টুকিটাকি

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

ছোটবড় সবারই সর্বদা কিছু না কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। মাঝে মাঝে নিয়ম ভঙ্গ করাটাও তেমন কিছু না। তবে নিয়ম ভঙ্গ করা সাধারন মানুষের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু আপনি যদি হন বিখ্যাত কোনো ব্যক্তি কিংবা বিখ্যাত কোনো ব্যক্তির সন্তান বা কোনো রাজপরিবারের সন্তান তাহলে? আমি ছোটবেলায় ভাবতাম হয়তো রাজারা কিংবা রাজপরিবারের সদস্যরা বুঝি যা ইচ্ছা তা করতে পারে। বাস্তবে তা মোটেও নয়। বরং তাদেরকে আরো বেশি বেশি নিয়ম মেনে চলতে হয়। বর্তমান পৃথিবীর রাজপরিবার গুলোর মাঝে সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। অন্যান্য রাজপরিবারের মতো এখানেও বেশ কিছু নিয়ম কড়াকড়ি ভাবে পালন করা হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেগুলো কি কি-

১. মনোপলিঃ আমরা সবাই কমবেশি মনোপলি খেলেছি। ভাইবোনদের মাঝে এই খেলা নিয়ে কম ঝগড়াও তৈরি হয়নি। খুবই মজার একটি খেলা। কিন্তু রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য সম্পূর্ণভাবে এই খেলা নিষিদ্ধ। রাজপরিবারের সাধারন নিয়ম হচ্ছে যা কিছুই উপহার দেওয়া হোক না কেন তা গ্রহণ করতে হবে। কখনোই এর অন্যথা হবে না, কিন্তু এই নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে উপহার দেওয়া মনোপলি ফেরত দেওয়া হয়েছিল কারণ এটি নিষিদ্ধ বলে। এটি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণটাও খুবই অদ্ভুত। যেহেতু এই খেলায় প্রচন্ড প্রতিযোগিতা থাকে এবং এতে একজনকে পেছনে রেখে এগিয়ে যেতে হয়। আর অনেক সময় ঝগড়াও লেগে যায় তাই রাজপরিবারে এই খেলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

২. ভাষাঃ আমাদের সবারই কম বেশি ইংরেজি কিংবা হিন্দি ভাষায় দখল আছে। অনেকে শখ করে নানা দেশের ভাষা শেখে। অনেকে কাজের প্রয়োজনে শেখে। কিন্তু ব্রিটিশ রাজপরিবারে ইংরেজি ছাড়াও অন্য ভাষায় দখল থাকাটা বাধ্যতামূলক। নানা কাজে কিংবা কারণে রাজপরিবারের সদস্যদের নানা দেশে ভ্রমন করতে হয়। তারা যাতে সেখানে গিয়ে ওই দেশের ভাষায় কথা বলতে পারে তার জন্য এই ব্যবস্থা। প্রিন্স চার্লস ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, ওয়েলশ, জার্মান ও প্রিন্স উইলিয়াম ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ ও ওয়েলশ ভাষায় কথা বলতে পারেন। এমনকি প্রিন্স জর্জ ও প্রিন্সেস চার্লোট(charlotte) ছোট বয়স থেকেই স্প্যানিশ ভাষা শেখা শুরু করেছেন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

৩. ড্রেস কোডঃ বাহিরে যাওয়ার সময় সবাই পরিপাটি হয়ে বের হয়। অনেক সময় ভাল না লাগলে অথবা অসুস্থ থাকলে আমরা জামাকাপড়ের দিকে তেমন খেয়ালও করি না। কিন্তু রাজপরিবার সেরকম হওয়ার কোন জো নেই। প্রিন্স জর্জের পোশাকের দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। সবসময়ই শর্টস পড়া আবহাওয়া যাই হোক না কেন। রাজপরিবারের শিশুদের শর্টস পড়াই নিয়ম। ৭-৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত হয়ত সে প্যান্ট পড়ার সুযোগ পাবে না। অনেকেই রঙ বেরঙের নেল পলিশ দিয়ে নিজেদের নখ সাজাতে পছন্দ করি কিন্তু রাজপরিবারেও এ ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম আছে। গ্লিটার কিংবা উজ্জ্বল রঙের কোন নেল পলিশ হাতে পড়া যাবে না।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

