লাইফস্টাইল

সফল হওয়া কঠিন কিছু না

সফল হওয়া কঠিন কিছু না /NeonAloy

কর্মজীবনে সফলতা অর্জনের জন্য আমরা সবাই কঠোর পরিশ্রম করি। কে না চায় সহজে তার পদোন্নতি হোক। আপনার স্বপ্নের চাকরি বা পদোন্নতির জন্য আপনাকে খুব কঠিন করে চিন্তা করতে হবে না। এছাড়া আপনার বস কিংবা বিভিন্ন মানুষের দাঁড়ে দাঁড়ে ঘুরতে হবে না। কিছু সহজ কৌশল যা সত্যিকার অর্থে আপনার জীবনের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে।

১. প্রফেশনাল জীবনে ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করুন এবং ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিন। কাজে যদি আপনি একেবারেই নতুন যোগদানকারী না হয়ে থাকেন কিংবা নতুন কর্মী হলেও, আপনার বস কিংবা আপনার কোম্পানি আপনার কাছে নতুন কিছু আশা করবে সবসময়। বেশির ভাগ মানুষ কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। তারা নিজেকে একটি চক্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। নতুন কিছুর অভিজ্ঞা অর্জন করতে চায় না। কেমন হবে যদি আপনি সেই ১% এর মধ্যে থাকেন যারা জীবনে ঝুঁকি নিয়ে সফলতা অর্জন করছে?

২. মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করুন। টনি রবিন্সের একটি উক্তিতে আছে, সান্নিধ্যতা সবচেয়ে বড় শক্তি । অর্থাৎ আপনি যদি সাফল্য অর্জনকারী ব্যক্তিদের সাথে থাকেন তবে আপনি স্বাভাবিকভাবে অনেক এগিয়ে থাকবেন। নেটওয়ার্ক তৈরি করুন আর মানুষের সাথে মেলামেশা বাড়ান। প্রত্যেক সপ্তাহে একজন নতুন মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করুন।

৩. প্রত্যেক মাসে একটি নির্দিষ্ট গোল সেট করুন। আপনি হয়তো ভাবছেন বছর শেষে অনেক গুলো টার্গেটে সাফল্য অর্জন করবেন। কিন্তু বছর শেষে দু-একটি বাদে তেমন কিছুতেই সাফল্য আসছে না। সমস্যাটা কোথায় জানেন? একটি বছর শেষ হতে অনেক সময় লাগে। আপনি যদি প্রত্যেক মাসের টার্গেট শেষ করতে না পারেন তবে আপনার পক্ষে কখনই সম্ভব না বছরের টার্গেট পূরণ করা। তাই প্রত্যেক মাসে একটি নির্দিষ্ট বড় টার্গেট সেট করতে হবে।

৪. একটা সপ্তাহ সময় নেন এবং আপনার ১০০জন স্বপ্নের মানুষকে ইমেইল করেন। আপনি যদি আপনার পছন্দের ব্যক্তিদের ইমেইল পাঠান আর আপনার স্বপ্ন সম্পর্কে জানাতে সক্ষম হন তবে কমপক্ষে ৫ জন ব্যক্তির কাছে আপনার মনের কথা পৌঁছাবে। ভাবতে নিশ্চই আপনার ভালো লাগছে। এটি সত্যিই সম্ভব।

৫. ভার্চুয়াল সহযোগী রাখুন। আপনার সময়কে নষ্ট করে এমন কাজ ভার্চুয়াল সহযোগী দিয়ে করান। ধরুন ডাটা এন্ট্রি বা রিসার্চের মতো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার গুলোতে আপনাকে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। আপনি অবশ্যই কাউকে নিয়োগ দিয়ে সহজেই সম্পূর্ন করাতে পারবেন। এর জন্য আপনার কিছু টাকা দিতে হবে কিন্তু আপনার মূল্যবান সময়তো বেঁচে যাবে। যা আপনি অন্য কাজে সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।

৬. বস ও সহকর্মীদের মন বোঝার চেষ্টা করুন। কাজ করার সময় সবাই চায় সহযোগিতা। আপনি যদি আপনার বস আর সহকর্মীদের মন বুঝতে পারেন তাহলে এটি হবে আপনার জন্য প্লাস পয়েন্ট। আপনার যেকোনো বিপদে আপনি তাদেরকে পাশে পাবেন।

৭. ঘরে বসে কিছু কাজ সম্পূর্ণ করুন। বেশিরভাগ মানুষ জীবনের ঘন্টার পর ঘন্টা সময় শেষ করছে অফিসে কাজ করে। কিছু কাজ বাসায় বসে করার চেষ্টা করুন। আপনার জীবনের অনেক সময় বেঁচে যাবে। আপনি এই সময় অনেক আত্ম উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

৮. সে সকল মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করেন যেখানে আপনি ৫ বছর পর নিজেকে দেখতে চান। আগে আপনার লক্ষ্য স্থির করেন ৫ বছর পর আপনি আপনাকে কোথায় দেখতে চান। তারপর খুঁজে বের করেন এ সেক্টরের কিছু মানুষকে এবং মেশার চেষ্টা করেন তাদের সাথে। বিশ্বাস করেন আপনি অনেক দূর এগিয়ে যাবেন।

৯. নিজের একজন মেনটর খুঁজে বের করুন। আপনার থেকে অনেক এগিয়ে আছে এমন কাউকে আপনার মেনটর হওয়ার জন্য অনুরোধ করুন। তার অভিজ্ঞা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুন এবং নেটওয়ার্ক তৈরি করুন।

১০. অন্যকে মূল্যায়ন করতে শিখুন, অবশ্যই আপনিও মূল্যায়ন পাবেন। কথায় আছে কেউ যদি আপনার জন্য হাঁটু পর্যন্ত করে তবে আপনার তার জন্য গলা পর্যন্ত করা উচিত। কারো কাজ থেকে কোনও কিছু পাওয়ার প্রত্যাশার আগে অবশ্যই তার জন্য কিছু করা উচিত। আপনি যদি তাকে মূল্য দেন তবে অবশ্যই সেও আপনাকে মূল্য দিবে। তাই আগে অন্যের জন্য করেন তারপরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।

বেশিরভাগ মানুষের ধারনা শুধু পরিশ্রম দিয়ে ক্যারিয়ারের উন্নতি সম্ভব। কথাটি সত্য হলেও আপনার জীবনে উন্নতি করতে হলে এধরনের কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যা আপনার ক্যারিয়ার জীবনকে একধাপ এগিয়ে নিবে।

 

আরো পড়ুনঃ ৫টি উপকারী ওয়েব সাইট 

 

Most Popular

To Top