নাগরিক কথা

একটি কনসার্ট মাটি করার জন্য সামান্য অব্যবস্থাপনাই যথেষ্ট

কনসার্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

একটা রক কনসার্ট বা সংগীতসভা মানে কি শুধুই সেখানে যাওয়া, গান শোনা, ইচ্ছে হলে গাওয়া আর সেটা শেষে বাসায় ফিরে আসা?

এই কনসার্ট হচ্ছে এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে আর্টিস্ট এবং শ্রোতাদর্শক দুই গ্রুপ একসাথে এক হয়ে মিউজিকের আসল ব্যাপারটার অভিজ্ঞতা নিতে পারে! যা হচ্ছে নিছক এক হয়ে সঙ্গীত উপভোগ করা। কেউ গেয়ে এবং বাজিয়ে, আর কেউ সেটার সাথে তালে তালে গেয়ে বা শুনে। কিন্তু সেখানে যদি আয়োজকদের ম্যানেজমেন্টের অভাবে ঝামেলা সৃষ্টি করে, তখন জিনিসটা খুবই বাজে দিকে মোড় নেয়!

কথা বলছিলাম গত ১১ তারিখে আইসিসিবি’তে ঘটে যাওয়া কনসার্ট “Legacy of Rock ‘N Roll” এর। “ব্লু ফক্স এন্টারটেইনমেন্ট” প্রোডাকশন এবং “Dan cake” এর সৌজন্যে কনসার্টটি হবার কথা ছিলো! প্ল্যান ছিলো এই কনসার্টে বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডকে আমাদের বাংলাদেশী ব্যান্ডগুলো ট্রিবিউট দিবে তাদের জনপ্রিয় গানগুলো লাইভ কভার করে।

লাইনআপ

Best of Rock & Roll ~ Miles.
Iron Maiden ~ Cryptic Fate.
Metallica ~ Powersurge.
Pantera ~ Mechanix.
Linkin Park/Limp Bizkit ~ AvoidRafa.
Nirvana/System of A Down ~ Arbovirus.
Guns & Roses/Bon Jovi ~ Radioactive.
Foo Fighters ~ Owned.
Radiohead ~ Indalo.
Pink Floyd/Scorpions ~ Echos.
Lamb Of God ~ Trainwreck.
Creed ~ Connected.

এই লাইন-আপ নিয়ে এটা হতে যাচ্ছিলো বাংলাদেশে রকনেশনের পর সবচেয়ে বড় কনসার্ট। যেহেতু এত ব্যান্ড একসাথে পারফর্ম করতে সাধারণত রকনেশন ছাড়া আর কোন কনসার্টে দেখা যায় না। ৫০০/- টাকা করে টিকেট হলেও টিকেট বের হবার পর থেকে খুব তাড়াতাড়িই প্রায় সব শেষ হয়ে যায় তাই আগের দিন ইভেন্টের ফেসবুক লিংকে পোষ্ট দেওয়া হয় যে সবার ডিমান্ডে আরো ৫০০ টিকেট ছাপা হয়েছে, যারা কিনেনি এখনও জলদি যেন কিনে ফেলে। রকনেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই শো’টা দিয়ে যেন রক ফ্যানরা কিছুটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাতে পারে সেটা নিশ্চিত করার জন্য।

আস্তে আস্তে আসলো বহু প্রতিক্ষিত কনসার্টের দিন, শেষমেশ! সাধারণত কিছু অনিবার্য পরিস্থিতির কারনে সব কনসার্টই নির্ধারিত সময়ের কিছুটা দেরীতে শুরু হয়। ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। কনসার্ট শুরু হলো “কানেক্টেড” দিয়ে “ক্রিড” এর গান কভার শুরু করে।

কনসার্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

কানেকটেড এর পারফর্মেন্স (চিত্রধারকঃ-তাসিন জুলকারনাইন)

