ফ্লাডলাইট

ক্রিকেটের আঞ্চলিক রাজনীতি এবং সহযোগী দেশগুলার ভবিষ্যৎ!

সহযোগী দেশ নিয়ন আলোয় neon aloy

আয়ারল্যান্ডের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া উচিৎ ছিলো ২০০৭ বিশ্বকাপের পরেই। সেটাই ছিলো তাদের স্বর্ণযুগ। সেটা যদি নাও হয় তবুও ২০১১ বিশ্বকাপের পর অবশ্যই পাওয়া উচিৎ ছিলো। টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার জন্য যা যা দরকার ছিলো তার প্রায় সবই ছিলো আইরিশদের।

তবু কেন ২০১৭ পর্যন্ত অপেক্ষা? আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মনেহয় অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়া। ইউরোপিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নামে আইসিসির যে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে সেটা বাস্তবে অকার্যকর। ওই অঞ্চলে ক্রিকেট বলতে কেবল ইংল্যান্ড! আর ইংল্যান্ডের সাথে আয়ারল্যান্ডের অতীত সম্পর্ক সুখকর কিছু না, অন্তত ক্রিকেটের কথা বললে। আয়ারল্যান্ডে ৭০ বছর ক্রিকেট নিষিদ্ধ ছিলো “ব্রিটিশ খেলা” হিসেবে

ইংল্যান্ডের বরং লাভ হচ্ছিলো বলা, তরুন আইরিশরা ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাচ্ছিলো টেস্ট খেলার আশায়। ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে “লোকাল” হিসেবে কাউন্টি খেলেছিলো সুনামের সাথে। সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ড আগে কখনোই ইংল্যান্ডকে পাশে পায়নি।

আর অন্য আরেকটা কারন হচ্ছে তখন যদি আইরিশরা টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে যায় তাহলে পুর্ন সদস্য দেশ হয়ে যায় ১১ টি যার ভেতর এশিয়ার মাত্র ৪ টি। যেকোন আইসিসি ইস্যুতে ভোটের প্রশ্ন আসলে এশিয়ার অবস্থান দূর্বল হয়ে যায়। যার কারনে আইসিসির প্রায় সমান ক্ষমতাধর এসিসি (এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল) তখন চায়নি আয়ারল্যান্ডের টেস্ট স্ট্যাটাস। এসিসি অপেক্ষা করেছে আফগানিস্তানের উঠে আসার। আর যখন আফগানিস্তানকে টেস্ট স্ট্যাটাস দেবার মত অবস্থান হয়েছে তখনই আইসিসি একসাথে দুই দেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস দেয়।

কিন্তু আফগানিস্তান কি অবকাঠামোগত দিক থেকে প্রস্তুত ছিলো? না, ছিলোনা। পূর্বশর্ত হিসেবে তাদের নারী দল নেই (একমাত্র পূর্ন সদস্য যাদের নারী দল নেই), নেই অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, নেই শক্তিশালী প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট কাঠামো।

তবে আফগানিস্তানের টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তি এশিয়াকে আরো শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি ২০১১ সালের পর থেকে এশিয়ায় হয়েছে বিশ্বকাপ এবং দুটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। এসব আয়োজন করার মধ্যে দিয়ে এসিসি, তথা এশিয়া ক্রিকেটে আঞ্চলিক সহযোগীতার গুরুত্ব তুলে ধরতে পেরেছে।

ইংল্যান্ড যাদের ক্রিকেটের “জনক” বলা হয় তারা গত বছর থেকে এই আঞ্চলিক শক্তির বিষয়টা অনুধাবন করা শুরু করে। ২০১৪ সালে বহুল আলোচিত “বিগ থ্রি” মডেল পাশ হয়, কিন্তু ২০১৭ সালে এসে অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড নিজেরাই সেখান থেকে সরে আসে। আইসিসির বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের ভবিষ্যৎ সঙ্গী হবে আফগানিস্তান এবং শ্রীলংকা। হয়তো সাথে থাকবে বাংলাদেশ। কিন্তু ইংল্যান্ডের? দীর্ঘদিন যেই আয়ারল্যান্ডের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে ছিলো ইংল্যান্ড, সেই আয়ারল্যান্ডের প্রতি হঠাৎ সদয় হয় ইংল্যান্ড। গতবছর ইংলিশ মৌসুম শুরু হয় ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। আয়ারল্যান্ডকে কতখানি গুরুত্ব দিয়েছিলো ইংল্যান্ড? লর্ডসে খেলা হয়েছিলো এইটুকুই যথেষ্ঠ! যতটুকু জানি আয়ারল্যান্ড এই বছর লর্ডসে একটা টেস্ট খেলবে। এজন্য ইংলিশ ক্যালেন্ডারে দশ দিন ফাঁকা রাখা হয়েছে।

