ইতিহাস

বাংলা চলচিত্রের প্রথম নায়িকা!

বাংলা চলচিত্রের প্রথম নায়িকা! Neon Aloy

বাংলাদেশের প্রথম নির্বাক পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচিত্রের নাম “দ্য লাস্ট কিস”। ঢাকার নবাব পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ছবি নির্মাণ করা হয়। জড়িতও ছিল নবাব পরিবারেরই ছেলেরা।

এই ছবি করার আগে হাত পাকা করার জন্য চার রিলের একটা স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি বানিয়েছিলেন তাঁরা। নাম সুকুমারী। এই ছবিতে নারী চরিত্রে পুরুষ অভিনেতা নেওয়া হয়েছিল। সুকুমারী মুক্তি পায় ১৯২৯ সালে।

সুকুমারীর সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছবি নির্মাণে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরা। গড়ে তোলেন, “ঢাকা ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফিক সোসাইটি”। ১৯২৯ সালের অক্টোবর মাসে এর শুটিং শুরু হয়। দিলকুশা, মতিঝিল, পরিবাগ, আজিমপুর আর নীলক্ষেতে সিনেমার শুটিং হয়। ছবির পরিচালক ছিলেন অম্বুজ প্রসন্ন গুপ্ত। তিনি জগন্নাথ কলেজের শরীর চর্চার প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি একজন অভিনয়মোদী এবং থিয়েটারের নাট্য পরিচালক ছিলেন। প্রথমে সিনেমার নায়ক নির্বাচিত হন খাজা নসরুল্লাহ, পরে কাজী জালাল এবং সবশেষে এদের দুজনকেই বাদ করে দিয়ে নায়ক নির্বাচিত করা হয় খাজা আজমলকে। ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন খাজা আজাদ। পরে তিনি কোলকাতা চলে গেলে এর দায়িত্ব নেন খাজা আজমল নিজেই।

১৯৩১ সালে মুকুল সিনেমা হলে (এখন যেটা আজাদ সিনেমা হল) মুক্তি পায় দ্য লাস্ট কিস। প্রথম শোয়ের উদ্বোধন করেন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার। বেশ কিছু থিয়েটার হলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে সিনেমাটা। তারপর আরো বড় অডিয়েন্সের কাছে নেবার জন্য কোলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। অরোরা ফিল্ম দায়িত্ব নেয় প্রদর্শনীর। সেখানে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। অরোরা ফিল্ম কোম্পানি পরে হারিয়ে ফেলে এর প্রিন্ট। চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রটি।

এই সিনেমাতেই প্রথম নারী চরিত্রে নারীদেরই ব্যবহার করা হয়েছিলো। এদের সবাইকে আনা হয়েছিল পুরোনো ঢাকার পতিতালয় থেকে। মূল নারী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন চৌদ্দ বছরের এক কিশোরী। নাম লোলিটা। আসল নাম বুড়ি। ছবিতে নাম দেওয়া হয়েছিল লোলিটা। বাদামতলীর পতিতালয়ে থাকতেন তিনি। সিনেমার কাজ শেষ হলে পুরোনো পেশায় ফিরে যান তিনি। এই সিনেমা ছাড়া আর কোনো সিনেমাতে অভিনয় করেননি তিনি।

বাংলা চলচিত্রের প্রথম নায়িকা! Neonaloy

 

ছবির এই নারীই আমাদের সিনেমার প্রথম নায়িকা। পঙ্কিল এক অন্ধকূপে আজীবন বন্দী থেকেছেন তিনি, সয়েছেন নিদারুণ অত্যাচার, নির্যাতন আর অপমান। তারপর একদিন হারিয়ে গিয়েছেন সবার অজান্তেই, অপরিমিত অনাদর আর অন্তহীন অবহেলায়।

শ্রদ্ধা রইলো অজানায় হারিয়ে যাওয়া এই অপরূপা ভদ্রমহিলার জন্য। নিজের অজান্তেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন তিনি।

আরো পড়ুনঃ আলোর দেখা পাচ্ছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র

Most Popular

To Top