টেক

গুগল এবং তার শাখা প্রশাখা

গুগল এবং তার শাখা প্রশাখা

আজকাল কিছু লিখতে গেলেই এক নতুন সমস্যা দাঁড়িয়েছে, যত বলি আমার সব কিছুই নেই, অন্যের থেকে চুরিধারী করে নেওয়া তবু লোকে গু-গুলিয়ে (গুগল বললাম, অন্য কিছু না) ঘোলা করবে। যাই হোক, ভাবলাম একটু এই গুগল এর উপর মানে তার পরিবারের উপর কিছু লিখি। এরপরে ইচ্ছা আছে গুগল এর একটি অসাধারন প্রকল্প গুগল লুন নিয়ে আলাদা করে লেখা।

আবার বলছি আমার লেখায় কোথাও ভুল থাকলে দেখিয়ে দেবেন তবে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে চেশায়ার ক্যাট মানে ওই সুকুমার রায়ের চন্দ্রবিন্দু বেড়ালের মতো ভঙ্গি করে হাসবেন না ওতে লোকে হাসে আর আপনার ওজন কমে মানে আপনার কথার। যাই হোক বিষয়ে যাই।

আমাদের অনেকের আশা ভরসার জায়গা গুগল নিজেই এক আজব জিনিস। এর খোঁজার ইঞ্জিন এমন ক্ষমতা সম্পন্ন যে আপনি একটু জানার আগ্রহ আর বিষয় নির্ভর খোঁজাখুঁজির করলে এমন জিনিস পেয়ে যেতে পারেন যা জেনে হ্যাকিং থুক্কু মানে অনেক কিছুও জেনে ফেলতে পারেন এমনকি কোনো কারণে গুগলের কাছেও আপনি হয়ে যেতে পারেন বিপদজনক লোক। যাক সে কথা, ঐসব বলা ঠিক না, আবার লাইনে আসি।

আমরা যে গুগলকে জানি ওটা কিন্তু আজ একটি কোম্পানির অংশ হয়েছে মানে বড় একটি কোম্পানির একটি অঙ্গ মাত্র! দাঁড়ান,দাঁড়ান উত্তেজিত হবেন না, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠাতা আজ অনেক গুলো বিভাগ বা কোম্পানিকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে এসেছেন। এর প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ অনেক গুলো কোম্পানি বা বিভাগ কে নিয়ে যে মূল প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছেন তার নাম এলফাবেট। এর উপর জানতে নিচের দুটো সুত্রে একটু গুতো দিন। এই সূত্র কিন্তু বেশ মজার মানে এর থেকে খবর বের করে আনা ও বেশ প্যাঁচের। যাই হোক, যেমন বলেছি, টেনশিত হবেন না, হাল হকিকত তুলে ধরতে কিছুটা লিখলাম, এর বেশি চাইলে ট্যাকা টুকা দিতে হবে তাই অল্পেই সন্তুষ্ট থাকুন!

গুগলের আজকের মহা বৃক্ষ এলফাবেট এর সমন্ধে জানতে নিচের লিংকগুলো দেখুনঃ
Alphabet
Official Google Blog

২০১৫ সালে গুগল তার স্বাধীন স্বত্তার বদলে অঙ্গীভূত হয়ে যায় আলোচ্য এলফাবেট নামের মূল কোম্পানিতে। ল্যারি পেজ তার এই মহীরুহ তৈরী করেছেন ১১ টি কোম্পানিকে একত্রিত করে। ২০১৫ সালে গুগল তার স্বাধীন স্বত্তার বদলে অঙ্গীভূত হয়ে যায় আলোচ্য এলফাবেট নামের মূল কোম্পানিতে। ল্যারি পেজ তার এই মহীরুহ তৈরী করেছেন ১১ টি কোম্পানিকে একত্রিত করে। গুগল তার নিজের জায়গায় আছে তার নতুন CEO ভারতের সুন্দর পিচাই এর নেতৃত্বে।

