বিশেষ

৫টি উপায়ে গলা টিপে মারুন নিজের সফলতার সব সম্ভাবনা!

সফলতা নিয়ন আলোয় neon aloy

আমরা প্রত্যেকেই জীবনে সফল হবার স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করি। অনেকেই সফল হই, অনেকেই হই না। অনেকেই স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেক রাস্তা খুঁজি। স্বপ্ন পূরণ করে আমরা নিজেদের একটা ছাপ রেখে যেতে চাই পৃথিবীতে।

কিন্তু স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন পূরণের মাঝে রয়েছে বিশাল পার্থক্য। স্বপ্ন সবাই দেখে কিন্তু স্বপ্ন পূরণে সফল হতে পারে কয় জন? স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন পূরণের এই ইচ্ছা আর সম্ভাবনা নিয়ে ব্রাজিলিয়ান উদ্যোক্তা বেল পেসি ২ বছর ধরে একটি গবেষনা চালিয়েছেন। তিনি দেখেছেন যে চেষ্টা করলে স্বপ্ন পূরণ করা সহজ। কিন্তু একই সাথে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো আমাদের স্বপ্ন পূরণে বাধা দেয়। সবাই তো মোটিভেশন দিয়ে স্বপ্ন পূরণে সাহায্যে করে। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধাগুলো নিয়ে কেউ কথা বলে না। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেগুলো কি কি।

রাতারাতি সফলতা ও খ্যাতি

স্টিভ জবস কিংবা বিল গেটস এর মত মানুষগুলো একেকজন সফল উদ্যোক্তা। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই কিন্তু তারা সফল হননি। উনাদের দেখে মনে হয় এ আর এমন কি? আমি চাইলেই এরকম সফল হতে পারবো।

কিন্তু আসলেও কি তাই? মোটেও নয়। এই সফলতার পেছনে উনারা যেই শ্রম দিয়েছে সেটা আমরা দেখি না। Angry Birds গেমটার কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি। এটা নিয়ে সিনেমাও বানানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এই গেমটা আমাদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে। অনেকেই মনে করে যে ওরা বুঝি একটা গেইম বানালো আর প্লে স্টোরে দেওয়ার সাথে সাথেই সেটা সুপারহিট হয়ে গেলো। কিন্তু এর পেছনের কথা কেউ জানে না। আপনি কি জানতেন এই অ্যাংগ্রি বার্ডস গেমটি বানানোর আগে এর ডেভেলপার আরো ৩০ টা গেম বানিয়েছিল যার প্রায় প্রত্যেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে? সফলতা খুব সহজেই তার হাতে ধরা দেয়নি।

তাই আমরা যদি ভেবে থাকি যে স্বপ্ন দেখলাম, আর হুট করে রাতারাতি সেটার উপর ভিত্তি করে আমরা সফল হয়ে যাবো- তবে তা সম্পূর্ণ ভুল। বরং আমাদেরকে স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রম করতে হবে।

অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া

আমরা প্রায়ই এই কাজটা করি। নিজেদের ব্যর্থতা আরেকজনের উপর চাপিয়ে। স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাই; কিন্তু একটু ব্যর্থ হলেই আরেকজনের উপর দোষ দিয়ে দেই। হয়তো কেউ আমার প্রজেক্টে ফান্ডিং করতে চাইলো না,তখন দোষ দিয়ে দেই যে আমার প্রজেক্টটা বুঝেনি কিংবা ফান্ডিং না করে ভুল করছে। হয়তো ভাল কোন আইডিয়া পেলাম কিন্তু সফল হচ্ছি না, হয়তো বললাম যে আমার টিম মেম্বাররা ভাল না। বাজারে কোন নতুন প্রোডাক্ট ছাড়লাম কিন্তু লাভ হল না, বললাম যে মানুষ বোঝেনি।

কিন্তু আসলেও কিন্তু দোষ আমাদের টিমে কিংবা ফান্ডিং-এ কিংবা ভোক্তায় নয়। সমস্যাটা আমার নিজের, আমার প্রোডাক্টের। অবশ্যই আমার নিজের কিছু দোষ রয়েছে। অবশ্যই আমার প্রোডাক্টের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে তাই সফল হয়নি। তাই পরবর্তীতে অন্যের উপর দোষ না দিয়ে আমরা নিজেদের দোষ খুঁজে বের করব, নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিব- তবেই সফলতা আসবে।

অন্যের কাছে উত্তর রয়েছে

মাঝে মাঝে আমরা খুব দিশেহারা হয়ে যাই। কি করব – কি না করব তা বুঝতে পারি না। পরিবার, বন্ধু সকলের কাছেই আমরা খুব আগ্রহ ভরে জানতে চাই আমার কি করা উচিত। অনেকেই অনেক ধরনের উত্তর দেয় আমাদের। কেউ বলে এই দিকে যাও, তো আরেকজন বলে অন্যদিকে। আমরা সত্যিকার অর্থেই দিশেহারা হয়ে যাই কি করব তা ভেবে।

