শিল্প ও সংস্কৃতি

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ/NeonAloy

“হেভী মেটাল” – সঙ্গীতের এই ধারা বা জনরার সাথে সবাই আমরা কমবেশি পরিচিত। যারা মেটাল শুনেন না তারাও আর কোন মেটাল জনরার নাম না শুনলেও হেভি মেটালের নাম শুনেছে নিশ্চিত। মেটাল জনরার মধ্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এই “হেভী মেটাল” এবং, এই জনরার জনক হচ্ছে “টোনী আইয়োমী” এবং এই প্রতিষ্ঠাতা তার ব্যান্ড “ব্ল্যাক স্যাবাথ”।

টোনী আইয়োমী এবং বিল ওয়ার্ড এর আগের ব্যান্ড “মিথোলোজী” ১৯৬৮ সালে ভেংগে যাবার পর তারা চাচ্ছিলো একটা হেভী ব্লু রক ব্যান্ড গঠন করতে। তারা বেজিস্ট হিসেবে জিজার বাটলার এবং অজি অজবোর্নকে ভোকালিস্ট হিসেবে ঠিক করলো যারা আগে একসাথে “রেয়ার ব্রিড” নামে একটা ব্যান্ডে ছিলো।

১৯৬৮ সালে ইংল্যান্ড এর শিল্পনগর বার্মিংহামে ব্ল্যাক স্যাবাথ গঠিত হয়। লাইনআপে গিটারিস্ট হিসেবে টোনি আইয়োমী, বেজিস্ট হিসেবে গিজার বাটলার, ভোকালে অজি অজবোর্ন এবং ড্রামসে বিল ওয়ার্ড।

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ/NeonAloy

‘৭০ এর দশকে ব্ল্যাক স্যাবাথ লাইনআপ (একদম বামদিক থেকে যথাক্রমে বিল ওয়ার্ড, অজি অজবর্ন, টোনী আইয়োমী এবং জিজার বাটলার)

ব্ল্যাক স্যাবাথ তাদের কিছু গান যেমন ব্ল্যাক স্যাবাথ(১৯৭০), প্যারানয়েড (১৯৭০), মাস্টার অফ রিয়েলিটি (১৯৭১) গান দিয়ে হেভী মেটাল জনরার আসল পরিচয়টা দিয়েছে ব্যান্ডসংগীত ভক্তদের মাঝে।

সময়ের সাথে ব্যান্ডের লাইনআপ এ অনেক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু টোনি আইয়োমীই একমাত্র সদস্য যে একদম প্রথম থেকেই ব্যান্ডে ছিলো।

১৯৬৮ সালে প্রথমে “পোল্কা টাল্ক ব্লুস” নামে একটা ব্লুস রক ব্যান্ড হিসেবে তারা তাদের যাত্রা শুরু করে। নামটা হয় তখনকার সময়ের একটা ট্যালকম পাউডারের ব্র্যান্ড ছিলো বা পাকিস্তানী বা ইন্ডিয়ান কোন কাপড়ের দোকানের নাম ছিলো। একদম সঠিকটা কারো জানা নেই। এরপরে লাইন আপে অনেক পরিবর্তন আসে এবং ১৯৬৯-এ শেষবারের মতো ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে ব্ল্যাক স্যাবাথ করা হয়। এই পোল্কা ডট ব্লুস ব্যান্ডে স্লাইড গিটারিস্ট হিসেবে ছিলো ভোকালিস্ট অজি’র শৈশবের বন্ধু জিমি ফিলিপ্স এবং স্যাক্সোফোনিস্ট হিসেবে ছিলো এল্যান ক্লার্ক।

আরো পড়ুনঃ হেভিমেটালের শিকড়

“পোল্কা টাল্ক ব্লুস” থেকে নাম যখন ছোট করে “পোল্কা টাল্ক” করা হয় তখনই ব্যান্ড আবার তাদের নাম পরিবর্তন করে “আর্থ” রাখে যেটা অজির একটুও পছন্দ ছিলো না। আর্থ হবার পরে আইয়োমী খেয়াল করলো ফিলিপ্স এবং ক্লার্ক ব্যান্ডকে সিরিয়াসভাবে নিচ্ছে না এবং তাদের পর্যাপ্ত উৎসাহ নেই। তারা তখন তাদেরকে বিচ্যুত করার বদলে নিজেরাই সবাই বিচ্যুত হয়ে ব্যান্ড ভেঙে দেয়, এবং পরে আবার চুপিসারে গঠিত হয় ফিলিপ্স এবং ক্লার্ককে বাদ দিয়ে সেই আদি চার সদস্য নিয়ে।

