নাগরিক কথা

মার্ক জুকারবার্গের শুনানি এবং

মার্ক জুকারবার্গের শুনানি এবং/ NeonAloy

টেক ওয়ার্ল্ড, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের আতুড়ঘর যেহেতু আমেরিকা, তাই আজকে টেক ওয়ার্ল্ডের জন্য, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিলো। কারণ আজকে ফেসবুকের কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গ কংগ্রেসের সামনে হাজির হয়েছিলো ক্যামব্রিজ এনালাইটিকা ডেটা লিক স্ক্যান্ডালের জন্য টেস্টিমোনি দিতে। আমি সেই দুপুর থেকে আগ্রহ নিয়ে পুরা সেশনটা শুনতে শুনতে কাজ করছি।

প্রোডাকটিভ এবং ক্রিয়েটিভ কাজের পাইপলাইন কিভাবে আমেরিকা ক্রিয়েট এবং মেইনটেইন করে এইটা বুঝতে চাইলে এই সেশনটা দেখা যেতে পারে। আমি জাস্ট কয়েকটা পয়েন্ট বলবো।

১) সিনেটরের প্যানেলে যারা ছিলেন তারা অবভিয়াসলি আইনের লোক। টেক জগতের সাথে তাদের যোগাযোগ সামান্য। তাই এআই, বিগ ডেটা রিলেটেড জিনিসপত্র তাদের জানার কথা না। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম দে আর ড্যাম প্রিপেয়ার্ড। একেকজনের চুল দাড়ি পেকে গেছে। কিন্তু এরা জিনিসগুলি নিয়ে হোমওয়ার্ক করে আসছে, রিসার্চ করে আসছে যতটুকু পারে। খুব সুন্দর সুন্দর লজিক্যাল পয়েন্ট ধরে ধরে কথা বলেছে। একজন সিনেটর তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেছে, “মার্ক, প্রযুক্তির ব্যাপারে আমি তোমার মতো  স্মার্ট না।” এই যে নিজের লিমিটেশন বোঝা এবং এইটার উপর ভিত্তি করে কাজ করা এবং এটা স্বীকার করা, এই মেন্টালিটিটা আমি দেশে খুব একটা দেখিনি। দেশে থাকতে আমার মধ্যেও তেমন ছিলো না, সহজ স্বীকারোক্তি। আমাদের সবার মধ্যে কেন জানি একটা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যাপার কাজ করে।

২) যেহেতু কাঠগড়ায় রেখে জেরা করার একটা ব্যাপার, চেয়ারে বসা লোকেরা যা খুশী তাই বলে থাকেন। ক্ষমতার প্রদর্শন করে থাকেন। কিন্তু এই সেশনটার টোন দুই পাশ থেকেই খুব পজিটিভ এবং কোলাবোরেটিভ। মার্ক শুরু থেকেই স্বীকার করে এসেছে এই লিক তাদের রেসপন্সিবিলিটি, তারা এটা নিয়ে কাজ করছে এবং করবে। কি কি করা হয়েছে এবং হবে সে বারবার বলে গেছে। সিনেটররা আগ্রহ নিয়ে জানতে চেয়েছে খুঁটিনাটি দিকগুলি। অনেক ইস্যু নিয়ে পরে ফলো আপ করতে চেয়েছে। ডিজিটাল প্রাইভেসী পলিসিগুলি খুবই লম্বা হয় এবং ইউজার এগ্রিমেন্টের ব্যাপার স্যাপার কেউই আসলে পড়ে সাইন আপ করে না। এগুলি ফিক্স করতে কি করা যায় এটা নিয়ে কাজ করতে চেয়েছে। কারো টোনেই মনে হয়নি প্রতিপক্ষ হিসাবে মাঠে আছে তারা। বরং তারা কাজ করছে ফিউচারকে বেটার করতে। এইজন্য তারা কোলাবোরেশনের বিকল্প দেখছে না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যত, রিস্ক নিয়ে কথা বার্তা হয়েছে, পলিসিমেকিং এ ব্যক্তিগতভাবে মার্ক জাকারবার্গের হেল্প চেয়েছে কংগ্রেস। দুই পক্ষই পরস্পরের প্রতি যেভাবে সম্মান দেখিয়ে আলোচনা করেছে সেটা খুবই চমৎকার একটা ব্যাপার। কারো মধ্যে সবজান্তা ভাব নেই, বরং হেল্পফুল মেন্টালিটি। এই একটা জিনিসের জন্য এই দেশে কাজ করে মজা আছে। বদ লোক অবশ্যই আছে। কিন্তু ভালোটা চোখে বেশী পড়ে।

৩) অনেক গুলি টেক পেইজেই সিনেটরদের টেক নলেজ নিয়ে ট্রল চলছে। ওয়েল, এই ক্ষেত্রে শেহাব ভাইকে কোট করা যায়, “দুই লাইন কোড করার পরে আমরা ভুলে যাই যে প্রথম দর্শনে আমরাই মনিটরকে সিপিউ ভাবতাম”।

আজকের হিয়ারিংটা স্পস্ট ইংগিত দিচ্ছে এখন আমেরিকা সরকার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপর সরকারি ভাবে আরও জোর দেবে।

পুরা বিশ্ব যখন এ আই দিয়ে এগিয়ে যাবে, আমরা অবশ্য তখনও অদেখা অজানা এক প্যাটেন্টের বুলি দিয়ে বাংলা কিবোর্ড বেচে কোটিপতি হবার দশটি উপায় নিয়ে গবেষনা করে যাবো। থাক, নাম নেয়া যাবেনা।

 

[এডিটরস নোটঃ নাগরিক কথা সেকশনে প্রকাশিত এই লেখাটিতে লেখক তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। নিয়ন আলোয় শুধুমাত্র লেখকের মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফরমের ভূমিকা পালন করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির সম্মানহানি এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আপনার আশেপাশে ঘটে চলা কোন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতে চান সবার কাছে? আমাদের ইমেইল করুন neonaloymag@gmail.com অ্যাড্রেসে।]

 

আরো পড়ুনঃ বিপদে ফেসবুক 

Most Popular

To Top