গুগলের পূর্বতন প্রতিষ্ঠাতা এবং সর্বাধিনায়ক ল্যারি পেজ হয়েছেন এই এলফাবেট এর সর্বাধিনায়ক মানে CEO আর গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন বিবিধ প্রজেক্ট বা শাখা প্রশাখার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। মজার কথা হলো এই ১১টি শাখার প্রত্যেকটির একজন সিইও আছেন তাই এই দুজনের কাজ হলো যেখানে কোনো সিইওর সাহায্য দরকার হচ্ছে সেখানে নিজেদের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

আসুন জানি এই ১১ বাহু এবং তার সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ

১. বোস্টন ডায়নামিক্সঃ আগে একটি পৃথক সংস্থা হিসেবে পথ চলা শুরু করে পরবর্তীতে গুগলের অঙ্গীভূত হয় ২০১৩ সালে। এটির কাজ মূলত রোবট এবং বিভিন্ন প্রাণীর ব্যবহারের উপর পর্যবেক্ষণ আর ওই ধরণের স্বয়ংক্রিয় রোবট তৈরির কাজ করে। এদের তৈরি একটি রোবট কুকুর আছে যার নাম “স্পট”। এখন এই সংস্থা আলাদা শাখা হিসেবে ঠিক কি কি করে তার পূর্ণ তথ্য জোগাড় করে উঠতে পারি নি তবে ওই বিষয়ে একটা মনোজ্ঞ প্রতিবেদন দিচ্ছি পারলে দেখে নিন।

দায়িত্ব নিয়ে বলছি এই কুকুর রোবট আপনার ভালো লাগবে,এছাড়া এদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ও ঘুরে আসতে পারেন।

২. ক্যালিকো বা ক্যালিফোর্নিয়া লাইফ কোম্পানিঃ এটি অবশ্য গুগল এবং মহামতি আর্থার ডি লেভিনসনের ২০১৩ তে সৃষ্টি। এর প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের বার্ধক্য আর সেই সংশ্লিষ্ট ব্যাধির প্রতিরোধের রাস্তা দেখানো। এটার উপর কাজ করছেন সরাসরি ল্যারি এবং ব্রিন। আরো মজার হলো উপরে বলা ওই লেভিনসন কে জানেন? উনি হলেন আমাদের সবার পরিচিত এপেল-এর সর্বাধিনায়ক মানে সিইও!

এই ক্যালিকোর নিজস্ব ওয়েব সাইট সময় করে একটু দেখুন, অন্তত এর প্রচ্ছদটি। জ্বরা বা বয়েস জনিত সমস্যা নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থা বা শাখার চিন্তার উত্কর্ষ জানতে ওটা জানা জরুরি।

এই সংস্থা মূলত চিকিত্সাবিজ্ঞানের উচ্চতর শাখার উপর কাজ করে যা আমরা অধিকাংশই আন্দাজ করতে পারবো না। তারা ঔষধ বা তার প্রস্তুতি, মলিকিউলার বায়োলজি (অনু জীববিজ্ঞান), জিনতত্ব বা এর প্রযুক্তি (কোনো ধর্মীয় জিন নহে!) এবং গনকযন্ত্র নির্ভর জীববিজ্ঞান (computational biology) নিয়ে কাজ করে। এই শেষের বস্তুটি কি জানি না তবে আন্দাজ করছি উচ্চশ্রেনীর কম্পিউটার বিশ্লেষণ এবং বিবিধ নির্ণয় যন্ত্রের কাজ হবে। খুঁজে দেখলাম এর সাথে ভারতের কিছু মেধাবী মানুষ ও আছেন তার একজন শুভব্রত সান্যাল হলেন একজন বঙ্গসন্তান।

৩. ক্যাপিটালঃ আগে পরিচিত ছিল গুগল ক্যাপিটাল আর বর্তমানে শুধু ক্যাপিটাল মানে আমার সেই বিরক্তিকর ট্যাকাটুকার কারবার নিয়ে আলাদা মাথা ঘামানোর সংস্থা।

