ক্ষমতা

কোটা সংস্কার আন্দোলন, কিছু গুজব, এবং জাকারবার্গের তেলেসমাতি…

মার্ক জুকারবার্গ নিয়ন আলোয় neon aloy

আমাদের দেশে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছে, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ তখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল শুনানি-তে বসে ঘামছিলো। কেন? সে ইউজারদের প্রাইভেসি নিয়ে খুব একটা সতর্ক ছিল না একটা সময় পর্যন্ত, এখন ওই প্রাইভেসি শিথিলতার সুযোগ নিয়ে দেশের পর দেশে ফেইক নিউজের রমরমা ব্যবসা চলছে। এমনকি, ফেইক নিউজের হাওয়ায় ভেসে একেবারে “গণতান্ত্রিক” উপায়ে সরকার চেঞ্জ হচ্ছে। হোয়াইট কলার ক্রাইমের এর চাইতে নিখুঁত উদাহরণ আর কিছু হতে পারে নাকি আমার জানা নাই।

গত দুই রাত ঘুমাতে পারি নাই বলা যায়। কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল প্রচুর। কোন পলিটিকাল শেল্টারে না থেকে একদম সাধারণ একটা ছেলে বা মেয়ে আন্দোলনে নামে কিরকম রিস্ক নিয়ে- আন্দাজ করতে পারি। তবে গত কয়দিন ছেলেমেয়েরা যেরকম মারামারি আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার উপর ছিল- সেই ভোগান্তি পোহানোর দুর্ভাগ্য হয় নাই নিজের। তাই অপরিচিত-অচেনা মানুষগুলার জন্য উৎকণ্ঠা ছিল অনেক বেশি।

তবে তার চাইতেও অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই রাত ১২টা-১টার পর হঠাৎ করে কিছু ছবি/ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করতো। কোনটা ইন্ডিয়ার কোন মিছিলের ছবি, কোনটা পুলিশের হামলায় আহত ছাত্রের মারা যাওয়ার গুজব, কোনটা ২-৩মাস আগের সংঘর্ষের ভিডিও। এবং আমার আশেপাশের পরিচিত অনেকেই সেগুলো শেয়ারও করছিলো! একেবারে অসচেতন কেউ যদি শেয়ার করতো, তাহলে খুব একটা গা করতাম না। কিন্তু যারা শেয়ার দিচ্ছিলো, তারা গুজব ছড়ানোর মানুষ না। তার মানে কি দাঁড়ায়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিকের (সর্বডানে) মৃত্যুর গুজব ছড়ায় ৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে

১। ফেসবুকের অ্যালগরিদম এতটাই নিখুঁত হয়েছে যে সে বুঝতে পারছে আমি এই মুহুর্তে ঠিক কোন জিনিসটি দেখতে চাই। কোন কীওয়ার্ড কিংবা পেইজের পোস্ট এই মুহুর্তে আমার জন্য সবচেয়ে রিলেভেন্ট। যেমন গতরাতে আমার হোমপেইজ যেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পোস্টে ভর্তি, তখন আমার ফ্রেন্ডলিস্টের একজনের স্ট্যাটাস চোখে পড়লো যার বক্তব্য অনেকটা এরকম- “যাক, কোটা-ফোটা একটু অফ গেছে, নিউজফীডে বার্সা-লিভারপুল-রোমা-সিটি’র পোস্ট আসতেছে”। মানে দাঁড়ায়, ফুটবলের চাইতে আমার বাংলাদেশের পলিটিক্সে ইন্টারেস্ট বেশি বলে ফেসবুক আমাকে ফুটবল বিষয়ক কোন পোষ্টই দেখায় নাই বলতে গেলে গতরাতে। কিন্তু আমার ওই ফ্রেন্ডের স্ট্যাটাসটা এসেছে খুব সম্ভবত “কোটা” কীওয়ার্ডটা ছিল বলে। অন্যদিকে, আমার ফ্রেন্ডের পলিটিক্স নিয়ে বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নাই, সে ফুটবল-পাগল। তাই তার নিউজফীড ভেসে গেছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ বিষয়ক পোস্টে। সোজা বাংলায় বললে, একই শহরে কিংবা একই রুমে বাস করা দুইটা মানুষের সামনে ফেসবুক পৃথিবীর একদম আলাদা দুইটা চেহারা তুলে ধরছে; যে দুইটার একটার সাথে আরেকটার বিন্দুমাত্র মিল নাই!

