ইতিহাস

ত্রিদেশীয় সিরিজের অতীতটা ছিল সুন্দর, কিন্তু ভবিষ্যত?

ট্রাই নেশন সিরিজ নিয়ন আলোয় neon aloy

রঙিন পোশাকে একদিনের ক্রিকেট শুরুর পর আশির দশক থেকে ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলো ট্রাইনেশন সিরিজ বা তিনজাতি টুর্নামেন্টগুলো। ক্রিকেট কখনো কখনো কুয়াড্রানগুলার বা চারজাতি টুর্নামেন্টের স্বাদও নিয়েছে।

ক্রিকেটের উন্মাদনা এবং টানটান উত্তেজনার পসরা সাজিয়ে আবির্ভাব হয়েছিলো শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। বছরে সাধারনত দুটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হতো এই স্টেডিয়ামে, একটি “শারজাহ কাপ” অন্যটি “চ্যাম্পিয়নস ট্রফি”। আইসিসির চ্যাম্পিয়নস ট্রফি না, আমিরাত বোর্ডের আয়োজনে তিন/চার দল নিয়ে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টের নাম ছিলো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (সিঙ্গার-আকাই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, পেপসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, কোকাকোলা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ইত্যাদি স্পন্সর বদলের সাথে নাম বদল হতো)।

১৯৮৫ সালে “Rothmans Four Nations Cup” দিয়ে শারজাহ স্টেডিয়ামে প্রথম চারজাতি টুর্নামেন্ট শুরু হয় মার্চ মাসে আর “Rothmans Sharjah Cup” শুরু হয় নভেম্বর মাসে। শারজাহ কাপ মূলত ট্রাইনেশন সিরিজ হলেও ১৯৮৭ সালে অংশ নিয়েছিলো চার দেশ (ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া)।

শারজাহ কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পাশাপাশি শারজাহ স্টেডিয়ামের আরো একটি জমজমাট টুর্নামেন্ট ছিলো অস্ট্রাল-এশিয়া কাপ। ১৯৮৬ সালে এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের ফাইনালে শেষ বলে ভারতের চেতন শর্মাকে ছয় মেরে পাকিস্তানকে ট্রফি জিতিয়েছিলেন জাভেদ মিঁয়াদাদ। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ অন্যরকম উত্তেজনার ক্রিকেটীয় যুদ্ধে পরিনত হয় এই ম্যাচের পর থেকেই।

১৯৯৮ সালে কোকাকোলা শারজাহ কাপের নক আউট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শচীন টেন্ডুলকারের “ডেজার্ট স্ট্রম” এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে ফিরে। টেন্ডুলকারের হাতে বেদপ পিটুনি খেয়ে রুমাল দিয়ে শেন ওয়ার্নের মুখ ঢাকার দৃশ্য কি ভুলে থাকা যায়?

এছাড়া “Wills Trophy” “ARY Gold Cup” “Khaleej Times Trophy” ইত্যাদি ছিলো শারজাহ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বড় বড় ট্রাই নেশন সিরিজ।

কিন্তু ম্যাচ ফিক্সিং ইস্যুতে পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে এক সময় কলংকিত হয় শারজাহ কাপ। অন্তত ১২ ম্যাচে ফিক্সিং-এর সাথে জড়িত ছিলো পাকিস্তান। বিবিসি, আইসিসি গোপন তদন্ত করে এসব তথ্য পায়। ২০০১ সালে ভারতীয় হাইকোর্ট এক রায়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের শারজাহ স্টেডিয়ামে কোন ম্যাচে অংশগ্রহন নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। লক্ষ্য করছেন কিনা, এই বছর বিসিসিআই এশিয়া কাপ আরব আমিরাতে আয়োজন করলেও ভেন্যু তালিকায় তাই নেই শারজাহ স্টেডিয়াম।

ভারতের অংশগ্রহন নিষিদ্ধ হবার পর ২০০৩ সালে বন্ধ হয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী শারজাহ কাপ।

বড় দলগুলার ট্রাই নেশনের ভেতর আরেকটি সুপরিচিত টুর্নামেন্ট ছিলো অস্ট্রেলিয়ান ট্রাই নেশন সিরিজ (সিবি সিরিজ)। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সফরকারী দুটি দল অংশ নিতো। ১৯৭৯-৮০ সালে শুরু হয়ে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রতিবছর হয়েছে এই টুর্নামেন্ট। জন্ম দিয়েছে প্রথম ডে-নাইট ওয়ানডে ম্যাচের (২৭ নভেম্বর ১৯৭৯, অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। এই টুর্নামেন্ট জন্ম দিয়েছে বিতর্কিত “আন্ডার আর্ম বোলিং”। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য ৩ রান দরকার ছিলো, ইংল্যান্ড অধিনায়ক উইকেট-কিপারসহ ১০ জন ফিল্ডারকে বাউন্ডারি লাইনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, ওয়েস্ট উইন্ডিজ নিতে পেরেছিলো মাত্র ১ রান। এই ঘটনা এতো বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো যে আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেটে Fielding Restrictions এর নিয়ম চালু করে ৩০ গজের সার্কেল যুক্ত করে।

