টুকিটাকি

অবাক করা কিছু পরিসংখ্যান

অবাক করা কিছু পরিসংখ্যান/ NeonAloy

পরিসংখ্যান অনেকের কাছেই খুব রসকষহীন আবার ভীতিকর একটি বিষয়। কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে যাদের অধ্যয়ন করতে হয়েছে তাদের অনেকেরই ঘাম ছুটেছে। কিন্তু এই পরিসংখ্যানের কল্যানে আমরা আজ এমন কিছু সংখ্যাভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করবো যা আপনাদের পরিসংখ্যানের প্রতি মনোভাব কিছু হলেও দূর হবে। এই পৃথিবীর অনেক মজার মজার বিষয় আছে যা আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে পারি।
চলুন দেখে আসি এমন কিছু তথ্য যা আপনাদের নতুন কিছু জানতে সাহায্য করবে এরই সাথে পরিসংখ্যানের প্রতি ভালোবাসাও সৃষ্টি হবে।

১। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তারা বনাম পৃথিবীর গাছ 

ছোটবেলায় নিশ্চয়ই আমরা পড়েছি আকাশে হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি তারা। আসলেই কথাটি ঠিক, বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা জানতে পারি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে রয়েছে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন তাঁরা! সংখ্যাগত দিক দিয়ে এই পরিমাণ অনেক। কিন্তু আমরা কি জানি আমাদের এই পৃথিবীতে কী পরিমাণ গাছ আছে? বহু পরিবেশবিদ, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানীদের সাথে মিলিতভাবে গাছের সংখ্যা বের করার মতো কঠিন এই কাজে জড়িত ছিলো এবং তাদের এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি এই পৃথিবীতে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন গাছ আছে! কি চমকানোর মতো তথ্য কিনা? কিন্তু আশঙ্কাময় এক তথ্য হলো, প্রতি বছর ১৫ বিলিয়ন গাছ কেটে ফেলা হয় যা বিজ্ঞানীদের চিন্তার কারণ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে তাই বিজ্ঞানীরা এবং পরিবেশবিদরা একযোগে কাজ শুরু করেছেন।

২। পৃথিবীতে শতকরা হারে সব থেকে কম শিশু জার্মানিতে 

জার্মানিতে মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ ১৪ বছরের নিচে। মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ দখলে আছে ২৫ থেকে ৫৪ বছরের মানুষ প্রায় শতকরা ৪০ শতাংশ। এরা মূলত দেশের উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত। জার্মানিতে তাই বর্তমানে উৎপাদনশীল জনসংখ্যার পরিমাণ বেশি। অন্যদিকে কেনিয়াতে এর চিত্র ভিন্ন, ১৪ বছরের শিশুদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ। কিন্তু কয়েক বছর পর হয়তো জার্মানিতে চিত্র বদলেও যেতে পারে কেনিয়ার মতো! আপনারা কি জানেন বাংলাদেশেও ২৫-৫৪ বছরের মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ এবং অন্যদিকে ১৪ বছরের নিচে রয়েছে ২৭ শতাংশ।

৩। মেরি এবং জেমস বহুল ব্যবহৃত নাম

মুভি কিংবা টিভি সিরিজে মেরি এবং জেমস নামটা আমাদের খুব পরিচিত লাগার কথা। পরিসংখ্যান অনুযায়ে গত শতকে বাবা-মাদের কাছে মেরি এবং জেমস সব থেকে বেশি জনপ্রিয় নাম। ১৯১৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জেমস নাম ব্যবহৃত হয়েছে ৫ বিলিয়ন ছেলেদের এবং ৩.৫ মিলিয়ন মেয়েদের নাম রাখা হয়েছে মেরি। অলিম্পিকের মতো আমরা মেরি-জেমস কে যদি স্বর্ণ পদক দেই তাহলে রৌপ্য পদক পাবে জন-প্যাট্রিশিয়া এরপর ব্রোঞ্জ পদক পাবে রবার্ট-জেনিফার নামগুলো। তাহলে আপনি একটু ভেবে দেখুন তো আমাদের দেশে জনপ্রিয় নামগুলো কি কি হতে পারে!

৪। চীনের আরেক নাম “গোল্ডেন রিপাবলিক”

গোল্ডেন রিপাবলিক থেকে কি কিছু আঁচ করতে পারছেন আপনারা? চীনের এরূপ নামকরণের কারণ হলো প্রতি বছর অধিক হারে স্বর্ণ উৎপাদন। একটি হিসাবে দেখা গিয়েছে প্রতি বছর চীনে ৪৪০ টন স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়। বহু দেশি বিদেশী সংস্থা এসকল স্বর্ণ খনি গুলোতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে এবং এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উত্তোলিত হচ্ছে সাথে চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটছে। চীনের অর্থনীতিতে স্বর্ণের এই অবদান সত্যিই চীনকে গোল্ডেন রিপাবলিকে পরিণত করেছে।

