নিসর্গ

চন্দ্রগ্রস্ত রাত… এবং একটি জুমঘর! (৪র্থ পর্ব)

আমিয়াখুম নিয়ন আলোয় neon aloy

চন্দ্রগ্রস্ত রাত… এবং একটি জুমঘর! (১ম পর্ব)

চন্দ্রগ্রস্ত রাত… এবং একটি জুমঘর! (২য় পর্ব)

চন্দ্রগ্রস্ত রাত… এবং একটি জুমঘর! (৩য় পর্ব)

একটু হাঁটা শুরু করতেই আবার সেই বড় পাথরের মাঝে। জায়গাটা পুরা প্রাগৈতিহাসিক ধরণের। ১০ টার দিকে একটা জায়গা পৌঁছলাম। আবার সেই ভেলা কাহিনী। বাঁশের ভেলা বানাও আর উঠে পড়ো। কিন্তু এখানে আশপাশে বাঁশগাছ তেমন নেই আর। আগে যারা এসেছেন তারাই মোটামুটি সব গাছ কেটে ফেলেছে। তবে আমরা একটা পুরানো বাঁশের ভেলা পেয়েছিলুম। অনেকদিনের পুরানো। খুব সম্ভবত এর আগের বছর যারা এসেছিলো সেরকম কোন গ্রুপের। এটার অবস্থা তত ভালো না। খুব সম্ভবত লাইফ জ্যাকেটও ও ভেলার সাথে বেঁধে দিয়েছিলাম আমরা বাড়তি ভাসার জন্য। দড়িটড়ি দিয়ে বাধার পর দেখা যায় এটাতে কেবল দুজন যেতে পারবে। প্রথমে রক্তিম রওনা দিয়েছে। জায়গাটা দেখা যাচ্ছে ও যেখানে যাবে। ১৫০ থেকে ২০০ ফিট মতোন হবে। রক্তিম গিয়ে এক বড় পাথরের উপর উঠে দাঁড়িয়েছে। ভেলা আবার ব্যাক করে এবার ধ্রুব যাবে। ওইটা ব্যাক করলে পরে আমি, তারপর অনিক। বেণু কোত্থেকে এক বড় সাইজের কাঁকড়া খুঁজে দিয়েছে আমাদের। আমি আর অনিক অনেকক্ষণ চেষ্টা করছি আগুন জ্বালিয়ে এটাকে খাবার। সবকিছু ভেজা আশপাশে। লাইটার, ম্যাচ সব থাকার পরেও প্রায় একঘন্টা চেষ্টা করেও আমরা আগুন জ্বালাতে পারিনি। ডিসকভারিতে বিয়ার গ্রিলস কিভাবে দুমদাম আগুন জ্বালায়! আমরা বুঝছি আমাদের বেসিক সারভাইভাল স্কিল শূণ্যের কোঠায়। পরে চিন্তা করছি ডিরেক্ট লাইটার দিয়ে কাঁকড়া ফ্রাই করে ফেলা যায় কিনা… এসব ভাবতে ভাবতে রক্তিম আর ধ্রুব ওই মাথা থেকে চিৎকার করছে। এর পর আর যেতে পারবো না আমরা। ওরা দাঁড়িয়েছিলো এক পাথরের উপর। সেখান থেকে আরেকটাতে যাবার পর নাকি ওদিকটা প্রচন্ড পিচ্ছিল। ওই পাশেও এরকম ঝর্ণামতন আছে, এবং যথেষ্ঠ রিস্কি এভাবে যাওয়া। তাই ওরা ব্যাক করবে। আমরা বসেই থাকলাম। এ জায়গাটার নাম বলা হয়নি, বেলাখুম। এখান থেকে আরো উপরে এরকমই আরো আছে নাম হলো নাইক্ষ্যংমুখ। এর পরে কি আছে জানিনা আমরা। শীতে ছাড়া এসব জায়গা যাওয়া মোটামুটি অসম্ভব বলা যায়, বা তার জন্য সেরকম স্কিল বা এনার্জি থাকতে হবে। আমাদের অতো দরকার নাই। সবাই মিলে ব্যাক করেছি জুমঘরের জায়গাতে, তখন দুপুর। এসে দেখি বিশাল এক ট্যুরিস্ট গ্রুপ। ওরাও ক্যাম্প করবে রাতে। আমাদের সাথে কথাবার্তা হলো। ওদের সাথে গাইড হিসেবে দেখি আমাদের অনেক পুরানো পরিচিত গাইড শাবুলদা। খাওয়া-দাওয়া করেই রওনা দিলাম এবার আমরা নিচের দিকে নামবো।