অঞ্চলের হিসাবে ইউরোপে এখন দুটি পূর্ন সদস্য দেশ রয়েছে। এসিসি বা এশিয়ার পরবর্তী টার্গেট হবে নেপাল, এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। ভবিষ্যতে নেপাল যদি শক্তিশালী কোন অবস্থানে আসতে পারে তাহলে তার সর্বোচ্চ সুবিধা সম্ভবত ভারত নিবে। নেপালের উপর ভারতের প্রভাব গোপন করার কিছু নেই। নেপাল ক্রিকেট বোর্ডের গুরুত্বপুর্ন একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন ভারতীয়রা।

ইউরোপে আরো দুটি দেশ রয়েছে। স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। আমার ধারনা ইংল্যান্ড এই দুটি দেশকে এখন বিভিন্ন উপায়ে সহযোগীতা করবে। এরই ভেতর ইংল্যান্ড স্কটল্যান্ডে গিয়ে একটি ওয়ানডে খেলতে রাজি হয়েছে জুনে।
এশিয়ায় পর একমাত্র ইউরোপের সুযোগ রয়েছে চারটা দল বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করার।

এশিয়ার অন্য দল সংযুক্ত আরব আমিরাত, আগামী চার বছরের জন্য তাদের ওয়ানডে স্ট্যাটাস বহাল রাখতে পেরেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বেশ অনেকদিন ধরেই ক্রিকেট খেলছে। ১৯৮৯ সাল থেকে আইসিসির সহযোগী সদস্য তারা। হয়েছিলো ১৯৯৪ আইসিসি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন, খেলেছিলো ১৯৯৬ বিশ্বকাপ। কিন্তু ক্রিকেটে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হবার কারন “ভাড়াটে ক্রিকেটার”। ‘৯৪ আইসিসি ট্রফির একমাত্র আরব ক্রিকেটার ছিলো অধিনায়ক সুলতান জারাওয়ানি। বাকি সবাই ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার জন্মসূত্রে। আরবদের মাঝে ক্রিকেটের প্রতি অনাগ্রহের কারনে নিজের দেশের ক্রিকেটার পায়না আরব আমিরাত। ফলে পাইপ লাইন দূর্বল। অথচ শারজাহর মতো ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ছাড়াও তাদের আরো দুটি আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যু রয়েছে! ভবিষ্যতে সংযুক্ত আরব আমিরাত টেস্ট খেলবে এমন কোন সম্ভাবনা দেখিনা। সত্যিটা হচ্ছে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট নিয়ে তাদের কোন আগ্রহ আছে বলেও মনেহয় না। আর আঞ্চলিক শক্তির কথা বললে এশিয়ার ক্রিকেটের প্রায় সবকিছুই সার্কভুক্ত দেশগুলার ভেতর, খোদ এসিসিকেই কখনো দেখিনি মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলাকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে। আরব দেশগুলার ভেতর সংযুক্ত আরব আমিরাতই মুখ্য বর্তমানে, আর তাদের ক্রিকেট খেলার চেয়ে আধুনিক স্টেডিয়াম বানিয়ে ভাড়া দেওয়াতেই বেশি আগ্রহ। ক্রিকেট আরবে জনপ্রিয় না হওয়ার কারনে ক্রিকেট রাজনীতিতে আরব আমিরাতের তেমন কোন গুরুত্ব নেই। প্রবাসী দর্শক আর প্রবাসী ক্রিকেটারদের নিয়েই টিকে আছে আমিরাত। আর এভাবে ক্রিকেটের পরাশক্তি হওয়া যায়না, না মাঠে আর নাই বা মাঠের বাইরে।

