট

আমার মনে এখনো সেই ব্রাজিল টিমটা গেঁথে আছে…

২০০২ সালে ব্রাজিল ছিল অসাধারণ...

২০০২-এ ক্লাস ফোরে পড়ি। গ্রামে থাকি, শহুরে বাচ্চাদের মতো অতো ভালো ফুটবল বুঝি না। ফুটবল মানেই আমাদের জন্য কাদামাখা বিলে দাপাদাপি, বৃষ্টি নামলেই মাঠে চলে যাওয়া। গ্রামের বাচ্চা-বাচ্চা তখন একজন ফুটবলারের নাম জানে, জিনেদিন জিদান। ৯৮’তে যার একক প্রদর্শনীতে ফ্রান্স জিতে গেলো বিশ্বকাপ।

শেষমেশ এলো সেই ২০০২ বিশ্বকাপ। কোন প্লেয়ার কোন ক্লাবে খেলে, কেমন খেলে কিছুই জানি না। ফুটবল বলতে গেলে প্রথমবারের মতো টিভিতে দেখছি। প্লেয়ারদেরও প্রথমবারের মতোই খেলতে দেখা। বড় ভাই আর আব্বু ব্রাজিল সমর্থক। আমিও তাই কিছু না বুঝেই ব্রাজিল ফ্যান। তবে বুঝতে শুরু করলাম ক’দিন পরেই।

২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল টিম

সেবারই প্রথমবারের মতো দেখলাম একটা টিম লেফট ব্যাক আর রাইট ব্যাকদের দিয়ে কেমন মুহুর্মুহু আক্রমণ করাতে পারে! লেফটে রবার্তো কার্লোস আর রাইটে মাইটি কাফু। ডিফেন্সের সেন্টারে ইয়ং লুসিও আর রকি জুনিয়র।

সবচেয়ে জাদুকরি ফ্যাক্টরটা ছিলো সেই দলের মাঝমাঠে লেফট উইংগার রোনালদিনহো। মাত্র ২২ বছর বয়সী সেই তরুণ রোনালদিনহোর প্রেমে পড়ে নি, এমন কোন দর্শক কি আছে?? আমার মনে হয় না!

প্লে-মেকার পজিশানে এক্সপেরিয়েন্সড রিভালদো, ফরোয়ার্ডে নান আদার দ্যান দ্য ফেনোমেনন হিমসেলফ, রোনালদো নাজারিও লিমা। সেই এক অদ্ভূত বিশ্বকাপ। সারাবিশ্বকে হুট করে কাঁপিয়ে দিলো সেনেগাল। স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া খেললো চোখ ধাঁধানো খেলা। ডেভিড বেকহামের পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার একরকম বিদায়ী টিকেট, ইংল্যান্ডের সাথে রোনালদিনহোর সেই ম্যাজিক্যাল ফ্রী-কিক।

রোনালদো বিশ্বকাপের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতি ম্যাচেই গোল করবেন। করেছেনও। সেমিফাইনালে গোল পান নি, পুষিয়ে দিয়েছেন ফাইনালে দুই গোল করে।

রিভালদোর শট অলিভার কান আটকে দিলেন। হুট করে কোত্থেকে যেন ছুটে এসে রোনালদো সেই বল পাঠিয়ে দিলেন জালে। আহা.. সেই স্বপ্নের ফাইনাল! যেই অলিভার কানের দুর্ভেদ্য দেয়াল টপকে পুরো টুর্নামেন্টে বল জার্মানীর জালে জড়িয়েছে মাত্র একবার, সেই জার্মানীর জালেই ব্রাজিল জড়ালো দুই গোল! যেই অপরাজেয় জার্মানী পুরো টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচেও হারেনি, তারা পরাজিত হলো ফাইনালে ব্রাজিলের সাথে! কাফুর হাতে বিশ্বকাপ, চারদিকে গ্লিটার, জরির ছড়াছড়ি। পরদিনের পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় সেই হাস্যোজ্জ্বল কাফু’র বিশ্বকাপ হাতে ছবি।

আমার মনে এখনো সেই ব্রাজিল টিমটা গেঁথে আছে। সেমিফাইনালের আগে রোনালদোর সেই হেয়ারকাট। সেই ২০ বছর বয়সী সাও পাওলো’তে খেলা কাকা।

ব্রাজিল ২০০২ নিয়ন আলোয় neonaloy

ফাইনাল ম্যাচের আগে রোনালদো’র অদ্ভুতুড়ে সেই হেয়ারকাট!

বিশ্বকাপ আসবে-যাবে। আমারও সেই পুরোনো ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে গা কাঁটা দিয়ে উঠবে। ছাদে আবার সেই একই উন্মাদনা টাঙিয়ে দিই প্রিয় দলের পতাকা, ব্রাজিল!

Most Popular

To Top