এইরকম অসংখ্য ইতিহাসের জন্ম দেয়া অস্ট্রেলিয়ান সিবি সিরিজ অনিয়মিত হয়ে পড়ে ২০০৭ বিশ্বকাপের পর। ২০১১-১২ সালের পর হয়েছিলো ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে তবে সেটা কিছুটা পরিবর্তিত সূচীতে। আগের মতো বেস্ট অব থ্রি ফাইনাল ছিলোনা, মোট ম্যাচ হয়েছিলো সাতটি।

এছাড়া স্বাধীনতা কাপ নামে এশিয়ার সব দেশেই ট্রাই নেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় সব দলের ক্রিকেট সূচীতে গুরুত্বপুর্ন অংশ দখল করেছিলো ট্রাই নেশন সিরিজ।

কিন্তু আস্তে আস্তে ক্রিকেটের সূচী পাল্টাতে শুরু করে। হারাতে বসে ট্রাই নেশন সিরিজ। আইপিএল, সিপিএল, বিগব্যাশ, বিপিএল, পিএসএল ইত্যাদি ফ্রাঞ্চাইজি লীগের কারনে ক্রিকেটাররা প্রচন্ড ব্যস্ত, প্রতিটা দেশের রয়েছে নিজস্ব লীগ।

ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক টি-২০ লীগ, যেখানে ক্রিকেট খেলাটাই সবসময় মুখ্য নয়।

৫০ ওভারের ট্রাই নেশন ক্রিকেট খেলার জন্য তিনটা দেশকে একত্রিত করাটা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ এখনো বিভিন্ন সময়ে ট্রাই নেশন খেলছে তবে সেগুলা সবই ২০১৪ সালে করা এফটিপি অনুযায়ী। ২০১৪ সালে এফটিপি করার সময়েই বড় দলগুলা ট্রাই নেশন সিরিজ পরিহার করেছিলো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবশেষ বড় কোন ৫০ ওভারের ট্রাই নেশন সিরিজ কবে দেখেছেন?

সম্ভবত জুন ২০১৬ সালে, অস্ট্রেলিয়া-সাউথ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভেতর।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বশেষ চার জাতি টুর্নামেন্ট কবে হয়েছিলো?

সম্ভবত জুলাই ২০০৭ সালে, আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে অন্য তিন দল ছিলো আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস।

একটা সময় ট্রাই নেশন সিরিজে গ্রুপ পর্বে প্রতিটা দল একে অপরের সাথে তিন ম্যাচ করে খেলতো, ফাইনাল সহ ম্যাচ হতো দশটা। অস্ট্রেলিয়ার সিবি সিরিজে একে অপরের সাথে চারটা করে ম্যাচ খেলতো গ্রুপে পর্বে, তারপর হতো বেস্ট অব থ্রি ফাইনাল। অনেকটা তিন ম্যাচের ফাইনাল সিরিজ। কোন দল প্রথম দুই ফাইনাল জিতে গেলে তৃতীয় ম্যাচ আর অনুষ্ঠিত হতো না।

আরো পড়ুনঃ

বিমান দুর্ঘটনা নিয়ন আলোয় neon aloy

১০টি দুর্ঘটনা, যা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিমান চলাচল হয়েছে আরো নিরাপদ

এখন বাস্তবতা মিলিয়ে নেয়া যাক, পূর্ন শক্তির তিনটা দলকে কি এতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য ফ্রি পাওয়া সম্ভব? ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচী আর নিজস্ব ফ্রাঞ্চাইজি লীগের পর থাকে গুরুত্বপুর্ন প্লেয়ারদের (Key Players) বিশ্রামের প্রশ্ন। যার ফলে ৫০-ওভারের তিন জাতি টুর্নামেন্ট আয়োজন বর্তমানে এক অসম্ভব বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

তবে কি হারিয়ে যাবে আন্তর্জাতিক ট্রাই নেশন সিরিজ? এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর বিশ্বকাপের বাইরে বাইল্যাটেরাল (দ্বিপাক্ষিক) সিরিজ দিয়েই চলবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট?