আফগানিস্তানের উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলো তাদের নিজস্ব ক্রিকেটাররা। তারা কখনোই অন্যদের মতো প্রবাসী ক্রিকেটার দিয়ে দল বানায়নি আর তার ফলাফল অতি অল্প সময়ে আফগানিস্তান টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করেছিলো মাঠের পারফর্মেন্স আর এসিসির সহায়তায়। আফগানিস্তানেও ক্রিকেট তুমুল জনপ্রিয় বর্তমানে।

নেপালের জন্যেও সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখবে এটাই। নিজস্ব অর্থাৎ ন্যাটিভ নেপালিয়ানরা। নেপালের রয়েছে নিজস্ব প্রতিভাবান ক্রিকেটার এবং আঁকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ক্রিকেটের।

এশিয়ার ভেতর ভারতের আধিপত্য স্বাভাবিকভাবে বেশি। নতুন দুই সদস্যের ভেতর আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন বন্ধ। ভারত-আফগানিস্তানের সম্পর্কে এখন বসন্ত বাতাস বইছে। হয়তো সেই কারনেই পাকিস্তানকে ইউরোপের দিকে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী দেখা যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের সাথে তাদের অভিষেক টেস্টের পাশাপাশি স্কটল্যান্ডে যেয়ে দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে তারা।

আইসিসির দশ দলের বিশ্বকাপের সিদ্ধান্ত আমি সমর্থন করিনা। তবে এখান থেকে দুটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছি।

এক, বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব এতোদিন অনেকটা নীরবে অনুষ্ঠিত হলেও এবার যথেষ্ঠ মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছে। একাধিক ম্যাচ টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়েছে (যা আগে হয়নি), ফলে সহযোগী দেশগুলার খেলার মান কি পর্যায়ে আছে সেটা সহজে দেখতে পেয়েছে মানুষ। স্কটল্যান্ডের খেলা মানুষের মন জয় করেছ এবং তাদের বিতর্কিত বিদায় নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, আরব আমিরাতের জয় আপসেট ঘটিয়েছে, নেপাল ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে এইসবই মানুষ টিভিতে দেখেছে যার ফলে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ক্রিকেটবিশ্ব সহযোগী দেশগুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সরব। যার একটা ফলাফল আজ অথবা কাল আসবে।

দুই, আইসিসির এই সিদ্ধান্ত সহযোগী দেশগুলোর ভেতর বন্ধন আরো শক্তিশালী করবে। বাড়াবে আঞ্চলিক সম্পর্কের গুরুত্ব। গতকাল নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ড আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের সাথে টি-টুয়েন্টি ট্রাই নেশন সিরিজের ঘোষনা দিয়েছে জুনে। প্রতিবছর হবে এই টুর্নামেন্ট নেদারল্যান্ডসে।

সহযোগী দেশগুলার ভেতর পরবর্তী ধাপে পা রাখার দিকে অর্থাৎ টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির দিকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউরোপের দুই দেশ স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস।

নেদারল্যান্ডস ওয়ানডে লীগের ১৩ তম দেশ হবার সুবাদে নিজেদের ভবিষ্যত অনেকটা নিরাপদ করে নিয়েছে। পাকিস্তান, উইন্ডিজ, সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড প্রত্যেকের সাথে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে যার ভেতর চারটি হবে হোম সিরিজ। এই ২৪ ম্যাচের ভেতর কয়েকটা ম্যাচে জয় পেলেই তারা আইসিসির দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হবে। দাবি জানাতে পারবে টেস্ট স্ট্যাটাসের জন্য।

তবে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে স্কটল্যান্ড। খেলতে পারছেনা বিশ্বকাপ, আবার নেই ওয়ানডে লীগেও। কিন্তু চার বছরের জন্য আছে ওয়ানডে স্ট্যাটাস। তারা চেষ্টা করবে অন্য বোর্ডগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে যত বেশি সম্ভব ওয়ানডে সিরিজ খেলার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ইস্যুতে তারা ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডকে তাদের পাশে পাবে।

আগামী বিশ্বকাপ যেহেতু ইংল্যান্ডে সেহেতু কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন দল স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং আয়ারল্যান্ড সফর করবে বলে ধারনা করা যায়।

ভারত যেমন এশিয়ার সব দলগুলাকে সাথে নিয়ে আইসিসির উপর অতীতে চাপ দিয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে তেমনি ইংল্যান্ড চেষ্টা করবে ইউরোপের বাকি ৩ দেশকে সাথে নিয়ে একটা শক্তি হিসেবে আইসিসিতে নিজের আগের অবস্থান ফিরে পেতে। একসময় ইংল্যান্ডের যে অবস্থান ছিলো বর্তমানে সেটা কিন্তু নেই।