ব্যান্ডটি যখন আর্থ নাম নিয়ে শো করছিলো, তাদের বেশ কিছু ডেমো ট্র্যাক রেকর্ড করা হয়েছিলো সেই সময়টাতে যেসব নরম্যান হ্যারিস লিখেছিলো। “The Rebel”, “Song for Jim”, এবং “When I Came Down” তাদের মধ্য কিছু। এদের মধ্য “Song for Jim” গানটি “বারক্লে ব্লু লাইন্স” এবং “টি এন্ড সিম্ফোনী” ব্যান্ড সহ প্রমুখ ব্যান্ডের ম্যানেজার “জিম সিম্পসন্স” প্রসঙ্গে ছিল। এই সিম্পসন্স “আর্থ” ব্যান্ড ম্যানেজ করার দায়িত্বে রাজি হয়।

আরো পড়ুনঃ “ক্ষণজন্মা একটা ব্যান্ড রেইজ এগেইন্সট দ্যা মেশিনের গল্প”

১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে আইয়োমী হঠাৎ ব্যান্ড ছেড়ে দিয়ে প্রোগ্রেসিভ রক ব্যান্ড “জেঠ্রো টাল” ব্যান্ড এ যোগ দেয়। যদিও তাদের সাথে তার খুব কম সময় থাকা হয়েছিলো, আইয়োমী জেঠ্রো টাল ব্যান্ডের সাথে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনে পরিচিতি পেয়েছে এবং রোল সার্কাস টিভি শোতেও। জেঠ্রো টাল এর নির্দেশনায় অসন্তুষ্ট হয়ে আইয়োমী তার আগের ব্যান্ড আর্থ-এ ফেরত যায়।

এরপর ১৯৬৯ সালে তারা খেয়াল করলো তারা আরেকটা “আর্থ” নামক ব্যান্ডের সাথে একই নাম নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে। শ্রোতা সমাজ দুটো ব্যান্ড এক করে ফেলছে বারবার তাই আবার নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

আর তখনই তখনকার অভিনেতা “বরিস কারলফ” এর চলচিত্র “ব্ল্যাক স্যাবাথ” মুক্তি পায়। “ব্ল্যাক স্যাবাথ” নামটি মূলত সেখান থেকেই নেয়া হয়। গানের টিউনস এবং লিরিক্সের মধ্য একটা হরর থিম আছে বলে ব্যান্ডটি শ্রোতাসমাজে বিশেষ পরিচিত ও শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।

তাদের গানে হরর থিম ছাড়াও, তাদের মিউজিকেও একটা বিশেষত্ব আছে। অন্যান্য জনরা থেকে আলাদা একদমই। এই কারণেই তাদেরকে পুরো নতুন একটা জনরা দেয়া হয় “হেভী মেটাল” নামে। এর পিছনেও পুরোটাই আইয়োমীর হাত আছে।

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ/NeonAloy

ব্ল্যাক স্যাবাথ এর লোগো

ব্যান্ড হবার আগে টোনী আইয়োমী বার্মিংহামে একটা ফ্যাক্টরিতে ঝালাইয়ের কাজ করতো। সে পুরোপুরি সময় মিউজিকে দেয়ার জন্য তার চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মায়ের সাথে সেদিন দুপুরে খেতে এসে এই কথা বলে এবং তার মা তাকে সেখানে আবার যেতে আদেশ করে। সে সেদিন বিকালেই তার চাকরি ছাড়ার নোটিশ তার বসকে জানালে, শেষদিন তাকে তার বস মেটাল শিটস কাটার মেশিনে স্টিল শিটস কাটতে দেয়। আইয়োমী কখনো আগে এই কাজ করেনি তারপরও সে কাজ করতে রাজী হয়ে গেলো এবং শিটস কাটতে কাটতে একসময় মেটাল শিটস কাটার ব্লেড তার ডান হাতের মধ্যমা এবং অনামিকা’র উপরের দিকের এক-তৃতীয়াংশ কেটে ফেললে শুরু হয় প্রচন্ড রক্তক্ষরণ। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয় চিকিৎসার জন্য এবং তার আঙুলের কেটে যাওয়া অংশ গুলো একটা ম্যাচবক্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