এর কাজ বিশদে জানতে এই ওয়েব মানে ওদের নিজস্ব ওয়েব সাইট থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
আর সংক্ষেপে জানতে চাইলে বলতে পারি ওরা বিনিয়োগ করে এলফাবেট এর হয়ে মানে ওই আগের গুগলের হয়ে যা করতো। দাঁড়ান তার মানে ভাববেন না আমি বা আপনি কোম্পানি খুলে টাকা চাইলেই দেবে, হু হু ওরা অতীব বুদ্ধিমান তাই যে কোম্পানি দিব্বি চলছে বড় হচ্ছে কিন্তু আরো বড় হতে অর্থের দরকার তাদের জন্য আছে এই শাখা। ওরা মূলত গুগলের বিনিয়োগ করার হাত।আরো স্পস্ট বললে গুগল যে সমস্থ কোম্পানি মানে সংস্থা কিনছে বা কিনবে তার জন্য এই শাখা কাজ করে।

৪. ডিপ মাইন্ডঃ
এই শাখা তার নামের মতই বড় রহস্যের। বৃটেনের এই কোম্পানি তার নিজস্ব যাত্রা শুরু করে ২০১১ সালে আর ওটা গুগল কিনে নেয় ২০১৪। এরপর গুগল কিন্তু এর কাজ সমন্ধে বিশেষ কিছুই বলে না। যা জানতে পারছি তা হলো ওরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মূলত এলগোরিদম ভিত্তিক কাজ করে। প্রাথমিক ভাবে গুগলের অঙ্গ হিসেবে ওটা ডিপ ড্রিম প্রজেক্ট ছিল তবে এর এলফাবেট এর অধীনে কি কাজ ওটা বাইরের মানুষের জানা নেই খুব একটা।

যতটুকু জানা যাচ্ছে ওদের ওয়েব থেকে তা হলো উচ্চাঙ্গের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর কাজ আর ওটা কে মানব সমাজে কি ভাবে ব্যবহার করা যায় তার উপর একদল অমিত ক্ষমতাধর মানুষ কাজ করছে। একটা উদাহরন দিলে একটু বুঝতে সুবিধা হতে পারে, ধরুণ আপনি কোনো দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক জায়গা ঘুরেছেন আর ওই জায়গার ছবি বা বন্য প্রাণীর ছবি তুলেছেন এর সাথে কল্পনার রং লাগিয়ে আরো কিছু বানাতে চাইছেন, আপনি কিঞ্চিত টেকি মানে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হলে গুগল দেবে একটি ফ্রি টুল যা দিয়ে ওই মহাত্মা সুকুমার রায়ের মতো আপনি ও হাসজারু ইত্যাদি কিছু কল্পনার ছবি তুলে ধরতে পারবেন, আপনার ধারনা আর ওদের সফটওয়ার সৃষ্টি করবে সব অপার্থিব ছবি বা ত্রিমাত্রিক আবহ। এ ছাড়া ওরা নিচ্ছে এই ধরণের বুদ্ধিমান গবেষক বা মেধাবী মানুষদের যারা এই যন্ত্র চালিত বুদ্ধিমত্তাকে এক অন্য রূপ দেবে। একটা উদাহরণ দিলেই বোধহয় কিছুটা আন্দাজ পাবেন, একটি কাজ হচ্ছে আমার আপনার মনের ভাব বাইরের কিছু যন্ত্রদ্বারা নির্নয় করার। মানে মনের একটা ছবি তুলে নেওয়া, যাই হোক এইসব অনেক বড় বড় ব্যাপার তাই এদের ওয়েব সাইট এর সূত্র রেখে যাচ্ছি। পরে চেষ্টা করবো যদি কিছুটা সহজে বলতে পারি।
ওদের খুঁজে পাবেন এইখানে।

