টুকিটাকি

ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার পরীক্ষা

ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার পরীক্ষা Neon Aloy

মানুষের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা অনেক বিচিত্র, বলা হয়ে থাকে যে একটা সুপার কম্পিউটারেরও মানুষের মস্তিষ্কের সিকি ভাগের কাজ করার ক্ষমতা নেই।
এমন জটিল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার মূল্যায়ন করার পদ্ধতিও তাই জটিলতম।
মনোবিদরা হিমশিম খেয়ে যান এসব পদ্ধতি আবিষ্কার করতে আর তার চেয়েও বেশি হিমশিম খান এই পরীক্ষা দিয়ে মানুষের মানসিক অবস্থার যে ফলাফল পাওয়া যায় তার উপসংহার টানতে।

মানসিক ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য নানা রকম পরীক্ষা পদ্ধতি রয়েছে, যেমন “পরিস্থিতি বিচারের পরীক্ষা”, “বিজ্ঞানী কোহ এর ব্লক পরীক্ষা”, “নক্স কিউব”, “আয়না পরীক্ষা”, “স্যালি-এন এর পরীক্ষা”, “কগনিটিভ টেস্ট” ইত্যাদি।

এসব পরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা থেকে শুরু করে “আলঝেইমারস রোগ”, “সাইকোপ্যাথ”, “বুদ্ধিমত্তার পরিমাপ” সহ নানা রকম মানসিক ও স্নায়বিক রোগের পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ইতিপূর্বে অনেকবার প্রশ্ন উঠেছে, তার উদ্ধত আচরণ, বিবেচনাহীন কথাবার্তার জন্য সমালোচনাও হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।
প্রেসিডেন্টের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে নিজের দলের মধ্যেও সমালোচনার গুঞ্জন ওঠায় সম্প্রতি ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় ডাক্তার রোন্নি জ্যাকসনকে। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেন “মন্ট্রিল কগনিটিভ” পদ্ধতিতে, যেটা আলঝেইমার্স রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
দশ মিনিটের এই পরীক্ষাতে ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি, মনোযোগ, একাগ্রতা, ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়।

ঘড়ির ছবিঃ

প্রথমে পরীক্ষার্থীকে একটি দেয়ালঘড়ির ছবি আঁকতে বলা হবে এবং ঘড়ির কাটাগুলোকে একটা নির্দিষ্ট সময় বরাবর আঁকতে হবে।

পরীক্ষণীয় বিষয়ঃ

১। ঘড়িটাকে বৃত্তাকারে আঁকা (সামান্য আঁকাবাঁকা হলে সমস্যা নেই)
২। ঘড়িতে সংখ্যাগুলোকে সঠিকভাবে এবং পর্যায়ক্রমে আঁকতে হবে।
৩। সময় নির্দেশক ঘন্টা এবং মিনিটের কাটা গুলোকে সঠিকভাবে আঁকতে হবে, ঘন্টার কাঁটা অবশ্যই মিনিটের কাঁটার চেয়ে খাটো হবে।

একজন আলঝেইমার্স রোগী, সাময়িক স্মৃতি হারানো কিংবা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি কখনোই সঠিকভাবে ঘড়ির ছবি আঁকতে পারবে না, ঘড়ির ছবি কোনো ভাবে আঁকলেও কোন সময় বরাবর আঁকতে বলা হয়েছে সেটা তার মনে থাকবেনা।
এই পরীক্ষায় প্রত্যেকটা কাজের জন্য এক পয়েন্ট করে নাম্বার দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার পরীক্ষা Neonaloy

 

বিকল্প রাস্তা তৈরি

এরপর পরীক্ষার্থীকে A থেকে E পর্যন্ত শব্দগুলোকে লাইনের মাধ্যমে মিলাতে হবে, প্রত্যেকটি শব্দই এক একটা নাম্বারের সাথে যুক্ত করতে হবে(A-1,B-2) “এসসেন্ডিং ক্রমানুসারে”, যেমন 1-A-2-B-3-C-4-D-5-E.
প্রতিটা সঠিক বিকল্প রাস্তা বিন্যাসের জন্য এক পয়েন্ট করে দেওয়া হয় এবং ভুল করলে শূণ্য।

ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার পরীক্ষা Neonaloy

 

 

কিউব আঁকা

প্রথমে একটা কিউব দেখানো হবে, তারপর সেই কিউবকে না দেখে আঁকতে বলা হবে।
হুবহু আঁকতে পারলে পয়েন্ট দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার পরীক্ষা Neonaloy

 

 