আমিয়াখুম নিয়ন আলোয় neon aloy

বড় এক পাথরের উপর দাঁড়ানো আমাদের কারবারি দা…

আমরা এসেছিলাম এক পথে, ফিরছি আরেক রাস্তা ধরে। এটা পায়ে হাঁটার রাস্তা। এখান থেকে জিন্নাপাড়া হয়ে নাফাখুম যাবো আমরা। পরের রাস্তা মোটামুটি সহজ। জিন্নাপাড়ায় আর্মি ক্যাম্প আছে, বেশ বড় পাড়া। ওদেরকে পাশ কাটিয়ে আমরা চলে এসেছি একদম সমতল ভূমিতে। ঝিরিটা এখানে মোটামুটি বড় খালের রুপ নিয়েেছে। বেশ কয়েকবার পার হতে হয় ঝিরিগুলো। এক জায়গায় পানির এতো স্রোত পারই হতে পারছি না। শেষ মাথায় আটকে গেছি। বারবার পানিতে ভিজে জিন্স প্যান্ট একেতো ভারী হয়ে গেছে অনেক, তার উপর আগের দুদিনের স্ট্রেস। মনে হচ্ছিলো পা তুললেই ভেসে যাবো পানির তোড়ে। যারা পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে এসেছেন কিংবা পার হয়েছেন তারা আন্দাজ পাবেন। ওই অবস্থায় বেণু আর পিটার পানিতে নেমে হ্যাঁচকা টানে আমাকে তুলে ফেলেছে নদীর পাড়ে।

আমিয়াখুম নিয়ন আলোয় neon aloy

দুইদিনের ধকলে ক্লান্ত,বিধ্বস্ত; কিন্তু পরিতৃপ্ত…

রাত ৮ টা মতন বাজে। পূর্ণিমার আলো আছে। হাঁটতে অতো অসুবিধা হচ্ছে না। আমরা সে দুপুর থেকে হাঁটছি। আমাদের খাবারের রসদও ফুরিয়ে এসেছে। আমাদের টার্গেট নাফাখুমের কাছাকাছি কোন পাড়ায় রাতে থাকা। পিটার এ পথে অনেক আগে একবার এসছে। বেণু আসেইনি কখনো। পিটার বারবার বলছে আরেকটু হাঁটলেই আমরা পাড়া পাবো, কিন্তু পাড়া আর পাইনা। খালটাকে ঠিক কতবার আড়াআড়ি পার হয়েছি এখন মনে করতে পারছি না, তবে ৮ থেকে ১০ বারের কম না। এই অন্ধকারে প্রচন্ড স্রোত সামলে পার হওয়াটা কোন মুখের ব্যাপার না। তার উপর জোঁকের আক্রমণ তো আছেই। শরীরের ঠিক কোন জায়গায় জোঁক কামড়াচ্ছে সেটার ও কোন বোধ হচ্ছে না! আসলে টানা তিনদিনের ধকল আর অতীব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে শরীরের ব্যথা বেদনার কোন অনুভূতিই পাচ্ছি না মনে হয়! রাত ১০ টার দিকে সত্যিকারভাবেই আমাদের বডিতে আর শক্তি নেই হাঁটার। ক্যাম্প করতে হবে। আর কোন গতি নাই আমাদের। পিটার বারবার বলছে আরেকটু হাঁটলেই পাড়া পাবো কিন্তু ওর কথার কোন বিশ্বাস হচ্ছেনা। সুতরাং এ রাতটা রেমাক্রি খালের পাড়েই থাকবো।

টেন্ট সাথেই আছে। খালের পাড়ে একটা সুন্দর চরের মতোন পেয়েছিলাম আমরা। দুটো টেন্টই পিচ করা হলো। ক্ষুধায় অস্থির অবস্থা সবার। কিন্তু দেখা গেছে আমাদের চাল-ডাল-মশলা সবকিছু আছে, কিন্তু হাঁড়ি-পাতিল সব পাড়ায় পাঠিয়ে দিয়েছি আমরা কার্বারিদার সাথে। আসলে ক্যাম্প করবো এমন প্ল্যানই ছিলোনা আমাদের। সে যাই হোক এখন কি করা যায় ভাবছি। অনিক পোলাটার খাবার দাবারের আইডিয়া খারাপ না। সে বলে ম্যাগি নুডলস আছে ওগুলো কাঁচা খাবো আর ডিরেক্ট রেমাক্রি খালের পানি! নুডলস জিনিসটা কাঁচা খেতে যে অতো খারাপ না এটা জীবনে প্রথম বুঝেছিলাম আমরা! ফানুস ছিলো লাস্ট পিস। একটু ছিঁড়ে গেছে। তাও কেমন সুন্দর উড়ে গেলো! রক্তিমের কষ্ট করে ফানুস আনাটা পুরোপুরি সার্থক!

