নাগরিক কথা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিমান পর্ব শেষে যা প্রত্যাশা করি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিমান পর্ব শেষে যা প্রত্যাশা করি NeonAloy

আমার এই স্ট্যাটাসে লাইক-টাইক কম পড়লেও কিছু ব্যাপারে আলাপ করি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মান-অভিমান পর্ব একটু শেষ হইলে উনাকে দুইটা বৈঠক আহবান করতে অনুরোধ করবো।
একটা জাতীয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাথে। আরেকটা জাতীয় জিমন্যাস্টিক ফেডারেশনের সাথে। এই দুই প্যানেল কেন? একটু খুলেই বলি।

প্রথমে আসি শিক্ষকদের কথায়,

প্রধানমন্ত্রীর কোটা একদম ‘বাতিল’ একেবারেই অনভিপ্রেত। এবং সায়েন্টিফ্যাকিলি ইনভ্যালিড একটা সিদ্ধান্ত। এজন্যই একটা এক্সপার্ট প্যানেল করে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ইনাদের সবাইকে রেখে একটা ‘সিভিল সার্ভিস রিফর্ম’ কমিশন করা যেতে পারে। কেননা, সরকারের একদম ‘বাতিল’ ঘোষণা কিংবা আন্দোলকারীদের ১০% মার্কা হার্ডলাইন দাবী। কোনটাই গ্রহণযোগ্য না। সেই সাথে, ভিডিওবার্তায় বিএনপির তারেক রহমানের ৫% করে ফেলার ঘোষণা। এগুলো সবই হুজুগে আলাপ। এদের কোনটাই জনমিতিক ডিসকোর্স এবং পাবলিক পলিসি রিফর্ম এর সূচক এগুলো দিয়ে টেস্টিফায়েড না।

এই কোটা চালু করেছিল যে কমিটি, ASRC, ১৯৭২ সালে। তো সেই কমিটিও সাড়ে ৩ বছর ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ার্ক করেই এই কোটার হারের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে এসেছিল।

এমনকি গত ৪০ বছরে, এই কোটা তথা পাবলিক সার্ভিস সংস্কারের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত সেগুলোও এক্সপার্ট রিফর্ম কমিটি দিয়ে যাচাই হয়েছিল। তারাও ন্যুনতম ৬ মাস সময় পেয়েছিল।

একটা চেইঞ্জ, একটা গেজেট দাবীকারী সিদ্ধান্ত আসলেই অনেক দিন সময় লাগে। কেবিনেট মিটিং- এর ফাইল গোছায়ে সংসদে পাঠাইতেও কমপক্ষে ২ সপ্তাহ থেকে ২০ কর্মদিবস লাগে। এজন্যই আমি সরকারকে সময় দেয়ার পক্ষপাতি ছিলাম। ওবায়দুল কাদেরের সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রদের বৈঠকের পর পর।

কিন্তু মন্ত্রীদের বেফাঁস মন্তব্যের কারণে, ছাত্রদের প্রতারিত হয়ে ঘরে ফেরার আশংকা ছিল। তাই তারা এক মাস সময় মেনে নিতে পারে নাই। তাদের ত্বরিত আবেগী এই সিদ্ধান্তের এই বিস্ফোরণ এবং এইজন্য তাদের খুব কম দোষ-ই দিতে পারি।

আমিও যদি বিদেশে না থেকে ওই আন্দোলন চত্বরে থাকতাম, আমি নিজেও ‘এক মাস সময়ের ধান্দাবাজি মানি না’ বলেই চেঁচাইতাম।

নিজের ডিলের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন না করে, দায়সারা ধোঁয়াশা তৈরি করা, এর দায় সরকারের অতি উৎসাহী মন্ত্রীদের উপরেই বর্তায়।

তবুও, এক্সাপার্ট রিসার্চ ছাড়া ছাত্রদের দাবী অনুযায়ী, হুজুগে ১০% করে ফেলাও উচিত না। কারও কমনসেন্স এবং সিম্পল পলিসি ম্যাথ জানলেও, IO Disparity Index এর তলানীতে থাকা একটা দেশে ১০% কোটাকে গ্রহণযোগ্য মনে করবে না। যেখানে জনগোষ্ঠীর বিশাল একটা অংশকেই টেনে টেনে সামনে আনাটাই সবচে’ বড় ইকোনমিক চ্যালেঞ্জ। সেই দেশে, প্রতিবন্ধী ১%, আদিবাসী ১% এবং নারী ২%। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের দেশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ৫%। এইভাবে ১০% কোটাও ফিজিবল প্ল্যান না। আন্দোলনে থাকা আমার বন্ধু কিংবা জুনিয়ররাও সেটা জানে।