২। ফেসবুক আমার সামনে একটা পোস্ট আনলেই যে আমাকে বিশ্বাস করতে হবে- তা না। প্রোপাগান্ডাবাজরা এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শেয়ার করে এসব। তাদের হিসাব আলাদা। তবে আমার-আপনার মত অনেকেই এগুলা দেখছি, বিশ্বাস করছি, কোন এজেন্ডা না থাকলেও নিজেদের “সামাজিক দায়িত্ব” ভেবে ভুল জিনিস শেয়ার করছি। কিন্তু কেন?

খেয়াল করে দেখেন, গত দুইদিন যতগুলো পোস্ট ভাইরাল হয়েছে- সবগুলোর বিষয়বস্তু ছিল হয় আন্দোলনের পক্ষে পজিটিভ পোস্ট, নাহলে ছাত্রলীগের বদনাম করে নেগেটিভ পোস্ট (ফ্যাক্ট/বানোয়াট দুই ধরণেরই)। যার মানে দাঁড়ায়-
ক) মানুষ আন্দোলনটাকে বিশ্বাস করে বলেই এর ব্যাপারে পজিটিভ যেকোনকিছু শেয়ার করছে যাচাই-বাছাই ছাড়াই,
খ) মানুষ ছাত্রলীগকে নিয়ে যেকোন নেগেটিভ খবর বিশ্বাস করছে কোন রকম ভেরিফিকেশন ছাড়াই!

এইখানেই খেলাটা। আপনি-আমি নিজেদের ঘরের চাইতেও সুন্দর করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলটা সাজাচ্ছি। এখানে “প্রোফাইল” বলতে ফেসবুক ন্যাভিগেশন বারে আপনার নামের উপর ক্লিক করলে যে পেইজটাতে নিয়ে যায়, সেটার কথা বলছি না। এখানে প্রোফাইল বলতে বুঝানো হচ্ছে ফেইসবুক আপনার বিষয়ে কি কি তথ্য সংগ্রহ করছে, আপনার অ্যাড ইউসেজ অ্যাকটিভিটিজ কিরকম (মানে কোন ধরণের বিজ্ঞাপন আপনাকে দেখালে আপনি বেশি খুশি হবেন), আপনার ইন্টারেস্ট কিসে বেশি, আপনি কুকুর বেশি পছন্দ করেন নাকি বিড়াল, ধর্মীয় পোস্টে আপনার আগ্রহ বেশি নাকি আনসেন্সরড গ্রুপের অ্যাডাল্ট পোস্টে নাকি দুইটাইতেই- সবকিছু মিলিয়ে ফেসবুক আপনাকে যে দৃষ্টিতে দেখে সেই প্রোফাইলের কথা বলা হচ্ছে।

মার্ক জাকারবার্গ নিয়ন আলোয় neon aloy

শুনানি’র আগে জাকারবার্গকে যতগুলো ক্যামেরা ঘিরে ধরেছিল, তার চেয়েও বেশি ফেসবুক টুল জাকারবার্গ ২৪ ঘণ্টাই তাক করে রেখেছে আপনার দিকে।

মনে করুন আপনি একজন মানুষ যিনি বিড়াল খুব বেশি পছন্দ করেন। ফেসবুকে আপনাকে সেই পোস্টগুলোই বেশি দেখাবে যেগুলোতে বিড়ালের ছবি আছে, বিড়াল নিয়ে মানুষ গানবাজনা করছে, বিড়ালের পোশাক পরে নাচছে। অন্যদিকে যিনি কুকুর পছন্দ করেন, তার নিউজফীডে আসবে ছোট ছোট আদুরে পূডলের ছবি, কিংবা দেশের কোন জায়গায় কোন কিশোর কুকুর মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে ওই খবর।

আরো প্র্যাকটিকালি বলি। আপনি যদি একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক হন, আপনার নিউজফীডে অধিকাংশ খবর থাকবে কোথায় নতুন রাস্তা-বাঁধ-ফ্লাইওভার হয়েছে, কোথায় লীগের একজন নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, কোথায় ছাত্রলীগের একজন কর্মী দুস্থ মানুষের সেবা করছেন, কিংবা কোন উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়েছে- এসব পোস্টে। অন্যদিকে আপনি যদি বিএনপি সমর্থক হন, তাহলে আপনাকে ফেসবুক দেখাবে কোথায় ছাত্রদলের কোন নেতা গ্রেফতার হয়েছে, কোন যুবদল নেতা গুম হয়েছেন, কোথায় উন্নয়ন তহবিলের নামে কত টাকা আত্মসাৎ করেছে সরকারী দল- এসব খবর। এবং তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেই এগুলোর মধ্যে একটাও ফেইক নিউজ নাই, সবগুলোই একদম পাকা খবর- তাহলেও একই বাংলাদেশে বাস করে একজন পাবেন স্বর্গের সুবাতাস, আরেকজনের মনে হবে সে নরকে আছে!