সকাল ৭ টার দিকে বেণু আর পিটার উঠেই ডাকাডাকি শুরু করেছে। ওরা কাঁচা নুডলস খেয়ে অভ্যস্ত না। পাড়ায় যেতে হবে আমাদের আর ভাত খেতে হবে। ৯ টার দিকে হাঁটা শুরু করেছি আর আধাঘন্টা পরেই একটা পাড়ায় পৌঁছে গেছি। এটার নাম চেয়ারম্যান পাড়া। আমরা আসলে পাড়ার খুব কাছেই ছিলাম। যাই হোক ওখানে হেডম্যানের বাড়িতে আমাদের যা যা ছিলো (তেল, নুন, মশলা, চাল ডাল এসব) সব দিয়ে দিয়েছি। পাহাড়ে ভালো শসা পাওয়া যায় তবে ওগুলোর সাইজ অনেক বড়। আমরা মাচানে শুয়ে শুয়ে রিলাক্স করছি । পিটার আর বেণু ধুমধাম রান্না করে ফেলেছে। খেতে গিয়ে মনে হচ্ছে… আহা কতদিন ভাত খাইনি!

আমিয়াখুম নিয়ন আলোয় neon aloy

বরফঠান্ডা পানিতে গা এলিয়ে দেওয়ার সুখ অন্যরকম একদম!

পাড়া থেকে বিদায় নিয়ে নিচের দিকে নামছি। অল্প কতদূর যাবার পরেই প্রচন্ড পানির শব্দ। নাফাখুমের কাছাকাছি এখন, আমরা রিলাক্স মুডে। আর তেমন তাড়া নেই আমাদের। খুমের কাছেই অনেকক্ষণ বসে ছিলাম। আরেকটা ট্যুরিস্ট গ্রুপ ছিলো ওখানে শুধু। হঠাৎ অনিক বলে ওর নাকি ছোট একটা মোবাইল আছে তাতে ছবি তোলা যায়। আমাদের মোবাইল সব অনেক আগেই বন্ধ চার্জের অভাবে। তবে এধরণের ট্যুরে খুব দামি মোবাইল নেওয়াটা রিস্কি। অনেক পানির পথ থাকে। আমাদের দামি ক্যামেরা গেছে এই পানি ঢুকে যাবার জন্য। সুতরাং মোবাইল আনলেও ওটাকে পানিনিরোধী কিছুতে রাখতে হবে। ওই পিচ্চি মোবাইলে মনে হয় দুচারটা ছবি তোলা হলো, তারপর আবার রওনা। এর পরের পথটা কোন ঝামেলা নেই। মোটামুটি সমতল জায়গা। ঝিরিটাকে বেশ কয়েকবার পার হতে হয় ওটাই যা একটু কষ্ট। আসার সময় এক ঝিরির ধারে পানি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি এক সাপ। ওইটাও মনেহয় পানি খেতে এসেছে। যাই হোক আমার পানি খাওয়া হয়নি। উল্টা দৌড় দিয়েছি ওইটাকে দেখে! তবে আসার সময় একটা মজার জায়গা পেয়েছিলাম। আমি আর রক্তিম বেশ কিছুটা এগিয়ে ছিলাম। অনিক আর ধ্রুব অনেকটা পেছনে। ওদের হাঁটতে একটু কষ্ট হচ্ছে সম্ভবত।একটা জায়গা অনেকটা লেকের মতন। তার পাশে খালটা ঘুরে গেছে। পানির স্পিড অনেক এখানে। পিটার আর বেণু বলে আপনারা লাইফ জ্যাকেট নিয়ে গ্লাইড করেন আর ওইপাশ থেকে ধরবো আমরা। আমার সাহস হয়নি। রক্তিম করেছিলো। ভেসে যাবার চান্স ছিলো তবে এ জিনিসটা চরম ইন্টারেস্টিং। আমরা পানিতে আরো কতরকমের মজা করা যায় এসব আবিষ্কার করতে করতে অনিক-ধ্রুব চলে এসেছে। আবার হাঁটা শুরু। কিছুদূর যাবার পর মনে হচ্ছে ট্যুরিস্টের কাফেলা! সবাই নাফাখুম দেখতে যাবে। কাঁধে ভারী ভারী ব্যাগ নিয়ে কোমরসমান পানি পার হচ্ছে… আহা অসাধারণ সব দৃশ্য। আমি মোটামুটি গুণেছিলাম। প্রায় ১০ থেকে ১১ টা গ্রুপে কম করে ১০০ জনের উপর, তারমধ্যে ৪০%-ই মেয়ে! আমাদের দেশে নারী ট্রাভেলারের সংখ্যা বাড়ছে। এটা খুবই পজিটিভ একটা ব্যাপার।

প্রায় তিনঘন্টা হাঁটার পর আমরা রেমাক্রিমুখ একটা জায়গায় পৌঁছে গেছি। এখানেই রেমাক্রিখালটা বাঁক খেয়ে আরো উপর দিকে চলে গেছে। রেমাক্রিমুখ জায়গাটা এতো অসাধারণ, প্রকৃতি কি সুন্দর ন্যাচারাল স্টেপ বানিয়ে রেখেছে! বসে থাকতেই ভালো লাগে। আমরা অনেকক্ষণ বসে ছিলাম ওই জায়গায়। তবে একটু সাবধানে থাকতে হয়, জায়গাটা খুব পিচ্ছিল ধরণের তাই। এই জায়গার উপরেই বিখ্যাত রেমাক্রি বাজার।

আমিয়াখুম নিয়ন আলোয় neon aloy

প্রকৃতি কি সুন্দর ন্যাচারাল স্টেপ বানিয়ে রেখেছে!