৪. ভ্রমনঃ পরিবারের সবাই একসাথে ঘুরতে গেলে একই গাড়িতে গল্প করতে করতে যাওয়া কিংবা বাসে, ট্রেনে একই সাথে সিটে বসে যাওয়াটাকে সবাই উপভোগ করে। কিন্তু রাজপরিবারে এই ক্ষেত্রে নিয়ম কড়াকড়ি। রাজপরিবারের সদস্যরা কখনোই একই সাথে একই প্লেনে কিংবা ট্রেনে চড়তে পারবে না। আলাদা আলাদা ভাবে সবাইকে ট্র্যাভেল করতে হবে। এমনকি সকলে একই জায়গায় গেলেও। এই নিয়ম পালন করা হয় কারণ যদি কখনো কোন দুর্ঘটনা ঘটে এবং পরিবারের কেউ মারা যায় তবে যাতে অন্য কেউ বংশের ধারা বজায় রাখতে পারে। এর জন্যই রানী এলিজাবেথ, প্রিন্স চার্লস, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স জর্জ কখনোই একই সাথে একই বিমানে আসা যাওয়া করবেন না। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়মে এখন শিথিলত হয়েছে।

 

 

৫. ফ্যামেলি হলিডেঃ একক পরিবার হয়ে যাওয়ায় অনেক বাচ্চারা নানী দাদীদের থেকে দূরে থাকে। স্কুল অথবা নানা অসুবিধার জন্যও একই সাথে থাকা হয় না। তাই উৎসবের দিনগুলিতে হুড়োহুড়ি লেগে যায় কোথায় পালন করা হবে। নানী বাড়িতে নাকি দাদীর বাড়িতে। রাজপরিবারে কিন্তু এরকম সুযোগ নেই। ক্রিসমাস পালন করতে হবে বাকিংহ্যাম প্যালেসেই আর তাতে অংশগ্রহন করা বাধ্যতামূলক এমনকি বাচ্চাদের জন্যও। যদিও কিছু কিছু সময় এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটেছে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

৬. খাওয়াঃ ক্ষুধার সময় খাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের খুব কম খেয়াল থাকে যে কি করছি। সব মনযোগ খাওয়ার দিকেই থাকে। কিন্তু ব্রিটিশ রাজপরিবারে তা হওয়ার সু্যোগ নেই। সেখানে খাওয়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হয় কোন হাত দিয়ে কাটাচামচ ধরতে হবে বা ন্যাপকিন ভাজ করতে হবে। এসব সাধারন এটিকেটের মধ্যেই পড়ে। আরো একটি নিয়মও কড়াকড়ি ভাবে পালন করা হয়। তা হচ্ছে রানী এলিজাবেথের সাথে খেতে বসলে তার খাওয়া শেষ হওয়া মাত্রই সকলের খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। উনার খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর আর কেউ খাবার খেতে পারবে না।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

৭. ডাকনামঃ ক্লাসে যারা চশমা পড়ে তাদের অনেকের নাম দিয়ে থাকি কানাবাবা। অনেকেই আদর করে আমাদের অনেক নামে ডাকে। কিছু কিছু নাম আবার পুরোপুরি ভাবে চালু হয়ে যায়। রাজপরিবারের সদস্যদের কিন্তু কোন ডাক নাম কিংবা কোন নাম দেওয়া যাবে না। টাইটেল সহ সম্পূর্ণ নামেই তাদেরকে ডাকতে হবে। এমনকি প্রিন্স জর্জকে His royal highness prince George of Cambridge নামে ডাকতে হবে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