মার্ক জাকারবার্গ নিয়ন আলোয় neon aloy

ফেসবুকের তর্কগুলো বাস্তবজীবনে ঘটলে যেমন দেখাতো…

আর এখানেই শুরু হয় সমস্যাটা। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেই একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক কিংবা একজন বিএনপি সমর্থক দুইজনই সম্পূর্ণভাবে অথেনটিক খবরগুলোই দেখছেন, তাহলেও কিন্তু বলতে হয় কেউই দেশের সম্পূর্ণ চিত্রটা দেখতে পারছেন না। একদল শুধু ভাল খবর দেখছে, আরেকদল শুধু খারাপ খবর। এবং একজন মানুষ যত বেশি এরকম একপক্ষীয় তথ্য গিলতে থাকবে, তার নিজের পক্ষে অন্ধবিশ্বাস (এটাকে “অর্ধ-বিশ্বাস” বলাই সম্ভবত যুক্তিযুক্ত) তত জোরালো হতে থাকবে। “আমি যা জানি, সেটাই ঠিক”- এই ভুল আত্মবিশ্বাসও প্রতি মিনিটের ফেসবুক স্ক্রলিং-এ বাড়তে থাকবে। সেই সাথে বাড়তি ক্যাটালিস্ট হিসাবে যুক্ত হবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফেইক নিউজ। ৮টা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে এই ফেইক নিউজগুলো আপনার আস্থা অর্জন করবে, এরপর আস্তে করে নিজের সময়-সুযোগমত ২টা ভুল তথ্য ঢুকিয়ে দিবে আপনার নিউজফীডে। মনে করুন “ক” ফেসবুক পেইজটি আপনার খুব পছন্দের। এরা প্রতিদিন খুব ভাল ভাল তথ্য আপনার সামনে তুলে আনে যেগুলো আপনি টিভি নিউজ কিংবা সংবাদপত্রে পান না। একদিন হঠাৎ নিউজফীডে খবর দেখলেন “ঘোড়ার পেটে জন্ম নিলো গরুর বাচ্চা!”- স্বাভাবিকভাবেই আপনার শুরুতে বিশ্বাস হবে না খবরটা। কিন্তু সোর্স চেক করতে গিয়ে যখন দেখবেন এটি “ক” পেইজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে- একটু ফ্যাক্ট ক্রসচেক করে না দেখলে এটা খুবই সম্ভব যে আপনি বিশ্বাস করে ফেলবেন এই আজগুবি খবরটা। কারণ “ক” পেইজ ইতোমধ্যেই আপনার আস্থা অর্জন করে ফেলেছে যে তারা কখনো ভুল খবর দেয় না!

এখন একবার ভেবে দেখুন। এই আন্দোলনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন কিংবা যারা বিরোধিতা করছিলেন, তাদের যেকোন একপক্ষকে উস্কে দেবার জন্য যদি কেউ ভয়ানক বাজে রকমের কোন একটা ফেইক নিউজ ছড়াতো তাহলে কি বিভীষিকা নেমে আসতো? এই চেষ্টা যে করা হয়নি, তা কিন্তু না। ৮ তারিখ রাতেই আহত আবু বকর সিদ্দিকের মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে। গুজবটি খুব বেশি ছড়ানোর আগে আহত আবু বকর নিজে খুব তাড়াতাড়ি গুজবটি ডিবাংক করায় খুব বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। নাহলে সেই রাতে একাধিক লাশ পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না!