তারপর স্টেজে উঠলো “ওউন্ড” “ফু ফাইটার্সের” গান নিয়ে এবং এভাবে এক এক করে “ট্রেইনরেক”, “একোস” শ্রোতাদের জন্য পরিবেশন করে তাদের পারফর্মেন্স। যদিও সাউন্ডে ঝামেলা করছিলো টুকটাক কিন্তু এক একটা ব্যান্ডের অসাধারণ পারফরমেন্স দেখে ক্রাউড সেটা অনেকটা টের পেয়েও ভুলে ছিলো বলা যায়।

বিশেষ করে যখন “একোস” স্টেজে উঠে “পিংক ফ্লয়েড” এর বিভিন্ন গান কভার করছিলো। একটু সময় নিয়েছেন তারা সাউন্ড চেকিং-এ, কিন্ত তারা সেটা করেছিলেন ক্রাউডকে বেস্ট পার্ফরমেন্সটা দিতে। “পিংক ফ্লয়েড” এর মত ইমারসিভ আর্টিস্ট কভার করার জন্য আসলে প্রস্তুতির শেষ থাকতে পারে না।

তাদের অসাধারণ পারফরমেন্স দেখে ক্রাউড তাদের ছাড়তেই চাচ্ছিলো না স্টেজ থেকে কিন্তু সবারই পারফরমেন্স এর সময়কাল যেহেতু নির্দিষ্ট করা থাকে তাই তারা নেমে যেতে বাধ্য ছিলেন। ক্রাউড সবাই একসাথে বলছিলো “One more, One more”। মেইন ভোকাল ইফাজ হোসেন স্টেজ ছাড়ার আগে কিছু একটা জিজ্ঞেস করেছিলেন লিড গিটারিস্ট হামজাকে, ঠিক তখনই সেখানে ম্যানেজমেন্ট এর একজন অনেকটা টেনেই নামায় তাদের স্টেজ থেকে।

তারপর পাওয়ারসার্জ উঠে “মেটালিকা” এর যথাক্রমে “রাইড দ্যা লাইটনিং”, “ব্ল্যাকেনড”, “মাস্টার অফ পাপেটস”, “ব্যাটারি” এবং “ক্রিপিং ডেথ” কভার করে আবারও ক্রাউড মাতিয়ে তোলে। জামশেদ চৌধুরীর পাওয়ার ভোকাল, নাহিয়ানের দূর্দান্ত রীফ আর আরিফ মাহমুদের ডাবল প্যাডেল জানান দেয় “পাওয়ারসার্জ” নামটির সার্থকতা।

কনসার্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

পাওয়ারসার্জ!!! (চিত্রধারকঃ- ইব্রাহীম সৈকত)

এরপর ওঠে আর্বোভাইরাস এবং সবার মতো তারাও সাউন্ড চেক করা শুরু করে প্রথমে এবং চেক করার মধ্যে “কুইন” এর “উই উইল রক ইউ” কভার করে দেয়। যখন তাদের আসল পারফরমেন্স শুরু হয় তখন তারা “নির্ভানা”, “লিম্প বিজকিট”, “ডিস্টার্বড”, “সিস্টেম অফ আ ডাউন” এর যথাক্রমে “স্মেলস লাইক টিন স্পিরিট”, “টেইক আ লুক এরাউন্ড”, “ডাউন উইথ দ্যা সিকনেস”, “চপ সুই” এবং তাদের নিজেদের “অমানুষ” গায়। আর্বোভাইরাসে আক্রান্ত ক্রাউড সামনে নিয়ে শেষ হয় পার্ফরমেন্স।

তারপর স্টেজে উঠে “মেকানিক্স” এবং তারাও “প্যান্টেরা” এর “ওয়াক” দিয়ে শুরু করে “সেমিটেরি গেইটস” সহ আরো অনেক গান কভার করে। শেষে এক্স গিটারিস্ট জাহিন আহমেদ এর স্মরণে “অপরাজেয়” গেয়ে স্টেজ থেকে বিদায় নেন তারা।

কনসার্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

প্যান্টেরা ট্রিবিউট নিয়ে মেকানিক্স (চিত্রধারকঃ- তাসিন জুলকারনাইন)