বিন্যাসসজ্জা

রোগীর অবশ্যই সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে যে কোন জায়গায় তার এই পরীক্ষাটি নেওয়া হচ্ছে এবং রোগীর নিজের বাসার ঠিকানা কোথায়।
যদি কোনো ঠিকানার আংশিকও ভুল হয় তবে কোনো নাম্বার দেওয়া হবেনা।

প্রাণীকে শনাক্তকরণ

শুনতে হাস্যকর এবং সহজ মনে হলেও সত্তর পার হওয়া কোনো ব্যক্তি কিংবা আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত কারো পক্ষে অনেকগুলো ফোঁটার মাঝখান থেকে দাগ মিলিয়ে তিনটা প্রাণীকে শনাক্ত করা কিন্তু সহজ কাজ নয়।

শব্দ মনে রাখা

রোগীকে প্রথমে পাঁচটা শব্দ বলা হবে এবং তাকে সেগুলো মনে রাখতে হবে। এর পরে আরো পাঁচটি শব্দ বলা হবে। কিছুক্ষণ পরে মোট দশটা শব্দকে যেভাবে ক্রমানুসারে বলা হয়েছিল সেভাবেই মুখে বলতে হবে।
এই পরীক্ষাতে সঠিক উত্তরের জন্য রোগীকে কোনো নাম্বার না দেওয়া হলেও ভুল উত্তরের জন্য অবশ্যই নাম্বার কেটে নেওয়া হবে।

শব্দসম্ভার

পরীক্ষার্থীকে একটা অক্ষর দেওয়া হবে, ধরুন ইংরেজী অক্ষর “J” দেওয়া হল।
এখন পরীক্ষার্থীর কাজ হবে এই অক্ষরটা দিয়ে এক মিনিটের মধ্যে যতটা সম্ভব অক্ষর লেখা, তবে অবশ্যই “Proper Noun” বাদ দিয়ে। এই এক মিনিটের মধ্যে এগারটার চেয়ে বেশি অক্ষর লিখতে পারলে এক পয়েন্ট করে দেওয়া হবে।

সম্পর্ক বের করা

ছোটবেলায় যেমন ডানে-বামে মিল করতে দেওয়া হত তেমনি এখানেও দুটি শব্দের মধ্যে সম্পর্ক বের করে মিলকরণ করতে হয়, তবে শব্দ দুটির মধ্যে মিলকরণের পরে এদুটি শব্দের মধ্যে কি মিল আছে সেটাও ব্যাখ্যা করে দিতে হয়।
যেমন;
বাস এবং ট্রেন= দুটিই যানবাহন
আপেল এবং পেঁপে= দুটোই ফল

ফলাফল

এই পরীক্ষাতে আপনি যদি একদম কম নাম্বার পান তার মানে কিন্তু এমন নয় যে আপনি মানসিকভাবে সুস্থ নন, আপনাকে হয়তোবা আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য অন্য পরীক্ষা নেওয়া হবে। মোট ত্রিশ নাম্বারের এই পরীক্ষাতে প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষকরা পরীক্ষার্থীর সম্পর্কে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত নেন

১৬ বা তার নিচের নাম্বার= আলঝেইমার্স রোগ কিংবা মানসিক পর্যালোচনার ক্ষমতা ভালো না।
১৬ থেকে ২৫= মানসিক পর্যালোচনার ক্ষমতায় সামান্য সমস্যা আছে।
২৬ বা তার চেয়ে বেশি= মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি

এসব মানসিক পরীক্ষার জন্য ইন্টারনেটে বিভিন্ন মানসিক সেন্টারের অনলাইন ওয়েবসাইট আছে, এদের অনেক গুলোতেই আপনি বিনামূল্যে আপনার মানসিক ক্ষমতার পরীক্ষা করে ফেলতে পারেন। কিছু কিছু ওয়েবসাইটে মন্ট্রিল কগনিটিভ টেস্ট ছাড়াও মনোবিজ্ঞানী সর্বাধিক ব্যবহৃত পরীক্ষা গুলো করা যায়।
তবে সেসব পরীক্ষার ফলাফল যদি অদ্ভুত আসে তবে আমাকে কিন্তু দোষ দিতে যাবেন না আর বেশি বুদ্ধিমান এমন ফলাফল আসলেও লাফানোর দরকার নেই ভাই।
কারণ এই “মন্ট্রিল কগনিটিভ” পরীক্ষাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বদ্ধ উন্মাদ (আমার মতে!) ত্রিশের মধ্যে কাটায় কাটায় ত্রিশ পেয়েছেন এবং তার বুদ্ধিমত্তার এমন চূড়ান্ত সাফল্যের কথা ঢোল পিটিয়ে সবাইকে জানানোর জন্য নিজের সম্পর্কে নিজেই টুইট করেছেন “A Very Stable Genius”.

Most Popular

To Top