৮. উইন্ডসর ওয়েভঃ কারো সাথে দেখা হলেই হাত তুলে আমরা নাড়িয়ে হাই বলি। রাজপরিবারে এইভাবে হাত তুলে অভিবাদন জানানোর নিয়ম রয়েছে। একে উইন্ডসর ওয়েভ বলা হয়। উইন্ডসর ওয়েভে আলতো করে হাত তুলে অল্প অল্প করে নাড়াতে হয়। ছোটবাচ্চাদেরকেও এভাবে ওয়েভ করাও শিখিয়ে দেওয়া হয়। যাতে সহজেই বাইরে বের হলে জনসাধারনের উদ্দেশ্য সহজেই ওয়েভ করতে পারে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

৯. উপহারঃ রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই নানা ধরনের উপহার পাওয়া যায়। উপহার নেওয়ার নিয়ম ও রয়েছে। অনেক সময় অনেক ধরনের উদ্ভট উপহার পাওয়া যায়। খারাপ ভাল যেই উপহার হোক না অবশ্যই বিনয়ী হয়ে উপহারটি গ্রহণ করতে হবে এবং পরবর্তীতে ধন্যবাদ জানাতে ভুললেও চলবে না।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

১০. পাসপোর্টঃ বাইরের দেশে ঘুরতে গেলে পাসপোর্ট এর আব্যশকীয়তা অত্যন্ত। পাসপোর্ট ছাড়া এয়ারপোর্টের সীমানা পেরিয়া যাওয়া অসম্ভব। কিন্তু সবার পাসপোর্ট থাকলেও রানী এলিজাবেথের কোন পাসপোর্ট নেই এবং তার দরকারও পরেনি। কারণ সকল পাসপোর্ট রানী এলিজাবেথের নামেই ইস্যু হয়। তাই রানী এলিজাবেথ পাসপোর্ট ছাড়াই চলাফেরা করেন। তবে রানী এলিজাবেথ বাদে বাকি সকল সদস্যর পাসপোর্ট রয়েছে। রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার বদৌলতে যদিও কোন বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয় না তাদের। অন্য সকলের মতো তাদেরকেও সিকিউরিটি পাসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

১১. সিকিউরিটিঃ বাচ্চাদের প্রথমদিন স্কুলে যাওয়া নিয়ে বাবা মায়ের আনন্দ আর আগ্রহ একটু বেশিই থাকে। কিন্তু রাজপরিবারে তার সাথে যোগ হয় নিরাপত্তা বাহিনী। রাজপরিবারের নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা। আর এর কড়াকড়িও রয়েছে। প্রিন্স জর্জেরও রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে যাতে তাদের কেউ ফলো না করতে পারে কিংবা করতে পারলেও যেন গুলিয়ে ফেলে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

 

১২. দেহভঙ্গিঃ পকেটে হাত দিয়ে হাটা অথবা হাত পা ছেড়ে বসে থাকা আমাদের জন্য খুবই সাধারন হলেও রাজপরিবারের জন্য একদম নিষিদ্ধ। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে নানা নিয়ম মেনে চলতে হয়। এসকল নিয়ম বাচ্চাদের ও মেনে চলতে হয়। রাজপরিবারের সদস্যদের পকেটে হাত দিয়ে চলা নিষিদ্ধ। রাজপরিবারের সদস্যদের এটিকেট মেনে চলতে হয়। তাদেরকে অবশ্যই পিঠ সোজা করে বসতে হবে, শুধু বসা নয় বরং দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তাদের সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। আর এসকল কিছুই ছোট বেলা থেকেই তাদের শেখানো হয়। রাজপরিবারের মেয়েদের ও নিয়ম মেনে চলতে হয়। রাজপরিবারের মেয়েদের জন্য বসে কখনো এক পায়ের উপরে আরেক পা উঠিয়ে বসা নিষেধ। বরং তারা পা একসাথে করে একদিকে হেলিয়ে রাখতে পারে কিন্তু পা উঠিয়ে নয়। পা একসাথে করে একদিকে রেখে, পিঠ সোজা করে রাজপরিবারের মেয়েদের বসতে হয়। এটি ডাচেস স্ল্যানট(Duchess Slant) নামে পরিচিত।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় যত নিয়ম/NeonAloy

 

আরো পড়ুনঃ ব্রিটেনের ফোনবুথ গুলোতে এখন যা হচ্ছে! 

 

Most Popular

To Top