আমি আপনাকে বলবো না আমার কথা বিশ্বাস করতে। আমি চাই আপনি এই লেখার প্রত্যেকটা তথ্য নিজে থেকে যাচাই-বাছাই করে নিন। শুধু এই খবর না, এখন থেকে ফেসবুকে যা পড়বেন, অন্তত ১০-২০ মিনিট যাচাই-বাছাই করবেন সেটা বিশ্বাস করার আগে, যদি না পোষ্টটি নিজেদের বন্ধুমহলের কোন হাসি-ঠাট্টার বিষয় না হয়। শুরু করবেন কিভাবে? এই লেখার একদম শুরুতে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে মার্ক জাকারবার্গকে নিয়ে- সেটা যাচাই করে দেখুন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে পড়ে আসুন সে কিভাবে দাবী করছে এই বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করতে ফেসবুক নিজের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। কারণ জেমস বন্ড মুভির মতই ঘটনা ঘটে গেছে বছরখানেক আগে এই পৃথিবীর বুকে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ফেসবুক ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে রাশিয়া। রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রচুর সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগুরু সাদা চামড়ার মানুষদের ফেইক নিউজের প্রোপাগান্ডা দিয়ে বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছে যে নিগ্রো, এশিয়ান ইমিগ্র্যান্ট আর মেক্সিকানদের কারণে শ্বেতাঙ্গরা বঞ্চিত হচ্ছে। আর এই বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা পেতে আমেরিকানরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত একটা আধা পাগলকে যে কিনা নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টই ঠিকমত হ্যান্ডেল করতে পারেনা! আর যখনই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বিশাল জোয়ারের দরকার হয়েছে, তখনই ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার ধুরন্ধর ডাটা এনালাইসিস টিম তার মুখ দিয়ে বলিয়েছে “Swamp the drain” এর মত সস্তা, কিন্তু অবিশ্বাস্য রকমের কার্যকর কিছু ক্যাচফ্রেইজ। এই সস্তা কথাগুলো বললেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়বে- এটা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা বুঝতে পেরেছে কিভাবে? লাখ-লাখ আমেরিকান আমজনতার ফেসবুক প্রোফাইল এনালাইসিস করেই!

ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্লাদিমির পুতিন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রাশিয়ার যোগসূত্র বাস্তবায়নে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে ফেসবুক

ফেসবুককে বলা হয় “The most aggressive marketing tool ever made”. এই মার্কেটিং টুল আপনাকে জোর করে বিজ্ঞাপন দেখায় না, আপনি নিজেই নিজের অজান্তে তাকে জানিয়ে দেন “আমাকে অমুক বিজ্ঞাপন দেখাও, আমি তমুক বিষয়ে ভুয়া খবর পড়তে আগ্রহী…” আর এভাবেই একই পৃথিবীতে বাস করেও আপনি-আমি আমাদের মোবাইল স্ক্রিনের নীলচে আলোতে কেউ পৃথিবীটাকে দেখি কুকুরের সাম্রাজ্য হিসেবে, কেউ দেখি বিড়ালের স্বর্গ হিসেবে। আপনি ডানপন্থী রাজনীতির ভক্ত হলে ফেসবুক আপনাকে ডানপন্থী জিনিসই দেখাবে, বামপন্থী হলে আপনাকে আরো বামঘেঁষা করে তুলবে। তার মানে সব নষ্টের মূল ফেসবুক? ফেসবুকই মানুষে-মানুষে সংঘাত বাড়াচ্ছে, পৃথিবীটাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে? না। ফেসবুক একটা যোগাযোগমাধ্যমের নামে বিনোদনের টুল। সে আপনাকে বিনোদন দিতে চায়। আর বিনোদনের উদ্দেশ্যেই সে আপনাকে আপনার পছন্দের জিনিস দেখায়। নাহলে আপনি নিজেই দুইদিন পর বিরক্ত হয়ে ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দিবেন! কে চায় সেই টেলিভিশন সেট যেটাতে পছন্দের চ্যানেল দেখা যায় না? ফেসবুকও একটা টেলিভিশনের মতই। তবে এই টেলিভিশনের আলাদা কোন রিমোট নাই। আপনি-ই দর্শক, আপনি-ই রিমোট। যেই রিমোটের ব্যাটারি লাগে না। টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখেই এই মানব-রিমোট নিজে নিজে রিচার্জ হয়ে যায়… নতুন চ্যানেলে যায়, আরো রিচার্জ হয়… এভাবেই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত চলতে থাকবে! এ থেকে কি কোন মুক্তি আছে? আমার জানা নেই। তবে এটা জানি যে একটা ফেসবুকে একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া খবরের কারণে যেকোন মুহুর্তে প্রাণ হারাতে পারেন আপনি, আমি, কিংবা শতশত মানুষ…

আর হ্যাঁ, একটা জিনিস মনে রাখবেন- খবর ছড়ায় বাতাসের গতিতে, গুজব ছড়ায় তারও আগে!

Most Popular

To Top