তার চিকিৎসা হয় ঠিকই কিন্তু তার সেই আঙ্গুল আর জোড়া লাগাতে পারেননি ডাক্তাররা। বেড রেস্ট অবস্থায় সে খুব হতাশ হয়ে পড়ে এই ভেবে যে সে আর কখনো গিটার বাজাতে পারবে না। তার উপর সে বাঁ-হাতি গিটারিস্ট, তার মানে গিটারের ফ্রেটবোর্ডের কাজ সে ডান হাত দিয়ে করে এবং বা-হাত দিয়ে স্ট্রামিং বা প্লাকিং করে গিটারে। ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার তাকে তার বাড়িতে দেখতে আসে এবং তাকে বিখ্যাত বেলজিয়ান জ্যাজ গিটারিস্ট জ্যাঙ্গো রাইনহার্ডের কথা বলে যার হাতের আঙ্গুল আগুনে পুড়ে পঙ্গু হয়ে যাবার পরেও সেই আঙ্গুল দিয়ে সে অনেক ভালো গিটার বাজাতো। সে এই গল্প শুনে অনেক অনুপ্রাণিত হয়ে টোনী ঠিক করে সে-ও কিছু একটা করে হলেও আবার গিটার বাজাবেই।

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ/ NeonAloy

টোনী আইয়োমী

সে খালি হাতে গিটার বাজাতে পারছিল না। কারণ কেটে যাওয়া আঙ্গুল গুলো খুবই ব্যাথা করতো খালি হাতে গিটার বাজালে। সে একটি প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে সেটিকে গলিয়ে বল বানিয়ে তার কেটে যাওয়া আঙুলের আগায় লাগিয়ে বাজানো শুরু করলো। কিন্তু সেই পদ্ধতিতে গিটারের তার অনুভব করতে পারতো না আর তারগুলো খুবই শক্ত লাগতো টেনে বাজাতে গেলে।

সে নিজের সুবিধামতো তার বানানো শুরু করলো গিটারের জন্য। সে তারের গেজ খুলে ফেললো তার গুলো হাল্কা বানানোর জন্য এবং সেটাই ছিলো গিটারের প্রথম “লাইট গেজ স্ট্রিংস” কিন্তু সেটাও খুব একটা কার্যকর হলো না তার ক্ষেত্রে। সে ঠিক করলো যেভাবেই হোক, কিছু একটা করবেই। যে ভাবেই হোক আগের মতো গিটার বাজাবে। সে তার গিটার “স্ট্যান্ডার্ড টিউনিং” থেকে আরো নিচে নামিয়ে টিউন করলো। সে আরো আক্রমণাত্মক, তীব্র, উদ্দাম এবং গর্জিত শব্দ চাচ্ছিলো। তার ইলেক্ট্রিক গিটারের জ্যাক তার ইলেক্ট্রিক গিটারের এমপ্লিফায়ারের বেজ গিটারের পোর্টে ঢুকালো। যা তার গিটারের সাউন্ড আরো প্রবল করে তুললো এবং পুরো অন্য এক টিউনিং স্কেলের সাউন্ড পাওয়া গেলো তার গিটার থেকে। সেটিই হচ্ছে “হেভী মেটাল”। টোনী আইয়োমী’র ভাষ্যমতে,

“হ্যাঁ, আঙ্গুল হারানো আমার জন্য অনেক বেদনাদায়ক ছিলো কিন্তু সেটি আমাকে নতুন কিছু একটা বানাতে সাহায্য করলো এবং আমাকে একটা নতুন স্টাইল এবং ধরনের মিউজিকের আবিষ্কারক বানালো এবং পরিশেষে এটি একটা ভালো জিনিসে পরিণত হলো খারাপ জিনিসে পরিণত হবার পর।”