সম্ভবত না! বোর্ডগুলা একটা উপায় বের করে ফেলেছে। ট্রাই নেশন সিরিজ হবে তবে সেটা টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে।

আইসিসির পূর্নাঙ্গ সদস্য দেশসমূহের ভেতর প্রথম টি-টুয়েন্টি ট্রাই নেশন টুর্নামেন্ট খেলেছিলো বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে-সাউথ আফ্রিকার ভেতর। ২০১২ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলা অবশ্য আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ছিলোনা, ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ

পর্নোগ্রাফি নিয়ন আলোয় neon aloy

 

পর্নোগ্রাফি কে না বলুন!

পূর্নাঙ্গ সদস্য দেশগুলার ভেতর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হয় এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে, ট্রান্স-তাসমান ট্রাই-সিরিজ নামে এই টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের ব্রেইন প্রোডাক্ট। ব্যতিক্রমী এই টুর্নামেন্ট হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড এই দুই দেশ মিলিয়ে। সফরকারী দল ছিলো ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাইরে এই প্রথম কোন ট্রাই নেশন দুই দেশ মিলিয়ে আয়োজন করা হয়।

অতীতে যেখানে আইসিসির পূর্ন সদস্য দেশগুলার ভেতর আন্তর্জাতিক ট্রাই নেশন সিরিজ হয়নি সেখানে ২০১৮ সালেই হচ্ছে তিনটি। পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড-স্কটল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস খেলছে আরো একটি। অর্থাৎ ২০১৮ সালেই চারটি আন্তর্জাতিক ট্রাই নেশন সিরিজ উপভোগ করবে ক্রিকেট বিশ্ব।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ট্রাই নেশন বাতিল না হলে সংখ্যাটা দাড়াবে পাঁচে।

ট্রান্স-তাসমান ট্রাই-সিরিজ ছিলো সফল একটি সিরিজ। হাই স্কোরিং ম্যাচগুলা দর্শকের বিনোদনের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ সফল ছিলো।

এরপর মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয় “নিদাহাস ট্রফি”। শুধু মাঠ না মাঠের বাইরেও ব্যাপক আলোচিত হয় এই টুর্নামেন্ট। শুরুতে অনেকেই বাংলাদেশকে হিসাবের বাইরে রাখলেও আয়োজক শ্রীলংকাকে টুর্নামেন্টের দর্শক বানিয়ে ফাইনালে পৌছে যায় বাংলাদেশ। ট্রফিতে হাত রেখেও মুঠোবন্দী করতে পারেনি অল্পের জন্য। টুর্নামেন্টের দীর্ঘমেয়াদের আউটপুট হিসেবে পাওয়া গিয়েছে “বাংলাদেশ-শ্রীলংকা” রাইভালরি।

নিদাহাস ট্রফির জন্য উদ্দ্যেশ্যহীন বাংলাদেশ স্কোয়াড!- নিয়ন আলোয়

বছরের অন্য বড় ট্রাই নেশন হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-জিম্বাবুয়ে-পাকিস্তানের সিরিজটি। অস্ট্রেলিয়া লম্বা সময়ের জন্য জিম্বাবুয়ে সফরে আগ্রহী না। ২০০৩ সালের পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেনি তারা, এবারো সূচীতে ১ টেস্ট আর ৩ ওয়ানডে ছিলো জিম্বাবুয়ের মাটিতে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে টেস্ট আয়োজন করার মতো “আর্থিক সক্ষমতা” নেই বর্তমানে। ফলে অস্ট্রেলিয়া আর পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ সংক্ষিপ্ত করে আয়োজন করা হয়েছে “টি টুয়েন্টি ট্রাই নেশন”।

আয়ারল্যান্ড আর সহযোগী দুই দেশ স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস তারাও বেছে নিয়েছে টি-টুয়েন্টি, এই ফরম্যাটই তাদের দেশের জন্য আদর্শ।

কেন টি-টুয়েন্টি হতে পারে ট্রাই নেশনের ভবিষ্যৎ?

