বিশেষ

যে তালিকায় শীর্ষে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ৫৪ নম্বরে

যে তালিকায় শীর্ষে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ৫৪ নম্বরে Neon Aloy

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে পাকসেনাদের সাথে নয়মাস লড়াই করে। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও এখনো পাকিস্তান নাম শুনলেই কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। দেশের রাজনীতিতেও আছে এক কালো ছায়া, যার ভেতর এখনো বাস করে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা।

এই ৪৬ বছরে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি অনেক বিষয়েই বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে পাকিস্তানের চেয়ে। এমনকি যে জঙ্গিবাদের বীজ হঠাৎ ডালপালা মেলতে শুরু করেছে সেটাও প্রায় উপড়ে ফেলছে বাংলাদেশ। আর অন্যদিকে পাকিস্তানের জঙ্গিবাদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি।

পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার এসব তুলনামূলক ঘটনাচিত্র বা পরিসংখ্যান বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তেমনি আরেক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ।

‘এভরি চাইল্ড এল্যাইভ’– শিরোনামে ২০১৬ সালে নবজাতকের মৃত্যুর হার নিয়ে ১৮৪ দেশের উপর এক র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। তালিকায় উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। সারা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২.৬ মিলিয়ন শিশু জন্মের প্রথম মাসেই মারা যায়। এবং কিছু দেশে এই দুঃখজনক মৃত্যুর সংখ্যা মারাত্নক পরিমাণে বেশি। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, জন্মের প্রথম দিনেই মারা যায় প্রায় ১০ লাখ শিশু।

প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, ২০১৬ সালে নবজাতকের মৃত্যুর হারে তালিকার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ পাকিস্তান। দেশটির অবস্থান তালিকার শীর্ষে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের জরিপ অনুসারে, পাকিস্তানে প্রতি ২২ শিশুর মধ্যে একজন জন্মের প্রথম মাসেই মারা যায়।

এই তালিকায় ১৮৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৪। ইউনিসেফের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে জন্মের প্রথম মাসে প্রতি ৫০ জন শিশুর মধ্যে একজন মারা যায়। শুধু পাকিস্তান নয়, এ তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়েও বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। এ ক্ষেত্রে তালিকায় ভারত আছে ৩১ নম্বরে, সেখানে প্রতি ৩৯ জন শিশুর মধ্যে একজন জন্মের প্রথম মাসেই মারা যায়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ‘ল্যানসেট’ ২০১৬ সালে বিশ্বে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা প্রকাশ করে। ২০১৫ সালের শিশু মৃত্যু হারের উপর সেই প্রতিবেদনটি তৈরি করে তারা। সে প্রতিবেদনেও পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান ভারতের, পাকিস্তান তৃতীয় এবং বাংলাদেশের অবস্থান ছিল নবম।

এসব আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, বাংলাদেশ শিশু মৃত্যু হার হ্রাসে ক্রমেই উন্নতি করছে। পাকিস্তানের চেয়ে এই উন্নতি কয়েকগুণ বেশি।

আপনারা হয়তো ভাবছেন, তালিকাতে তো বিশ্বের অনেক দেশই আছে তাহলে কেন বার বার পাকিস্তানের সাথে তুলনা করছি। কারণটাও হয়তো আপনাদের জানাই আছে, কেননা পাকিস্তান দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়ে বাঙ্গালী জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিল একাত্তরে। জয় করে নিয়েছে স্বাধীনতা। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের যেকোন উন্নতি- অবনতির মাপকাঠি হিসেবে পাকিস্তানের সাথেই সবার আগে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করবো।

তবে, একথাও বলা বাহুল্য, আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে। সেজন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদের আরো সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

ইউনিসেফের বার্ষিক এ প্রতিবেদনে, নবজাতক মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে নিরাপদ দেশ জাপান। ২০১৬ সালে দেশটিতে প্রতি ১,১১১ জনের মধ্যে একজন নবজাতক মারা গেছে।

তালিকায় পাকিস্তান ছাড়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আরো যে দেশগুলো আছে, সেগুলো হলো- ২য় অবস্থানে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ৩য় আফগানিস্তান, ৪র্থ সোমালিয়া, ৫ম লেসোথো, ৬ষ্ঠ গিনি-বিসাউ, ৭ম দক্ষিণ সুদান, ৮ম আইভরি কোস্ট, ৯ম মালি এবং দশম অবস্থানে আছে ‘চাদ’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নবজাতকের মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন ছিল যে দশটি দেশে- ১ম জাপান, ২য় আইসল্যান্ড, ৩য় সিঙ্গাপুর, ৪র্থ ফিনল্যাণ্ড, ৫ম স্লোভেনিয়া, ৬ষ্ঠ এস্তোনিয়া, ৭ম সাইপ্রাস, ৮ম দক্ষিণ কোরিয়া, নবম নরওয়ে, দশম অবস্থানে আছে লুক্সেমবার্গ।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top