আমরা ব্যাক করবো এখান থেকেই। আজকের মধ্যে চিটাগং পৌঁছতে হবে। দুপুর তিনটার দিকে আমরা রওনা দিলাম। আবার সেই রো টাইপ বোটে চড়বো। রেমাক্রি থেকে এ ভ্রমণটা কি যে অসাধারণ! আমরা যাচ্ছি স্রোতের দিকেই। পানির স্পিডের সাথে ব্যালান্স করে বড় বড় পাথরের পাশ দিয়ে খুব সাবধানে চালাতে হয়। তা নয়তো বোট উল্টে যাবে কিংবা বোটের প্রপেলার ভেঙ্গে যাবে। এ লাইনে খুব এক্সপার্ট ছাড়া কেউ এখানে চালাবার সাহস করবে না। প্রায় ঘন্টাখানেক পর আমরা তিন্দুর বড়পাথর জায়গাতে চলে এসেছি। বোট চলছে। আমরা তখন রিলাক্স মুডে। বিকেল ৪ টার দিকে আমরা থানচি পৌঁছে গেছি। কিন্তু গাড়ি পাচ্ছি না। বেণু আর পিটার এখান থেকে আবার ব্যাক করবে ওদের পাড়াতে। এই দু-তিন দিনে এদের সাথে কি যে চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পুরো ট্যুরে আমার ভারী ব্যাকপ্যকটা পিটারের কাঁধেই ছিলো বলতে গেলে! এ ছেলেগুলো আমাদের জন্য অনেক করেছে। তার জন্য ওদের হয়তো আমরা কিছু টাকা দিয়েছি কিন্তু আন্তরিকতা বা ভালোবাসার পেমেন্ট কখনো টাকাতে হওয়া সম্ভব না।

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে একটা জিপ পেলাম আমরা। আরো একটা গ্রুপ যাবে আমাদের সাথে। সন্ধ্যার পরে কোন জিপ ছাড়তে দেয়না থানচি থেকে তারপরেও আমরা কিভাবে যেনো রওনা দিয়ে দিলাম। মাঝে একবার আটকেছিলো বলিপাগার আর্মি ক্যাম্পে,  ড্রাইভার কিসব কথা বলে আবার রওনা দিয়ে রাত ৯টার দিকে আমরা বান্দরবান শহরে। জিপটা মোটামুটি ঝড়ের বেগে চালিয়ে এসছে। এরপরের গল্প খুব সহজ। বাসে উঠে রাত ১২ টার দিকে কর্নফুলী ব্রিজের গোড়ায়। চট্টগ্রাম পৌঁছে মনে হচ্ছিলো আমরা লাস্ট দু-তিন দিন কোন আজগুবি রাজ্যে ছিলাম, বাস্তব দুনিয়ার সাথে যার কোন সম্পর্কই নাই!

গল্পটা মোটামুটি সহজভাবে লেখার চেষ্টা করেছি। পুরো ৪ দিন ছিলাম পাহাড়ে। এ ট্যুরটার সবচাইতে স্পেশাল ব্যাপার হলো যখন থানচি থেকে রওনা দিচ্ছি তখনো জানি না যে আসলে ঠিক কোথায় যাচ্ছি বা কি হতে পারে। প্যানডোরার বাক্স খোলার মতন একের পর এক চমক ছিলো আমাদের সামনে। আমার আরো একবার যাবার ইচ্ছে আছে এখানে যদি সময় পাই। এ গল্পটা লিখেছি প্রায় সাড়ে তিনবছর পর। গল্প লিখতে গিয়ে মনে হয়েছে আবার সেই জুমঘরের মাচানে শুয়ে আছি। ওই রাতটা সত্যিকারভাবেই একটা ফ্যান্টাসি আমার কাছে। ক্যামেরাটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো, মনটা সত্যিই খারাপ হয়েছে। এত্তো সুন্দর জায়গা, কিন্তু কোন ছবি নেই তেমন। তবে আসল ছবিটা রয়ে গেছে মনের মধ্যে… খুব সম্ভবত ওটাই আসল ছবি!

Most Popular

To Top