এই ধরনের একটা কল্পনার ছবির নমুনা ও রাখছি লেখার সাথে তবে আবার বলছি ওটাই কিন্তু সব না, বরং ওটা কিছুই না যা ওরা করছে।

৫. মূল নায়ক গুগলঃ
যার জন্য আমরা বাকি সব কিছু জেনেছি সেই গুগল তার মূল বৈশিষ্ট নিয়ে এখনো সর্ববৃহত শাখা মানে কোম্পানি হয়ে বিরাজমান।গুগলের নিজের বাহু মানে আমাদের পরিচিত খোঁজার প্রযুক্তি বা সার্চ ইঞ্জিন, ওয়েব ব্রাউসার, বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রযুক্তি, মোবাইল এর এন্ড্রয়েড এবং ক্রোম সফ্টওয়ার আর সবার প্রানপ্রিয় ইউটিউব আছে তার নিয়ন্ত্রনেই।

নতুন প্রকল্প গুগল Fi:
এটি গুগল এর মোবাইল ইন্টারনেট এবং বার্তালাপ এর নতুন একটি পদক্ষেপ। এর উপর বলতে গেলে আলাদা লেখা লিখতে হয় যাই হোক গোদা বাংলায় বলা যায় আপনি গুগল এর নেক্সাস ফোন এর বিভিন্ন মডেল যা গুগল বিক্রি করে তার উপর আর মটোরোলার (কিছু) উপর এই সুবিধা পাবেন। মোটেই এটি সিম ভিত্তিক না বরং আপনি নানান জায়গায় বিভিন্ন অপারেটর এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিনা সিমে ওয়াই ফাই সুবিধা যুক্ত জায়গায় মাসিক একটি মূল্যে ওই সুবিধা পাবেন। বর্তমানে মার্কিন নাগরিক সারা দেশে এবং বিদেশে মানে ১৭০টি দেশে ভ্রমনের সময় ওই ইন্টারনেট সুবিধা পায় গুগল এর আঞ্চলিক আর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।এর উপর বিস্তারিত জানতে আমেরিকা প্রবাসী মানুষের কাছে খোঁজ নিতে পারেন। যতদুর বুঝতে পারছি ওরা ওটা ক্রমশ ওই বেলুন ইন্টারনেট বা উপগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী এই সেবা ছড়িয়ে দিতে চলেছে। ওই বেলুন ব্যবস্থা অন্য কোনদিন আলোচনা করবো।

খালি বলে যাই ঐ সেবা দিয়ে আপনি ইন্টারনেট এর মাধ্যমে যে কোনো নাম্বারে ফোন বা অন্য কাজ করতে পারেন কারন আপনার মূল নাম্বার থাকবে ক্লাউডে। এছাড়া ওই মাসিক চুক্তি বা ডাটা ব্যবহার অনেক স্বচ্ছ, যা ব্যবহার করতে পারবেন না ওটা পরের মাসে চলে যাবে। এছাড়া এর ব্যবহার বাড়ানো বা বিলের প্রতিমুহুর্তে হিসেব রাখার ব্যবস্থা সহ অনেক ভালো দিক আছে।
Google Project Fi

৬. হুলি (Hooli)
এটি ঠিক কি ওটা ল্যারি পেজ বলতে পারবেন, মূলত HBO এর একটি কমেডি সিরিজের সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের কাল্পনিক এক কোম্পানির বাস্তব রূপ দিয়েছে ল্যারি। এর পাতা দেখে কিস্যুই বুঝবেন না তবে যা জানতে পারছি তা হলো হয় ওই ক্লাউড মানে ইন্টারনেট এর নিরাকার সার্ভার এর মাধ্যমে উদ্ভাবন এর কাজ এবং তার সাথে পরিচিত ড্রোন এর কাজের গোপন গবেষণা এবং সে সম্পর্কিত প্রজেক্ট। পরে আরো জানতে পারলে জানাতে চেষ্টা করবো। একটা সূত্র দিচ্ছি তবে ওটা খুব একটা তথ্য দেখাচ্ছে না। Project Hooli