৫। হ্যালো মি. এন্ডারসন

ধরুন আপনি সুইডেন গিয়েছেন এবং আসে পাশে যার সাথেই কথা হচ্ছে সবার নামের শেষেই দেখছেন এন্ডারসন আছে। নাহ বানিয়ে বলছি না, এরকম পরিস্থিতে আপনি পড়তেই পারেন। কেননা সুইডেনে সব থেকে বেশি বংশনাম হলো এন্ডারসন, প্রায় ২,৪০,০০০ জন মানুষের। তাছাড়া ইয়োহান্সন এবং কার্লসনও বেশ অনেক জনের বংশনাম। কার্লসন নামের মানুষ আছে প্রায় ২,০০,০০০ জন। তাই আপনি সুইডেনে যেয়ে যে কাউকে, “হ্যালো মি. এন্ডারসন” বলে চমকে দিতে পারেন।

৬। ২২ গুন জনসংখ্যা বৃদ্ধি

আপনারা কি জানেন, গত সহস্রাব্দের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ২২ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে! ১০০০ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাইয়ে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো ২৭৫ মিলিয়ন। ২০০০ সালে এই জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ বিলিয়নে এবং বর্তমানে প্রায় ৭ বিলিয়ন মানুষের বাস পৃথিবীতে। যে হারে এই জনসংখ্যা বেড়ে চলছে ৩০০০ খ্রিষ্টাব্দে যেয়ে জনসংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আমাদের জন্য প্রধান চিন্তার বিষয়।  এই জন্যই জন্ম নিয়ন্ত্রন, সম্পদের সদ্ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য সম্পদ ব্যবহার এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৭। পুরো পৃথিবী সাড়ে চার বার হাঁটা

আপনি কি জানেন আপনি সারাজীবন যত কদম হেঁটেছেন তা দিয়ে পুরো পৃথিবী সাড়ে চার বার ঘুড়তে পারবেন! কি অবাক করা ব্যাপার? পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে একজন মানুষ দৈনিক গড়ে ৭৫০০ কদম হাঁটে। গবেষকরা মানুষের গড় আয়ু ৮০ বছর হিসেব করে দেখেন যে একজন মানুষ সারাজীবনে ১,১০,০০০ মাইল হেঁটে থাকে যা পুরো পৃথিবী চার বারের বেশি ভ্রমণ করার সমান। তাহলে দেরী কেনো হাঁটা শুরু করে দিন, চার বার না হলেও একবার তো পুরো পৃথিবী চক্কর দিতে পারবেন।

৮। দৈনিক ২৭০ মিনিট টেলিভিশন

টেলিভিশন বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম। আপনি কী বলতে পারবেন কোন দেশের মানুষ টেলিভিশনে সব থেকে বেশি সময় অতিবাহিত করে ? শুনলে অবাক হতে পারেন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র আমেরিকার মানুষরা দিনের এক পঞ্চমাংশ সময় টেলিভিশন দেখে থাকে। হিসেব করে দেখা গেছে গড়ে দৈনিক প্রায় ২৭০ মিনিট তারা টেলিভিশন দেখে। এত এত মুভি, টিভি সিরিজের ভিরে একজন আমেরিকানের টেলিভিশন না দেখাটাই অস্বাভাবিক। আমেরিকার পরই আছে পোল্যান্ড তারাও টেলিভিশন দেখায় পিছিয়ে নেই দিনে প্রায় ২৬৪ মিনিট তারা টেলিভিশন দেখে। আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশ কী পিছিয়ে টেলিভিশন দেখায়?

৯। সব থেকে বেশি জন্ম যে দিনে

আচ্ছা আপনার জন্ম কোন বারে হয়েছিল? বৃহস্পতিবার নয়তো? কেনো এরকম বলছি কিছুটা হয়তো আঁচ করেছেন। গবেষণার মাধ্যমে দেখা গিয়েছে বৃহস্পতিবারে সব থেকে বেশি মানুষ জন্ম নেয়, প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষ। এরপর আছে মঙ্গলবার, প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষের জন্মবার। বুধবার আছে তৃতীয় স্থানে প্রায় ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। তাহলে সব থেকে কম কোন বারে জন্ম নিতে পারে? সেটি হলো শনিবার, প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ এই দিনে জন্ম নেয়। আপনার জন্ম কোন বারে হয়েছিল তা এখন মিলিয়ে দেখুন, আপনি কোন দলে আছেন।

১০। ৯০ শতাংশ স্প্যাম

আপনার ইমেইলে নিশ্চয়ই অনেক অনেক মেইল এসে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন এর মধ্যে কতগুলো আসল ইমেইল? হিসেবে দেখা গিয়েছে আপনি যত ইমেইল পেয়ে থাকেন তার মধ্যে ৯০ শতাংশই হলো স্প্যাম। ধারণা করতে পারেন কোন দেশ থেকে এই স্প্যাম সব থেকে বেশি আসতে পারে? যুক্তরাষ্ট্র থেকে সব থেকে বেশি প্রায় ১৮ শতাংশ স্প্যাম ছড়ানো হয়। এরপরই আছে তুরস্ক এবং রাশিয়া এর অবস্থান যারা যথাক্রমে ৯ শতাংশ এবং ৮ শতাংশ স্প্যাম দিয়ে থাকে। এই স্প্যাম গুলোতে অনেক ক্ষতিকর ওয়েবসাইটের লিঙ্ক থাকে যা আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই কোনো লিঙ্কে ঢুকার আগে সাবধান হয়ে নিন!

