লাইফস্টাইল

কেন কফি খাবেন?

কেন কফি খাবেন?/NeonAloy

আচ্ছা বলুনতো, ভালোবাসার জিনিসগুলোর প্রতি এতো নিষেধাজ্ঞা কেন? এই ধরুন কোন কিছুর প্রতি যদি একটু বেশি ভালো লাগা জন্মায় অমনেই যেন সবাই পিছে পড়ে যায়, এই এতো আসক্ত হওয়া যাবে না, নানা ক্ষক্তি, হাজারটা সমস্যা খুঁজে বের করে!

ঠিক এমনই একটি প্রচণ্ড রকমের ভালোলাগার পানীয় হচ্ছে কফি। কিন্তু কি আর করার এই সুস্বাদু অসাধারণ পানীয়টির পিছু ছাড়েনি বিজ্ঞানীরা। খুঁজে খুঁজে যত প্রকারের দোষ আছে তা বের করার অবিরাম চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে ভাগ্য কিন্ত কফি প্রেমিকদের পক্ষে। কি অবাক লাগছে? হ্যাঁ, সত্যি। কফি নিয়ে কিছু চমৎকার সব তথ্য তুলে ধরছি আপনাদের সামনে। তাহলে দেরি কেনও, চলুন জেনে আসা যাক।

১. মন কে সতেজ রাখা 

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে , মর্নিং শোয়স দা ডে (Morning shows the day)। আপনার স্নিগ্ধ সকালটি যদি ভোরের শিশির আর ধোঁয়া উড়ানো কফি দিয়ে শুরু হয় তাহলে খুশির আর সীমা থাকে না। কথাটি কিন্তু ফেলে দেয়ার মতো নয়। কারণ এটি গবেষণা দ্বারা পরীক্ষিত। আপনার মনকে সতেজ আর প্রফুল্ল রাখতে সকাল বেলার এক কাপ কফিই যথেষ্ট।

২ . পরিবেশ যখন আপনার হাতের মুঠোয়

চারপাশের পরিবেশের কারণে বা অকারণেই মেজাজটা প্রায় সময়ই খিটখিটে থাকে। ফলে সবকিছু আপনার অনুকূলে থাকে না। কিন্তু এ থেকে পরিত্রাণের জন্য কফি দিচ্ছে এক দারুণ উপায়। আপনি সহজেই এই বিশৃঙ্খল পরিবেশটিকে নিজের মতো স্মার্টলি সাজিয়ে নিতে পারবেন। কফিতে আছে ক্যাফেইন। এটি আপনার অলস আর বিশৃঙ্খল মস্তিষ্ককে সহজেই চাঙ্গা করবে । ফলে আপনি স্মার্টলি যেকোনো পরিবেশকে আপনার মতো সাজিয়ে নিতে পারবেন।

৩. চিকন স্বাস্থ্য পেতে আর নয় ডায়েট

কফিতে আছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড। খুব উপকারী একটি উপাদান যা ধীরে ধীরে দেহের কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে আপনার ওজন বৃদ্ধির হার আস্তে আস্তে কমে যায় আর আপনার শারীরিক কার্যক্ষমতাও বেড়ে যায়। সকালে জিম শুরু করার আগে এক কাপ ব্লাক কফি খান। গবেষকদের মতে, এর ফলে আপনার শরীর থেকে বেশি বেশি ফ্যাট ও ক্যালরি ক্ষয় হবে।

৪. পুষ্টিগুণ আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর

পুষ্টিগুণ আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই পানীয়টি। কফিতে ভিটামিন বি৫, ভিটামিন বি২, থায়ামাইন বি১, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। শুধু তাই নয় কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনাকে রাখবে আরো বেশি সতেজ।

৫. ডায়াবেটিস হোক চির বিদায়

কফি শরীরে প্রচুর পরিমাণে এডিপোনেক্টিন তৈরি করে। আর এডিপোনেক্টিন আমাদের শরীরের সুগার লেভেল আর ইন্সুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সহজেই ডায়াবেটিস থেকে বাঁচা যায়।

৬.  হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

যে হৃদয় দিয়ে আপনি এই কফিকে ভালোবাসছেন সে হৃদয়কে ভালো রাখার জন্য কফি কিছু করবেনা তা কি হয়? হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমায় কফি। এছাড়া আপনার স্টোকের সম্ভাবনাও কমিয়ে আনে।

৭. হতাশা দূর হবে, চাঞ্চলতা ফিরে আসবে

জীবনে নানা ক্ষেত্রে আপনি কম বেশি পরিমাণ হতাশায় ভুগে থাকেন। এ হতাশা দূর করবার জন্য কি না করতে হচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ২ থেকে ৩ বার কফি খায় তাদের আত্মহত্যার সম্ভাবনা ৫৩% কমে যায়।

৮. দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ণ রাখে:

ক্লোরোজেনিল অ্যাসিড চোখের সুস্থতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে কফিতে এই উপাদানটি রয়েছে। তাই কফি খেলে আপনার চোখ ভালো থাকবে।

কফি নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তার শেষ নেই। বেশি খেলে মোটা হয়ে যাবো কিনা বা আরো কতো চিন্তা। এক কাপ কফি যদি আপনাকে এতো উপকারিতা দিয়ে থাকে তাহলে কফি খাওয়ার অভ্যাস করলে নেহাত মন্দ হবে না। তাহলে আজ থেকেই শুরু হয়ে যাক কফির রাজ্যে আগমন।

Most Popular

To Top