এবং, তার আঙুলের ব্যাপারে সে আবারো প্লাস্টিক গলিয়ে তার আঙুলের আগায় বসিয়ে সেটা গরম থাকা অবস্থাতেই টিপে টিপে আঙুলের ডগার আকৃতি দেয় এবং গিটারের তারে আরো ভালো গ্রিপের জন্য চামড়ার প্রলেপ দেয়। এভাবেই সে আবার গিটার বাজানো শুরু করে এবং নতুন শ্রোতাসমাজ পায় “হেভী মেটাল” নামক সঙ্গীত।

“ব্লাক স্যাবাথ” ব্যান্ড হিসেবে তারা ১৯৬৯ সালে ৩০ আগষ্ট ওয়ার্কিংটন পারফর্ম করে। সেই বছরের নভেম্বরেই তারা ফিলিপ্স রেকর্ড এর সাথে সাইন-আপ করেন এবং তাদের প্রথম সিংগেল ট্র্যাক “ইভেল ওমেন” ১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে রিলিজ করে। সেই একই বছরের ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ শুক্রবার তারা তাদের প্রথম এ্যালবাম রিলিজ করে। এ্যালবামের নাম সেল্ফ টাইটেল করে “ব্ল্যাক স্যাবাথ” রাখা হয়। এটি ফিলিপ্স এর নতুন প্রগ্রেসিভ রক লেবেলের ভার্টিগো রেকর্ড থেকে রিলিজ করা হয়। তাদের প্রথম এ্যালবাম অনেক সমালোচিত হবার পরেও বাণিজ্যিকভাবে অনেক লাভবান হয়েছিলো এবং ইউকে’র এলবাম চার্টে অষ্টম হয়েছিলো।

ব্ল্যাক স্যাবাথ

সেলফ টাইটেলড প্রথম অ্যালবাম ব্ল্যাক স্যাবাথের কভার।

এই সফলতার উৎসাহে তারা সেই একই বছরেই তাদের দ্বিতীয় এ্যালবাম “প্যারানয়েড” রিলিজ করে যা শ্রোতাসমাজের ভালো সাড়া পায়। তার পরের বছর ১৯৭১ সালে “মাস্টার্স অফ রিয়েলিটি” নামে তৃতীয় এ্যালবাম রিলিজ করেন এবং পরের বছরেই ১৯৭২ সালে “ভল ৪” নামে তাদের চতুর্থ এ্যালবাম রিলিজ করে। ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা তুমুলে উঠা শুরু করে ১৯৭৩ সালে যখন তাদের পঞ্চম এ্যালবাম “স্যাবাথ ব্লাডি স্যাবাথ” রিলিজ করে তখন তাদের ব্যান্ড নিয়ে শ্রোতাসমাজের সকল সমালোচনা তাদের পক্ষে হয়ে যায়!

অজি অজবোর্ন এর প্রতিনিয়ত এলকোহল এবং অন্যান্য ড্রাগস ব্যবহারের জন্য তাকে ১৯৭৯ সালে ব্যান্ডের থেকে বিচ্যুত করা হয়। ভোকালে তার বদলে নেয়া হয় “রেইনবো” এর সাবেক ভোকালিস্ট “রনি জেমস ডিও” কে। ডিও’র সাথে তারা যথাক্রমে ষষ্ঠ এবং সপ্তম এ্যালবাম “স্যাবোটাজ” এবং “টেকনিকাল এক্সটেসি” রিলিজ করে। ডিও’র সাথে এই দুটো এ্যালবাম করার সময় ব্যান্ডের লাইনআপে অনেক পরিবর্তন ঘটে।

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ/NeonAloy

রনি জেমস ডিও-এর সাথে ব্ল্যাক স্যাবাথ

অজি আবার ফেরত আসলে ব্যান্ডটি অরিজিনাল লাইন-আপে ফেরত আসে ১৯৯৭ সালে এবং “রিইউনিয়ন” নামক একটি লাইভ এ্যালবাম বের করে তারা।