প্রথম কারন অবশ্যই দর্শক চাহিদা। বর্তমান যুগ টি-টুয়েন্টির যুগ। মাঠে দর্শক আনার জন্য টি-টুয়েন্টির চেয়ে আদর্শ আর কি আছে বর্তমানে? অতীতে শ্রীলংকার গ্যালারী দর্শক শূন্যতায় ভুগেছে কিন্তু নিদাহাস ট্রফিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক ছিলো।

দ্বিতীয় কারন, সময়। খুব অল্প সময়ে টি-টুয়েন্টি ট্রাই নেশন আয়োজন করা সম্ভব। লম্বা সময়ের জন্য তিনটা দেশের সূচীতে সময় বের করা কঠিন হলেও অল্প সময়ে সেটা সম্ভব। ভারত সাউথ আফ্রিকা সফরের মাত্র দশ দিন পর এবং আইপিএল শুরুর দুই সপ্তাহ আগে মাত্র বারো দিনের ভেতর নিদাহাস ট্রফিতে অংশ নেয়।

আরো পড়ুনঃ

যে শিশুটি বদলে দিল ক্রিসমাসের তারিখ/NeonAloy

 

যে শিশুটি বদলে দিল ক্রিসমাসের তারিখ

বারো দিন যদি বেশি মনেহয় তাহলে তারচেয়েও কমে টুর্নামেন্ট শেষ করা সম্ভব! ফাইনালের আগে একদিন গ্যাপ রেখে গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন খেলা রেখে ১-৮ জুলাই অর্থাৎ মাত্র সাত দিনে শেষ হবে অস্ট্রেলিয়া-জিম্বাবুয়ে-পাকিস্তানের ট্রাই নেশন সিরিজ।

তৃতীয় আরেকটা কারন হচ্ছে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে গুরুত্বপুর্ন এবং বেশি ম্যাচ খেলা প্লেয়ারদের বিশ্রাম দেয়া সম্ভব। বর্তমানে প্রায় সব দেশেরই টি-টুয়েন্টি বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে। ফলে নিয়মিত টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলা প্লেয়ারদের বিশ্রাম দিয়েও ভালো একটা স্কোয়াড দাড় করানো সম্ভব। উদাহরন হিসেবে নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের স্কোয়াড উল্লেখ করা যায়। এছাড়া সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ইত্যাদি দেশের টি-টুয়েন্টি টিমের দিকে তাকালেও বিষয়টা বুঝতে পারবেন।

এক সময় ধারনা করা হতো হোম টিম ফাইনালে না খেললে ফাইনাল বিবর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু নিদাহাস ট্রফি দেখিয়েছে “পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং উপযুক্ত মঞ্চ” পেলে নিরপেক্ষ ফাইনালেও প্রচুর দর্শক হতে পারে!!!!

এছাড়া স্পন্সর, ব্রডকাস্টিং পার্টনার হিসেবে যারা থাকে তারাও টি-টুয়েন্টি ট্রাই নেশন নিয়ে যথেষ্ঠ আগ্রহী থাকে। এই ধরনের টুর্নামেন্ট সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ন হয়ে থাকে। আগে থেকে কিছুই বলা যায়না।

বর্তমানে ক্রিকেটের বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে ব্যস্ত সূচীর ফাঁকে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটই তাই হতে পারে ট্রাই নেশন সিরিজের ভবিষ্যৎ!

তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, ট্রাই নেশনের অতীত যতটা সুন্দর ভবিষ্যৎ কি ততটা সুন্দর হবে? ৫০-ওভারের ক্রিকেটে একজন ক্রিকেটারের নিজেকে যতটা উপস্থাপনের সুযোগ থাকে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে কি থাকে? মাত্র চার ওভার বল করে কি ওয়াসিম আকরাম, গ্লেন ম্যাকগ্রা বা মুরালি, শেন ওয়ার্নের মতো জাদুকরি স্পেল উপহার দেয়া সম্ভব হবে? অথবা টেন্ডুলকার, জয়াসুরিয়া, হেইডেন, ব্রায়ান লারাদের মতো মহাকাব্যিক ইনিংস? যেখানে ব্যাটসম্যান শুরুতে চাপে থাকবে, দলকে চাপমুক্ত করবে তারপর আস্তে আস্তে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন নিয়ে খুলে বসবে দূর্দান্ত সব শটের প্রদর্শনী?

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট যেন শুধু “উইকেটে যাও, মারো অথবা মরো”, একজন ব্যাটসম্যানের ক্ল্যাস চেনানোর জায়গা টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট না। শুরুতে পিটুনি খেয়ে দূর্দান্ত প্রতাপে ফিরে আসার সুযোগ কোন বোলারকে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট দেয়না।

তাই অতীতের ট্রাই নেশন সিরিজগুলার মতো ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিবে কিনা ভবিষ্যতের ট্রাই নেশন সিরিজসমূহ তার উত্তর একমাত্র সময়ই বলে দিবে। এখন শুধু এইটুকুই বলা যায় “টি-টুয়েন্টি সময়ের দাবি”!!

আরো পড়ুনঃ

 

একটা ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং একটি লাইম গাছের গল্প

Most Popular

To Top