আমার মনে হয়- তাদের কাছে ব্যাপারটা এমন- ‘এটা একটা বার্গেইন ফিগার ছিল। আমরা ১০% বলবো, তা থেকে উপরে উঠবো। সরকার ৫৬% থেকে নীচে নামবে। মাঝামাঝি একটা পার্সেন্টিজ ফিগারে পৌঁছাবো। এই ছিল তাদের মনের কথা। তো, সেই বার্গেইন ফিগার ২০-২৫% গিয়ে দাঁড়ালেও সেটা একটা প্রোপার মেট্রিকে যেত বলে আমার কমনসেন্স বলে। (এই নিয়ে আরেকটা লেখায় দিবো নে।) ।

যাই হউক, এই নিয়ে নতুন করে রিসার্চ করতেও হবে না তেমন করে। এই সিভিল সার্ভিসে কোটা নিয়ে ডক্টর আকবর আলী খানের একটা খুব বিশদ ও ভালো রিসার্চ আছে। সেটায়ও এর কাছাকাছি রেকমেন্ডেশন ফিগার ছিল। সেই সাথে ঢাকা ভার্সিটির এক প্রয়াত টিচার প্রফেসর আসাদুজ্জামান খানেরও একটা ভালো রিসার্চ ছিল। এরকম সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই প্রাসঙ্গিক রিসার্চগুলো স্পেকট্রাম হতে পারে। কয়েক মাস সময় নিয়ে হলেও।

তবে হ্যাঁ, এই কোটা সংস্কার ইনিশিয়েটিভ আসলেই জরুরি। দেশের সিভিল সার্ভিসের স্বার্থেই। অন্তত এই পরীক্ষা পদ্ধতির স্কেলে যারা মেধাবী, সেই মেধাবীদের অপেক্ষাকৃত বেশি সুযোগ দেয়ার জন্য হলেও। এই হচ্ছে শেখ হাসিনা শিক্ষকদের সাথে বসতে যাবেন কেন সেই অনুরোধ!

এইবার আসি, প্রথম প্যারার সেই কথায়।

উনার সাথে জাতীয় জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন লাগবে কেন? তাদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরেকটা মিটিং-এ বসবেন কেন?
কারণ হচ্ছে, সামনের টোকিও অলিম্পিক।
আন্দোলনের আগে এবং পরে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ যেভাবে ডিগবাজি দেয়া দেখাইলো।

আগামী অলিম্পিকে তাদেরকে বিশেষ কোটায় জিমন্যাস্টিকস টিমে চান্স দেয়া হউক। এমন ডিগবাজী দেশ তো দেখলো। এবার বিশ্ববাসী দেখুক। জিতলে ভালো। জিতে আসলে ক্রিকেট টিমের মতো ফ্ল্যাট বাড়ি দেয়া যাবে। উনারা হাইরা আসলেও আমাদের সমস্যা নাই। ঢাবি উপাচার্যের ভাঙচুর করা বাড়ির টেন্ডার তো দেয়া যাবে। টেন্ডার সামলানোর ব্যাপারে উনারা বরাবরই মেধাবী।
সকল ক্ষেত্রে মেধা হউক ‘বড় কোটা’।

লেখকঃ হাসনাত কামাল সুহান

আরো পড়ুনঃ একজন কোটাধারী বলছি

 

[এডিটরস নোটঃ নাগরিক কথা সেকশনে প্রকাশিত এই লেখাটিতে লেখক তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। নিয়ন আলোয় শুধুমাত্র লেখকের মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফরমের ভূমিকা পালন করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির সম্মানহানি এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আপনার আশেপাশে ঘটে চলা কোন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতে চান সবার কাছে? আমাদের ইমেইল করুন neonaloymag@gmail.com অ্যাড্রেসে।]

 

 

Most Popular

To Top