১১। সব থেকে বেশি চাকুরিজীবী মা

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে বাচ্চা হওয়ার পর মায়েরা আর চাকরি করেন না। এমনকি অনেক অভিনেত্রী রয়েছে যারা বিয়ে অথবা বাচ্চা হওয়ার পর তাদের কাজ ছেড়ে দেন। OECD এর গবেষনাতে দেখা গিয়েছে ডেনমার্কের ১৫-৬৪ বছর বয়স ও কমপক্ষে ১টি বাচ্চা আছে এবং বাচ্চা হওয়ার পর কাজ করছে এমন মায়ের সংখ্যা ৮২ শতাংশ! এরপরেই আছে সুইডেন, স্লোভেনিয়া, নেদারল্যান্ডের মায়েরা। এই তালিকার তলানিতে আছে গ্রীস, প্রায় ৫০ শতাংশ মা বাচ্চা হওয়ার পর কাজ করে।

১২। প্রতি সেকেন্ডে ম্যাকডোনাল্ডস হ্যামবার্গার

ম্যাকডোনাল্ডসের নাম কে না শুনেছে সাথে তাদের বিখ্যাত হ্যামবার্গার। বাংলাদেশে না থাকলেও পৃথিবী জুড়ে রয়েছে ম্যাকডোনাল্ডের রাজ্য। তাদের বার্গারের খ্যাতি কি রকম তা পরিসংখ্যানের কল্যাণে আমরা সহজে উপলব্ধি করতে পারি। ম্যাকডোনাল্ড প্রতি সেকেন্ডে ৭৫ টি হ্যামবার্গার বিক্রি কর থাকে! আপনারা ম্যাকডোনাল্ডের ওয়েবসাইটে গেলে দেখতে পারবেন সহজেই যে তাদের কোন খাবার কি রকম বিক্রি হচ্ছে এবং তা সত্যি বিস্ময়কর। লিঙ্কটি দিয়ে দিচ্ছি আপনারা দেখে নিতে পারেন। – www.everysecond.io/mcdonalds

১৩। প্রতিদিন মিলিয়নার

মিলিয়নারের দেশ কোনটি তা সহজেই আপনারা আন্দাজ করতে পারেন। সর্বাধিক মিলিয়নার আছে যুক্তরাষ্ট্রে, প্রায় ১৫.৭ মিলিয়ন মানুষ। কিন্তু মজার বিষয়টি হলো প্রতিদিন প্রায় ১৭০০ জন মানুষ মিলিয়নার হচ্ছে! ব্লুমবার্গ এবং বোস্টন কন্সাল্টিং গ্রুপের মতে ২০২০ সাল নাগাদ ৩.১ মিলিয়ন নতুন সদস্য এই এলিট দলে ঢুকে পড়বে। ২০১০-২০১৫ এর মধ্যেই ২.৪ মিলিয়ন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই আর দেরি কেন মিলিয়নার হতে আপনি আজই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলুন!

১৪। বাংলাদেশ > রাশিয়া

পৃথিবীর আয়তনে সবচেয়ে বড় দেশ কোনটি সেটা সকলে এক বাক্যে বলবে, রাশিয়া। কিন্তু বাংলাদেশ রাশিয়ার থেকে এক অংশে অনেক এগিয়ে আছে। রাশিয়ার থেকে আয়তনে ১১৬ গুন ছোট এই দেশের জনসংখ্যা রাশিয়ার থেকে বেশি! রাশিয়ার জনসংখ্যা যেখানে প্রায় ১৪ কোটির মতো সেখানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি। ৫৬,৯৮০ বর্গমাইলের বাংলাদেশে এত অধিক জনসংখ্যার জন্য কারণ হিসেবে দেখা হয় এর অত্যন্ত উর্বর জমি এবং নদীর আধিক্য। যেখানে রাশিয়ার রয়েছে অনেক প্রতিকুল পরিবেশ যেখানে মানুষের বসবাস করা কষ্টসাধ্য।

পৃথিবীর আরো অনেক মজার বিষয় রয়েছে যা আমরা সংখ্যাতাত্ত্বিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারি। এখানে আমরা মাত্র ১৪ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আপনারা কৌতূহলী হলে আরো অনেক তথ্য বই, ইন্টার্নেটে পেতে পারেন। আমাদের অন্যান্য আর্টিকেল গুলো দেখতে পারেন যেখানে আপনার জানা হবে আরো নতুন নতুন তথ্য।

 

আরো পড়ুনঃ পৃথিবীর সব থেকে দামি ফল

Most Popular

To Top