কিন্তু একই সাথে সকলের কথা মানলে তো কোন কিছুই হবে না। স্বপ্ন পূরণের এই ধাপগুলোতে আমাদের নিজের উপর ভরসা রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজে থেকে ঠিক করে সেই পথে এগিয়ে গেলে আমরা কোন না কোন সময় আমাদের সঠিক পথটা খুঁজে নিতে পারব। আমাদের জন্য কোনটা ভাল,আমাদের স্বপ্ন পূরণে কোনটা ঠিক – এর উত্তর আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে। অন্য কারো কাছেই এর সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে না। সবাই সবার সুবিধামত উত্তর দিবে, কিন্তু আপনার জন্য কোনটা ঠিক সেটা শুধু আপনি-ই সবচেয়ে ভাল জানবেন।

তাই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে হবে আর সেইভাবেই আগাতে হবে। তাহলে কোন না কোন সময় সফলতা আসবেই।

স্বপ্নই শুধু মুখ্য

স্বপ্ন পূরণের রাস্তা পেয়ে গেলাম। পূরণের জন্য কাজও শুরু করে দিলাম। সফলও হলাম! কিন্তু তা-ই কি সব? সফলতা কতক্ষণ থাকবে? আমরা কাজ করে যখন সফলতা পাই তখন তা আনন্দের সাথে উদযাপন করি। কিন্তু তা কিছুক্ষণের জন্য। মানুষ খুব তাড়াতাড়ি অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন এই সফলতার মূল্য কি থাকলো?

তাই স্বপ্ন পূরণে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে যে আমরা যেন শুধু কাজই না করে যাই। স্বপ্ন পূরণে অনেক বাধা আসবে, কিন্তু সেগুলোকে পাশ কাটিয়েই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু তাই নয়, বরং সেসকল বাধা থেকে আমাদেরকে শিক্ষাও গ্রহণ করতে হবে যেন পরবর্তীতে এরকম কিছু না হয়। স্বপ্ন পূরণের প্রত্যেকটা পথকে আমাদের অনুভব করতে হবে। এভাবে অনুভব করে এগিয়ে গেলেই আমরা যেমন শিক্ষাগ্রহণ করতে পারব, তেমনি সফলতার উদযাপনটাও আমরা অনুভব করে জীবনকে আগলে রাখতে পারব।

সফলতার পর স্থির হয়ে যাওয়া

স্বপ্ন নিশ্চিত করলাম। এগিয়ে গেলাম। সফলতাও আসলো। কিন্তু তাতেই কি শেষ? আমরা কি এখানেই থেমে যাব? বিল গেটস তো তার সেক্টরে সবচেয়ে সফল। তাই বলে কি তিনি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন? মোটেও নয়। বরং তিনি আরো নতুন উদ্যমে এগিয়ে গিয়েছেন।

তাই আমাদেরও উচিত সফলতা আসার পর কখনোই থেমে না যাওয়া। একটি সাফল্যের পর আমরা আরো বড় কিছুর স্বপ্ন দেখবো, সে স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাব। কিন্তু সফলতা আসার পরই স্থির হয়ে যাওয়া বিজ্ঞজনের কাজ নয়। সফল উদ্যোক্তরা প্রত্যেকই সফল, কিন্তু কেউই থেমে থাকেননি। বরং নিজের অবস্থানের চেয়ে আরো উপরে আরো বড় অবস্থানে যাওয়ার জন্য তারা সর্বদাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আর সেজন্যই তারা এগিয়ে আছেন।

স্বপ্ন পূরণ করতে আমরা সবাই সচেষ্ট। আমরা এগিয়েও যাই। কিন্তু যদি এই এগিয়ে যাওয়ার পথে কোন না কোন ভাবে এই পাঁচটি জিনিসে আটকে যাই তাহলে খুব সুন্দরভাবে আমরা নিজেরাই আমাদের স্বপ্নগুলোকে গলা টিপে মেরে ফেলব। কখনোই রাতারাতি খ্যাতিতে ভোলা যাবে না; তাতে সফলতা আসে না। অন্যের কাছে কখনোই আপনার সমস্যার সঠিক সমাধান নেই। কোন কারণে বাধা পড়লে তাতে অন্য কারো নয়, বরং আপনার নিজেরই দোষ আছে। শুধু সফলতাকেই মুখ্য করে নয়, বরং তা অর্জনের পথ থেকেও আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আর সবশেষে, শুধু সফলতা অর্জন করে স্থির হয়ে নয় বরং এর চেয়ে বড় কিছু অর্জনের আশা করে এগিয়ে যেতে হবে।

Most Popular

To Top