তাদের সর্বশেষ স্টুডিও এ্যালবাম “১৩” বের করে ২০১৩ সালে। তবে তার আগেই ২০১০ সালে মারা যান রনি জেমস ডিও।
“১৩” মুক্তি পাওয়ার একবছর পরেই ব্যান্ডটি তাদের ফেয়ারওয়েল ট্যুর শুরু করে এবং তাদের সর্বশেষ কনসার্টটি ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে তাদের নিজ আপন শহর বার্মিংহামে করে। তারপর ব্যান্ডটি সবার থেকে বিদায় নিয়ে অবসরে যায়।

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ/NeonAloy

স্যাবাথ এর সর্বশেষ কনসার্ট “দ্যা এন্ড” এর একটি দৃশ্য।

ব্ল্যাক স্যাবাথ তাদের পুরো জীবদ্দশায় ১৯টি স্টুডিও এ্যালবাম এবং সাতটি লাইভ এ্যালবাম বের করে।

স্টুডিও এ্যালবামঃ
১. ব্ল্যাক স্যাবাথ ১৯৭০
২. প্যারানয়েড ১৯৭০
৩. মাস্টার অফ রিয়্যালিটি ১৯৭১
৪. ভল ৪ ১৯৭২
৫. স্যাবাথ ব্লাডি স্যাবাথ ১৯৭৩
৬. স্যাবোটাজ ১৯৭৫
৭. টেকনিকাল এক্সটেসি ১৯৭৬
৮. নেভার সে ডাই ১৯৭৮
৯. হেভেন এন্ড হেল ১৯৮০
১০. মব রুলস ১৯৮১
১১. বর্ন এগেইন ১৯৮৩
১২. সেভেনথ স্টার ১৯৮৬
১৩. দ্যা এটারনাল আইডল ১৯৮৭
১৪. হেডলেস ক্রস ১৯৮৯
১৫. টাইয়ার ১৯৯০
১৬. ডিহিউমেনাইজার ১৯৯২
১৭. ক্রস পারপোসেস ১৯৯৪
১৮ ফরবিডেন ১৯৯৫
১৯. “১৩” ২০১৩

হেভী মেটালের জনক একজন টোনী আইয়োমী এবং তার ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথ/NeonAloy

ব্ল্যাক স্যাবাথের কিছু এ্যালবাম

লাইভ এ্যালবামঃ

১. লাইভ ইভেল ১৯৮২
২. ক্রস পারপোসেস লাইভ ১৯৯৫
৩. রিইউনিয়ন ১৯৯৮
৪. পাস্ট লাইভস ২০০২
৫. লাইভ এট হেমারস্মিথ অডিয়ন ২০০৭
৬. লাইভ গেদারড ইন দেয়ার ম্যাসেস ২০১৩
৭. দ্যা এন্ডঃ লাইভ এট বার্মিংহাম ২০১৭

এই চলতি পথে তারা এমটিভি’র “GREATEST METAL BAND” of all time খেতাব পায় এবং দ্বিতীয় হয় VH1 এর “100 greatest artist of hard rock” তালিকায়।
বিশ্ববিখ্যাত “রোলিং স্টোন” ম্যাগাজিন এর করা “100 GREATEST ARTISTS OF ALL TIME” এ তারা ৮৫তম হয়।

তারা ৭০ মিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছে পুরো বিশ্বব্যাপী। ব্ল্যাক স্যাবাথ ২০০৫ সালে “ইউকে মিউজিক হল অফ ফেম” এ ২০০৫ সালে জায়গা করে নিয়েছে এবং “রক এন্ড রোল হল অফ ফেম” এ ২০০৬ সালে জায়গা করে নিয়েছে। তারা দুটো গ্র্যামি এওয়ার্ডও জিতেছে “বেস্ট মেটাল পারফরমেন্স” এর জন্য!

ব্ল্যাক স্যাবাথ ব্যান্ডটা হয়তো চিরতরে অবসরে চলে গিয়েছে, একসময় তার কোন সদস্যও থাকবে না এই পৃথিবীতে। কিন্তু তাদের কাজ গুলো অমর হয়ে থাকবে শ্রোতাসমাজে এবং তারা এভাবেই শ্রোতাহৃদয়ে বেঁচে থাকবে যুগ যুগ ধরে।

এ জন্যই বলা হয় “মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয়”।

আরো পড়ুনঃ আর্টসেল, আর্টসেলড একটি প্রজন্ম, ও সত্ত্বায় আর্টসেলিজম

Most Popular

To Top