৭. লাইফ সায়েন্সেসঃ
গুগল এক্স এর সাথে শুরু হয়েছিল পরবর্তিতে একক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। উপরে বলা ক্যালিকোর মতো হলেও অনেকটাই জীবিত প্রাণী বা বস্তুর উপর এটি কাজ করে। ক্যালিকোকে সহায়তা দিতেই হয়ত ওটা আলাদা করে জোর দেওয়া হয়েছে। এই সংস্থা তৈরী করেছে একটি বিশেষ সর্করা পরিমাপক কন্ট্যাকট লেন্স তবে আরো কি কি করছে তা আমরা জানি না।

যা জানতে পারছি তা হলো আপাতত ওটা নাম পরিবর্তিত করে হয়েছে ভেরিলি যার সূত্র মানে ওদের ওয়েব ঠিকানা দিলাম, মূলত প্রযুক্তি এবং চিকিত্সাবিজ্ঞানকে একত্রিত করে মানব সমস্যার সমাধানের মহতি পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কথা বলছে ওরা। আগের গুলোর মতো এতেও ভারতীয় গুণী মানুষ আছেন আর এতে ওই ক্যালিকোর মতোই জিন বা তার মধ্যস্থ ডিএনএ নিয়ে বিস্তৃত কাজ চলছে দেখতে পারছি। এটির স্রষ্টা সের্গেই ব্রিন। প্রয়োজনে ওরা অন্য ল্যাব ও অধিগ্রহন করছে দেখতে পাচ্ছি। ওদের সমন্ধে জানতে এই জায়গায় খোঁচা দিন

৮. নেক্সট ল্যাবঃ
তাপবিজ্ঞান কে ব্যবহার করে এবং বুদ্ধিমান যন্ত্রকে রুপায়ন দিয়ে এর পথ চলা গুগল এক্স এর সাথে এবং পরবর্তিতে পৃথক সংস্থা,এটি বুদ্ধিমান আলো বা সুরক্ষা ক্যামেরা দিয়ে আপনার নিয়ন্ত্রন কে আরো পোক্ত করে নিজের জন্য। শুধু তাই না,আপনার আমার বিদ্যুত অপচয় রুখতে বা কোনো দুর্ঘটনা আটকাতে যন্ত্র নিজেই তার ব্যবস্থা নিতে পারে ওটা এর লক্ষ্য। এর সাথে গুগলের হার্ডওয়ার বিভাগ কে জুড়ে একটি সম্পুর্ন সমাধান দিতে কাজ করছে এই শাখা। হালে হার্ডওয়ার আর সফটওয়ার শাখা মিশে ওটা একত্রিত হয়ে কাজ করছে। এদের কাজ গুলো খুব আকর্ষনীয় আর আগ্রহের সৃষ্টি করবে, পারলে এদের ওয়েব একটু ঘুরে যাবেন ভালো লাগার প্রচুর জিনিস আছে।

৯. ভেঞ্চারঃ
আগের বলা ক্যাপিটাল এর মতই এর কাজ তবে এই সংস্থা সাহায্য করে নতুন কোম্পানিকে। এটা অবশ্য ওই আলফাবেট তৈরী বা এর সাথে অঙ্গীভূত হওয়ার আগে স্বকীয় প্রতিষ্ঠান ছিল গুগলের নিয়ন্ত্রণে। এক্ষেত্রে উত্সাহিত হওয়ার আগে একটু দাঁড়ান, গুগল যে কটি কোম্পানিকে এই সংস্থার মাধ্যমে সাহায্য করেছে পরে সেগুলো নিজেই কিনে নিয়েছে। ২০০৯ এ যাত্রা শুরু আর ৩০০র উপরে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,স্বাস্থ্য, বিশেষ কারিগরী ইত্যাদি উদ্ভাবনার জায়গায় ওরা আগ্রহী, আমার কাছে এই সংস্থা অনেকটা ওই মানুষের নতুন চিন্তা বা মেধার উপর বিনিয়োগ আর ওটা কে ব্যবহার করার একটি উপায় মনে হয়েছে।
আমার এই বিষয়টা বেশি ভালো লাগে নি তাই এর উপর বেশি খোঁচাখুঁচি করি নি, চাইলে নিজে দেখে নিতে পারেন। অন্যগুলোর মতোই এতে ও বেশ কিছু মাথা সেই ভারতীয়!