এই পর্যায়ে মঞ্চে ওঠে “মাইলস” এবং শুরু করে “পিংক ফ্লয়েড” এর “টাইম” গান দিয়ে। তাদের বাকি পারফরমেন্স করার সময় আরেক ঝামেলার সূত্রপাত হয়। আসিফ ইকবাল জুয়েলের গিটার একটা গান শুরুর পরে মাঝপথে কানেকশন হারিয়ে ফেলে। জিনিসটা খুবই খারাপ দেখাচ্ছিলো যে তিনি গিটার স্ট্রামিং করছেন, পিকিং করছেন কিন্তু কিছুই বাজছে না এবং শেষে তিনি গিটার বদলাতে বাধ্য হন। শেষে “ড্রিম থিয়েটার” এর দুটো গান করেন যার একটা ছিলো “পুল মি আন্ডার” এবং “পাওয়ারসার্জ” এর ভোকাল জামশেদ চৌধুরীকে নিয়ে মেটালিকার “মাস্টার অফ পাপেটস” কভার করেন।

তারপর উঠলো বিখ্যাত “লিনকিন পার্ক” এর গান কভার করতে “এভোয়েডরাফা”। তাদের সাথে গিটারে ছিলেন জেরীফ আহমেদ যেহেতু মূল গিটারিস্ট সামির হাফিয ওয়ারফেজের সাথে সেদিনই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন বলে ধারনা।

“এভোয়েডরাফা” পারফর্ম করার সময়ই সবচেয়ে বড় ঝামেলাগুলোর একটা বাঁধে। তারা একটা গান শেষ করে “ওয়ান স্টেপ ক্লোসার” শুরু করেন। রাফা পুরো ফিল নিয়ে গাওয়ার সময় হঠাৎ করেই লাইট, সাউন্ড এবং পাওয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়। আইসিসিবি কর্তৃপক্ষ কনসার্ট শেষ করার জন্য এই কাজ করে।

কিছুক্ষন যাবার পরেও পাওয়ার না আসায় রাফা হেসে বলেন “We can’t do the show, goodnight everybody and thanks for being here.” স্টেজ থেকে পুরো ব্যান্ড নেমে যায় নিঃশব্দে।

পুরো ক্রাউডের সবার মন খারাপ হয়ে যায়। কারন উপস্থিত শ্রোতার অধিকাংশ যাদের গান শুনে বড় হয়েছে, যে “লিনকিন পার্কের” হাত ধরে বাংলাদেশের অধিকাংশ রক-প্রেমিক ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক আর্টিস্টদের সাথে পরিচিত হয়েছে, তাদের গান গাওয়ার সময়টাতেই আইসিসিবি অনুষ্ঠান সমাপ্ত করার সময় হিসেবে বেছে নেয়। ক্রিপ্টিক ফেইট, রেডিওএক্টিভ, ইন্ডালো স্টেজে উঠা বাকি ছিলো তখনও। কম বেশি সবাই রাগে আইসিসিবি’কে গালি দিতে দিতে বের হয় কনভেনশন সেন্টার থেকে। পুরো মন খারাপ নিয়ে বাড়ি ফেরে বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্মুখ ব্যান্ড মিউজিক ফ্যানরা।

বিভিন্ন মিউজিসিয়ান এবং তাদের ব্যান্ডের ফেসবুক প্রোফাইল/পেইজের বিভিন্ন পোষ্ট দেখে মিসম্যানেজমেন্ট এর ব্যাপারটা আরো ভালোভাবে বোঝা যায়।

ক্রিপটিক ফেইটের এই পোস্ট দেখার পর বোঝাই যাচ্ছে যে ব্যান্ড মেম্বাররা কতটা কষ্ট পেয়ে তাদের পার্ফরমেন্স বাদ করেছে। অথচ, এই ক্রিপটিক ফেইটের নাম দিয়েই টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছিল।

কনসার্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

ব্লু ফক্স এন্টারটেনমেন্টের টিকেট সেলিং এডভারটাইজমেন্ট

ডিও’র পোষ্টে মাইলসের গিটারিস্ট আসিফ ইকবাল জুয়েল সহ অনেকে কমেন্ট করেন মিসম্যানেজমেন্টের প্রসঙ্গ নিয়ে।