স্কটল্যান্ড অবশ্য পাঁচ বছরের একটা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার লক্ষ্য নিয়ে। দেখার বিষয় এই লক্ষ্য পূরণে কোন কোন দেশ তাদের পাশে থাকে।

চার বছরের জন্য ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়া নেপালের ভবিষ্যৎ প্রায় পুরাটাই এশিয়ার বাকি ৫ দেশের হাতে। তারা যদি এশিয়া কাপে অংশ নিতে পারে তাহলে তাদের জন্য সেটি হবে নিজেদের মেলে ধরার আরেকটা মঞ্চ। কিন্তু তাদের লক্ষ্য হতে পারে এশিয়ার প্রতিবেশীদের সাথে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলার। পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসের সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার। নাহয় ওয়ানডে স্ট্যাটাস কোন কাজেই আসবেনা। নেপালের ভাগ্য ভালো যে তারা বিসিসিআইকে তাদের পাশে পেয়ে আসছে সবসময়।

অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের পাপুয়া নিউ গিনি আশা জাগিয়েও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। হারিয়েছে ওয়ানডে স্ট্যাটাস। পাপুয়া নিউ গিনি অবশ্য প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং একই অঞ্চলের নিউজিল্যান্ডের যথেষ্ঠ সহযোগীতা পায়নি। একসময় ফিজি’র উঠে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে কালের বিবর্তনে। ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে নতুন কোন দেশের উঠে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। নিকট ভবিষ্যতে নেই বলা চলে।

একসময়ের প্রচন্ড শক্তিশালী সহযোগী দেশ কেনিয়া, ক্রিকেট বিশ্বকে কাঁপিয়ে টেস্ট স্ট্যাটাসের খুব কাছে গিয়েও এখন যেন হারিয়েছে গাঢ় কালো অন্ধকারে। কেনিয়া কিন্তু বড় বড় দেশ এবং আইসিসির সহযোগীতা পেয়েছিলো। ভারত, সাউথ আফ্রিকার সাথে ট্রাই নেশন সিরিজ, শারজাহ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্ট, ভারতে ট্রাই নেশন সিরিজ, সাউথ আফ্রিকার সাথে সিরিজ ইত্যাদি হাই প্রোফাইল সিরিজ খেলেছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দ্বিতীয় আসরের আয়োজক হয়েছিলো। একমাত্র সহযোগী দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালে খেলেছিলো কিন্তু বোর্ডের আভ্যন্তরীন সমস্যা, দুর্নীতি, ক্রিকেটারদের বিদ্রোহ, ম্যাচ ফিক্সিং এবং সর্বপরি কেনিয়াতে ক্রিকেট যথেষ্ঠ জনপ্রিয় খেলা না হবার কারনে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। স্টিভ টিকোলোদের জেনারেশন অবসরে যাবার পর যথেষ্ঠ সংখ্যক তরুণ ক্রিকেটের উঠে আসেনি। টেস্ট স্ট্যাটাস দিয়ে দিলে কি বেঁচে যেত কেনিয়ার ক্রিকেট? মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন; যার উত্তর দেয়া খুবই কঠিন। ২০০৩ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালিস্ট কেনিয়া বর্তমানে ডিভিশন ৩-এ অবনমিত হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোন অবস্থানে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই কেনিয়ার।

অনেকেই সহযোগী দেশগুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং নেপালের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। দরকার শুধু প্রতিবেশী দেশগুলার এবং আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমর্থন। পাশাপাশি আইসিসির থেকে আর্থিক অনুদান। কারন অবকাঠামো নির্মান এবং সিরিজ আয়োজন করতে যথেষ্ঠ অর্থের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

আইসিসি বর্তমানে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মত আচরন করছে, সুতরাং অর্থ ব্যয় করতে তাদের সমস্যা হবার কথা না!

আরো পড়ুনঃ

আইরিশ রূপকথাঃ ৭০ বছরের নিষেধাজ্ঞা থেকে টেস্ট স্ট্যাটাস

হুইলচেয়ারে কোচিং, চোখের জলে বিদায়

Most Popular

To Top