১০. এক্স ল্যাবঃ
এটি অতীব বিস্ময় এবং বিতর্কের একটি সংস্থা।এইখানেই সেই স্মার্ট চশমা মানে গুগল গ্লাস জন্ম নিয়েছিল। এইখানেই উদ্ভাবিত হয়েছে চালক বিহীন গাড়ি, সোজা কথায় আজকের যতো স্বনিয়ন্ত্রিত বুদ্ধিমান যন্ত্র বা গনক গুগল জন্ম দিয়েছে তার অধিকাংশ এই সংস্থার মাধ্যমে। এর কাজ অতীব গোপনীয় এবং অনেকের কাছে ওই আমাদের দেখা টার্মিনেটর এর পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের সংস্থা স্কাইনেট এর মতো কারবার।

এই জায়গায় আগে বলা ওই ইন্টারনেট বেলুন থেকে মহাকাশবিজ্ঞানের নতুন প্রযুক্তি,সমুদ্রের জল থেকে শক্তি আহরন,আগে বলা স্বনিয়ন্ত্রিত গাড়ি কি হচ্ছে না!এক কথায় প্রযুক্তিবিদ্যা আর পদার্থবিদ্যার এক অপরূপ মিলন ক্ষেত্র যাতে পৃথিবীকে একটা মোচড় দেওয়ার কাজ চলছে।

সমালোচকের কাছে এই বিপদজনক কাজ পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব বিলুপ্ত বা যন্ত্র আর মানুষের সংঘাতের কারণ হতে পারে।যাক সে কথা,আমরা আশাবাদী,মানুষ নিশ্চই একটা প্রোগ্রাম রাখবে যাতে ওই যন্ত্র কোনদিন মানুষের সংহার এর ভাবনাই আনতে পারবে না।

১১. ফাইবারঃ
এটি একটি ব্যতিক্রমী গুগল প্রচেষ্টা। ওরা এই ক্ষেত্রে আগের মতো সফটওয়ার ভিত্তিক কিছু না একেবারে পরিচিত সাধারন বন্টন ব্যবস্থার কাজ করে মানে আমেরিকার স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি এক গিগাবাইট প্রতি সেকেন্ড ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করে।এই কোম্পানি কিন্তু স্রেফ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে কাজ করে মানে অন্যগুলোর মতো পৃথিবী জুড়ে কাজ করে না।
অনেকটা ‘সকলের জন্য ইন্টারনেট ‘ এই ধরনের এই হার্ডওয়ার ভিত্তিক কাজের বিষয়ে আরো জানতে এই জায়গায় খোঁচা দিন।

এদের ইন্টারনেট স্পিড বা সেবার যা অবস্থা তাতে আমাদের হিংসিত হওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই মানে আপাতত। তাহলেও আশায় আছি,একদিন আমরাও …..

গুগল এক অফুরন্ত মানব প্রতিভার সমুদ্র এক চামচ চেখে মন ভরে না তাই ইচ্ছা আছে আরো কিছু বকর বকর করার। দেখি কোনো এক দিন, অন্য কোনো সময়ে আবার করবো। আজকের মতো ইতি।

পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আর লেখার তথ্যসূত্র বলতে সেই গুগলের সংস্থা গুলোর বর্ননা তাই আলাদা করে তথ্যসূত্র দিলাম না।

Most Popular

To Top