ব্লু ফক্স এন্টারটেইনমেন্টের মিসম্যানেজমেন্টে ক্ষুদ্ধ হয়ে ক্রাউড এই কারনে “ব্লু ফক্স এন্টারটেইনমেন্ট” এর ইভেন্ট লিংক এবং অফিসিয়াল পেইজে খারাপ রেটিং এবং রিভিউ দেওয়া শুরু করে।

কনসার্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

ব্লু ফক্সের পেজে ক্রাউডের পোস্ট

 

কনসার্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

ব্লু ফক্সের পেজে ক্রাউডের রিভিউ – ১

‘রেডিওঅ্যাক্টিভ’ পারফর্ম করতে না পারায় আয়োজকদের উপর বিরক্তি প্রকাশ করে। ‘ইন্ডালো’ পুরো ব্যান্ড কারো সাথে কথা না বলেই কনসার্ট ভেন্যু থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়।

পরে জানা যায় যে কনসার্ট শুরু হতে দেরী হওয়ার মূল কারন হলো মেইন স্টেজের কালো পর্দা দেয়া ব্যাক উড ফ্রেমটি পুরো ভেঙে পড়ে যায় কনসার্ট শুরুর আগেই। নতুন কাঠ এনে সেটা ঠিক করে আবার বানানো হয়, সেখানেই অনেক সময় নষ্ট হয়। আরো জানা গেছে, আইসিসিবি রাত ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল অনুষ্ঠানের। কিন্তু ব্লু ফক্স আরো সময় চাওয়ায় তারা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কনসার্ট চলতে দেয় এবং আচমকাই পাওয়ার কেটে দেয়।

ব্যান্ড জগতের প্রমুখ ব্যক্তিত্বের সাথে ভলান্টিয়ারদের অমার্জিত আচরণের খবর শুনতে পাওয়া গেছে। “আর্বোভাইরাস” এর গিটারিস্ট সুহার্তো শেরিফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ক্রু এর উপর আর্টিস্ট না চেনা ছেলেপেলেদের ভলান্টিয়ার হিসেবে রিক্রুট করার জন্য বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, কিছুটা মিসম্যানেজমেন্টের ঘটনা ঘটেছে আগেরদিন ১০ তারিখে বেঙ্গল বইয়ে আয়োজিত সাহানা বাজপাই এর অনুষ্ঠানে। একজন বিখ্যাত সংগীতশিল্পী দশ বছর পর দেশে ফিরে এটাই প্রথম ওপেন শোতে অংশ নেন। মানুষ তাই নেহায়েত কম ছিলো না। আয়োজনকারীদের সে মোতাবেক প্রস্তুতি না থাকায় নানাবিধ ঝামেলার সৃষ্টি হয়।

বেঙ্গল বইয়ের খোলা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় সংগীতসভার কিন্তু সেখানে স্টেজের পজিশনটা ছিলো অসুবিধাজনক। স্টেজটা ছিলো প্রাঙ্গণে ঢুকার পথে একদম হাতের বাম দিকে এবং তার সামনে খোলা জায়গাটিতে দর্শক শ্রোতাদের জন্য বসার ব্যবস্থা ছিলো। স্টেজটা দুইতলা বারান্দার একদম নিচে ছিল যার কারনে দুই তলায় এবং বারান্দায় থাকা মানুষ নিচে স্টেজ দেখতে পারছিলেন না। সাউন্ড বা লাইটে কোন সমস্যা না থাকার পরেও এত গাদাগাদি ভীড় এবং দাঁড়ানোর জায়গার অভাবে অনেকে রাগ করে বেরিয়ে পড়েন শো পুরোটা না দেখেই! ভীড়ের জন্য অনেকে প্রবেশের এর রাস্তা পার করে স্টেজ পর্যন্তই যেতে পারেননি। এন্ট্রেন্সে দাঁড়িয়ে গান শুনেছেন। অনেক মানুষ ভীড়ের জন্য তাদের প্রিয় শিল্পী সাহানার (যার জন্য প্রধানত তাদের সেখানে যাওয়া) চেহারাই ঠিকভাবে দেখতে পারেননি।

বেঙ্গল বই প্রাঙ্গণে সাহানা বাজপাই এর পার্ফরমেন্স

কোনভাবে ভীড় এবং গরমে দাঁড়িয়ে শুধু গান শুনেই তারা সন্তুষ্ট ছিলেন। ছিলনা অন্যান্য সেলিব্রেটি বা ভিআইপিদের জন্য কোন প্রকার সুব্যবস্থা। অভিনয়শিল্পী জিনাত সানু স্বাগতা এবং “ব্ল্যাক” এবং “মেটালমেজ” এর ড্রামার সামীউল ওয়াহীদকে দেখা গেছে এক কোনায় কোনভাবে দাঁড়িয়ে শো উপভোগ করতে। ভেন্যুতে ছিল না কোন পার্কিং এর সুব্যবস্থা যার কারনে গাড়ি রাস্তায় না রাখলেও অনেক বাইকার তাদের বাইক রাস্তায় রাখতে বাধ্য হন যার কারনে সেখান দিয়ে চলাচলকারী জনসাধারণের দৈনন্দিন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে!

একটি কনসার্ট/সংগীতসভা মানে শুধু একটি সাধারণ আয়োজন নয় যে কোন মতে গান শোনার ব্যবস্থা করলেই হয়ে যাবে। এখানে শিল্পী এবং শ্রোতাদর্শক যেমন এক হয়ে মিউজিকের আসল ব্যাপারটার অভিজ্ঞতা নেয়, তেমনই দুই পক্ষ তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু স্মৃতি আর সুন্দর মুহূর্ত রচনা করে। একজন মানুষের জীবনে কোন কিছুর উপরই স্থায়ী মালিকানা নেই।

আজ আছে, কাল গায়েব। কোন কিছুরই নিশ্চয়তা নেই আজীবন সাথে কিংবা কাছে থাকার কিন্তু এই সুন্দর স্মৃতিগুলো প্রত্যেকের কাছে নিরাপদ। জীবনের মোড়ে মোড়ে রচিত এবং সময়ে-অসময়ে রোমন্থন করা এই স্মৃতিগুলো অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকে জীবনের একদম শেষ ঘন্টা বাজার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে কেন আপ্লুতকর মূহুর্তের মূল রচনাস্থলে কোন কিছুর ঘাটতি থাকবে?

বর্তমান প্রেক্ষাপটে থার্ড পার্টি আয়োজনকারীরা একদম অপরিহার্য, কারণ তারা না থাকলে কোন আয়োজনই সম্ভব হত না। এতো বড় একটি ভূমিকা যেহেতু আয়োজনকারীদের ঘাড়ে, এটা তাদের পুরো মনযোগ দিয়ে ভালো করে পালন করা উচিৎ কোন প্রকার ঘাটতি ছাড়া।

পরিশেষে একটা তুলনা দিব। একটা ভালো ব্যান্ড/শিল্পী যেমন শ্রোতাদর্শক সমাজে সমাদৃত হয়, তেমনই একজন ভালো সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ব্যান্ড/শিল্পির কাছে সমাদৃত হন। কারন আর্টিস্টদের পার্ফরমেন্স কতটা ভালো বা খারাপ হবে তার একটা বড় অংশ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে থাকে। একজন ভালো আয়োজকও তেমনই, শ্রোতাদর্শক সমাজের চেয়ে শিল্পীদের কাছে বেশি সমাদৃত হবে এটাই কাম্য। কোন আয়োজকই চান না অনেক কষ্টে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান হাতেগোনা কয়েকটি অব্যবস্থাপনার জন্য মাটি হয়ে যাক। তবে সেজন্য প্রস্তুতিটাও থাকতে হবে সেরকম। বিশেষ করে টাকা দিয়ে টিকেট কিনে কনসার্ট দেখতে যাওয়া অডিয়েন্সকে হতাশ করার কোন অধিকারই কিন্তু কারো নেই।

আরো পড়ুনঃ বিরক্তির অপর নাম “ফোনোলাইভ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা”

Most Popular

To Top